সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা: দাসযুগের পরবর্তী শোষণ ও উৎপাদন সম্পর্কের ইতিহাস

সামন্তবাদ বা সামন্ততন্ত্র বা সামন্তবাদী সমাজ বা সামন্তীয় সমাজ (ইংরেজি: Feudalism) হচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাসে দাসপ্রথার পরবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক স্তর। এটি মূলত মধ্যযুগীয় সমাজের এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের ওপর মানুষের শোষণের ধরণটি পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছিল। সামন্তবাদ কেবল একটি শাসন পদ্ধতি ছিল না, বরং এটি ছিল উৎপাদন সম্পর্ক ও ভূমিনির্ভর অর্থনীতির এক দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া, যার চরম ও বিকশিত রূপ ছিল ‘ভূমিদাস-প্রথা’।[১]

সামন্তবাদী ব্যবস্থায় সমাজের কাঠামো ছিল পিরামিডের মতো। এর শীর্ষে অবস্থান করত এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা অভিজাত ‘ব্যারন’ বা সামন্ত-ভূস্বামীরা, আর ভিত্তিতে ছিল বিশাল কৃষক সমাজ। এই ব্যবস্থায় কৃষকরা যে জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাত, সেই জমির চূড়ান্ত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকত সামন্ত প্রভুদের হাতে। কৃষকদের নিজস্ব কোনো ভূমি ছিল না; বরং জমিতে চাষ করার অধিকার পাওয়ার বিনিময়ে তাদের প্রভুদের নানাবিধ শর্ত ও সেবা-কর্মে আবদ্ধ থাকতে হতো। এর মধ্যে ছিল উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগ খাজনা হিসেবে প্রদান এবং প্রভুর প্রয়োজনে বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দেওয়া বা যুদ্ধে অংশ নেওয়া।[২]

মানবজাতির সামাজিক বিবর্তন মূলত তার জীবিকার উপায় এবং উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। প্রাচীন দাস সমাজে যখন দাসমালিকদের শোষণ চরমে পৌঁছায় এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থবিরতা আসে, তখন সেই জরাজীর্ণ ব্যবস্থার ভাঙন অনিবার্য হয়ে পড়ে। কৃষিপ্রযুক্তির উন্নতি এবং লাঙ্গল দিয়ে জমি কর্ষণের মাধ্যমে শস্য উৎপাদনের কৌশল মানুষের আয়ত্তে আসার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমের ধরনে পরিবর্তন আসে। দাসের চেয়ে আধা-স্বাধীন কৃষকের শ্রম বেশি উৎপাদনশীল প্রমাণিত হওয়ায় প্রাচীন দাস সমাজের ধ্বংসস্তূপের ওপর জন্ম নেয় নতুন এই সামন্ততান্ত্রিক সমাজ। এই ব্যবস্থা মধ্যযুগের দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বজুড়ে টিকে ছিল এবং আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ গঠনের আগ পর্যন্ত এটিই ছিল অর্থনৈতিক শোষণের প্রধান হাতিয়ার।

যতক্ষণ পর্যন্ত ‘স্বাভাবিক-অর্থনীতি’ বা প্রাকৃতিক অর্থনীতি (natural economy) বজায় ছিল, ততক্ষণ সামন্ততান্ত্রিক শোষণের পরিধি ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই সময়ে উৎপাদন মূলত সরাসরি ভোগের জন্য করা হতো, বিনিময়ের জন্য নয়। সামন্ত-প্রভুরা কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেবল নিজেদের এবং তাদের সৈন্য-সামন্তদের ভরণপোষণের জন্য কেড়ে নিত। এই সংগৃহীত পণ্যের খুব সামান্য অংশই অস্ত্রশস্ত্র বা শৌখিন বিদেশি দ্রব্যের বিনিময়ে ব্যবহৃত হতো।

তবে মুদ্রার প্রচলন ও বিনিময়-প্রথার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সামন্ত-প্রভুদের লালসা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। তখন তারা কেবল নিজেদের ভোগের জন্য কর আদায় করেই ক্ষান্ত হলো না, বরং বাজার থেকে অন্যান্য বিলাসদ্রব্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দিল। বিনিময়-ব্যবস্থা যত বিকশিত হতে লাগল, কৃষকদের নিংড়ে নেওয়ার প্রবণতাও তত তীব্র হয়ে উঠল। এই বাণিজ্যিক বিবর্তন সামন্ত-প্রভু ও কৃষকদের মধ্যকার পুরনো ‘পিতৃতান্ত্রিক’ বা মৌখিক সম্পর্কের ভিত্তি ভেঙে দেয়। এর ফলে কৃষকরা তাদের অধিকার হারিয়ে পুরোপুরি দাসে পরিণত হয়, যা মূলত কঠোর ‘ভূমিদাস-প্রথা’ (Serfdom) উদ্বুদ্ধ করে।

জমিই উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ

সামন্ত সমাজের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি জমি। জমির মালিকানার ভিত্তিতে জমির প্রভু বা সামন্তপ্রভু সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেই প্রাচীন দাস সমাজের পরে সামন্ত সমাজের বিকাশ ঘটেছে। মোদ্দাকথা ভূমি মালিকানার মাধ্যমে শােষণ-লুণ্ঠন করাই হচ্ছে সামন্তবাদী সমাজ। ভূ-স্বামী তথা জমিদাররা যখন দেশের একমাত্র হর্তাকর্তা বা শাসক হয়, বিপরীতে ভূমিদাস ও কৃষকদের সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত ও অধীনস্থ করে রাখা হয়। এ ধরনের রাষ্ট্র বা সমাজকে সামন্তবাদী সমাজ বা রাষ্ট্র বলে। সামন্ত বা ভূ-স্বামীরা নিজেরা উৎপাদনে অংশ নেয় না। কৃষকদের জমি বর্গা দিয়ে ফসলের এক অংশ বা বার্ষিক খাজনা আদায় করে। প্রধানভাবে ভােগের জন্য উৎপাদন করা হয়।[৩]

সামন্ত সমাজে জমিই ছিল প্রধান উৎপাদনের উপায়। কিন্তু তার উপর মালিকানা ছিল সামন্ত ও রাজা-বাদশাদের। তবে কৃষক বা ভূমি দাসেরা সামন্তজমিদারের থেকে যেটুকু জমি পেত এবং যার উপর নির্ভর করে তাদের জীবনযাত্রা চলত তাকে তারা নিজেদের জমিই মনে করত। কারণ জমি তার দখলেই থাকত। উৎপাদিত ফসলের একটা বড় অংশ খাজনা হিসেবে জমিদার বা রাজাকে দিতে হত। কৃষি কাজই থাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রধান পেশা। কৃষকদের নিকট থেকে মৌসুমী ফসলের এক অংশ বা বার্ষিক খাজনা আদায় করে ভূ-স্বামী বা জমিদাররা চলতাে।

সামন্তবাদে জমির সাক্ষাৎ উৎপাদনকারী কৃষকের নিকট থেকে নানাপ্রকার কর আদায় করত। এই করের পরিমাণ অনেক সময় তার উৎপাদিত সমস্ত সম্পদকে গ্রাস করত। এমনকি, উৎপাদনের পরিমাণ নির্বিশেষে তার উপর খাজনা ধার্য হতো। ফলে অনেক স্থানে কৃষক দৈহিক যাতায়াতের স্বাধীনতা হারিয়ে ভূমির সীমানায় বন্দি ভূমিদাসে পরিণত হতো।

শোষণের পদ্ধতি হিসেবে সামন্তবাদ

ভূমিদাস-প্রথা কৃষকদের উপর জমিদারদের নিষ্ঠুরতম ধরনের এক শোষণের রূপকেই তুলে ধরে। ভূমিদাস-প্রথায় মৌলিক উৎপাদন-যন্ত্র – জমি – ছিল জমিদারদের অধিকারে। পুরুষানুক্রমে কৃষকরা যে জমি চাষাবাদ করে আসছিল সে জমিকে জমিদাররা আত্মসাৎ করে নেয়। কিন্তু তাতেও তারা সন্তুষ্ট থাকলো না। যে রাষ্ট্রক্ষমতা আবার তাদেরই হাতে, সেই ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তারা পূর্বে মুক্ত কৃষককে তাদের ভূমিদাসে রূপান্তরিত করে। কৃষকরা জমির সাথে থাকে বাঁধা এবং কার্যত জমিদারদের সম্পত্তিতেই পরিণত হয়।

সর্ব উপায়ে নিজেদের আয় বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে জমিদাররা তাদের ভূমিদাসদের উপর শোষণ বাড়িয়ে দেয়। ভূমিদাস-প্রথার যুগে পূর্ব থেকেই বিনিময়-প্রথা বেশ পরিমাণে বিকশিত হয়ে উঠেছিল। বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছিল। বণিকেরা সামন্ত ভূমিদাস-মালিকদের সকল ধরনের বিদেশী দ্রব্য-সামগ্রী সরবরাহ করতো। মুদ্রা অধিক থেকে অধিকতর মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরো বেশী মুদ্রা হস্তগত করার উদ্দেশ্যে ভূমিদাস-মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে অধিক থেকে অধিকতর শ্রম নিংড়ে নিতে থাকে। কৃষকদের হাত থেকে তারা জমি কেড়ে নেয়, বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ সীমাবদ্ধ করে দেয়; এবং এগুলোর স্থলে তাদের নিজেদের খামার স্থাপন করে, যে খামারে ঐ একই কৃষকদের কাজ করতে তারা বাধ্য করে। বেগার খাটার প্রথা (corvee service) চালু করা হয়: প্রভুর খামারে সপ্তাহের তিন বা চার দিন কৃষককে কাজ করতে হবে, আর নিজের বরাদ্দকৃত জমিতে কেবলমাত্র অবশিষ্ট দিনগুলোতেই কাজ করতে পারবে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কৃষকদের “কাজের বদলে খাজনা” (quitrent) পরিশোধের ব্যবস্থা দ্বারা ভূমিদাস-মালিক জমিদাররা কৃষকের মাঠ থেকে ফসলের ক্রমবর্ধমান অংশ আত্মসাৎ করে নেয়।

ভূমিদাসদের উপর শোষণ জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সবচেয়ে তিক্ত সংগ্রামের জন্ম দেয়। প্রত্যেক দেশের ইতিহাসেই বিপুল সংখ্যক কৃষক বিদ্রোহের ঘটনা নজরে পড়ে। ভূমিদাস-প্রথার যুগে বহু দেশেই (যেমন, জার্মানী, ফ্রান্স, ইংল্যাণ্ড, রাশিয়াতে) কৃষক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এসব কোনো কোনো অভ্যুত্থান কয়েক দশক ধরে টিকে ছিল। এইসব দেশ দশকের পর দশক ধরে গৃহযুদ্ধের কবলে ছিল। জমিদারেরা ও তাদের সরকার এসব অভ্যুত্থানকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করে। সামন্তবাদ ও ভূমিদাস-প্রথার পতন ত্বরান্বিত করা এবং ভূমিদাস শোষণের পরিবর্তে পুঁজিবাদী শোষণ প্রতিষ্ঠার জন্যে উদীয়মান বুর্জোয়া শ্রেণি জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের এই সংগ্রামকে কাজে লাগায়। 

এক সামাজিক-প্রথার রূপ দ্বারা অন্য সামাজিক-প্রথার রূপকে স্থলাভিষিক্ত করা প্রসঙ্গে স্তালিন বলেছেন: 

“দাসদের বিপ্লব দাস-প্রথার অবসান ঘটায় এবং শ্রমজীবী জনগণকে শোষণ করার দাসতান্ত্রিক প্রথাকে বিলুপ্ত করে। তদস্থলে তা প্রবর্তন করে সামন্ত শাসক ও শ্রমজীবী জনগণকে শোষণের ভূমিদাস-প্রথা। এক দল শোষকের স্থান দখল করে আরেক দল শোষক। দাসপ্রথার যুগে ‘আইন’ দাস-মালিককে দিয়েছিল দাসদের হত্যা করার অধিকার। ভূমিদাস-প্রথায় ‘আইন ভূমিদাসমালিককে কেবলমাত্র দিয়েছিল ভূমিদাসকে বিক্রী করার অধিকার।

“ভূমিদাস-কৃষকদের বিপ্লব ভূমিদাস-মালিকদের ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং শোষণের ভূমিদাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল। কিন্তু এগুলোর স্থলে তা প্রবর্তন করে পুঁজিপতি ও ভূস্বামীদের, শ্রমজীবী জনগণকে শোষণের পুঁজিবাদী ও ভূস্বামী-প্রথা। এক দল শোষকের স্থান দখল করে আরেক দল শোষক। ভূমিদাস ব্যবস্থায় ‘আইন’ দিয়েছিল ভূমিদাসদের বিক্রী করার অধিকার। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ‘আইন’ শ্রমজীবী জনগণকে কেবলমাত্র দিয়েছে বেকারত্ব ও দারিদ্রের শিকারে পরিণত হওয়ার, অনাহারে ধ্বংস ও মৃত্যুবরণ করার অধিকার।

“একমাত্র আমাদের সোভিয়েত বিপ্লব, একমাত্র আমাদের অক্টোবর বিপ্লবই প্রশ্নটিকে এভাবে উপস্থিত করেছে – এক দল শোষকের স্থলে আরেক দল শোষককে অভিষিক্ত করা নয়, এক রূপের শোষণের স্থলে আরেক রূপের শোষণকে প্রতিষ্ঠিত করা নয়, বরং সকল শোষণকে মুছে ফেলা, সকল ও প্রত্যেক ধরনের নতুন ও পুরাতন ধনিক ও নিপীড়কদের নিশ্চিহ্ন করা।”[৪]

সামন্তবাদী সমাজে শ্রেণি ও বিরোধ

এই সামন্তবাদী সমাজে জমিদারদের নিচে কয়েকটি শ্রেণি ছিল। যেমন, কারিগর (শ্রমিক), কৃষক ও বণিক। এই সামন্ত সমাজের ভিতর থেকেই বণিকরা শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে এবং বিভিন্ন দেশের যােগাযােগ ব্যবস্থা আবিষ্কারের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থের মালিক হয়। এই নতুন অর্থের মালিক বণিক বা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ গড়ে তুললাে হস্তশিল্পকারখানা। আর কলকারখানার কাজের জন্য বন্ধনমুক্ত লােকের প্রয়ােজন দেখা দেয়। কিন্তু ভূমিদাস কৃষকেরা জমির সাথে আষ্টেপৃষ্টে বাধা। তাই এই নতুন ব্যবসায়ীদের সামনে সামন্তবাদ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিকাশের জন্য চাই রাষ্ট্রক্ষমতা। কিন্তু সংখ্যালঘু হবার ফলে তাদের একার পক্ষে সামন্তদের নিকট থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা কেড়ে নেয়া সম্ভব ছিল না। তাই “সব মানুষ সমান”, “সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা”ই আমাদের লক্ষ্য- এসব বুলির আড়ালে শ্রমিক-কৃষকদের সাথে ঐক্য গড়ে সামন্তবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যারা তাদের বলা হয় বুর্জোয়া।

সামন্ত সমাজের শাসক ও শোষক শ্রেণি রাজা, সামন্ত-প্রভু, জমিদার এবং ধর্মযাজকদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। কিন্তু সমাজ শ্রেণি-বিরোধ শূন্য ছিল না। শাসক শ্রেণিসমূহ অর্থাৎ রাজা, সামন্তপ্রভু ও ধর্মযাজক এদের মধ্যে যেমনি নিরন্তর ক্ষমতার অন্তর্বিরোধ চলত, তেমনি সমগ্র শাসক শোষকদের বিরুদ্ধে শোষিত কৃষক সমাজের বিদ্রোহের প্রয়াস সামন্ত সমাজের ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।[৫]

পৃথিবীতে প্রথম ইউরােপে সামন্তবাদের পতন হয় এবং বুর্জোয়ারা রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক হয় এবং উৎপাদন যন্ত্রগুলাে বুর্জোয়াদের ব্যক্তিগত অধিকারে নিয়ে যায়। যার ফলে শ্রমিক-কৃষকদের দেয়া প্রতিশ্রুতি– “সব মানুষ সমান”, “সাম্য মৈত্রী” আর স্থাপিত হয় না।

উৎপাদনের উপায়ের নতুনতর বিকাশে সামন্ত সমাজের স্থানে আধুনিক কালে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পুঁজিবাদের পরবর্তী ঐতিহাসিক পর্যায় হচ্ছে সমাজতন্ত্র। সমাজতন্ত্রও পৃথিবীর একাধিক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সমাজের বিকাশ ও রূপান্তর যান্ত্রিক নয়। সমাজতন্ত্রের যুগেও তাই অনেক দেশে সামন্তবাদের রেশ দেখতে পাওয়া যায়। ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব অর্থাৎ ১৭৮৯ সাল পর্যন্ত সামন্তবাদের স্থায়িত্বের কাল ধরা হয়।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. অনুপ সাদি, ৪ মে, ২০১৮; রোদ্দুরে.কম, ঢাকা; “সামন্তবাদ মানুষের সামাজিক আর্থিক বিকাশের একটি পর্যায়”; ইউআরএল: https://www.roddure.com/encyclopedia/marxist-glossary/feudalism/
২. এ লিয়নতিয়েভ, মার্কসীয় রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র, সেরাজুল আনোয়ার অনূদিত, গণপ্রকাশন, ঢাকা, দ্বিতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃষ্ঠা ২২-২৩।
৩. রায়হান আকবর, রাজনীতির ভাষা পরিচয়, আন্দোলন প্রকাশনা, ঢাকা, জুন ২০২০, পৃষ্ঠা ২৯-৩০।
৪. জোসেফ স্তালিন, যৌথ খামার শক ব্রিগেডে’র প্রথম নিখিল-রুশ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ, পৃঃ ৮
৫. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৭১।

Leave a Comment

error: Content is protected !!