মৈমনসিংহ গীতিকা: বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ ও লোকজ ঐতিহ্যের মহাকাব্য

মৈমনসিংহ গীতিকার প্রচ্ছদ এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের নান্দনিক চিত্রায়ন।

বাংলা সাহিত্যের বিশাল সাম্রাজ্যে যে কয়েকটি সৃষ্টি বিশ্বদরবারে বাঙালির অনন্য পরিচয় তুলে ধরেছে, তার মধ্যে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ সর্বাগ্রে সমাদৃত। ১৯২৩ সালে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সুযোগ্য সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বসাহিত্যের কাব্যভাণ্ডারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এটি কেবল কিছু লোকগাথার সংকলন নয়, বরং এটি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ এবং … Read more

চন্দ্রকুমার দে: মৈমনসিংহ গীতিকার নেপথ্য কারিগর ও লোকসাহিত্যের অমর সংগ্রাহক

লোকসাহিত্য সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে-র প্রতিকৃতি এবং মৈমনসিংহ গীতিকার পটভূমি।

বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য রত্ন ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র প্রখ্যাত সংগ্রাহক ও লেখক চন্দ্রকুমার দে ছিলেন নেত্রকোণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৮৮৯ সালে কেন্দুয়ার আইথর গ্রামে এক অতিদরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন; অতি অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে স্বাস্থ্যহীন এই অনাথ কিশোর গ্রাম্য পাঠশালায় সামান্য পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পান। প্রাণের তাগিদে তিনি প্রথমে গ্রামের একটি মুদির … Read more

ময়মনসিংহের লিটল ম্যাগাজিন: অতীত ঐতিহ্য এবং বর্তমানের হালচাল

ময়মনসিংহের লিটল ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা একটি শৈল্পিক দৃশ্য।

ময়মনসিংহের কথা হলেই মনে পড়ে ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র কথা। মহুয়া-মলুয়ার দেশ ময়মনসিংহে সাহিত্যচর্চা চলেছে বহু শতাব্দী ধরে। ময়মনসিংহের মানুষের সৃষ্টিশীলতা সর্বজনবিদিত। বৃহত্তর এ জেলার মানুষেরা মুখে মুখে ছড়া ও গান বা গীতিকা লিখেছে শুনিয়েছে, সংরক্ষণ করেছে স্মৃতিতে, লিখিতরূপে, পুস্তকে, সুদূর প্রাচীনকাল থেকে। ময়মনসিংহ শহরে গড়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। এ নদীকে কেন্দ্র করেই এ জনপদের সকল … Read more

কাহিনী কাব্য বা বর্ণনামূলক বা আখ্যানমূলক কবিতা কী? সাহিত্যে কাহিনী কাব্যের বৈশিষ্ট্য ও বিবর্তন

কাহিনী কাব্য বা আখ্যানমূলক কবিতার বিবর্তন চিত্র: প্রাচীন মৌখিক ঐতিহ্য থেকে আধুনিক মুদ্রণ ও লিখন পদ্ধতির শৈল্পিক উপস্থাপন।

বাংলা ও ইংরেজি উভয় সাহিত্যেই কাহিনী কাব্য বা আখ্যান কবিতা বা বর্ণনামূলক কবিতা (Narrative Poetry) একটি প্রাচীন ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ বর্ণনাত্মক কাব্যধারা। মূলত পদ্যের ছন্দে যখন কোনো কাহিনী বা আখ্যান বর্ণিত হয়, তখন তাকেই কাহিনী কাব্য বলা হয়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এই কাব্যের আবেদন ছিল আকাশচুম্বী। আদি মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত থেকে শুরু করে মধ্যযুগের … Read more

সুরমার পাথর ও পুঁজিবাদের আড়ালে: এক নিঃস্ব ভিখারিনীর চোখে সভ্যতা

সুরমা নদীর তীরে পাথরের স্তূপের সামনে রেললাইনের পাশে বসে থাকা একজন প্রান্তিক নারী।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হাওর জনপদ যেন এক বৈচিত্র্যময় জীবনধারার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষের দিনলিপি আবর্তিত হয় কৃষি ও প্রকৃতির সংগ্রামকে ঘিরে। এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের জীবনে মাছ ধরা কেবল পেশা নয়, বরং বেঁচে থাকার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভোরের আলো ফুটতেই একদল উদ্যমী কিশোর জাল বা পলো হাতে বেরিয়ে পড়ে মাছের সন্ধানে। তাদের সারাদিনের সেই পরিশ্রমের ফসলই … Read more

স্মৃতিময় সিটিসেল: আমার তারুণ্য, প্রেম এবং একটি হারানো অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ

একটি বড় বিলবোর্ডে সিটিসেলের লোগো এবং বাংলা লেখা সংবলিত গ্রামীণ রাস্তার দৃশ্য যেখানে মানুষ এবং রিকশা চলাচল করছে।

প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, যা জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নাম ‘সিটিসেল’ হিসেবে পরিচিত ছিল, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ও প্রাচীনতম মোবাইল অপারেটর। শুধু বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের অগ্রদূত হিসেবে শ্রীলঙ্কার ‘ইতিসালাত’ কিংবা পাকিস্তানের ‘পাকটেল’-এর সমসাময়িক সময়েই সিটিসেল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এটি দেশের একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল যা তৎকালীন উন্নত সিডিএমএ (CDMA) এবং ইভিডিও (EV-DO) প্রযুক্তি … Read more

অর্ঘ্য: গফরগাঁওয়ের শিল্প-সাহিত্য চর্চার এক অনন্য আলোকবর্তিকা ও এক বছরের ইতিহাস

অর্ঘ্য শিল্প-সাহিত্য-মননশীল কাগজ পত্রিকার প্রচ্ছদ সংবলিত একটি থ্রিডি বুক মকআপ, যা একটি লাইব্রেরির টেবিলে ডায়েরি ও ফুলের সাথে সাজানো।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের হৃদস্পন্দন হয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছিল শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘অর্ঘ্য’। গফরগাঁও থিয়েটারের এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য এক গৌরবের বিষয়। ২০০৮-০৯ সালের প্রায় এক বছরে পত্রিকাটির সফল দশটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটি পাতায় চোখ বুলালে যে কোনো সাহিত্য অনুরাগী বা সংস্কৃতিমনা মানুষের মন এক … Read more

বাজে না বাঁশি গো ফুলের বাসরে: শচীন দেববর্মণের সেই অমর বিরহী গানের অন্তরালে

একটি সজ্জিত ফুলের বাসরে লাল শাড়ি পরিহিত বিষণ্ণ নারী বসে আছেন যা শচীন দেববর্মণের বাজে না বাঁশি গো গানের বিরহী আবহকে ফুটিয়ে তুলছে।

“বাজে না বাঁশি গো ফুলের বাসরে জাগে না হাসি গো” — বাংলা আধুনিক গানের জগতে এক কালজয়ী সৃষ্টি। কিংবদন্তি শিল্পী শচীন দেববর্মণের জাদুকরী কণ্ঠ ও সুরে গাওয়া এই গানটি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। প্রখ্যাত গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে ফুটে ওঠা এই বিরহী গানটিতে প্রেম ও বিষাদের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে। গানের মূল ভাবে ফুটে … Read more

সহেলা গীত ও সয়লা উৎসব: রাঢ় বাংলা ও লোকসংগীতের এক অনন্য অধ্যায়

গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে একদল নারীর সমবেত হয়ে সহেলা গীত ও লোকসংগীত পরিবেশনের দৃশ্য।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের ঐতিহ্যে ‘সহেলা গীত’ (Sahela Geet) বা ‘মেয়েলী গীত’ একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। এটি মূলত নারীদের কেন্দ্রিক একটি লোকজ ধারা, যা বিভিন্ন পারিবারিক উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় আচার-ব্রতের সময় মেয়েরা দলবদ্ধভাবে পরিবেশন করেন।[১] প্রখ্যাত পণ্ডিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক এই সংগীত ধারাটিকে ‘সহেলা গীত’ হিসেবে অভিহিত … Read more

ঘুম ভুলেছি নিঝুম এ নিশীথে: শচীন দেববর্মণের কালজয়ী বিরহী গানের এক গভীর বিশ্লেষণ

নিঝুম রাতে বারান্দায় বসে একাকী বিষণ্ণ মনে গান গাওয়ার একটি দৃশ্য যা 'ঘুম ভুলেছি নিঝুম এ নিশীথে' গানটির আবহ প্রকাশ করে।

‘ঘুম ভুলেছি নিঝুম এ নিশীথে জেগে থাকি’ গানটি বাংলা আধুনিক সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য ও চিরকালীন আবেদনময় সৃষ্টি। প্রখ্যাত গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের হৃদস্পর্শী কথা এবং শচীন দেববর্মণের অনবদ্য সুর ও দরদি কণ্ঠের সংমিশ্রণে এটি এক বিষণ্ণ মায়াজাল তৈরি করেছে। নিশুতি রাতের নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের জন্য অন্তহীন প্রতীক্ষা আর হৃদয়ের গভীর হাহাকার গানটির প্রতিটি চরণে অত্যন্ত সজীবভাবে … Read more