ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। উপমহাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার নয়া উপনিবেশিক ভূভাগ বা একত্রে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান (ইংরেজি: Indian Subcontinent) এশিয়ার দক্ষিণভাগে অবস্থিত একটি ছোটখাট মহাদেশ। নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সীমারেখা ভারতীয় উপমহাদেশকে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে পৃথক করেছে। ভূ-প্রকৃতির বৈশিষ্ট অনুসারে এই উপমহাদেশকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
(ক) উত্তরে হিমালয় ও তৎসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল: ভারত উপমহাদেশের উত্তরে অবস্থান করছে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা। হিমালয়ের পশ্চিম প্রান্ত থেকে ক্রমশ দক্ষিণমুখী কারাকোরাম, হিন্দুকুশ ও ক্ষীরথর পর্বতমালা ভারতের পশ্চিম সীমান্তে সৃষ্টি করেছে এক অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক সীমারেখা। আর এই সীমারেখাই ভারতকে বিচ্ছিন্ন করেছে পশ্চিম এশিয়া থেকে। উত্তরের হিমালয় পর্বতশ্রেণি ভারত ও চীনের মধ্যেও সৃষ্টি করেছে অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা। হিমালয়ের পূর্বপ্রান্তে আসাম ও লুসাই পর্বতমালা, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকানের অনুচ্চ পর্বতশ্রেণি ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মায়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। ভারতীয় উপমহাদেশের দক্ষিণে আরব সাগর ভারত মহাসাগর আর বঙ্গোপসাগর সুনিশ্চিত করেছে ভারতের বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব। উপরোক্ত সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ ভারত উপমহাদেশের বিশাল ভূ-ভাগের মধ্যে রয়েছে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য।
(খ) সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রম্মপুত্র বিধৌত সমভূমি অঞ্চল: হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র — এই তিনটি নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল উপমহাদেশের সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধশালী উর্বর অঞ্চল । সিন্ধু ও গঙ্গার অববাহিকায় প্রাচীন ভারতের সভ্যতার প্রথম বিকাশ ঘটেছিল। সিন্ধু অববাহিকার সমভূমি অঞ্চলের একটা অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তর্গত ।
(গ) মধ্য ভারতের মালভূমি: উত্তরের সমভূমি আর দাক্ষিণাত্যের মালভূমির মধ্যে প্রাকৃতিক দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে আছে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত বিন্ধ্য পর্বতমালা। যার পশ্চিমে আরাবল্লি পর্বত রাজস্থানের মরুময় অঞ্চলের মধ্যে বিস্তার রয়েছে তার কয়েকটি শাখা-প্রশাখা। হিমালয় থেকে বিন্ধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর ভারতের সমতল ভূমি। যার সর্ব পশ্চিমে সিন্ধু নদ ও তার শাখা প্রশাখা বিধৌত পাঞ্জাব ও সিন্ধুর সমতলভূমি। পাঞ্জাব থেকে পূর্ব দিকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর ভারতের গঙ্গা-যমুনা বিধৌত বিশাল সমভূমি।
(ঘ) দক্ষিণাত্যের মালভূমি: বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণে দাক্ষিণাত্যের সামুদ্রিক জলবেষ্ঠিত উপদ্বীপ। দাক্ষিণাত্যের মালভূমির পশ্চিমে রয়েছে পশ্চিমঘাট ও পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতশ্রেণি। উপদ্বীপের প্রায় মাঝামাঝি চন্দ্রগিরি পর্বতশ্রেণি। কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী, তুঙ্গভদ্রার জলরাশি এই মালভূমির সমতল ভূ-ভাগকে করেছে উর্বরা। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ সমভূমির দক্ষিণ-পশ্চিমে রাজস্থান ও সিন্ধুর মধ্যে রয়েছে থর মরুভূমি। আর এই সমভূমির দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে বাংলার ব-দ্বীপ। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের পূর্বাংশ আর উত্তর ভারতের পূর্বাংশে লক্ষ করা যায় বৃষ্টিবহুল পরিবেশের। সমগ্র উত্তর ভারতের অবশিষ্ট অংশে শুষ্ক আবহাওয়া।
ঙ) সুদুর দক্ষিণ: কৃষ্ণা, তুঙ্গভদ্রা থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত অঞ্চলকে সুদুর দক্ষিণ বলা হয়। এই অঞ্চল হলো দ্রাবিড় সভ্যতার লীলাভূমি ।
আরো পড়ুন
- বাংলা সংগীত হচ্ছে হাজার বছর ধরে চলমান এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অধিকারী
- বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি প্রসঙ্গে
- প্রাচ্য স্বৈরতন্ত্র বলতে এশীয় সমাজগুলির রাজনৈতিক বা নৈতিকভাবে স্বৈরশাসনকে বোঝায়
- বাংলাদেশের ইতিহাস হচ্ছে পূর্ববঙ্গের জনগণের লড়াই ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস
- যুগান্তর দল বা যুগান্তর সমিতি ছিল বাংলার গোপন বিপ্লববাদী সংস্থা
- অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার বিপ্লববাদী রাজনৈতিক সংগঠন
- বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন প্রসঙ্গে
- বাংলাদেশের গণযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য চালিত সশস্ত্র সংগ্রাম
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২০২০ প্রশ্নপত্র
- বাংলার সংস্কৃতি বাংলা ও ভারতের পূর্ব অংশে বাংলাভাষী প্রধান অঞ্চলের সংস্কৃতি
- বাংলা নামের উৎপত্তি হয়েছে বঙ্গ শব্দের সাথে আল বা আইল শব্দ যুক্ত হয়ে
- বাংলার ইতিহাসে ভৌগোলিক উপাদান বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলীর প্রভাব
- বাংলা বা বঙ্গের ভৌগোলিক পরিচয় বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলী প্রসঙ্গে
- ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল হচ্ছে জাতির স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পুনরুদ্ধার
- সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ হচ্ছে খাজনা বৃদ্ধি, মহাজনদের শোষণ ও কারচুপি
- রাজমহলের যুদ্ধ হচ্ছে বাংলাকে পরাধীন করার অন্যতম নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধ
- পাবনা কৃষক বিদ্রোহ ছিল জমিদারদের বিরুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য বিদ্রোহ
- নীল বিদ্রোহ বা নীল প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল কৃষক আন্দোলন
- রংপুর কৃষক বিদ্রোহ হচ্ছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বিদ্রোহ
- কৃষক বিদ্রোহের কারণ হচ্ছে সতের ও আঠার শতকের ব্রিটিশ খাজনা ও শোষণ
- সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান
- চাকমা বিদ্রোহ হচ্ছে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদিদের বিরুদ্ধে চাকমা জাতির অভ্যুত্থান
- খাসি বিদ্রোহ হচ্ছে বর্বর ব্রিটিশ উপনিবেশবাদিদের বিরুদ্ধে খাসিয়া অভ্যুত্থান
- বাংলায় ধর্মীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন ও বিদ্রোহ
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚
অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।