রাই জাগো গো, জাগো শ্যামের মনমোহিনী গানের কথা ও ইতিহাস

Rai Jago Go traditional Baul folk song performance in Bengal village

জনপ্রিয় কৃষ্ণভজন “রাই জাগো গো, জাগো শ্যামের মনমোহিনী” মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী বাংলা লোকসংগীত। এই আধ্যাত্মিক গানটির সুনির্দিষ্ট কোনো একক রচয়িতা বা গীতিকারের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কীর্তন শিল্পী এবং লোকসংগীত সাধকদের মাধ্যমে এই ভক্তিগীতিটি বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। “রাই জাগো গো” গানটির মূল প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য “রাই জাগো … Read more

ফিরাইয়া দে মোদের কায়ুর বন্ধুদেরে: এক রক্তঝরা ইতিহাসের গান

Bengali peasants and freedom fighters protesting with red flag under banyan tree during Kayyur movement

বাংলা প্রতিবাদী গানের ইতিহাসে “ফিরাইয়া দে মোদের কায়ুর বন্ধুদেরে” একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শোকাতুর গণসংগীত। ১৯৪২ সালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের (IPTA) অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী বিনয় রায় এই ঐতিহাসিক গানটি রচনা এবং সুর করেছিলেন। কালজয়ী এই সৃষ্টিটি পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে মণিলাল মজুমদারসহ অন্যান্য লোকশিল্পীদের কণ্ঠে আরও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। “ফিরাইয়া দে … Read more

মায়ের মমতা ও প্রকৃতির মেলবন্ধন: ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’ গানের কাব্যিক বিশ্লেষণ

একটি গ্রামবাংলার বাড়ির উঠানে মাদুরে বসে থাকা হাস্যোজ্জ্বল মা ও তাঁর ছোট সন্তান, যেখানে বিকেলের সোনালী রোদ বাঁশবাগান ও টিনের ঘরের ওপর এসে পড়েছে।

মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে—কালজয়ী এই গানটি গীতিকার প্রণব রায়ের এক অনন্য সৃষ্টি। ১১ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ আধুনিক বাংলা গানটি মূলত মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্বের এক সুরেলা বহিঃপ্রকাশ। গানটির আদি সংস্করণে সুরারোপ ও কণ্ঠদান করেছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সুধীরলাল চক্রবর্তী। পরবর্তীতে অনুপ ঘোষাল, কুমার শানু, … Read more

নাইবা ঘুমালে প্রিয় রজনী এখনো বাকি: কালজয়ী এই গানের পেছনের গল্প ও লিরিক্স

নাইবা ঘুমালে প্রিয় গানের কথা অনুযায়ী এক জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে জানালা দিয়ে আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকা এক বিষণ্ণ নারীর প্রতিচ্ছবি।

নাইবা ঘুমালে প্রিয়, রজনী এখনো বাকি, প্রদীপ নিভিয়া যায়, শুধু জেগে থাক্ তব আঁখি—এটি প্রখ্যাত গীতিকার প্রণব রায়ের লেখা একটি কালজয়ী আধুনিক বাংলা গান। প্রায় ১০ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ প্রেমের গানটিতে সুরারোপ করেছিলেন প্রথিতযশা সুরকার সুবল দাশগুপ্ত। গানটি প্রথম রেকর্ডিংয়ে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী কে এল সায়গল। পরবর্তীতে শিল্পী অনুপ ঘোষাল, কুমার শানু, অমিত পাল, … Read more

তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো সকল ফুলের মুখে: গানটির ইতিহাস ও অজানা তথ্য

তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি' গানের প্রেক্ষাপটে একটি জলরঙের চিত্র, যেখানে জ্যোৎস্না রাতে বাগানে বসে সাদা শাড়ি পরা এক নারী চিঠি লিখছেন এবং চারপাশে সাদা ফুল ও বিরহের আবহ ফুটে উঠেছে।

‘তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো সকল ফুলের মুখে, ফুল ঝরে যায় তব স্মৃতি জাগে’—এটি বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের এক অমর সৃষ্টি। ১৯৪১ সালে প্রথম রেকর্ড হওয়া এই কালজয়ী গানটিতে সুরারোপ করেন এবং কণ্ঠ দেন কিংবদন্তি শিল্পী কমল দাশগুপ্ত। ১৪ লাইনের এই বিরহী প্রেমের গানটি দাদরা তালে নিবদ্ধ, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল … Read more

জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা: বিরহ ও না পাওয়ার এক কালজয়ী গান

জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা গানের প্রতীকী চিত্র—ব্যর্থ প্রেম ও বিরহী স্মৃতির এক বিষাদময় দৃশ্য।

জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল হচ্ছে প্রণব রায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান। গানটির প্রথম রেকর্ডিং-এ সুরকার ছিলেন শৈলেশ দাশগুপ্ত এবং শিল্পী ছিলেন সন্তোষ সেনগুপ্ত। প্রণব রায়ের কালজয়ী এই গানটি কেবল প্রেমের ব্যর্থতার গান নয়, এটি সময়ের চাকা ঘুরে যাওয়া এক চরম সত্যের বহিঃপ্রকাশ। গানটির প্রতিটি ছত্রে লুকিয়ে আছে … Read more

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে: গানটির সঠিক গীতিকার ও ভাবার্থ

গোধূলি বেলায় নদীর ঘাটে সাদা-লাল শাড়িতে বিষণ্ণ এক নারী প্রতীক্ষারত, "বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে" গানের বিরহী আবহ প্রকাশ করছে।

“বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে”—প্রণব রায়ের লেখা এই আধুনিক বাংলা গানটি বিরহ আর আকুলতার এক অনন্য দলিল। ১০ লাইনের এই মাঝারি দৈর্ঘ্যের গানটি মূলত প্রেমের এক গভীর প্রশস্তি। নিজের অস্তিত্বকে ভালোবাসার মানুষের কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করার যে আর্তি এখানে ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। গানটির আদি সুরকার ছিলেন কমল দাশগুপ্ত। কণ্ঠশিল্পী ছিলেন জগন্ময় … Read more

কেন এ হৃদয় নিজেরে লুকাতে চায়: এক অন্তর্মুখী প্রেমের কাব্যিক ব্যবচ্ছেদ

১৯৭০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে বেঞ্চে বসা এক লাজুক তরুণ ও তরুণী, যেখানে তাদের অভিব্যক্তিতে প্রেমের প্রাথমিক দ্বিধা ও আড়ষ্টতা ফুটে উঠেছে।

কেন এ হৃদয় নিজেরে লুকাতে চায়—আধুনিক বাংলা গানের এক নিভৃত ও মরমী সৃষ্টি। প্রণব রায়ের কালজয়ী লেখনীতে সমৃদ্ধ এই গানটি মূলত ১২ লাইনের একটি নাতিদীর্ঘ কিন্তু গভীর আবেদনময় প্রেমের কবিতা। গানের চরণে চরণে আছে এক আশ্চর্য চিত্রকল্প, যেখানে কবি গেয়েছেন—মুকুল যেমন আপনারে ঢাকে বনপল্লব ছায়। সুরকার ও শিল্পীর নাম কালের গর্ভে হারানো এক অমীমাংসিত রহস্য … Read more

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা, নিষেধের বেড়াজালে বিষণ্ণ হাসির গান

এইটুকু এই জীবনটাতে

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা চলতে মানা’ গানটি আধুনিক বাংলা গানের ইতিহাসে এক বিরল সংযোজন। ১৯৬০ সালে কিংবদন্তি শিল্পী ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ধারণকৃত এবং সুরকার সুধীন দাশগুপ্তের অনবদ্য সুরমূর্ছনায় সমৃদ্ধ এই গানটি বিশিষ্ট গীতিকার সুবীর হাজরা রচনা করেন। এই চৌদ্দ লাইনের নাতিদীর্ঘ গীতিকবিতাটিতে মানুষের জীবনের গভীর অপ্রাপ্তি ও অবদমিত অনুভূতিগুলোকে এক অদ্ভুত বিষাদময় হাস্যরসের (Black Humor) মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমাজ ও … Read more

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান

রাখালিয়া সুর

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ গানটি বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের এক অনন্য সৃষ্টি। গানটির রচয়িতা প্রখ্যাত গীতিকার আনন্দ মুখোপাধ্যায়। মাত্র ৮ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ গানটিতে তিনি পল্লী প্রকৃতির আবহে এক গভীর রোমান্টিক আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই কালজয়ী গানটিতে সুরারোপ করেন বরেণ্য সুরকার শৈলেন মুখোপাধ্যায়। গানটির প্রথম রেকর্ডিং করেছিলেন প্রথিতযশা শিল্পী ইলা চক্রবর্তী। তাঁর দরদী কণ্ঠের … Read more

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর কবি নরোত্তম দাস ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলী

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর, হরি হরি বলিতে নয়নে ব’বে নীর—এই অমর পঙক্তিটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব সাহিত্যের অত্যন্ত আবেগঘন ও জনপ্রিয় একটি পদাবলি কীর্তন বা লোকগান। ১৬শ শতাব্দীতে (আনুমানিক ১৫৫০ সাল নাগাদ) প্রখ্যাত বৈষ্ণব সাধক ও কবি নরোত্তম দাস ঠাকুর এটি রচনা করেন। পদটি মূলত ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি ভক্তের একনিষ্ঠ প্রেম, আকুতি এবং শ্রীহরি নাম সংকীর্তনের অপার … Read more

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে, সেই সুরে সুরে মন নাচে উল্লাসে

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে হচ্ছে সুধীন দাশগুপ্তের কথা ও সুরে একটি জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গান। বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে সুধীন দাশগুপ্ত এক কালজয়ী নাম। তাঁরই লেখা ও তাঁরই সুরে সৃষ্টি হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান হলো “এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে”। গানটির কথা ও সুরের মধ্যে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং এক ধরণের ছন্দময় দোলা … Read more

বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া

বনে বনে বসন্ত আসে

বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া হচ্ছে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি অসাধারণ আধুনিক বাংলা গান। গানটি মাঝারি আকারের ১৪ লাইনের একটি গান। গানটিতে গীতিকার নিজেই সুরারোপ করেন। গানটি প্রথম রেকর্ডিংয়ে ১৯৫৮ সালে প্রথম কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী ইলা (বসু) চক্রবর্তী। নাতিদীর্ঘ গানটি ‘গান ফুরালো জলসা ঘরে’ নামের এ্যালবামে সংকলিত হয়েছে। … Read more

থামো বন্ধু, দাঁড়াও ক্ষণেক থামি হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের রচিত গান

থামো বন্ধু

থামো বন্ধু, দাঁড়াও ক্ষণেক থামি গানটি বাংলা সংগীতের স্বর্ণযুগের একটি কালজয়ী সৃষ্টি। এই গানটির কথা লিখেছেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র। গানটির প্রথম কণ্ঠশিল্পী বা মূল গায়িকা ছিলেন ছায়া দেবী। গানটি প্রথমে তুলসী লাহিড়ীর কাহিনী ঘিরে রিক্তা (১৯৩৯) ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং গানটি সে সময় বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গানটির সুরারোপ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ … Read more

নাবিক আমার নোঙর ফেলো, ওই তো তোমার তীর

নাবিক আমার নোঙর ফেলো

নাবিক আমার নোঙর ফেল ওই তো তোমার তীর গানটি বাংলা সংগীতের স্বর্ণযুগের একটি কালজয়ী সৃষ্টি। এই গানটির কথা লিখেছেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র। গানটির প্রথম কণ্ঠশিল্পী বা মূল গায়িকা ছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী রবিন মজুমদার এবং সহশিল্পীরা। গানটির সুর করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত। গানটি সম্ভবত ১৯৪২ সালে মুক্তি পায়। এটি পরবর্তীতে ‘যোগাযোগ’ … Read more