অকালি দল বা শিরোমণি অকালি দল ভারতের একটি রাজনৈতিক দল

অকালি দল (ইংরেজি: Akali Dal) বা শিরোমণি অকালি দল হচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর কাছে নথিভুক্ত একটি দল। এই দলটি ভারতের পাঞ্জাবের একটি মধ্য-ডানপন্থী শিখ-কেন্দ্রিক রাজ্য রাজনৈতিক দল। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেসের পরে এই দলটি ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম দল।

প্রার্থনাকালে অকালপুরুষ অর্থাৎ অবিনশ্বর আত্মার উপাসক একটি শিখ সম্প্রদায় অকালি নামে অভিহিত। শিখ সম্প্রদায়ের দশম ও শেষ গুরু গোবিন্দ সিংহ যখন শিখদের সামরিক দীক্ষা দিয়ে খালসার সৃষ্টি করেন তখন, অকালিদের উদ্ভব ঘটে। অকালি শব্দটি অমরত্ব ও দাসত্ব বোঝায়, ঈশ্বরের আদেশপালনে তাঁরা আত্মোৎসর্গীকৃত যোদ্ধা। 

বিশ শতকের কুড়ির দশকের শেষাশেষি হিন্দু পুনর্জাগরণ ও মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদ যখন পরস্পরের মুখোমুখি, সে সময়ে তৃতীয় একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি অকালি আন্দোলন ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে। প্রথম বিশ্ব-মহাযুদ্ধের পর সরকারি নিয়ন্ত্রণে শিখ গুরুদ্বারগুলির বিষয়সম্পত্তি দুর্নীতিগ্রস্ত মোহন্তদের মৌরসিস্বত্ব থেকে উদ্ধারকল্পে অকালি আন্দোলনের সূত্রপাত। সম্পত্তিসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কৃষিভূমি। সেদিক থেকে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কৃষকদের ভূমিব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি। 

১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ডিসেম্বর শিরোমণি অকালি দল গঠিত হয়। গুরুদ্বারগুলির যথোচিত প্রশাসনের উপযোগী আইনকানুন বিধিবদ্ধ করার দাবিতে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করাই ছিল সেদিন দলের প্রধান উদ্দেশ্য। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার স্বর্ণমন্দিরের কোষাগার হস্তান্তরে অসম্মত হওয়ায় অকালি আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে ও রাজনৈতিক কার্যকলাপসূত্রে গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে সরকার অকালিদের দাবি মেনে নিয়ে শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির (এস জি পি সি) কাছে স্বর্ণমন্দির-সমেত পঞ্জাবের সমস্ত গুরুদ্বারের দায়িত্ব আইনের মাধ্যমে ন্যস্ত করে। এই কমিটি সমগ্র শিখ সম্প্রদায়ের একটি পার্লামেন্ট-বিশেষ। গুরুদ্বারগুলির বিপুল অর্থের কোষাগার অকালি দলের রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

আরো পড়ুন

গুরুদ্বার আন্দোলনে সাফল্যের পর অকালি দল দুটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। প্রথমটি হলো জাতীয় আন্দোলনে গান্ধীকে সমর্থন করা। এবং দ্বিতীয়টি হলো হিন্দুদের একচেটিয়া আধিপত্য সম্পর্কে ভীতি। মুসলিম লিগের সঙ্গে সে-ব্যাপারে তাদের পার্থক্য ছিল না। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মুসলমানদের সম্পর্কে শিখদের ভীতি কম ছিল না। শেষাবধি তারা নিজেদের একাত্মতা বজায় রেখে জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারায় অকালি দল আইনসভায় শিখ জনসংখ্যার চেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব আদায় করে। ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি অকালি দল শিখ সম্প্রদায়ের স্বার্থে নানা ধরনের পথ অনুসরণ করে। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে অকালিরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। উধম সিং পরিচালিত এক অংশ জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। দলের প্রথমাবধি অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন মাস্টার তারা সিং। তিনি দ্বিতীয় বিশ্ব-মহাযুদ্ধে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা কাটিয়ে ইংরেজের যুদ্ধ-প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। 

অকালিরা মনে করত শিখরা একটি স্বতন্ত্র জাতি। সেজন্য তারা চাইত একটি স্বতন্ত্র বাসভূমি এবং মুসলিম লিগের সঙ্গে যোগ দিয়ে শিখিস্তান নামে স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের দাবিতে দর-কষাকষি শুরু করে (১৯৪৪-৪৫)। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে অকালিরা পন্থিক পার্টি গঠন করে শিখ স্বাতন্ত্র্য প্রমাণের উদ্দেশ্যে। স্বতন্ত্র শিখ রাষ্ট্রের আন্দোলনসূত্রে তারা সিং ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কারারুদ্ধ হন। 

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অকালি দলে নানান ধারা ও ভাঙন দেখা দেয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তারা সিং-এর নেতৃত্বে অকালিরা কৌশল হিসেবে কংগ্রেসে যোগ দেয়। ১৯৬০ খ্রি শুরু হয় স্বতন্ত্র ভাষাভিত্তিক পাঞ্জাবি সুবা গঠনের দাবিতে এক নতুন আন্দোলন। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সে আন্দোলন সফল হয়। ইতিপূর্বে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস থেকে অবসরপ্রাপ্ত কাপুর সিং নামে এক ব্যক্তি শিখদের স্বাধীন ‘খলিস্তান’ রাষ্ট্রের প্রস্তাব তোলেন (১৯৬০)। শব্দটির অর্থ খালসা জাতির পবিত্র দেশ। তারা সিং গোষ্ঠীর জঙ্গি নেতা জগজিৎ সিং চৌহানের কিছু অনুগামী দেশ ছেড়ে বিদেশে বিদ্রোহী শিখ সরকার গঠনের পরিকল্পনা করে। পরবর্তী দশকে অকালি দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ভাঙন ঘটে বহুবার এবং সেগুলির মধ্যে কালক্রমে মিলনও দেখা দেয়। অকালি দল বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, জনসংঘ প্রভৃতি দলের সঙ্গে পঞ্জাবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে অকালি দল জনতা পার্টির নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একটি আসন পেয়েছিল। পঞ্জাবের জটিল রাজনৈতিক আবর্তে অকালি দল নরমপন্থী ও চরমপন্থী ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। নরমপন্থী ধারার তিন প্রধান নেতা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল, ধর্মগুরু হরচাঁদ সিং লঙ্গোয়াল এবং এস জি পি সি-র প্রধান গুরুচরণ সিং তোহরা। দ্বিতীয় ধারায় দল খালসা প্রবল শক্তিসম্পন্ন। এরা স্পষ্টতই খলিস্তানের সমর্থক। আশির দশকের প্রথমার্ধে এ ধারার শীর্ষে ওঠেন সন্ত জানহিল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে। 

অকালি দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো আনন্দপুর সাহেব নামক স্থানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবাবলি (১৯৭৩)। বহুমুখী প্রস্তাবগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র সম্পর্ক, মুদ্রা, যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্ষমতার সীমিতকরণ ছাড়াও পঞ্জাবে পুঁজিপতিদের আধিপত্য হ্রাস, সেচের জলবণ্টন, খাদ্যশস্য বিক্রয় রাষ্ট্রীয়করণ, মাদকদ্রব্য নিবারণ প্রভৃতি বহু মৌলিক ও সুদূরপ্রসারী প্রস্তাবসহ ভারতের সংবিধান পরিবর্তনেরও দাবি ছিল। প্রস্তাবগুলির খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন সুরজিৎ সিং বারনালার নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবীদের একটি কমিটি। দাবিগুলির কোনও কোনওটি পরবর্তীকালে গৃহীত হয়। 

আশির দশকের গোড়া থেকেই অকালি দলে চরমপন্থী ধারা ক্রমে প্রবল হয়ে ওঠে। হিংসাত্মক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে পঞ্জাব একটি বিপজ্জনক ও উপদ্রুত অঞ্চল বলে ঘোষিত হয় এবং জুন মাসে উগ্রপন্থী দমনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী স্বর্ণমন্দির দখল করে। তারপর দীর্ঘকাল যাবৎ বিভিন্ন উগ্রপন্থী শিখ গোষ্ঠী বিক্ষিপ্তভাবে হিংসাত্মক ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত হয়। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে অকালিরা যোগ দেয়নি। অন্যূন বারোটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত অকালি দল শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। উপগোষ্ঠীর সংখ্যাও বিস্তর। লোকসভায় নির্বাচিত (১৯৮৯) সিমরণজিৎ সিং মান পরিচালিত চরমপন্থী অকালি দল জনচিত্তে বিস্মৃতপ্রায়। নরমপন্থী অকালি নেতা প্রকাশ সিং বাদলের পিছনে কিছু জনসমর্থন আছে। গুরুচরণ সিং তোহরা, শুকদেব সিং, বলবিন্দর সিং, সুবর্ণ সিং প্রমুখ নেতারা তাঁকে সমর্থন করেন। তোহরার অনুগামীরা দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট রয়েছেন। 

১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বিয়ন্ত সিং-এর নেতৃত্বে কংগ্রেস পঞ্জাবে মন্ত্রিসভা গঠন করে। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরে শিখ পন্থের প্রতিষ্ঠা দিবস বৈশাখী উৎসবে অকাল তখতের অস্থায়ী জাঠেদার মনজিৎ সিং বিভিন্ন ছোটবড় গোষ্ঠীতে বিভক্ত অকালিদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার কাজে উদ্যোগী হন। ঐক্যের শর্ত হিসেবে তিনি দুটি প্রস্তাব পেশ করেন। এক, সকল গোষ্ঠী ভেঙে ফেলতে হবে এবং দুই, বিবদমান সব গোষ্ঠীপতিকে তাঁদের ইস্তফাপত্র অকাল তখতে পাঠাতে হবে। 

প্রকাশ সিং বাদল ব্যতিরেকে বাকি সব অকালি নেতা শিখ ধর্মের সর্বোচ্চ পীঠস্থানের কর্ণধার জাঠেদারের প্রস্তাবে সম্মতি জানান। এস জি পি সি-র অধিকর্তা এবং তাঁর পয়লা নম্বর দুশমন জি এস তোহরার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়ায় বাদল প্রশ্ন তোলেন যে অকালিদের রাজনীতিতে অকাল তখত হস্তক্ষেপ করে কীভাবে? উল্লেখ্য, অকাল তখতের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় একদা সুরজিৎ সিং বার্নালাকে তংখাইয়া করা হয়েছিল। সেই আশঙ্কায় বাদল জাঠেদারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন যে নিজের গোষ্ঠীর সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে অকাল তখতের পরিবর্তে নিজের দলের সচিবের কাছে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। কৌশলে বাদল নিজেকে নিয়ে দলে একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করে নেন এবং ঐক্যে সায় নেই বলে জানিয়ে দেন। 

ছ’টি গোষ্ঠীর অকালি নেতারা শিরোমণি অকালি দল নামে নতুন একটি দল তৈরি করেন এবং ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১ মে অমৃতসরে এক প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তাতে বলা হয় যে ভারতকে স্বশাসিত রাজ্য-সমষ্টির একটি কনফেডারেশনে পরিণত করা হোক। সে-দাবি মানা না হলে স্বাধীন শিখ রাজ্যের জন্য অকালিরা সংগ্রাম করবে। নরমপন্থী হিসাবে এতকাল পরিচিত নেতাদের কণ্ঠে ভিন্দ্রেনওয়ালের দাবি ধ্বনিত হওয়ায় প্রথমে কিছুটা চমক সৃষ্টি করলেও সাধারণ মানুষের কাছে সদ্যোগঠিত শিরোমণি অকালি দলের অমৃতসর প্রস্তাব তেমন গুরুত্ব পায়নি। উল্লেখ্য, অকালি দল (লঙ্গোয়াল) নতুন এই দল গঠনের বিরোধিতা করেছিল এবং মান গোষ্ঠীর একাংশ এই দল গঠনে আপত্তি জানায়। 

উগ্রপন্থী রাজনীতির ভয় মন থেকে না কাটলেও নতুন দলের এই রণহুঙ্কারে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার ফলে রচয়িতারাই নানা রকমের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলেন যে বিচ্ছিন্নতাবাদ তাঁদের কাম্য নয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার ও তার তাঁবেদার মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং-এর পঞ্জাবের চিরন্তন সমস্যা, যথা চণ্ডীগড়ের হস্তান্তর, নদীর জল ভাগাভাগী ও এলাকা হস্তান্তরের বিষয়গুলির মীমাংসায় বিলম্ব ঘটা অনুচিত। 

পঞ্জাবের রাজনীতিতে এস জি পি সি তথা অকাল তখতের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অনস্বীকার্য। নবগঠিত অকালি দলের (অমৃতসর) নেতা সিমরণজিৎ সিং মান খলিস্তানের দাবিকে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষক এস জি পি সি-র প্রধান জি এস তোহরা সরকারের শিখ বিরোধী আচরণের তীব্র নিন্দা করেন। 

জুন মাসে আনজালা বিধানসভার উপনির্বাচনে বাদল পরিচালিত অকালি দলের জয় রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করে। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাদল বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। 

১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে লঙ্গোয়ালপন্থী এবং পন্থিক দুটি উদারনৈতিক অকালি দল অমরিন্দর সিং ও কাবুল সিং-এর নেতৃত্বে মিশে যায়। তাঁরা বাদল ও সিমরণজিৎ সিং মান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত দল দুটিকে ঐক্যের আহ্বান জানান। 

বিভিন্ন অকালি দলের মধ্যে ধর্মগুরুদের উদ্যোগে ঐক্যের প্রয়াস অব্যাহত থাকে। ১৯৯৫ খ্রি জানুয়ারিতে অকালি দল (বাদল) এবং অকালি দল (অমৃতসর) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি অনুসৃত হবে। 

এদিকে ওই মাসেই ফতেগড়সাহেব জোর মেলায় খলিস্তান ও আজাদি স্লোগান তোলার দায়ে সিমরণজিৎ সিং মানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফৌজদারি আইন অনুযায়ী সরকার দেশদ্রোহিতার অভিযোগ দায়ের করে। দমদমা সাহেবে ১৩ এপ্রিল বৈশাখী উৎসবে অকালি দলের অমৃতসর ও বাদল গোষ্ঠী আনন্দপুরে সাহেব প্রস্তাবের (১৯৭৩) ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত দলের রাজনৈতিক বিষয়ক যৌথ প্যানেলের সভায় সাংগঠনিক বিষয়াদির আলোচনা ছাড়াও স্থির হয় ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা বাতিল, দেশে প্রকৃত ফেডার‍্যাল রাষ্ট্র কাঠামোর রূপায়ণ, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিষয়াদির যথাযথ বিভাজন এবং যৌথ কর্মতালিকা বর্জন, ছোটবড় নির্বিশেষে সকল রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজ্যসভায় সমান সংখ্যক সদস্য, লোকসভায় বিশেষ ও ঐচ্ছিক ক্ষমতার বিলোপ দাবি করা হবে। ১৪ এপ্রিল সকল গোষ্ঠী একত্র মিশে যাবার পর প্রকাশ সিং বাদল সম্মিলিত দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। সকল গোষ্ঠীর সমস্ত শাখা, ছাত্র ও নারী সংগঠন সমূহও মিলে যায়। ‘শিরোমণি অকালি দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পাকিস্তানে অবস্থিত শিখধর্মের পীঠস্থান নানকানা সাহেবকে ভ্যাটিক্যানের মতো স্বীকৃতি দিতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, প্রথম সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৯৭, পৃষ্ঠা ৯-১২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!