এসইউসিআই (সি) বা এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) বা সোস্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া {ইংরেজি: Socialist Unity Centre of India (Communist) or SUCI(C)} হচ্ছে ভারতের একটি সংশোধনবাদী, সুবিধাবাদী সমাজ-গণতন্ত্রী রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুবিধাবাদী-সংশোধনবাদী শিবদাস ঘোষ (১৯২৩—৫ আগস্ট, ১৯৭৬) যিনি ১৯৪৮ সালে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও সংগঠনটিতে কাজ করেছেন সুবোধ ব্যানার্জী এবং নীহার মুখার্জী দুজন সুবিধাবাদী। সংগঠনটির বর্তমান প্রধান সংগঠক হচ্ছেন সুবিধাবাদী ও সংশোধনবাদী ভুয়া কমিউনিস্ট প্রভাস ঘোষ।[১]
এই সংগঠনের পত্রিকার নাম গণদাবী, এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৯৪৭ সাল হতে স্বাধীনতার পর থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। এসইউসিআই-য়ের ছাত্র সংগঠনের নাম ‘অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গ্যানাইজেশন’, যুব সংগঠনের নাম ‘অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ অর্গ্যানাইজেশন’, মহিলা সংগঠনের নাম ‘সর্বভারতীয় মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠন’, শ্রমিক সংগঠনের নাম ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার’ এবং কৃষক সংগঠনের নাম ‘সর্বভারতীয় কৃষক খেত মজদুর সংগঠন’।
এসইউসিআই-য়ের প্রতিষ্ঠাতা শিবদাস ঘোষের একটি পুস্তিকার নাম কেন এসইউসিআই ভারতের মাটিতে একমাত্র সাম্যবাদি দল। সেই লেখায় বিভিন্ন কথা আর কুযুক্তি হাজির করে তিনি বলতে চেষ্টা করেছেন তার সংগঠনটিই গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র সহি বা সঠিক বিপ্লবী “পার্টি”[২]! এইভাবে তিনি বিশুদ্ধ পার্টি ধারনায় হাজির হয়েছেন যা বস্তুবাদবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি।
মতাদর্শ
এসইউসিআই হচ্ছে একটি সামাজিক রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল যা শিবদাস ঘোষের তৈরি আদর্শিক লাইন অনুসরণ করে। এসইউসিআই মনে করে যে ভারত একচেটিয়া পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতাসহ একটি পুঁজিবাদী দেশ। সেই বিশ্লেষণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, দলটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য কাজ করার বাকোয়াজি করে।
সংগঠনের সুবিধাবাদী নেতারা স্পষ্টতই শিবদাস ঘোষের চিন্তাভাবনার তাত্ত্বিক অধ্যয়ন এবং দলীয় কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনে এই জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে দলীয় কর্মী, গণ-সংগঠনের কর্মী এবং সমর্থকদের গুণগত মান উন্নয়নের উপর জোর দেয়। এসইউসিআই দাবি করে যে কর্মীদের এমন সর্বহারা সাংস্কৃতিক মান অর্জন করা উচিত যা দিয়ে তারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে জনসাধারণকে নেতৃত্ব দিতে পারে।
সংগঠনটিতে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পলিটব্যুরো নেই। সংগঠনটিতে সাধারণত নিয়মিত বিরতিতে কংগ্রেস হয় না, ৮০ বছরে মাত্র দুবার কংগ্রেস করেছে। সংগঠনটিতে সম্মেলন নেই, কংগ্রেসে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা নেই, কংগ্রেসের রিপোর্ট নেই, গণতন্ত্রের কোনো অনুশীলন নেই। অর্থাৎ ভুয়া মার্কসবাদী চিটার আর বাটপারদের এই সংগঠনটি বলশেভিক ধরনের কোনো অনুশীলনের ধার ধারে না। তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সিদ্ধান্তের বিরোধী এই সংগঠনটি নিজেদের নাম কমিউনিস্ট পার্টিও রাখেনি। এসইউসিআই নিজেদেরকে কখনোই ‘জাতীয়’ বলেনি, যদিও ভারতীয় জাতীয়তাবাদে তারা খুবই বিশ্বাসী।[৩]
আরো পড়ুন
- সিপিআই হচ্ছে ভারতের ভুয়া কমিউনিস্ট গণতন্ত্রবিরোধী সংগঠন
- কংগ্রেস সােসালিস্ট পার্টি ছিলো কংগ্রেসের মধ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক দল
- সিপিআই (এম) সাম্য ও স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের পার্টি
- গদর আন্দোলন ছিলো একটি বিপ্লবী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আন্দোলন
- এসইউসিআই (সি) ভারতের সমাজ-গণতন্ত্রী রাজনৈতিক সংগঠন
- এআইএডিএমকে ভারতের তামিলনাড়ুর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী গণশত্রুদের সংগঠন
- অকালি দল বা শিরোমণি অকালি দল ভারতের একটি রাজনৈতিক দল
- বিজেপি ভারতের জনগণ, গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী সংগঠন
- জনতা দল ছিল ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল
- যুগান্তর দল বা যুগান্তর সমিতি ছিল বাংলার গোপন বিপ্লববাদী সংস্থা
- অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার বিপ্লববাদী রাজনৈতিক সংগঠন
এসইউসিআই (সি) মনে করে যে ভারত একচেটিয়া পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতাযুক্ত একটি পুঁজিবাদী দেশ। এই বিশ্লেষণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, সংগঠনটি ভারতে একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করার কর্মসূচি গ্রহণ করে। এদের বিপরীতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) চায় গণতান্ত্রিক বিপ্লব, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) চায় জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব এবং নকশালবাদী মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টিগুলো চায় নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব।
তথ্যসূত্র ও টিকা
১. অনুপ সাদি সম্পাদিত বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১০, পৃষ্ঠা ৪৮৫
২. শিবদাস ঘোষের একটি পুস্তিকার নাম কেন এসইউসিআই ভারতের মাটিতে একমাত্র সাম্যবাদি দল।
৩. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আ ফ ম মাহবুবুল হক ও তার সময়ের রাজনীতি, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সপ্তদশ স্মারক বক্তৃতা, ১১ অক্টোবর ২০১৯, সমাজ-রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২০।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।