আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা: সলিল চৌধুরীর এক অমর সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী ও লিরিক্স

‘আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’ ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া একটি বিখ্যাত গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী। গানটির মূল গায়ক হলেন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, যাঁর গম্ভীর ও দরদী কণ্ঠে এটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হেমন্ত-সলিল জুটির অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে এটি আজও বাংলা সঙ্গীত ভাণ্ডারে অমলিন হয়ে আছে।

গানের ভাবার্থ ও দর্শন:

গানটি জীবনের সংগ্রাম, আশা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। গানের কথায় কবি জীবনের ঝোড়ো সময়, বন্যা ও ঘূর্ণির মাঝেও নিজের অস্তিত্ব বা ‘নিশানা’ রেখে যাওয়ার কথা বলেছেন। বিচ্ছেদ আর হাহাকারের মাঝেও প্রেমের পরশ খুঁজে পাওয়া এবং বারবার ভেঙে পড়ার পরও অজানার উদ্দেশ্যে তরী ভাসিয়ে নতুন করে বাঁচার যে অনুপ্রেরণা, তা সলিল চৌধুরী গানের প্রতিটি ছত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সঙ্গীতশৈলী ও উত্তরাধিকার:

সলিল চৌধুরীর সুরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল পাশ্চাত্য হারমনি ও দেশীয় তালের মেলবন্ধন। এই গানটিতেও সেই আধুনিকতা ও ড্রামাটিক কম্পোজিশন লক্ষ্য করা যায়, যা তখনকার দিনে বাংলা গানে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে গানটি জনপ্রিয় হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে শ্রীকান্ত আচার্য বা মিফতাহ জামান-এর মতো শিল্পীরাও এটি কণ্ঠে তুলেছেন।

গানটি শ্রীকান্ত আচার্যের কণ্ঠে ইউটিউবে শুনুন

গানের কথা

আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা।
আমি কাঁদলাম বহু হাসলাম
এই জীবন জোয়ারে ভাসলাম
আমি বন্যার কাছে ঘূর্ণির কাছে রাখলাম নিশানা।।

কখন জানিনা সে, সে যে আমার জীবনে এসে
যেন স্বঘন শ্রাবনে প্লাবনে দু’কূলে ভেসে
শুধু হেসে ভালোবেসে।।

যতো যতনে সাজানো স্বপ্ন হলো সকলি নিমেষে ভগ্ন
আমি দূর্বার স্রোতে ভাসলাম তরী অজানা নিশানা।।

ওগো ঝরা পাতা যদি আবার কখনো ডাকো
সেই শ্যামল হারানো স্বপ্ন মনেতে রাখো
যদি ডাকো, যদি ডাকো।।

আমি আবার কাঁদবো হাসবো এই জীবন জোয়ারে ভাসবো
আমি বজ্রের কাছে মৃত্যুর মাঝে রেখে যাবো নিশানা।।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র ও টিকা

১. লেখাটি ১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো। গানের কথা নেয়া হয়েছে শিশির চক্রবর্তী সংকলিত পত্রভারতী কলকাতা প্রকাশিত দ্বিতীয় মুদ্রণ ডিসেম্বর ২০১৮পাঁচদশকের আধুনিক বাংলা গানের গীতবিতান এ শুধু গানের দিন গ্রন্থের ৩৯৯ পৃষ্ঠা থেকে। এছাড়াও গানটি সুধীর চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত আধুনিক বাংলা গান, প্যাপিরাস কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১ বৈশাখ ১৩৯৪, পৃষ্ঠা ১৫৬-তে সংকলিত রয়েছে।

Leave a Comment