কতদিন দেখিনি তোমায়: প্রণব রায় রচিত বিচ্ছেদ ও নিঃসঙ্গতার এক কাব্যিক আখ্যান

একটি সাদাকালো সিনেমাটিক ছবি যেখানে একজন মধ্যবয়সী বিষণ্ণ পুরুষকে একটি বিছানার ধারে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন দেখা যাচ্ছে। তার ঠিক পাশেই দেয়ালে ঝোলানো একটি বৃত্তাকার আয়নায় এক হাসিখুশি তরুণীর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা তার স্মৃতির প্রতিফলন। ঘরের টেবিলে একটি নিভন্ত লণ্ঠন এবং খোলা বই পড়ে আছে, আর জানালার বাইরে দিয়ে আসা হালকা আলো ঘরের বিষণ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ছবির মাঝখানে বাংলায় গানের কয়েকটি পঙক্তি লেখা আছে।

কতদিন দেখিনি তোমায়, তবু মনে পড়ে তব মুখখানি—এটি প্রখ্যাত গীতিকার প্রণব রায়ের লেখা একটি কালজয়ী আধুনিক বাংলা গান। প্রায় ১০ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ প্রেমের গানটিতে সুরারোপ করেছিলেন প্রথিতযশা সুরকার কমল দাশগুপ্ত এবং প্রথম রেকর্ডিংয়ে কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি। গানটি প্রণব রায়ের অন্যতম জনপ্রিয় কাজ হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তীতে শিল্পী ফিরোজা বেগম, মান্না দে, কুমার শানু, অয়ন সরকার … Read more

আধুনিক বাংলা গান সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী

আধুনিক বাংলা গান

আধুনিক বাংলা গান (ইংরেজি: Modern Bangla song) মূলত সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী। এর নামেই মিশে আছে সমসাময়িকতা আর নতুনের জয়গান। বাংলা গানের দীর্ঘ পথচলায়—প্রাচীন চর্য্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলী কিংবা লোকসংগীতের আঙিনা পেরিয়ে—অনেকগুলো বিবর্তনের স্তর অতিক্রম করেই আধুনিক গান আজ তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি … Read more

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা, নিষেধের বেড়াজালে বিষণ্ণ হাসির গান

এইটুকু এই জীবনটাতে

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা চলতে মানা’ গানটি আধুনিক বাংলা গানের ইতিহাসে এক বিরল সংযোজন। ১৯৬০ সালে কিংবদন্তি শিল্পী ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ধারণকৃত এবং সুরকার সুধীন দাশগুপ্তের অনবদ্য সুরমূর্ছনায় সমৃদ্ধ এই গানটি বিশিষ্ট গীতিকার সুবীর হাজরা রচনা করেন। এই চৌদ্দ লাইনের নাতিদীর্ঘ গীতিকবিতাটিতে মানুষের জীবনের গভীর অপ্রাপ্তি ও অবদমিত অনুভূতিগুলোকে এক অদ্ভুত বিষাদময় হাস্যরসের (Black Humor) মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমাজ ও … Read more

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান

রাখালিয়া সুর

রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ গানটি বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের এক অনন্য সৃষ্টি। গানটির রচয়িতা প্রখ্যাত গীতিকার আনন্দ মুখোপাধ্যায়। মাত্র ৮ লাইনের এই নাতিদীর্ঘ গানটিতে তিনি পল্লী প্রকৃতির আবহে এক গভীর রোমান্টিক আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই কালজয়ী গানটিতে সুরারোপ করেন বরেণ্য সুরকার শৈলেন মুখোপাধ্যায়। গানটির প্রথম রেকর্ডিং করেছিলেন প্রথিতযশা শিল্পী ইলা চক্রবর্তী। তাঁর দরদী কণ্ঠের … Read more

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে, সেই সুরে সুরে মন নাচে উল্লাসে

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে

এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে হচ্ছে সুধীন দাশগুপ্তের কথা ও সুরে একটি জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গান। বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে সুধীন দাশগুপ্ত এক কালজয়ী নাম। তাঁরই লেখা ও তাঁরই সুরে সৃষ্টি হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান হলো “এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে”। গানটির কথা ও সুরের মধ্যে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং এক ধরণের ছন্দময় দোলা … Read more

বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া

বনে বনে বসন্ত আসে

বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া হচ্ছে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি অসাধারণ আধুনিক বাংলা গান। গানটি মাঝারি আকারের ১৪ লাইনের একটি গান। গানটিতে গীতিকার নিজেই সুরারোপ করেন। গানটি প্রথম রেকর্ডিংয়ে ১৯৫৮ সালে প্রথম কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী ইলা (বসু) চক্রবর্তী। নাতিদীর্ঘ গানটি ‘গান ফুরালো জলসা ঘরে’ নামের এ্যালবামে সংকলিত হয়েছে। … Read more

প্রেমেন্দ্র মিত্রের গান আধুনিক বাংলা গানের ধারায় রচিত

প্রেমেন্দ্র মিত্রের গান

প্রেমেন্দ্র মিত্রের গান আধুনিক বাংলা গানের ধারায় রচিত প্রায় দেড় শতাধিক গানের সমাহার। কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি চমকপ্রদ দিক ছিল তাঁর গান রচনা। তাঁর গানগুলোকে আধুনিক বাংলা গান হিসেবে সহজেই শ্রেণিকরণ করা যায়। তাঁর গানেও প্রেম, বিরহ, রোমান্টিকতার অনুভব এবং স্বাভাবিকভাবেই চাঁদ ফুল তারা পাখি ইত্যাদি শব্দের প্রভাব দেখা যায়। প্রেমেন্দ্র … Read more

এই জীবনের যত মধুর ভুলগুলি, ডালে ডালে ফোটায় কে আজ বুলিয়ে রঙিন অঙ্গুলি

এই জীবনের যত মধুর ভুলগুলি

এই জীবনের যত মধুর ভুলগুলি,— ডালে ডালে ফোটায় কে আজ বুলিয়ে রঙিন অঙ্গুলি গানটি বাংলা সংগীতের স্বর্ণযুগের একটি কালজয়ী সৃষ্টি। এই গানটির কথা লিখেছেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র। গানটির প্রথম কণ্ঠশিল্পী বা মূল গায়ক ছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী রবীন মজুমদার। গানটির সুর করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত। গানটি ১৯৪২ সালে মুক্তি পায়। এটি … Read more

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই: নজরুলের এক অমর বিরহী সুরের কাব্যিক বিশ্লেষণ

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার’—বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক অসামান্য সৃষ্টি, যেখানে কবির কলমে ফুটে উঠেছে বিরহ ও বিচ্ছেদের এক মরণপণ আর্তনাদ। এটি কেবল একটি গান নয়, বরং নজরুলগীতির এক কালজয়ী করুণ রসাত্মক আবেদন। গোধূলির ম্লান আলোয় প্রিয়জনকে হারানোর যে গভীর হাহাকার এই গানে চিত্রিত হয়েছে, তা শ্রোতার হৃদয়ে এক বিষণ্ণ অনুভূতির … Read more

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই কেন মনে রাখ তারে

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই গানটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ও সুরারোপকৃত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কালজয়ী নজরুলগীতি। গানটি মূলত বিচ্ছেদ এবং না-পাওয়ার বেদনার এক অপূর্ব কাব্যিক প্রকাশ। গানটি সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য ধারণা করা হয়, গানটি কবির জীবনের ব্যক্তিগত বিরহ ও প্রেমকে কেন্দ্র করে রচিত। নজরুলের প্রথম স্ত্রী নার্গিস আসার খানম-এর সাথে … Read more

সুর ও রাজনীতিতে কালজয়ী বিনয় রায়: বাংলা গান ও গণসংগীতের এক নেপথ্য কারিগর

প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ও সুরকার বিনয় রায়ের একটি সাদাকালো স্মারক ব্যানার। বাম পাশে চশমা পরা অবস্থায় তাঁর ডান প্রোফাইলের (পাশ থেকে নেওয়া) একটি ক্লোজ-আপ ছবি রয়েছে। ডান পাশে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর রঙিন ফন্টে বাংলায় বড় অক্ষরে লেখা 'বিনয় রায়' এবং নিচে বেগুনি রঙের ফন্টে তাঁর জীবনকাল বন্ধনীর ভেতর লেখা রয়েছে: '(৮ সেপ্টেম্বর ১৯১৮ - ৩ জুলাই ১৯৭৫)'।

বিনয় রায় (৮ সেপ্টেম্বর ১৯১৮ – ৩ জুলাই ১৯৭৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা গান ও গণসংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ, একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক এবং আজীবন রাজনৈতিক যোদ্ধা। শৈশব থেকেই সহজাত সুকণ্ঠের জাদুতে তিনি মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাদের। তবে কেবল সুরের মায়াজালে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি; কৈশোরেই তাঁর হৃদয়ে অঙ্কুরিত হয়েছিল দেশমাতৃকার মুক্তি ও প্রগতিশীল রাজনীতির আদর্শ। সুরের সাথে সেই আজন্ম লালিত … Read more

‘আর কতকাল, বলো কতকাল’: অহল্যা মায়ের গান ও নকশালবাড়ি আন্দোলনের অবিনাশী সুর

আর কতকাল

আর কতকাল, বলো কতকাল, সইব এ মৃত্যু অপমান বা অহল্যা মায়ের গান — অগ্নিঝরা নকশালবাড়ি অভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত এই পঙক্তিটি বাংলা গণসংগীতের ইতিহাসে এক অবিনাশী প্রতিবাদের নাম। শোষিত মানুষের হাহাকার, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন আর অগণিত শহীদের রক্তস্নাত আত্মত্যাগের আর্তনাদ এই গানের ছত্রে ছত্রে মিশে আছে। প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী বিনয় রায়ের কথা ও সুরে এই গানে উঠে এসেছে চন্দনপিঁড়ির … Read more

তোরসা নদীর ধারে ধারে ওই, দিদিগো মানসাই নদীর ধারে

তোরসা নদীর ধারে ধারে

তোরসা নদীর ধারে ধারে গানটি বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভাওয়াইয়া গান, যা উত্তরবঙ্গ এবং কোচবিহার অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই গানটি মূলত বিরহ এবং প্রেমের আবেগ প্রকাশ করে। তোরসা নদীর ধারে ধারে গানটির মূল শিল্পী ছিলেন লোক সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। তিনি এই গানটি তার দরদভরা কণ্ঠে গেয়ে গানটিকে ব্যাপক জনপ্রিয় করেন। গানটির … Read more

শুক-শারী সংবাদ হচ্ছে গোবিন্দ অধিকারী রচিত লোকসংগীত ও বৈষ্ণব পদাবলির গান

শুক শারী সংবাদ

শুক-শারী সংবাদ গোবিন্দ অধিকারী রচিত বাংলা লোকসংগীত এবং বৈষ্ণব পদাবলির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ গান। এই গানটি মূলত শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকার প্রেমলীলার এক চমৎকার রূপক বিতর্ক।[১] গানের মূল বিষয়বস্তু হলো দুই পাখি—শুক (পুরুষ পাখি) এবং শারী (স্ত্রী পাখি)-র মধ্যকার কথোপকথন। শুক পাখি যখন শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও রূপের গুণগান গায়, শারী পাখি তখন রাধিকার শ্রেষ্ঠত্ব … Read more

বাংলাদেশের সংগীত হচ্ছে এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন

বাংলাদেশের সংগীত

বাংলাদেশের সংগীত বা বাংলাদেশের গান (ইংরেজি: Music of Bangladesh) অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ, যা এই জনপদের হাজার বছরের সংগীতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। বাংলাদেশের সঙ্গীতের মূল ভিত্তি হলো এর লোক সংগীত, যেখানে পল্লীগীতি, লালন গীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী এবং মুর্শিদী গানের মতো ধারাগুলো মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ এবং বস্তুবাদী ও ভাববাদী চেতনাকে তুলে ধরে। ধ্রুপদী বা … Read more