আধুনিকতাবাদী সাহিত্য হচ্ছে নিরীক্ষাধর্মী সাহিত্যিক আন্দোলন

আধুনিকতাবাদী সাহিত্য বা আধুনিকবাদী সাহিত্য বা সাহিত্যে আধুনিকতাবাদ বা সাহিত্য আধুনিকবাদ (ইংরেজি: Literary modernism, বা Modernist literature) হচ্ছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ও বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কবিতা ও গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী লেখার পদ্ধতি থেকে আত্মসচেতনভাবে ফারাক করবার সাহিত্যিক রীতি। আধুনিকতাবাদ সাহিত্যিক রূপ ও অভিব্যক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, যেমনটি এজরা পাউন্ডের “এটিকে নতুন করে তৈরি করুন”[১] উক্তি দ্বারা উল্লেখ করা হয়।

এই সাহিত্য আন্দোলনটি সেই সময়ের ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনা পদ্ধতিগুলিকে উল্টে দেওয়ার এবং সেই সময়ের নতুন সংবেদনশীলতা প্রকাশ করার সচেতন ইচ্ছা দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের কারণে সমাজ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিশ শতকের আধুনিকতার সামাজিক পরিবর্তনের সাথে বহুমুখী আধুনিকতাবাদী সাহিত্য জড়িয়ে পড়ে। আধুনিকতাবাদী সাহিত্যে, মেরি অ্যান গিলিস উল্লেখ করেছেন যে এই সাহিত্যিক মূলভাবগুলি “অতীতের সাথে সচেতন বিরতির কেন্দ্রবিন্দু” ভাগ করে নেয়, যা “পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রতি মহাদেশ ও বিদ্যাশাখাজুড়ে একটি জটিল প্রতিক্রিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়”।[২]

আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের প্রকাশ অঞ্চল

আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের উদ্ভব ঘটেছিল উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সাহিত্যে। মূলত ভিক্টোরীয় যুগের কঠোর নিয়মনীতি, অতি-রক্ষণশীলতা এবং ‘নৈর্বক্তিক সত্যে’র প্রথাগত ধারণার ওপর মানুষের যখন মোহভঙ্গ হতে শুরু করে, তখনই এই নতুন সাহিত্য আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এটি ছিল এক নতুন ও পরীক্ষামূলক সাহিত্য ও কতিপয় ক্ষেত্রে শিল্প আন্দোলন। পুরনো সামন্তবাদী মূল্যবোধের প্রতি এই অনাস্থা ও মানসিক পরিবর্তনই আধুনিকতাবাদ বিকাশের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।[৩]

প্রচলিত নিয়মনীতি, পুরনো রীতি এবং ঐতিহ্যের ধারা থেকে সচেতনভাবে বেরিয়ে আসাই এই সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইউরোপে গণতন্ত্রের বিকাশের সঙ্গে আধুনিকতাবাদের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিকতা সামন্তবাদী ধ্যানধারণা ও সেকেলে মূল্যবোধকে পেছনে ফেলে ব্যক্তির নিজস্ব আত্মপ্রকাশ, স্বতন্ত্র বিচারবুদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি প্রদান করে।[৪]

সমাজের রূপান্তরের একটি বিশেষ পর্যায়কে যদি ‘আধুনিক’ বলা হয়, তবে সেই সময়ের বৈশিষ্ট্যগুলো যখন আমরা সামাজিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণে প্রয়োগ করি, তখন তাকেই বলা হয় আধুনিকতাবাদী সাহিত্য। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আধুনিকতাবাদ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী যুগের এক অনন্য সৃষ্টি, যা মূলত একচেটিয়া পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় বিকাশ লাভ করেছে। মজার বিষয় হলো, আধুনিকতাবাদের প্রবক্তারা অনেক সময় পুঁজিবাদী ‘ভোক্তাবাদ’ বা ভোগবাদী সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ১৯৬০-এর দশকে, ‘উত্তর-আধুনিকতাবাদ’ (Post Modernism) ক্রমে এই ভোক্তা সংস্কৃতির সঙ্গেই মিলেমিশে একাকার হতে শুরু করে।[৫]

আধুনিকতাবাদী সাহিত্য কোনো একমুখী বা একমুখী শিলীভূত অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়, বরং এটি বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সূচিত হওয়া বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক আন্দোলনের একটি সমন্বিত রূপ। আধুনিকতাবাদের এই বিশাল পরিসরে প্রতীকবাদ, চিত্রকল্পবাদ (Imigism), অভিব্যক্তিবাদ (Expressionism), দাদাবাদ, পরাবাস্তববাদ (Surrealism), ধারণাবাদ (Impressionism), আঙ্গিকবাদ, ভবিষ্যবাদ, ভর্টিসিজমের মতো বহুমুখী ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত। যদিও এই আন্দোলনগুলোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন এবং কখনো কখনো একে অপরের বিপরীতমুখী, তবুও এগুলোর সম্মিলিত প্রকাশই সাহিত্যে আধুনিকতাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বৈচিত্র্য আর অন্তর্নিহিত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সাহিত্যের ইতিহাসে আধুনিকতাবাদ একটি অনস্বীকার্য ও যুগান্তকারী পর্যায়।[৬]

আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের সূচনাকাল

আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের সূচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সাহিত্যের ইতিহাসে ১৮৯০ থেকে ১৯৩০ সাধারণাব্দ পর্যন্ত সময়কে আধুনিকতাবাদী আন্দোলনের কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৭]

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ভার্জিনিয়া উলফ ১৯১০ সালের ডিসেম্বর মাসকে মানব প্রকৃতির আমূল পরিবর্তনের সময় হিসেবে চিহ্নিত করে আধুনিকতাবাদের সূচনা ঘোষণা করেছিলেন। তবে ১৯১০ সালের আগেই আধুনিকতাবাদের পদধ্বনি শোনা গিয়েছিল।[৮] উদাহরণস্বরূপ, ১৯০২ সালে প্রকাশিত জোসেফ কনরাডের (১৮৫৭–১৯২৪) ‘হার্ট অফ ডার্কনেস’ কিংবা তারও আগে ১৮৯৬ সালে আলফ্রেড জেরির অ্যাবসার্ড নাটক ‘উবু রুই’ এই ধারার সূচনা করেছিল।

আধুনিকতাবাদের আনুষ্ঠানিক সূচনার বহু আগেই বিশ্বসাহিত্যের বেশ কয়েকজন কালজয়ী স্রষ্টা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে এই আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। এঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রাশিয়ার ফিওদর দস্তয়েভস্কি, যাঁর ‘অপরাধ ও শাস্তি’ (১৮৬৬) এবং ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ’ (১৮৮০) উপন্যাসে মানুষের মনস্তত্ত্বের জটিল তলদেশ উন্মোচিত হয়েছে। আমেরিকান কবিতায় ওয়াল্ট হুইটম্যান তাঁর ‘ঘাসের পাতা’ (Leaves of Grass) কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে প্রথাগত ছন্দ ভেঙে নতুনত্বের সূচনা করেন। ফরাসি সাহিত্যের দিকপাল গুস্তাভ ফ্লবেয়ার তাঁর ‘মাদাম বোভারি’ ও ‘সেন্টিমেন্টাল এডুকেশন’-এর মতো রচনার মাধ্যমে আধুনিক উপন্যাসের শৈলী নির্মাণ করেন।

এছাড়া আধুনিক কবিদের অনুপ্রেরণা হিসেবে শার্ল বোদলেয়ার (লেস ফ্লেউরস ডু মাল) এবং আর্তু রঁবো (আলোকসজ্জা) কবিতার সংবেদনশীলতাকে আমূল বদলে দেন। নরওয়েজীয় লেখক ক্নুট হামসুন তাঁর ১৮৯০ সালে প্রকাশিত ‘ক্ষুধা’ (Hunger) উপন্যাসের মাধ্যমে আধুনিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। নাট্যসাহিত্যের ক্ষেত্রে অগাস্ট স্ট্রিন্ডবার্গ ছিলেন এক অনন্য অগ্রপথিক; বিশেষত তাঁর পরবর্তী সময়ের নাটকগুলো যেমন—ত্রয়ী নাটক ‘টু দামেস্ক’‘আ ড্রিম প্লে’ এবং ‘দ্য ঘোস্ট সোনাটা’—আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আধুনিকতাবাদ

১৯২০ এবং ১৯৩০-এর দশক ছিল আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের এক সোনালী সময়। এই দুই দশকে মার্সেল প্রুস্ত, ভার্জিনিয়া উলফ, রবার্ট মুসিল এবং ডরোথি রিচার্ডসনের মতো লেখকদের কালজয়ী উপন্যাসসমূহ বিশ্বসাহিত্যের ধারা বদলে দিয়েছিল। অন্যদিকে, আমেরিকান আধুনিকতাবাদী নাট্যচর্চায় ইউজিন ও’নিল এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। ১৯১৪ সালে তাঁর লেখালেখি শুরু হলেও শ্রেষ্ঠ কাজগুলো মূলত ১৯২০ থেকে ১৯৪০-এর দশকের প্রথমার্ধের মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করে। একই ধারায় ১৯২৮ সালে ডি. এইচ. লরেন্স প্রকাশ করেন তাঁর বহুচর্চিত উপন্যাস ‘লেডি চ্যাটারলির প্রেমিকা’

আধুনিকতাবাদী কবিতার ক্ষেত্রে ১৯২০-এর দশক ছিল একটি বৈপ্লবিক সন্ধিক্ষণ। এই দশকেই টি. এস. এলিয়ট তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যকীর্তিগুলো উপহার দেন। বিশেষ করে ১৯২২ সালে প্রকাশিত দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড (The Waste Land) আধুনিক কাব্যসাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া তাঁর অন্য দুই উল্লেখযোগ্য রচনা—‘দ্য হলো মেন’ ও ‘অ্যাশ ওয়েডনেসডে’ আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতা ও আধ্যাত্মিক সংকটের এক অনন্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।[৯]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও হৃতসর্বস্ব প্রজন্ম

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার পর এক উদ্দেশ্যহীন ও নৈতিকভাবে বিপর্যস্ত প্রজন্মের উদ্ভব ঘটে, যারা ইতিহাসে ‘লস্ট জেনারেশন’ বা ‘হৃতসর্বস্ব প্রজন্ম’ হিসেবে পরিচিত। এই প্রজন্মের তরুণরা হয় যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিল, নয়তো বেঁচে থেকেও আধ্যাত্মিক ও মানসিক পঙ্গুত্ব নিয়ে এক লক্ষ্যহীন জীবন যাপন করছিল। এই বিশেষ অভিধাটির উদ্ভাবক ছিলেন ‘আভাঁ-গার্দ’ শিল্প-সাহিত্য আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব গারট্রুড স্টেইন। এই হৃতসর্বস্ব প্রজন্মের জীবনযাত্রা, গভীর শূন্যতাবোধ এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির নিপুণ চিত্র পাওয়া যায় সমসাময়িক মার্কিন কথাসাহিত্যিকদের লেখায়—বিশেষ করে স্কট ফিটজেরাল্ড ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ে কালজয়ী উপন্যাসগুলোতে।[১০]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে নিত্যপণ্যের চরম হাহাকার এবং জীবনযাত্রার মানের তীব্র অবনতি এক দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যুদ্ধে অগণিত প্রাণের বিসর্জন সমাজে যে বিশাল শূন্যতার জন্ম দেয়, তার বিপরীতে একদল যুদ্ধ-ব্যবসায়ীর অনৈতিকভাবে গড়ে তোলা বিপুল ঐশ্বর্য মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও বিষাদ ছড়িয়ে দিয়েছিল। সমাজের এই বৈষম্য এবং যুদ্ধোত্তর নৈতিক অবক্ষয় মানুষের আত্মাকে বিষিয়ে তুলেছিল। স্বাভাবিকভাবেই, সেই সময়ের সংবেদনশীল ও চিন্তাশীল লেখকদের লেখনীতে এই ‘মোহভঙ্গ’ ও অবসাদগ্রস্ত মানসিকতার করুণ চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।[১১]

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. Ezra Pound, Make it New, Essays, London, 1935.
২. Mary Ann Gillies, Modernist Literature, 2007, Edinburgh: Edinburgh University Press. p. 2,3. ISBN 978-0748627646.
৩. M. H. Abrams, A Glossary of literary Terms (7th edition). (New York: Harcourt Brace), 1999), p. 167.
৪. সুরভি বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যের শব্দার্থকোষ, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ২০-২১।
৫. সৌরীন ভট্টাচার্য, বুদ্ধিজীবীর নোটবই, সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত, “আধুনিকতা ও আধুনিকতাবাদ প্রসঙ্গে” নবযুগ প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০১০, পৃষ্ঠা ৫৮-৫৬।
৬. খোন্দকার আশরাফ হোসেন, পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্ব ও সাহিত্য সমালোচনা পদ্ধতি মোস্তফা আহাদ তালুকদার সম্পাদিত, “আধুনিকবাদ”, ভাষাপ্রকাশ, তৃতীয় সংস্করণ অক্টোবর ২০১৭, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৪৬।
৭. Malcolm Bradbury and James McFarlane edited, Modernism (1890-1930), Penguin Books, 1986.
৮. Virginia Woolf. “Mr. Bennett and Mrs. Brown.” Collected Essays. Ed. Leonard Woolf. Vol. 1. London: Hogarth, 1966. pages 319-337.
৯. অনুপ সাদি, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯; রোদ্দুরে.কম, ঢাকা; “আধুনিকতাবাদী সাহিত্য হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহে নিরীক্ষামূলক কিছু করার প্রবণতা”; ইউআরএল:https://www.roddure.com/encyclopedia/literary-glossary/on-literary-modernism/
১০. কবীর চৌধুরী, সাহিত্যকোষ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, অষ্টম মুদ্রণ ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা ৮৭।
১১. কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস, ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানী, কলকাতা, তৃতীয় সংস্করণ, ডিসেম্বর ১৯৬৭, পৃষ্ঠা ২৪৬।

Leave a Comment