জ্যোতি বসু (ইংরেজি: Jyoti Basu) ৮ জুলাই ১৯১৪ – ১৭ জানুয়ারী ২০১০) ছিল একজন ভারতীয় গণহত্যাকারী খুনি সন্ত্রাসবাদী রাজনীতিবিদ। সে ছিল ভারতের সুবিধাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। সে ১৯৭৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ষষ্ঠতম এবং দীর্ঘতম অবৈধ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিল।
জ্যোতি বসু ভারতের সুবিধাবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল। সে ১৯৬৪ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দলের পলিটব্যুরোর সদস্য ছিল। সে নানাভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে ১১বার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যপদ দখল করেছিল। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বসুর সন্ত্রাসবাদী কর্মজীবনে, পদত্যাগের সময় সে সন্ত্রাসবাদী ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন সন্ত্রাসবাদী মুখ্যমন্ত্রী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
জ্যোতিরিন্দ্র বসু ১৯১৪ সালের ৮ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের কলকাতার ৪৩/১ হ্যারিসন রোডে একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। সে ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী ছিল। সে সময় জ্যোতি বসুর প্রতিক্রিয়াশীল সংশোধনবাদী প্রতিবিপ্লবী ভূমিকা বাঙালির ললাটে অমোচনীয়ভাবে লেখা হয়েছে।
‘চাষজমিতে ক্ষেতমজুরের অধিকার’ প্রসঙ্গে ও প্রশ্নে ১৯৬৭ সাল নাগাদ উত্তরবঙ্গে নকশালবাড়ীতে এবং দক্ষিনবঙ্গে পুরুলিয়ায় বান্দোয়ানে একটি এলাকায় ও বসিরহাট সংলগ্ন সুন্দরবন অঞ্চলে ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অসন্তোষ এতটাই তীব্র হয় যে তৈরী হয় সম্ভাব্য বৈপ্লবিক পরিস্থিতি। সিপিএমের পরিকল্পনা ছিল ১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ঐ তিনটি জায়গায় সর্বাত্মক কৃষক আন্দোলন শুরু করার।
আন্দোলনরত নিরীহ ও নিরস্ত্র ক্ষেতমজুরদের গুলি করে হত্যা করে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর উপমুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুলিশ। দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে নকশালবাড়ীতে ২৫ মে ১৯৬৭ সালে শহিদের রক্তস্নাত কৃষিজমি থেকে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন দু‘জন শিশু সমেত ধনেশ্বরী দেবী, সীমাশ্বরী মল্লিক, নয়নেশ্বরী মল্লিক, সোমসারী সাইবানি, গুদ্রু সাইবানি এবং খারসিং মল্লিক মোট এগারো জন নিরস্ত্র প্রান্তিক ক্ষেত মজুর। এর প্রতিবাদে চারু মজুমদার, কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতাল ও আরও অনেকে সিপিএম থেকে বেরিয়ে এসে তৈরি করে নতুন রাজনৈতিক দল সিপিআই (এম এল)।
জ্যোতি বসু তার রাজনৈতিক নেতা টাউট মুজফফর আহমদের মতোই অনুশীলন ও যুগান্তর দলের স্বাধীনতাকামী ও বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী বলত। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের মূল্যহীন এই দাসটা ব্রিটিশদের শেখানো বুলি আওড়াত। যেমন এই ফালতু দাস জ্যোতি বসু ময়মনসিংহের মহারাজার ছেলে স্নেহাংসু আচার্য সম্পর্কে মন্তব্য করেছে,
“স্নেহাংশুর টেরোরিস্টদের সাথে যোগাযোগ ছিল। ওদের সাহায্য করতো। স্নেহাংশু দেশে থাকতেই একটু-আধটু রাজনীতি করেছে। পরে ও লন্ডন মজলিশে আসতো। বিভিন্ন সময়ে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ হতো।”[১]
এই হচ্ছে আধুনিক বর্বর রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসু, যার চোখে অনুশীলন ও যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা হয়ে গেছে টেরোরিস্ট।
অসুস্থ হওয়ার সতেরো দিন পর, জ্যোতি বসু ১৭ জানুয়ারী ২০১০ তারিখে সকাল এগারটার পর কলকাতার আমরি হাসপাতালে মারা যায়। আরেক শোধনবাদী সন্ত্রাসী বিমান বসু চোখের জলে ঘোষণা করে, “জ্যোতিবাবু আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।”
মানুষ সম্পর্কে একটি আলোচনা শুনুন
আরো পড়ুন
- বেনিতো মুসোলিনি: ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং ইতালির একনায়কতন্ত্রের ইতিহাস
- স্বৈরতন্ত্র জনগণের মধ্যে অনৈক্য করেই টিকে থাকে
- জ্যোতি বসু হচ্ছে আধুনিক বর্বর গণহত্যাকারী খুনি রাজনীতিবিদ
- দেং জিয়াওপিং ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের একজন প্রতিবিপ্লবী কুচক্রী রাজনীতিবিদ
- ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের সন্ত্রাসবাদী গণহত্যাকারী রাজনীতিবিদ
- জওহরলাল নেহরু ভারতের জনগণ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার শত্রু সন্ত্রাসবাদী
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন ভারতের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণির নেতা
তথ্যসূত্র
১. জ্যোতি বসু, “ফেলে আসা দিনের কিছু কথা”, সিপিআই(এম)-এর পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জ্যোতি বসুর জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দেশের কথা পাবলিকেশন্স, আগরতলা, ভারত; প্রথম প্রকাশ, সেপ্টেম্বর ২০১৪; পৃষ্ঠা ১৮।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।