নেতাজী সুভাষচন্দ্র সে তুমি দুলাল বাংলা মার হচ্ছে সজনীকান্ত দাসের লেখা এবং সুকৃতি সেনের সুর ও কণ্ঠে ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার পঙ্ক্তি। সজনীকান্ত দাসের লেখা এই বিখ্যাত কবিতাটি সুকৃতি সেনের সুরে জনপ্রিয় হয়েছিল। এটি মূলত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং বাঙালির বীর সন্তান হিসেবে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে রচিত।
গানটির বিষয় ও মর্মার্থ
গানটি মূলত নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে বাংলার বীর সন্তান হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা। গানটিতে নেতাজীর আপসহীন সংগ্রাম এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অনন্য অবদানের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কবিতাটিতে নেতাজীর পদাঘাতে পরাধীনতার ‘কারার দুয়ার’ বা জেলখানার দরজা ভেঙে পড়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও এখানে নেতাজীর সশস্ত্র বিপ্লব এবং ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গঠনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘দিল্লীর পথ সন্ধান’ বলতে নেতাজীর বিখ্যাত ডাক ‘দিল্লি চলো’-র প্রতি ইঙ্গিত করে এই লাইনটি লেখা। জয় হিন্দ বলতে তাঁর প্রবর্তিত অমর অভিবাদন ‘জয় হিন্দ’ যে আজ প্রতিটি ভারতীয়র অন্তরে মিশে আছে, তারই জয়গান গাওয়া হয়েছে এখানে।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র গানটির জনপ্রিয়তা
নেতাজী জয়ন্তী (২৩শে জানুয়ারি) উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা ভারতের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই গানটি নিয়মিত পরিবেশিত হয়। গানটি মূলত বীররসাত্মক এবং উদ্দীপনামূলক। গানে নেতাজীর আত্মত্যাগ এবং ভারতের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য ইচ্ছার কথা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গানের কথা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র সে তুমি
দুলাল বাংলা মার।
তোমারি আঘাতে কারার দুয়ার
টুটিল অকস্মাৎ
স্বাধীন ভারত বক্ষে তোমার
নির্ভীক পদাঘাত
নিজেরে করিয়া অকাতরে দান
তুমি গেয়ে গেলে জয় হিন্দ গান
দিয়ে দিল্লীর পথ সন্ধান
লাগালে চমত্কার।
জয়তু নেতাজী সুভাষচন্দ্র
দুলাল বাংলা মা’র।।
আরো পড়ুন
- আধুনিক বাংলা গান সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী
- এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা, নিষেধের বেড়াজালে বিষণ্ণ হাসির গান
- রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান
- এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে, সেই সুরে সুরে মন নাচে উল্লাসে
- বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া
- জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছ জুয়া
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের গান আধুনিক বাংলা গানের ধারায় রচিত
- থামো বন্ধু, দাঁড়াও ক্ষণেক থামি হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের রচিত গান
- হারা-মরু নদী, শ্রান্ত দিনের পাখি, নিভু-নিভু দীপ, আর্ত-আতুর নহ একাকী
- নাবিক আমার নোঙর ফেলো, ওই তো তোমার তীর
- আরও একটু সরে বসতে পারো, আরও একটু কাছে
- এই জীবনের যত মধুর ভুলগুলি, ডালে ডালে ফোটায় কে আজ বুলিয়ে রঙিন অঙ্গুলি
- যদি ভালো না লাগে তো দিও না মন, শুধু দূরে যেতে কেন বলো এমন
- বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার
- যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই কেন মনে রাখ তারে
- মন-ময়ূরী ছড়ালো পেখম তারি হচ্ছে সলিল চৌধুরীর আধুনিক বাংলা প্রেমের গান
- গণসংগীত বা বাংলার প্রতিবাদী গান হচ্ছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণের বিপ্লবী গান
- হোই হোই হোই, জাপান ঐ গানটি বিনয় রায় রচিত একটি বিখ্যাত গণসংগীত
- শোন ওরে ও শহরবাসী শিল্পী বিনয় রায়ের কথা ও সুরে রচিত একটি কালজয়ী গণসংগীত
- সপ্তকোটি জনরঙ্গভূমি বঙ্গদেশ বীর-প্রসবিনী
- নবজীবন তরঙ্গাঘাতে হ’ল বঙ্গভূমি সিঞ্চিতা
- ফিরাইয়া দে, মোদের কায়ুর বন্ধুদেরে
- আর কতকাল, বলো কতকাল, সইব এ মৃত্যু অপমান
- নেতাজী সুভাষচন্দ্র সে তুমি দুলাল বাংলা মার
- ওগো সুন্দর, মনের গহনে তোমার মূরতিখানি
- বন্ধন-ভয় তুচ্ছ করেছি উচ্চে তুলেছি মাথা
- তেলের শিশি ভাঙল বলে, খুকুর পরে রাগ করো
- নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল
- বাংলা সংগীত হচ্ছে হাজার বছর ধরে চলমান এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অধিকারী
- ভয় নেই, ভয় নেই, মরণের পাল তুলে জীবন তো আসবেই
- মুক্তিরণের সাথী ওরে মুক্তিরণের সাথী
- এসো মুক্ত করো, মুক্ত করো অন্ধকারের এই দ্বার
- শেফালী তোমার আঁচলখানি বিছাও শারদ প্রাতে, চরণে চরণে তোলো রিনিঝিনি
- আমার আঁধার ঘরের প্রদীপ যদি নাইবা জ্বলে, কণ্ঠ-মালার বকুল যদি যায় গো দ’লে
- নজরুল গীতি হচ্ছে দেশপ্রেম, প্রেম, ধর্মসংগীতসহ রাগ ধারার গান
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।