ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম বিভিন্নভাবে ক্রিয়াশীল ছিলো। ভারতে ব্রিটিশ প্রাধান্য দৃঢবদ্ধ হয়ে উঠেছে এই বিশ্বাসে ঔপনিবেশিক শাসকগণ সারা ভারতে প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশীয় রাজাগুলি তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই লক্ষ্যার্জনের অন্যতম উপায় ছিল ‘রাজ্যগুলির স্বত্বলোপ নীতি’ প্রবর্তন। এতে নিঃসন্তান রাজার দত্তক পুত্রের উপর রাজ্যের মালিকানা অর্সাত না। এভাবে ১৮৪৮-১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সাতারা, নাগপুর, ঝাঁসি, সম্বলপুর ও অন্যান্য বহু রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। তাঞ্জোরের রাজা ও কর্ণাটকের (আর্কট) নবাবের মত্যুর পর এই উপাধিগুলি চিরকালের জন্য লুপ্ত হয়ে যায়। অনাদায়ী ঋণের জন্য হায়দরাবাদের নিজামের কাছ থেকে বেরারের সমৃদ্ধতম তুলাচাষ এলাকাটি কেড়ে নেওয়া হয়। ১৮৩১ খ্রীস্টাব্দ থেকে আগামী বছরগুলিতে মহীশুর প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসনাধীনে আসে। এক্ষেত্রে রাজা অবসরভাতা পেলেও পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাওয়ের সন্তান-সন্ততিরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। কুশাসনের অভিযোগে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মানচিত্র থেকে অযোধ্যারও চিরলুপ্তি ঘটে।
ক্ষমতা ও স্বত্বলুপ্তির পর প্রাক্তন রাজারা তাঁদের দরবারও ভেঙ্গে দেন। ফলত, প্রাক্তন সভাসদরা তাঁদের জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, অভিজাত ও রাজন্যবর্গের সৈন্যবাহিনীর জন্য কোনো কাজের প্রয়োজন না থাকায় কারিগররা নিঃস্ব হয়ে পড়ে, খাজনা বৃদ্ধি পায় এবং ফসলহানির সময় ব্রিটিশ সরকারদত্ত কোনো সুবিধা বা ‘তাকাবি’র কোন সুযোগ না থাকায় আগের তুলনায় কৃষকদের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরিশেষে, রাজন্যবর্গের পদমর্যাদাকে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকের পর্যায়ে নামিয়ে আনায় ভারতীয়দের জাতীয় মর্যাদায় আঘাত লাগে। অর্থাৎ, এতে ভারতীয় জনগণের ব্যাপক স্তুরের মধ্যে অসন্তোষ পরিপক্ক হয়ে ওঠে ও প্রায়ই প্রাক্তন সামন্তদের নেতৃত্বে কৃষকবিদ্রোহ দেখা দিতে থাকে। ভারতীয় উপজাতিদের প্রতি ঔপনিবেশিক প্রশাসনের নীতিও এই অসন্তোষে ইন্ধন যুগিয়েছিল। এদের অধিকাংশই ইতিপূর্বে সামরিক দায়িত্ব বা পথে পাহারা দেয়ার শর্তে খাজনা মকুবের সুযোগ ভগ করত। উপজাতিদের এইসব দায়িত্ব অনাবশ্যক বিবেচনায় ব্রিটিশরা তাদের জায়গা-জমির উপর খাজনা বসায়। ফলত, সারা ভারতে উপজাতি বিদ্রোহ দেখা দেয়।
উনিশ শতকের পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে ভারতের নানা অংশে কৃষক, উপজাতি ও পদচ্যুত সামন্তদের কার্যকলাপের মধ্যে অব্যাহত ঔপনিবেশিকতাবিরোধী ঘটনাবলী প্রকটিত ছিল। উত্তর সরকারগুলির সামন্ত ‘পালায়াক্কাররা’ উনিশ শতকের শুরু থেকেই দৃঢ়ভাবে ব্রিটিশ আধিপত্যের বিরোধিতা করছিলেন এবং ১৮০১-১৮০৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি ওই অঞ্চলে ক্রমাগত বহুবার ব্রিটিশদের পিটুনি অভিযান চালাতে হয়েছিল। পুনরায় ১৮৯৩-১৮১৪ খ্রীস্টাব্দে এবং ১৮৩১ খ্রীস্টাব্দে সেখানে অভ্যুত্থান ঘটে। শেষোক্ত অভ্যুত্থান দমনে কয়েক বছর সময় লেগেছিল।
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র দিল্লী অঞ্চলে সশস্য অভ্যুত্থান দেখা দেয়। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে বারাণসীর অদূরে সশস্ত্র রাজপুত কৃষকদের প্রতিরোধে জনৈক ‘বহিরাগতে’র কাছে একটি বড় গ্রামের অবাধ নিলাম-বিক্রি বন্ধ হয়ে যায় । নিষ্কর জমির উপর খাজনা ধার্যের প্রতিবাদে ১৮১৭-১৮১৮ খ্রীস্টাব্দে ওড়িষ্যার কৃষকরা জনৈক স্থানীয় সামন্তের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে। প্রাক্তন মারাঠা-সৈন্যদের সমর্থনপুষ্ট রামুসি-বিদ্রোহ ১৮২৬-১৮২৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত সারা পুনা জেলাকে আলোড়িত করেছিল৷ শেষ পর্যন্ত সরকার প্রজাস্বত্বভোগীদের কম খাজনার দাবি মানতে বাধ্য হয়। ১৮৩০-১৮৩১ খ্রীস্টাব্দে খাজনা বৃদ্ধির কারণে বেদনোর কৃষক বিদ্রোহ ঘটলে সেটি দমনের জন্য ব্রিটিশরা মহীশুরে সৈন্য পাঠায়। জনৈক স্থানীয় সামন্তের জমিদারি বাজেয়াপ্ত (বকেয়া খাজনার জন্য) এবং প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসন প্রবর্তনের প্রতিবাদে ১৮৩৫-১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে গুমরে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি) একটি বিদ্রোহ ঘটে। ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে একই কারণে সগরেও একটি অভ্যুত্থান দেখা দেয়। ১৮৪৬-১৮৪৭ খ্রীস্টাব্দে কর্ণালের কৃষকরা জনৈক স্থানীয় পালায়াক্কারের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে। ১৮৪৮ খ্রীস্টাব্দে নাগপুরের রোহিলাদের মধ্যে সশস্ত্র অভূত্থান ঘটে। ১৮৪৪ খ্রীস্টাব্দে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির সীমান্তবর্তী কোলাপুর ও সান্তওয়াদী রাজ্য দুটিতে সেখানকার রাজাকে ভাড়া দেয়ার জন্য প্রজাদের ভূমিরাজশ বুদ্ধি করায় প্রবল ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহ দেখা দেয়। ভূমিজরিপ ও ফলত খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে খোদ বোম্বাই প্রেসিডেন্সির খান্দেশ এলাকার কৃষকরা বিদ্রোহ করে।
একটি ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে
উপজাতিদের মধ্যেও বিদ্রোহ দেখা দিচ্ছিল এবং ফলত ঔপনিবেশিক শাসকরা কঠিন ও ক্লান্তিকর ‘খুদে যুদ্ধ চালাতে বাধ্য হচ্ছিল। ১৮৩১-১৮৩২ খ্রীস্টাব্দে ছোটনাগপুরে (বাংলা প্রেসিডেন্সি) সংঘটিত হোস-উপজাতির বিদ্রোহ এর একটি উল্লেখ্য নজির। বোধই প্রেসিডেন্সিতেও রহু বিদ্রোহ ঘটে। এগুলি হলো: ১৮১৮-১৮৩১ খ্রীস্টাব্দের ভিল বিদ্রোহ, ১৮২৪ খ্রীস্টাব্দের কোল বিদ্রোহ, ১৮২৪ ও ১৮২৯ খ্রীস্টাব্দের কিটুরের কৃষক বিদ্রোহ এবং ১৮১৫-১৮৩২ খ্রীস্টাব্দের কচ্ছেরে অসংখ্য বিক্ষোভ। ১৮৩৯ খ্রীস্টাব্দে শাহীয়াদ্রিতে আবার কোল বিদ্রোহ ঘটে এবং ১৮৪৪-১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দে তা পুনরাবৃত্ত হয়। দেশের অনান্য অংশেও অভিন্ন ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল:১৮২০ খ্রীস্টাব্দে রাজপুতানায় মের বিদ্রোহ, ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দে ওড়িষ্যার গোচ্ছ বিদ্রোহ ও ১৮৫৫ খ্রীস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল বিদ্রোহ।
সাধারণত নতুন কর প্রবর্তনের ফলে শহরগুলিতেও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এটি যথানিয়মে হরতালের রূপলাভ করত। নতুন অবাসিক কর প্রবর্তনের জন্য বারাণসীতে এবং নতুন পুলিশী কর ঘোষণার পর ১৮১৬ খ্রীস্টাব্দে বেরিলীতে এরূপ হরতাল সংগঠিত হয়। যথেষ্ট পূর্ব প্রস্তুতি সহ কৃষক-সংগঠন দ্বারা পরিচালিত অভ্যুত্থানগুলিই অটলতর হতো। সাধারণত এইসব সংগঠন কোনো না কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক আদর্শ প্রচার করত এবং সহধর্মীদের ‘বিধর্মীদের’ (অর্থাৎ, ব্রিটিশ) বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ হবার আহ্বান জানাত। দৃষ্টান্ত হিসাবে ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির বোহরা ‘মাহদি’ বিদ্রোহীদের কথা উল্লেখ্য। জনৈক প্রাক্তন সেনাপতি আব্দুর রহমান এদের নেতৃত্ব দেন এবং সুরাট দুর্গ দখলের পর নিজেকে মাহদি (ত্রাণকর্তা) ঘোষণা করেন।
এক্ষেত্রে ওয়াহাবী আন্দোলন সদুরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। এই সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হোলকারদের অন্যতম প্রাক্তন সেনাপতি সৈয়দ আহমদ বারেবী (১৭৮৬-১৮৩১)। তিনি ভারত দখলকারী ‘বিধর্মী’দের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর আহ্বানে বাংলা ও বিহারের মুসলিম কৃষক এবং শহরের কারিগর ও ছোট দোকানদাররা সাড়া দিয়েছিল। ওয়াহাবীরা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ঘোষিত সামাজিক ন্যায়ের নীতিভিত্তিক সমাজ পুনর্গঠনের আহবানও জানাত। অবশ্য এই ন্যায়নীতির কাঠামো ছিল খুবই অস্পৃষ্ট। ১৮২০ খ্রীস্টাব্দে ঔপনিবেশিক শাসকরা ওয়াহাবীদের বিহার থেকে বিতাড়িত করলে তারা পশতু উপজাতিদের এলাকা সিতানায় অনুপ্রবেশ করে। সেখানে শিখদের সঙ্গে ওয়াহাবীদের সংঘাত বাধলে ১৮৩১ খ্রীস্টাব্দে তাদের হাতে সৈয়দ আহমদ নিহত হন। তা সত্ত্বেও বাংলা ও বিহারে ওয়াহাবী আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ১৮৩১ খ্রীস্টাব্দে তিন-চার হাজার সশস্ত্র ওয়াহাবী বারাসাত জেলার একটি ছোট শহর দখলের পর কলিকাতার দিকে অগ্রসর হয়। একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পর কামানের গুলিতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
হাজী শরিয়ত উল্লার নেতৃত্বাধীন ফারাজী আন্দোলন ছিলো ওয়াহাবীদেরই একটি উপশাখা। হিন্দু, মুসলিম জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকর নির্বিশেষে সকল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে এরা সহিংস প্রতিশোধ গ্রহণ করতো। বাংলায় এটি ছিল মূলত মধ্যযুগীয় ধরনের একটি কৃষক আন্দোলন। তাদের পুর্ববতী ওয়াহাবীদের মতো এরাও বিশুদ্ধ ইসলামের আদর্শকে ঊধ্বে তুলে ধরত এবং খোদার দুনিয়ায় সকল মানুষের সমানাধিকারের কথা বলত। তারা ঘোষণা করত যে, তাদের সম্প্রদায়ের সকল সভ্যই সমান, জমির মালিক খোদা ও নিজ স্বার্থে কৃষকের কাছ থেকে খাজন, আদায়ের অধিকার কারও নেই। ইতিমধ্যে ১৮৫২ খ্রীস্টাব্দে পাটনায় ওয়াহাবীর ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা কৃষক ও শহরে মানুষের বিশেষভাবে বাংলার সিপাহীদের সাদর সমর্থন পেয়েছিল।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আরেকটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছিল তিনটি সুনির্দিষ্ট আন্দোলনের আকারে, যার নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ আহমদ বেরেলভি, হাজি শরিয়তুল্লাহ ও তিতুমীর। উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে জন্মগ্রহণকারী সৈয়দ আহমদ দেশের বিরাট অংশ সফর করেন এবং বিহার, বাংলা ও মহারাষ্ট্র থেকে তার অনুসারী সংগ্রহ করেন। তারা আফগানিস্তান সংলগ্ন এলাকায় ব্রিটিশ ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। কয়েক দশক পর্যন্ত এ আন্দোলন ব্রিটিশের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্রিটিশ রেকর্ডে এ আন্দোলনকে ধর্মীয় উগ্রবাদ দ্বারা প্রভাবিত বলা হলেও বাস্তবে সৈয়দ আহমদ বিদেশি শাসকের বিরুদ্ধে লড়ার উদ্দেশ্যে মারাঠাদের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ১৮৩১ সালে তিনি বালাকোটের যুদ্ধে শহিদ হওয়ার পর পাটনার এনায়েত আলী ও বেলায়েত আলী এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাদের বাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর বেশ কিছু সংঘর্ষে কয়েকশ ব্রিটিশ সৈন্যের প্রাণহানি ঘটে।
হাজি শরিয়তুল্লাহ এবং তার পুত্র দুদু মিয়া বাংলায় অস্ত্র হাতে নেন ব্রিটিশের সমর্থনপুষ্ট জমিদারদের শোষণ ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে। তারা ব্রিটিশ নীল ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ব্রিটিশ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কৃষকবিদ্রোহে নেতৃত্ব দান করেন। ইতিহাসে এ আন্দোলন ফরায়েজি আন্দোলন হিসেবে খ্যাত। তিতুমীর ব্রিটিশ সমর্থিত জমিদারদের বিরুদ্ধে বাংলার দরিদ্র কৃষকের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি তার বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তার প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৩১ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে তিনি নিহত হন। তার প্রধান সহকারী গোলাম রসুলসহ শত শত অনুসারীকে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
সৈয়দ আহমদ বেরেলভি যে সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন, তা ব্রিটিশ শাসনের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছিল। তার মৃত্যুর পর এ সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন তার অনুসারী এনায়েত আলী, বেলায়েত আলী, কারামত আলী জইনউদ্দীন, ফরহাত হুসাইনসহ আরও অনেকে। তারা ব্রিটিশ শক্তির সঙ্গে একটির পর আরেকটি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে বিদেশি শাসকগোষ্ঠীকে দিশাহারা অবস্থার মধ্যে ফেলেছিলেন। ১৮৫৭ সালে মিরাট ও দিল্লিতে দেশীয় সিপাহিদের বিদ্রোহের খবর বিহারের পাটনায় পৌঁছার পর সেখানকার নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহে ভূমিকা পালন করতে পারেন আঁচ করে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। তা সত্ত্বেও পাটনার এক পুস্তক বিক্রেতা পীর আলী খান বিদ্রোহ করেন। এটি যদিও সিপাহি বিদ্রোহের অংশ ছিল না, কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল যে, বিদ্রোহের সঙ্গে পীর আলীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৮৫৭ সালের ৩ জুলাই তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে সফল বিদ্রোহ করেন। কিন্তু পরদিন তাকে ও তার সঙ্গী এবং সমর্থকদের গ্রেফতার করে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
১৮৫৭ সালে সংঘটিত ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিকল্পনার পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৮৩৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরকার হায়দ্রাবাদের নিজামের ভাই মুবারিজউদ্দৌলা নামে এক মুসলিম নেতাকে গ্রেফতার করে তিনি বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপী বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করছেন সন্দেহে। তিনি ব্রিটিশ শাসনের অবসানের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন, তার সঙ্গে পাঞ্জাবের মহারাজা রণজিৎ সিংসহ উত্তর ও মধ্য ভারতের বহু রাজা ও নবাব সম্মত ছিলেন। তিনি তাদের মিলিত শক্তির পক্ষে সমর্থন ও সহায়তা পাওয়ার জন্য পারস্য ও ফরাসি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন বলে ব্রিটিশ তদন্তে প্রকাশ পায়। কয়েকজন বিশ্বাসঘাতকের কারণে এ পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। মুবারিজউদ্দৌলা ১৮৫৪ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।
১৮৪৫ সালে সমগ্র ভারতব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পরিকল্পনা ব্রিটিশের জানাজানি হয়ে যায়। শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, সিন্ধিয়া ও নেপাল নরেশেসহ বেশ কয়েকজন রাজন্যের সহায়তায় খাজা হাসান আলী খান, মালিক খাদেম আলী, সাইফ আলী ও কুনওয়ার সিং একটি বিরাট সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন। আবারও কয়েক ভারতীয়, যারা বিদেশি শাসকের কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছিল, তাদের চক্রান্তে ব্রিটিশ শক্তিকে ভারত থেকে উৎখাতের বড় ধরনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ, যা যথার্থই ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল, এই যুদ্ধে মুসলমানদের ভূমিকা ধামাচাপা দেওয়ার উপায় নেই। এই যুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সে ঐক্য ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এর আগে ব্রিটিশরা আর কখনো এত বড় হুমকির মোকাবিলা করেনি। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ শক্তি তাদের শাসনকে পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে স্থায়ীভাবে হিংসা-বিদ্বেষমূলক মনোভাব টিকিয়ে রাখতে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ বা বিভেদ সৃষ্টি করে শাসন করার নীতি গ্রহণ করে। ফৈজাবাদের আহমদুল্লাহ শাহ, ফজলে হক খয়রাবাদী, মুজাফফরনগরের ইমদাদউল্লাহ মুহাজির মক্কী, নানা সাহেবের সহযোগী আজিমুল্লাহ খানের মতো নেতৃবৃন্দ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার আবশ্যকতার ওপর জোর প্রচারণা চালান। ১৮৫৭ সালের অনেক আগে থেকেই তারা ব্রিটিশ বাহিনীর দেশীয় সিপাহি এবং বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে তারা এই প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাটে দেশীয় সিপাহিরা তাদের ব্রিটিশ প্রভুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তাদের নেতা ছিলেন শেখ পীর আলী, আমির কুদরত আলী, শেখ হাসান-উদ-দীন ও শেখ নূর মুহাম্মদ। প্রাথমিকভাবে বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী ৮৫ জন দেশীয় সিপাহি, যারা নতুন চালু করা এনফিল্ড রাইফেলে গরু ও শূকরের চর্বিমিশ্রিত কথিত কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করায় যাদের শৃঙ্খলিত করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তাদের অর্ধেকের বেশি ছিল মুসলিম। শিগগিরই সিপাহিদের সঙ্গে বেসামরিক লোকজন যোগ দেয় এবং বিদ্রোহী সিপাহিরা দিল্লি গিয়ে শেষ মোগল সম্রাট বয়োবৃদ্ধ বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে। তারা দিল্লিকে ব্রিটিশ মুক্ত করে। লক্ষ্ণৌ এ বেগম হজরত মহল ব্রিটিশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন এবং বিদ্রোহ চলাকালে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে যান। মৌলবি আহমদুল্লাহ তার বাহিনী নিয়ে ব্রিটিশের সঙ্গে লড়াই করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শাহাদত বরণ করেন। তার বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদগণ, এমনকি ভারতে উগ্র হিন্দু সংগঠন ‘আরএসএস’ এর প্রতিষ্ঠাতা বীর সাভারকর পর্যন্ত তার গ্রন্থে আমদউল্লাহ শাহের সাহস ও শাহাদতের ওপর বেশ কয়েক পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেছেন।
ওই সময়ের জনপ্রিয় মুসলিম নেতা কাসিম নানাতুবি রশীদ গাঙ্গোহি’র সহায়তায় ইমাদউল্লাহ উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে জনপ্রিয় বিদ্রোহ ঘটিয়ে থানা ভাওয়ানের শামলি মুক্ত করেন। সেখানে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে তারা পরাজিত হন। দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করার কারণে ঝাজ্জারের নবাব আবদুর রহমানকে ফাঁসিকে ঝোলানো হয়। সিপাহি বিদ্রোহে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী নেতৃস্থানীয় মুসলিম শহিদের তালিকা বিস্তৃত। এমনকি অনেক মুসলিম নারীও বিদ্রোহে অংশ নেয়। বিহারে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দান করেন কুনওয়ার সিং, যার বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সহকারীরা ছিলেন মুসলিম, যাদের সঙ্গে তিনি প্রতিটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন। আরাহ এলাকাকে ব্রিটিশ মুক্ত করার পর তিনি সেখানে যে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন, সে সরকারে অনেক মুসলিম নেতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যাদের মধ্যে শেখ গোলাম ইয়াহিয়া ছিলেন বিচারক, শেখ মুহাম্মদ আজিমউদ্দিন ছিলেন খাজাঞ্চি, দিওয়ান শেখ আফজালের দুই পুত্র তোরাব আলী ও খাদিম আলীকে নিয়োগ করা হয়েছিল শহর কোতোয়াল বা দারোগা।
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল হয়নি। ব্রিটিশ সরকার দিল্লি এবং অন্যান্য স্থানে বিদ্রোহ দমনের পর শেষ মোগল সম্রাটকে বিদ্রোহের প্রধান নেতৃত্ব দানকারী সাব্যস্ত করে এবং তড়িঘড়ি বিচার করে বর্তমান মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে নির্বাসিত করে। মোগল রাজবংশের প্রায় সকল জীবিত পুরুষ সদস্যদের গুলি করে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। নেতৃস্থানীয় মুসলমানদের কামানের গোলায় উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বহু সংখ্যককে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে নির্বাসনে পাঠানো হয়। তা সত্ত্বেও ভারতীয় মুসলমানদের হৃদয় থেকে স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।
১৮৬৩ সালে উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের উপজাতিরা ব্রিটিশ অধিকৃত অঞ্চলে হামলা চালিয়ে ব্রিটিশ শাসনের প্রাথমিক বিজয়লাভ করে এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্রিটিশের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখে। এসময় উপজাতি মুসলিমদের হাতে একহাজারের অধিক ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয়েছিল। উপজাতি বিদ্রোহের পেছনে তারা আম্বালার জাফর থানেশ্বরীর ভূমিকা আবিষ্কার করে এবং তাকে গ্রেফতার করে আন্দামানে প্রেরণ করে। পাটনার ইয়াহিয়া আলী এবং আরও নয়জনকে ইংল্যান্ডের রানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। এভাবে সমগ্র ভারতজুড়ে গ্রেফতার ও বিচারের প্রহসনের মাধ্যমে আন্দামানে নির্বাসনে পাঠানো হয়। ১৮৬৯ সালে আমির খান ও হাশমত খানকে কলকাতায় গ্রেফতার করার পর ১৮৭১ সালে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যান তাদেরকে যাবজ্জীবন আন্দামানে নির্বাসিত জীবন কাটানোর জন্য প্রেরণের রায় প্রদান করলে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামে এক পাঞ্জাবি মুসলিম প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এর কয়েক মাস পর আন্দামানে নির্বাসিত এক তরুণ পাঠান মুসলিম বন্দি ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড মেয়োকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
বিপ্লবী বিপিন চন্দ্র পাল তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, এসব বিচার ও হত্যাকাণ্ড তার রাজনৈতিক জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। অপর এক খ্যাতিমান বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, যিনি ১৯১৪ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত আন্দামানের সেলুলার দ্বীপে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন, তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের কাহিনি “জেলে ত্রিশ বছর ব্রিটিশ-পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “মুসলিম বিপ্লবী ভাইয়েরা আমাদের অবিচল সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।”
মহারাষ্ট্রে রোহিলা নেতা ইব্রাহিম খান ও বলওয়ান্ত ফাদকে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন, যা ১৮৬০ থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড হুমকি হিসেবে ছিল। এদিকে বিকাশমান শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির চেতনা ও তাদের তথা ভারতের সমস্যা ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৮৮৫ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠিত হয়েছিল। কংগ্রেসের প্রথম দিকের দুজন মুসলিম সদস্য ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন বদরুদ্দীন তাইয়েবজি (১৮৮৭), রহমতুল্লাহ এম সায়ানি (১৮৯৬)। পরবর্তীতে আরও অনেক মুসলিম নেতা কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা ছিলেন নবাব সাইয়িদ মুহাম্মদ বাহাদুর (১৯১৩), সাইয়িদ হাসান ইমাম (১৯১৮), হাকিম আজমল খান (১৯২১), মোহাম্মদ আলী জওহর (১৯২৩), এম এ আনসারি, মওলানা আবুল কালাম আজাদ (১৯২৩ এবং ১৯৪০-৪৬), মুখতার আহমেদ আনসারি (১৯২৭)। এছাড়া ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও অনেক মুসলিম জড়িত থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ গুপ্তচরেরা রেশমি কাপড়ের ওপর হাতে লেখা তিনটি চিঠি আটক করে। মওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি চিঠিগুলো লিখেছিলেন মওলানা মাহমুদ হাসানকে। চিঠিগুলোতে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বৈশ্বিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত ছিল। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশের রাওলাট কমিটি রিপোর্টে মওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধিকে ব্রিটিশের জন্য অন্যতম বিপজ্জনক ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সশস্ত্র গ্রুপ গঠন করেছিলেন, জনগণের মাঝে ব্রিটিশ বিরোধিতার প্রচারণা চালিয়েছেন, এমনকি তিনি কাবুলে ভারতীয়দের একটি প্রবাসী সরকার পর্যন্ত গঠন করেছিলেন। এই প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিল মওলানা বরকতউল্লাহকে। প্রবাসী সরকার একটি সেনাবাহিনীও গঠন করেছিল, যে বাহিনী ভারতকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তান থেকে ভারতের ওপর আক্রমণ পরিচালনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু রেশমি চিঠির রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ায় এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। এ পরিকল্পনা ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’ নামে খ্যাত। এ আন্দোলনে জড়িত ৫৯ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে অভিযুক্ত করা হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণার জন্য। অভিযুক্তদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম। মওলানা আবুল কালাম আজাদ, আবদুল বারী ফিরাঙ্গি মাহলি, মওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি, মওলানা মাহমুদ এবং মওলানা মাদানিসহ অভিযুক্তদের অনেককে মক্কা থেকে গ্রেফতার করে মাল্টায় আটকে রাখা হয়।
‘হিজবুল্লাহ’ নামে এক বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১,৭০০ স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণত্যাগের শপথ নিয়েছিলেন। মওলানা আবুল কালাম সম্পাদিত ও প্রকাশিত ‘আল-হিলাল’ নামে একটি সংবাদপত্রকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী ধ্যানধারণা প্রচারের অভিযোগে। উপনিবেশ বিরোধী ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে মওলানা আজাদ ‘দারুল ইরশাদ’ নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসময় জালালউদ্দীন ও আবদুর রাজ্জাক স্বাধীনতা যোদ্ধা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বাংলায় হিন্দু ও মুসলিম বিপ্লবীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেন। মওলানা আজাদ ভারতের স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে অনেকবার কারাবরণ করেছেন এবং তিনি যখন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন ১৯৪২ সালে ‘কুইট ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব পাশ করা হয়েছিল
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’ ব্রিটিশ বিরোধী একমাত্র প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল না। ‘গদর আন্দোলন’ অনুরূপ আরেকটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যে আন্দোলনে বহু মুসলিম অংশগ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশের জুলুম নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দেশীয় সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহের ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে রহমত আলীকে লাহোরে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। এ আন্দোলন সিঙ্গাপুরে বেশ সাফল্য লাভ করেছিল, যখন ১৯১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিফথ লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সিপাহিরা বিদ্রোহ করে, যাদের অধিকাংশই ছিল পাঞ্জাবি মুসলিম। বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সিপাহীকে সিঙ্গাপুরে গ্রেফতার করার পর সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ভারতবাসীদের ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ১৯১৯ সালে ‘রাওলাট অ্যাক্ট’ নামে এক কালো আইনের প্রয়োগ শুরু করে। এ আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল বিনা কারণে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার। এছাড়া ব্রিটিশ ভারতে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সন্ত্রাসে জড়িত বলে সন্দেহ হলে তাকে বিনা বিচারে আটক রাখার কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল এ আইনে। ভারতীয়রা এই দানবীয় আইনের প্রতিবাদে সোচ্চার হলে বহু নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সাইফুদ্দীন কিসলু নামে এক নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে জনতা ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে সমবেত হলে ব্রিগেডিয়ার ডায়ারের নির্দেশে সমাবেশের ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়। এতে ১,২০০ এর অধিক নিরীহ লোক নিহত এবং প্রায় দুশো জন গুরুতর আহত হয়। হতাহতদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।
এর কাছাকাছি সময়ে ব্রিটিশ বিরোধী জননেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন আবদুল বারী ফিরাঙ্গি মাহলি, মাজহারুল হক, জাকির হুসাইন, মোহাম্মদ আলী জওহর ও শওকত আলী। বি আম্মা, আমজাদি বেগম ও নিশাত-উন-নিসা’র মতো নারীরাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে। ১৯৩০ এর দশকে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগঠিত করেছিলেন আবদুর রহিম নামে এক নেতা। ভি এম আবদুল্লাহ, শরীফ ভ্রাতৃদ্বয় ও আবদুস সাত্তার দাক্ষিণাত্যে প্রভাবশালী মুসলিম নেতা হিসেবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন এবং তারা ব্রিটিশের নিপীড়ন ও কারাদণ্ড ভোগ করেন।
খান আবদুল গাফফার খানের নেতৃত্বে উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পাঠানরা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে অনড় অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, যা ব্রিটিশ শক্তির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৩০ সালের ২৩ এপ্রিল পেশোয়ারের কিসসা খানি বাজারে গাফফার খানের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হলে বিক্ষোভদমনে ব্রিটিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রায় চারশ পাঠান মাতৃভূমির জন্য জীবন দান করে।
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে ইপি’র ফকির মির্জা আলী খান ও পাগারো’র পীর সিবগাতুল্লাহ ওয়াজিরিস্তান ও সিন্ধে সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে এই বাহিনীর সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছিল নেতাজি সুভাষ বোস এবং অক্ষশক্তির।
১৯৪১ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় ব্রিটিশের দৃষ্টি এড়িয়ে পালাতে সক্ষম হন। তার পলায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মিয়া আকবর শাহ। নেতাজি বার্লিনে পৌঁছে ‘ফ্রি ইন্ডিয়া লিজিয়ন’ গঠন করেন। আবিদ হাসান তার আস্থাভাজনে পরিণত হন এবং তার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যখন সাবমেরিনযোগে জার্মানি থেকে জাপানে আসেন, এই দুঃসাহসিক অভিযানে আবিদ হাসানই তার একমাত্র সফরসঙ্গী ছিলেন। ১৯৪৩ সালে নেতাজি সুভাষ বোস গঠন করেন ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ ও ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’, যা আইএনএ বা ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ নামে বহুল পরিচিত। সেই সরকার ও আইএনএ’তে লে. কর্নেল আজিজ আহমেদ, লে. কর্নেল এম কে কায়ানি, লে. কর্নেল এহসান কাদির, লে. কর্নেল শাহ নওয়াজ খান, করিম গণি, ডি এম খানসহ বহু সংখ্যক মুসলিম সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। লে. কর্নেল শাহ নওয়াজ খানকে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রধান করা হয়েছিল, যার অধীনে হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সৈন্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বার্মা ফ্রন্ট ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে লড়াই করেছে।
জাপানি বাহিনী বার্মা ত্যাগ করলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আজাদ হিন্দ ফৌজকে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। দিল্লির লাল কেল্লায় সামরিক আদালতে আজাদ হিন্দ ফৌজের তিন শীর্ষ অফিসার শাহ নওয়াজ খান, ধীলন ও সেগালের বিচার শুরু হলে তাদের মুক্তির দাবিতে সমগ্র ভারতে যে ব্যাপক বিক্ষোভশুরু হয়েছিল, তাতে ব্রিটিশ শক্তিকে নতিস্বীকার করতে হয়। বন্দি অফিসাররা বীরের বেশে ব্রিটিশের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ভারতবাসীকে এ স্বাধীনতার মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে জীবন দিয়ে। যারা জীবন দিয়েছেন, তারা হিন্দু বা মুসলিম ছিলেন না, তারা ছিল ভারতীয়। দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গকারীরা প্রথমে ভারতীয়, এরপর তারা হিন্দু অথবা মুসলিম বা অন্য কোনো বিশ্বাসের মানুষ। তারা সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের চেতনার ঊর্ধ্বে উঠে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ভ্রাতৃত্বের চেতনায়। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্বাধীনতার পর সাড়ে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো কোনো গোষ্ঠী ভারতের জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিস্মৃত হতে বাধ্য করছে এবং ইতিহাস রচনা করছে সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।[৩]
ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী এইসব আন্দোলনের তালিকা থেকেই তখনকার মানুষের ব্রিটিশবিরোধী মনোভাবের গভীরতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু ব্রিটিশ প্রভুত্বের বিকল্প হিসাবে সামন্ততান্ত্রিক স্বাধীন ভারতবর্ষ ছাড়া এইসব আন্দোলন থেকে আর কোন ফলোদয়ের সম্ভাবনা ছিল না। ঔপনিবেশিক নির্যাতনের বিরুদ্ধাচারী এইসব নেতাদের অতীতের সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোয় প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই এর ব্যাখ্যা মেলে।
আরো পড়ুন
- এই অতিমারী একটি সিংহদ্বার — অরুন্ধতী রায়
- প্রাচ্য স্বৈরতন্ত্র বলতে এশীয় সমাজগুলির রাজনৈতিক বা নৈতিকভাবে স্বৈরশাসনকে বোঝায়
- সেলুলার জেলের বিপ্লবীদের নয়া তালিকা এবং বিজেপির ভুয়া ইতিহাস
- ইনকিলাব জিন্দাবাদ ভারতের বামপন্থী আন্দোলনের ব্যবহারবহুল শ্লোগান
- ভারত ছাড় আন্দোলন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে স্বাধীনতাপন্থীদের আন্দোলন
- সিপিআই হচ্ছে ভারতের ভুয়া কমিউনিস্ট গণতন্ত্রবিরোধী সংগঠন
- কংগ্রেস সােসালিস্ট পার্টি ছিলো কংগ্রেসের মধ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক দল
- সিপিআই (এম) সাম্য ও স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের পার্টি
- গদর আন্দোলন ছিলো একটি বিপ্লবী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আন্দোলন
- এআইএডিএমকে ভারতের তামিলনাড়ুর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- গঙ্গাধর মোরেশ্বর অধিকারী ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক নেতা
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের সংগঠন
- সারেগামা ভারতের সংগঠন গোয়েঙ্কা গ্রুপের সহযোগী
- জ্যোতি বসু হচ্ছে আধুনিক বর্বর গণহত্যাকারী খুনি রাজনীতিবিদ
- বিজেপি ভারতের জনগণ, গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী সংগঠন
- জনতা দল ছিল ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী প্রতিরোধ ও সংগ্রাম
- আওরঙ্গজেবের শাসন আমলে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
- যুগান্তর দল বা যুগান্তর সমিতি ছিল বাংলার গোপন বিপ্লববাদী সংস্থা
- অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার বিপ্লববাদী রাজনৈতিক সংগঠন
- বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন প্রসঙ্গে
- ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন হচ্ছে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের অধ্যায়
- আফগান গৃহযুদ্ধ হচ্ছে গণতান্ত্রিক ও প্রাচ্য স্বৈরতন্ত্রীদের মধ্যকার সশস্ত্র সংগ্রাম
- নকশালবাড়ি আন্দোলনের সাহিত্য: অর্ধশতাধিক কালজয়ী গ্রন্থের এক অনন্য সংকলন
- উপমহাদেশের সুলতানী মধ্যযুগের ইতিহাসের উৎস হিসেবে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান
- উপমহাদেশের সুলতানী মধ্যযুগের ইতিহাসের উৎস হিসেবে বিদেশীদের বিবরণ
- উপমহাদেশের সুলতানী মধ্যযুগের ইতিহাসের উৎস হিসেবে সাহিত্যিক উপাদান
- ভারতে দাসপ্রথা ঐতিহাসিক কাল থেকে শাসকগোষ্ঠীর ধারাবাহিক গণহত্যার চিহ্ন
- সামন্তবাদী ভারতের ইতিহাসের উৎস হিসেবে বিদেশীদের বিবরণ প্রসঙ্গে
- সামন্তবাদী ভারতের ইতিহাসের প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস প্রসঙ্গে
- সামন্তবাদী ভারতের ইতিহাসের লেখমালা বা সাহিত্যিক উৎস প্রসঙ্গে
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের তিনটি উৎস ও বিভিন্ন উপাদান প্রসঙ্গে
- ভারতের ইতিহাসে ভৌগোলিক উপাদানের বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলীর প্রভাব
- ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
- অছিবাদ পুঁজিপতি ও জমিদারদের সম্পত্তি রক্ষাকারী প্রতিক্রিয়াশীল গান্ধীবাদী চিন্তা
- গান্ধীবাদ জমিদার ও শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষাকারী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অভিমত
- অসহযোগ আন্দোলন ভারতীয় জমিদারশ্রেণির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্দোলন
তথ্যসূত্র:
১. কোকা আন্তোনভা, গ্রিগরি বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি কতোভস্কি; অনুবাদক দ্বিজেন শর্মা; ভারতবর্ষের ইতিহাস, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, প্রথম সংস্করণ ১৯৮২, পৃষ্ঠা, ৪৩০-৪৩৩।
২. দোলন প্রভা, ২৩ আগস্ট, ২০১৮ “ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী প্রতিরোধ ও সংগ্রাম”, রোদ্দুরে ডট কম, ঢাকা, ইউআরএলঃ https://www.roddure.com/history/struggle-against-british/
৩. আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, ১ নভেম্বর ২০২৩, মুসলমানের রক্তে লেখা ভারতের স্বাধীনতা, ভূমিকা যেন শিকড় ভুলে না যাই, ঐতিহ্য, ঢাকা, ২০২৪, পৃষ্ঠা ১৬।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚