বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কালজয়ী করুণ রসাত্মক নজরুল গীতি। গানটিতে বিরহ এবং বিচ্ছেদের এক গভীর আর্তনাদ ফুটে উঠেছে।

গানটি সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই গানটি মিশ্র ভীমপলশ্রী রাগে এবং একতালা তালে নিবদ্ধ। গানটি ১৯৩২ সালের এপ্রিল মাসে (চৈত্র ১৩৩৮ – বৈশাখ ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের বিখ্যাত সংগীত গ্রন্থ সুর-সাকী-তে অন্তর্ভুক্ত (সুর-সাকী ৩)।

গানটির প্রথম রেকর্ডিং করেছিলেন প্রখ্যাত নজরুল গীতি শিল্পী আঙ্গুরবালা (এপ্রিল ১৯৩২, এইচএমভি রেকর্ড)। পরবর্তীতে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সন্তোষ সেনগুপ্ত, শাহীন সামাদ ও প্রিয়াঙ্কা গোপের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা এই গানটি গেয়েছেন।

গানটির স্বরলিপি তৈরি করেছেন আহসান মুর্শেদ, যা নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে প্রকাশিত নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপির ৩০তম খণ্ডে সংরক্ষিত আছে।

গানের মর্মার্থ

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই গানটিতে কবি বিচ্ছেদের করুণ মুহূর্তকে সন্ধ্যার অন্ধকারের সাথে তুলনা করেছেন। প্রিয়জনের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে কবি বলেছেন, তিনি স্রোতে ভেসে আসা ফুলের মতো এসেছিলেন, কিন্তু প্রিয়জন তাকে অবহেলায় আবার স্রোতেই ভাসিয়ে দিয়েছেন। সংসারের প্রেমকে তিনি ক্ষণস্থায়ী ফুলের সাথে তুলনা করেছেন, যা ফুটলেই শুকিয়ে যায়। হৃদয়ের এই গভীর অভিমান ও নিঃসঙ্গতা গানটির মূল উপজীব্য।

গানের কথা

বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
হে প্রিয়, আমার, যাত্রা-পথ অশ্রু-পিছল ক’রো না আর॥

এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার॥

হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাহি হৃদি ভালোবাসার।

তুমি বুঝিবে না কি অভিমান
মিলনের মালা করিল ম্লান
উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার॥

আরো পড়ুন

সায়নী বন্দোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন ইউটিউব থেকে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো।

Leave a Comment

error: Content is protected !!