এআইএডিএমকে বা সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কজগম (অনুবাদ: All India Anna Dravida Munnetra Kazhagam (AIADMK; ইংরেজি: All India Anna Dravidian Progressive Party) হচ্ছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য এবং পুডুচেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একটি কেন্দ্রিকতাবাদী আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল। এটি একটি দ্রাবিড়ীয় দল যা সি. এন. আন্নাদুরাইয়ের নীতির উপর ভিত্তি করে সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে, যা সম্মিলিতভাবে আন্নাবাদ নামে পরিচিত। দলটি তামিলনাড়ুর সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একটি এবং তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বাধিক সাতবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত, এটি আইনসভায় প্রধান বিরোধী দল। দলটির সদর দপ্তর চেন্নাইয়ের রোয়াপেট্টায় অবস্থিত।
দ্রাবিড় মুনেত্র কজগম বা ডিএমকে থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে বিচ্ছিন্ন হয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যে আন্না ডি এম কে দলের জন্ম হয়। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চিত্রাভিনেতা রাজনীতিক এম জি রামচন্দ্রন। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিচেরি বিধানসভার নির্বাচনে এই দল অর্ধেকের কাছাকাছি আসন লাভ করে এবং ১৯৭৬ খ্রি থেকে দলের নামে অল ইন্ডিয়া শব্দ দুটি যুক্ত হয়। ১৯৭৭ খ্রি কংগ্রেসের সঙ্গে মোর্চা গঠন এবং পরে ভারতীয় জনতা পার্টি ও বামপন্থী বিরােধীপক্ষের সঙ্গেও যুক্ত হয়।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তামিলনাড়তে এই দল মন্ত্রিসভা গঠন ও লােকসভায় দলের সাংসদেরা কংগ্রেস (ই) মন্ত্রিসভাকে সমর্থন করে। প্রতিষ্ঠাকালে প্রচারিত ইস্তাহারে (১৯৭২) দলের প্রধান দাবি হিসেবে রাজ্যের হাতে অধিকতর ক্ষমতাপ্রদান, জাতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দির পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা এবং রাজ্যস্তরে আঞ্চলিক ভাষার প্রবর্তন, মাদকদ্রব্যাদির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ, আয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, ব্যাঙ্ক, অত্যাবশক পণ্য ও বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ, অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রত্যাহ্বানের অধিকার (right of recall) ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
১৯৯১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ললিতার নেতৃত্বে এআইএডিএমকে কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধেছিল এবং জয়ললিতা দ্বিতীয় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের দশম মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্বদেশের জন্য লড়াইয়ের সন্দেহভাজন তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড থেকে উদ্ভূত কংগ্রেস-বিরোধী তরঙ্গকে ভূমিধ্বসের বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই সরকার, বড় আকারের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল, কিন্তু জয়ললিতা পুরো পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় ছিলেন। ১৯৯৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, এআইএডিএমকে কংগ্রেসের সাথে জোট অব্যাহত রাখে, তবে ব্যাপক লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল, ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র চারটি জিতেছিল, এমনকি জয়ললিতা বরগুর থেকে হেরেছিলেন।
আরো পড়ুন
- সিপিআই হচ্ছে ভারতের ভুয়া কমিউনিস্ট গণতন্ত্রবিরোধী সংগঠন
- কংগ্রেস সােসালিস্ট পার্টি ছিলো কংগ্রেসের মধ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক দল
- সিপিআই (এম) সাম্য ও স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের পার্টি
- গদর আন্দোলন ছিলো একটি বিপ্লবী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আন্দোলন
- এসইউসিআই (সি) ভারতের সমাজ-গণতন্ত্রী রাজনৈতিক সংগঠন
- এআইএডিএমকে ভারতের তামিলনাড়ুর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের সংগঠন
- অকালি দল বা শিরোমণি অকালি দল ভারতের একটি রাজনৈতিক দল
- বিজেপি ভারতের জনগণ, গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী সংগঠন
- জনতা দল ছিল ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- যুগান্তর দল বা যুগান্তর সমিতি ছিল বাংলার গোপন বিপ্লববাদী সংস্থা
- অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার বিপ্লববাদী রাজনৈতিক সংগঠন
১৯৯৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় এআইএডিএমকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র সাথে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকারে ক্ষমতা ভাগ করে নিয়েছিল, একই সাথে ডিআইএমকে থেকে বিভক্ত হওয়া আরেকটি দল ভাইকের মারুমালারচি দ্রাবিদা মুন্নেত্র কাজগমের (এমডিএমকে) সঙ্গেও জোট গঠন করেছিল। ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে এআইডিএমকে বিজেপির সাথে সরকারে ক্ষমতা ভাগ করে নিয়েছিল, তবে ১৯৯৯ সালের গোড়ার দিকে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজেপি সরকারের পতনকে তরান্বিত করে। এই ঘটনা ঘটিয়ে এই চরিত্রহীনরা আবারও কংগ্রেসের সাথে জোটবদ্ধ হয়।
তথ্যসূত্র:
১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।