রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ গানটি বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের এক অনন্য সৃষ্টি। গানটির রচয়িতা প্রখ্যাত গীতিকার আনন্দ মুখোপাধ্যায়। মাত্র ৮ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ গানটিতে তিনি পল্লী প্রকৃতির আবহে এক গভীর রোমান্টিক আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই কালজয়ী গানটিতে সুরারোপ করেন বরেণ্য সুরকার শৈলেন মুখোপাধ্যায়

গানটির প্রথম রেকর্ডিং করেছিলেন প্রথিতযশা শিল্পী ইলা চক্রবর্তী। তাঁর দরদী কণ্ঠের মায়াবী ছোঁয়ায় গানটি তৎকালীন শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তী সময়ে গানটি ‘গান ফুরালো জলসা ঘরে’ নামক অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়।

এই আধুনিক বাংলা গানটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর কাব্যিক বুনন। “বাঁশিতে নূপুরের মধু আলাপন”—এমন উপমার মাধ্যমে গীতিকার বিরহ আর মিলনের এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছেন। আধুনিক বাংলা প্রেমের গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃতিকে অনুভবের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা, যা এই গানটিতে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

মৃদু বাতাসে রাখালি সুর ভেসে আসছে আর বাঁশির সুরে যেন নূপুরের মিষ্টি শব্দ মিশে গেছে। নূপুর ও কোমরের গয়নার রিনিঝিনি শব্দে চারপাশ মুখরিত। এই সুন্দর মুহূর্তটি প্রিয়জনের সাথে দেখা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র অবয়বের এই গানটি যেন অল্প কথায় এক বিশাল প্রেমের আখ্যান তুলে ধরে, যেখানে মিলনের আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত মার্জিত ও শৈল্পিক রূপে প্রকাশ পেয়েছে।[১]

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ গানের কথা

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ,
(আজ) বাঁশিতে নূপুরের মধু আলাপন।
মঞ্জিরে রিনি ঝিনি বেজে ওঠে কিঙ্কিনী
অভিসার তৃষা হারা এ মধু লগন।।

শ্রবণে ঢালে গাে মধু রাখালিয়া বাঁশি, 
গােপন রহে না অধরের হাসি।
বনের কুহুর তানে সুরের মাধুরী আনে,
মনের মাধুরী আজ হল উন্মন।।[২]

আরো পড়ুন

রাখালিয়া সুর আনে গানটি ইলা মিত্রের কণ্ঠে ইউটিউবে শুনুন

তথ্যসূত্র

১. লেখাটি ৭ জুলাই ২০২০ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো।
২. শিশির চক্রবর্তী সংকলিত,পাঁচদশকের আধুনিক বাংলা গানের গীতবিতান এ শুধু গানের দিন, পত্রভারতী, কলকাতা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ডিসেম্বর ২০১৮, পৃষ্ঠা ৬৭।

Leave a Comment