যদি কিছু আমারে শুধাও: সলিল চৌধুরীর সুরের জাদুতে এক অব্যক্ত অনুভূতির গল্প

নদীর ঘাটে বিষণ্ণ মনে বসে থাকা এক তরুণী, হাতে সাদা ফুল এবং পাশে একটি পুরনো বই, যা সলিল চৌধুরীর ‘যদি কিছু আমারে শুধাও’ গানের বিরহ ও নীরবতাকে ফুটিয়ে তুলছে।

জনপ্রিয় বাংলা আধুনিক গানগুলোর মধ্যে সলিল চৌধুরীর ‘যদি কিছু আমারে শুধাও’ অন্যতম। গানটির কথা ও সুরের মেলবন্ধনে তিনি বিরহ আর যন্ত্রণাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সলিল চৌধুরীর এই সৃষ্টিতে কেবল সুরের মূর্ছনা নয়, বরং হৃদয়ের এক গভীর নীরবতা খুঁজে পাওয়া যায়। গানের ভাবার্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃতির শান্ত ব্যাকুলতা আর না বলা কথার … Read more

যদি জানতে গো তুমি জানতে: সলিল-মানবেন্দ্র জুটির এক কালজয়ী মহাকাব্য

পুরানো কোলকাতার একটি বাড়ির জানালায় বিষণ্ণ মনে বসে থাকা এক নারী, বাইরে বৃষ্টিভেজা রাস্তা এবং হলুদ ট্যাক্সি, যা সলিল চৌধুরীর ‘যদি জানতে গো তুমি জানতে’ গানের বিরহী আবহের প্রতিফলন।

‘যদি জানতে গো তুমি জানতে’ গানটি বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে এক কালজয়ী মহাকাব্য। ১৯৬১-৬২ সালের দিকে রেকর্ড করা এই গানটির কথা ও সুরের জাদুকর ছিলেন কিংবদন্তি সলিল চৌধুরী। প্রথিতযশা শিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভরাট এবং আবেগঘন কণ্ঠ গানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে নাড়া দেয়। সঙ্গীত পরিচালনার ক্ষেত্রে এই গানে সলিল … Read more

মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী: লোকসাহিত্য গবেষণা ও সংগ্রহের অগ্রপথিক

লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর প্রতিকৃতি এবং গ্রামীণ লোকজ আবহের ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশন।

মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী (২২ অক্টোবর ১৯০১ – ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, গবেষক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এক বিদগ্ধ পণ্ডিত। বাংলার লোকজ সংস্কৃতির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ—উভয় রাষ্ট্র থেকেই সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হন। জন্ম ও শৈশবকাল: ১৯০১ সালের ২২ অক্টোবর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কাসিমপুর … Read more

অধ্যাপক কাজী ফারুক আহাম্মদ: একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারকের জীবনী

গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজী ফারুক আহাম্মদ।

অধ্যাপক কাজী ফারুক আহাম্মদ (জন্ম: ২৬ মার্চ, ১৯৬৬) বাংলাদেশের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং আধুনিক ও উদার জীবনদর্শনের অধিকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং উদারতাবাদের আদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী। একজন পরমতসহিষ্ণু ও প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন একজন আদর্শবান শিক্ষক, তেমনি একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক। … Read more

অনুপ সাদির ‘হৃদমাঝারে প্রাণভোমরা’: মেহনতি মানুষের জীবনের খণ্ডচিত্র

বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে একদল সাধারণ শ্রমজীবী ও কৃষক মানুষের প্রতিকৃতি, যা অনুপ সাদির 'হৃদমাঝারে প্রাণভোমরা' বইয়ের সাধারণ মানুষের জীবনগাথা নির্দেশ করে।

‘হৃদমাঝারে প্রাণভোমরা’—আমার (অনুপ সাদি) রচিত ও প্রস্তাবিত একটি বিশেষ জীবনগাথা বা সংকলন। এই বইটির পরতে পরতে মিশে আছে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রায় কুড়িজন অসাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম ও পথচলার গল্প। এই মানুষগুলো আমাদের চারপাশের অতি সাধারণ মুখ হলেও তাদের জীবনদর্শন অত্যন্ত গভীর। এই সংকলনে ঠাঁই পেয়েছেন মেহনতি শ্রমিক ও ঘামঝরা কৃষক থেকে শুরু করে আপসহীন বিপ্লবী, … Read more

আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা: সলিল চৌধুরীর এক অমর সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী ও লিরিক্স

ঝোড়ো সমুদ্রের তীরে বিষণ্ণ এক নারী এবং একটি কাষ্ঠফলকে খোদাই করা সলিল চৌধুরীর জনপ্রিয় গান 'আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা' এর অমর পঙক্তি।

‘আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’ ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া একটি বিখ্যাত গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী। গানটির মূল গায়ক হলেন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, যাঁর গম্ভীর ও দরদী কণ্ঠে এটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হেমন্ত-সলিল জুটির অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে এটি আজও বাংলা সঙ্গীত ভাণ্ডারে … Read more

ও মোর ময়না গো: লতা মঙ্গেশকর ও সলিল চৌধুরীর সেই কালজয়ী বিরহের গানের গল্প ও লিরিক্স

ও মোর ময়না গো গান - লতা মঙ্গেশকর

ও মোর ময়না গো গানটি বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি, যা ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়। কালজয়ী এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর এবং এর কথা ও সুর ওস্তাদ সলিল চৌধুরীর। এটি মূলত বিরহ এবং হারানো প্রিয়জনের স্মৃতির ব্যাকুলতা নিয়ে রচিত একটি বিষাদময় আধুনিক গান। সলিল চৌধুরীর অনন্য সুরারোপ এবং লতা মঙ্গেশকরের … Read more

মৈমনসিংহ গীতিকা: বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ ও লোকজ ঐতিহ্যের মহাকাব্য

মৈমনসিংহ গীতিকার প্রচ্ছদ এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের নান্দনিক চিত্রায়ন।

বাংলা সাহিত্যের বিশাল সাম্রাজ্যে যে কয়েকটি সৃষ্টি বিশ্বদরবারে বাঙালির অনন্য পরিচয় তুলে ধরেছে, তার মধ্যে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ সর্বাগ্রে সমাদৃত। ১৯২৩ সালে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সুযোগ্য সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বসাহিত্যের কাব্যভাণ্ডারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এটি কেবল কিছু লোকগাথার সংকলন নয়, বরং এটি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ এবং … Read more

চন্দ্রকুমার দে: মৈমনসিংহ গীতিকার নেপথ্য কারিগর ও লোকসাহিত্যের অমর সংগ্রাহক

লোকসাহিত্য সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে-র প্রতিকৃতি এবং মৈমনসিংহ গীতিকার পটভূমি।

বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য রত্ন ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র প্রখ্যাত সংগ্রাহক ও লেখক চন্দ্রকুমার দে ছিলেন নেত্রকোণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৮৮৯ সালে কেন্দুয়ার আইথর গ্রামে এক অতিদরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন; অতি অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে স্বাস্থ্যহীন এই অনাথ কিশোর গ্রাম্য পাঠশালায় সামান্য পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পান। প্রাণের তাগিদে তিনি প্রথমে গ্রামের একটি মুদির … Read more

ময়মনসিংহের লিটল ম্যাগাজিন: অতীত ঐতিহ্য এবং বর্তমানের হালচাল

ময়মনসিংহের লিটল ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা একটি শৈল্পিক দৃশ্য।

ময়মনসিংহের কথা হলেই মনে পড়ে ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র কথা। মহুয়া-মলুয়ার দেশ ময়মনসিংহে সাহিত্যচর্চা চলেছে বহু শতাব্দী ধরে। ময়মনসিংহের মানুষের সৃষ্টিশীলতা সর্বজনবিদিত। বৃহত্তর এ জেলার মানুষেরা মুখে মুখে ছড়া ও গান বা গীতিকা লিখেছে শুনিয়েছে, সংরক্ষণ করেছে স্মৃতিতে, লিখিতরূপে, পুস্তকে, সুদূর প্রাচীনকাল থেকে। ময়মনসিংহ শহরে গড়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। এ নদীকে কেন্দ্র করেই এ জনপদের সকল … Read more