সুব্রত রায় বাংলাদেশী শিক্ষক, উইকিপিডিয়ান ও লেখক

সুব্রত রায় একজন বাংলাদেশী শিক্ষক, উইকিপিডিয়ান, লেখক ও অনলাইন সক্রিয় কর্মী। পেশাগত জীবনে শিক্ষাবিদ এবং প্রযুক্তিমনষ্ক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলা উইকিপিডিয়ায় প্রায় ৫ হাজার নিবন্ধ যুক্ত করেছেন। প্রথম দিকে বইয়ে থাকা বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ যুক্ত করতেন। তিনি পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ধর্ম, সাহিত্য, ব্যক্তিজীবনী, প্রকৃতি, সমাজ, রাজনীতি, খেলাধূলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানারকম নিবন্ধ লেখা শুরু করেন। বাংলা উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ে তিনি ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। সুব্রত রায় বাংলা উইকিপিডিয়াতে অসংখ্য ক্রিকেট বিষয়ক নিবন্ধ এবং ক্রিকেটারদের জীবনী সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ তৈরি করেছেন এবং এখনো করে চলছেন।

সুব্রত রায় আলোকচিত্র গ্রহণ করতে পছন্দ করেন। গান শুনতে ও গাইতে বেশ পছন্দ করেন। দুধ সহযোগে সর্বক্ষণ চা পান করতে ভালোবাসেন ও ধূমপানে প্রচণ্ড অভ্যস্ত। কিছুটা মিতভাষী এবং গোড়ামীবাদ বিরোধী এই মানুষটি কম্পিউটারে-মোবাইলে গেমস খেলতে, চলচ্চিত্র দেখতে এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। ফুটবলে ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক। হাতের লেখা বেশ সুন্দর বলে অনেকেই প্রশংসা করে থাকে। সর্বদাই শুভ চিন্তার অধিকারী।

সুব্রত রায়ের জন্ম ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নরসিংদীর রায়পুরার শ্রীরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। পিতা শীতল চন্দ্র রায় ও মাতা রেবা রাণী রায়ের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। জ্যেষ্ঠ সহোদর দেবব্রত রায়ের সংস্পর্শে ও শীতল কম্পিউটারে যুক্ত থেকে কম্পিউটারে হাতে খড়ি সেই ১৯৯৭ সালে।

সুব্রত রায় সাধারণমানের ছাত্র ছিলেন। রায়পুরার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণ শেষে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সেরাজনগর এম. এ. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। পিতার মৃত্যুতে মাতা রেবা রাণী রায়ের অবিরাম জীবন সংগ্রামে লিপ্ত থেকে তাঁকে পড়াশুনো করান। ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর ১৯৮৮ সালে ঢাকা গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে প্রথম বিভাগে কৃতকার্য হন। একই বছর নরসিংদী সরকারী কলেজে স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে কলা বিভাগে ও পরবর্তীতে বিভাগ পরিবর্তন করে বাণিজ্য শাখায় রায়পুরা কলেজে পড়াশুনো করেন। তৃতীয় বিভাগে পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর প্রথম পর্বে ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ হলে অবস্থান করেন ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। শিল্পকলা, আবৃত্তি, ভাষাশিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। গাছে চড়া, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ফুটবল, দাবা, ক্রিকেট, তাস, ক্যারামবোর্ড, ভ্রমণ ইত্যাদিতে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে কনিষ্ঠ ভ্রাতা সত্যব্রত রায়কে নিয়ে একত্রে নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলেন।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে স্থানীয় সানরাইজ পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে মোহাম্মদপুরে ঢাকা শারীরিক শিক্ষা মহাবিদ্যালয় থেকে বিপিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালের শেষদিকে বেলাবোর নারায়ণপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করে অদ্যাবধি কর্মরত। ২০০০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্নাতকোত্তরধারী সাথী রায়ের সাথে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। বিবাহকালীন দীর্ঘ গোঁফ রাখতেন। দুই সন্তানের জনক। জ্যেষ্ঠ সন্তান সুপ্রিয় দীপ রায় ২০২২ সালে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও কন্যা শ্রেয়সী হিয়া রায় পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০০৮ সালের দিকে মুক্ত বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়ার সাথে যুক্ত হন ও পরবর্তীতে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘কর্মই ধর্ম’– এ নীতিবাক্যকে উপজীব্য করে জীবন সংগ্রামে রয়েছেন। অজানার আহ্বানে সাড়া দিয়ে লেখালেখিতে ব্যস্ত রয়েছেন। খেলাধূলাকে ঘিরে সামনেই গ্রন্থ প্রকাশের স্বপ্ন দেখছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। প্রায় সময়ই কম্পিউটারের সাথে সময় কাটান। চশমা ও বিভিন্ন রোগশোক তাঁর নিত্যসঙ্গী। জীবনের পথচলায় মায়ের ভূমিকাকে অমূল্য হিসেবে বিবেচিত করেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!