ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের সন্ত্রাসবাদী গণহত্যাকারী রাজনীতিবিদ

ইন্দিরা গান্ধী বা ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী (ইংরেজি: Indira Priyadarshini Gandhi; ১৯ নভেম্বর ১৯১৭ – ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪) ছিলেন ভারতের সন্ত্রাসবাদী ও গণহত্যাকারী রাজনীতিবিদ এবং ভারতের প্রধান সন্ত্রাসী সংগঠন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। তাকে  ভারতের প্রথম অবৈধ মহিলা প্রধানমন্ত্রী বলা হয়।

বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতার তথ্য প্রচার করে, এবং বিপ্লবের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায়, গান্ধী ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত জরুরি অবস্থা চালু করেছিলেন যেখানে মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা স্থগিত করা হয়েছিল এবং প্রেস সেন্সর করা হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় ব্যাপক অন্তত পক্ষে ২৫ লক্ষ মানুষের উপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। তার ক্ষমতাকালীন ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৪ সালে প্রায় ৬০ লোকের উপর গণহত্যা চালান তিনি।

ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম ও শিক্ষা

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ১৯ নভেম্বর উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ইন্দিরা। ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং তার স্ত্রী কমলা নেহরুর একমাত্র কন্যা ছিলেন তিনি।

ইন্দিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন, জেনেভা এবং অক্সফোর্ডে শিক্ষালাভ করেন। জনগণকে শোষণ নির্যাতন ও ভীতির ভেতরে রাখবার সন্ত্রাসী চেতনায় উদ্বুদ্ধ পারিবারিক পরিবেশে লালিত হয়ে এবং পিতা জওহরলালের উৎসাহে বাল্যবয়স থেকে ইন্দিরার মনে গণবিদ্বেষের বীজ রোপিত হয়। ১২ বছর বয়সে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘চরকা সংঘ’ গঠন করেন। পরে প্রায় ৬০০০ ছেলেমেয়ে নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের কিশোর বাহিনী ‘বানর সেনা’ সৃষ্টি করেন।

১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ইন্দিরা কংগ্রেসের সদস্য হন। ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে বিবাহ হয় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে। বিবাহের কিছুদিন পরে অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করার অভিযোগে তিনি ১৩ মাসের জন্য কারাদণ্ডে দন্ডিত হন।

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্দিরা কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির সদস্য এবং ১৯৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন।

আরো পড়ুন:  নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এক লড়াকু জননায়ক

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। জওহরলালের মৃত্যুর পরে লালবাহাদুর শাস্ত্রী প্রধান মন্ত্রী হন। ১৯৬৪-৬৬ খ্রিস্টাব্দে শাস্ত্রীজির মন্ত্রিসভায় তথ্য ও বেতার দপ্তরের মন্ত্রী হন ইন্দিরা। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পরে কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির অধিকাংশ সদস্যের ইচ্ছায় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন।

১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। তিনি দলীয় প্রার্থী নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে সমর্থন না করে দলীয় সদস্যদের বিবেক-অনুযায়ী নির্দল প্রার্থী ভি. ভি. গিরিকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন।

প্রধানত তারই আগ্রহ এবং চেষ্টায় ভি. ভি. গিরি জয়যুক্ত হন। এই ঘটনা এবং মোরারজী দেশাইয়ের অর্থ দপ্তর স্বয়ং গ্রহণ এবং দেশাইয়ের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগকে কেন্দ্র করে জাতীয় কংগ্রেস সংগঠন কংগ্রেস বা আদি কংগ্রেস এবং নব কংগ্রেস—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 

শ্রীমতী গান্ধী নব কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে লোকসভা নির্বাচনে দলকে জয়ী করতে সমর্থ হন এবং ভারতের প্রধান সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কংগ্রেসে নিজের আধিপত্য বিস্তৃত করেন।[১]

তথ্যসূত্র

১. যাহেদ করিম সম্পাদিত নির্বাচিত জীবনী ১ম খণ্ড, নিউ এজ পাবলিকেশন্স, ঢাকা; ২য় প্রকাশ আগস্ট ২০১০, পৃষ্ঠা ৯৯৩-৯৯৪।

Leave a Comment

error: Content is protected !!