অতি সাধারণেরা যেভাবে থাকতো তিনিও তেমনটি,
সাজগোছের বাহার নেই, অতিরঞ্জিত গল্প নেই তাঁর,
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেতে থাকতেন কাজে,
কর্মঠ থাকেন পাষাণের মঞ্চে প্রমাণ দিতে আপন কর্মের।
তাঁর সাধারণ বাড়িটির একটি পাকশালা ছিলো
যেটা এখন উৎসবে রেখে যাওয়া হাসি কান্নার সাক্ষী মাত্র,
সেখানে ফুটন্ত তেলে ফুলে ওঠা মালপোয়ার মতো
দুঃখগুলো পুড়তে পুড়তে পরিপুর্ণ হতো।
তবে তিনি জানতেন সরল সহজ ছড়া পাঠের মতো জীবন না,
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বাঁকা পথেই চলতে হবে,
জীবন-মৃত্যুকে পাশাপাশি রেখেই
খেলতে হবে অরণ্যের গভীরে।
বিপরীত স্রোতের যাত্রী যে তিনি ছিলেন তেমনটাও না,
আবার বদলের হাওয়াতেও শরীর জুড়াতেন না,
সাধারণের মাঝে কিছুটা অন্যরকম ছিলো
তাঁর বাঁধানো বুলি।
যদিও কোন যুদ্ধগামী ক্যানভাসের চিত্র আঁকতে পারেননি
কিন্তু দ্বিখন্ডের ইতিহাসের কাহিনী ছিলো তাঁর ঝুড়িতে,
খোয়ানোর করুন ব্যথা ছিলো মনে,
তবুও বুক ফুলিয়ে বিকেলের ফুরফুরে বাতাসে পা মেলে বসতেন।
আমাদের পান্ডিত্যের জগতে তিনি অতি নগণ্য ছিলেন,
তারপরেও ফেটে যাওয়া মটর দানার মতো
ছড়িয়েছেন লোকগীতের বাহার,
বপন করেছেন কৃষ্টিকে এক ঝাঁকড়া পালকওয়ালা মাণিকজোড়।
স্বপ্নে বিভোর ছিলেন না, বাস্তবকে আলিঙ্গন করতেন গুলঞ্চের মতো,
বিচ্ছুরিত আলোর মতো বিলাতেন নিজের মমত্ত্ব,
বৃক্ষের ফাটলে হাত বুলিয়ে খুঁজতেন নিজের অস্তিত্ব,
ভাবতেন, মানচিত্রে এক চিলতে চিহ্ন রাখবেন।
আরো পড়ুন
- ৫৬,০০০ বর্গমাইল
- পরাজিত শ্রমিক
- স্বদেশ শ্মশান
- সমাজতন্ত্র আকাশ থেকে পড়ে না
- আমাদের আশাগুলোর বয়স বাড়ে না
- একটি নাটাবটের একটি তিতির হবে একটি সেতু
- ভিখারিনী থেকে জ্যান্ত পুঁজির দানব, কলকাতা
- হাজার বছর পরে মুক্তির উৎসব
- যৌথতার গান
- জীবনের নব সূর্যস্নান
- আমাদের অম্লান চেতনা
- আমার হৃদয় কোনো দেয়াল মানে না
- পিতৃভূমি, তোমার হৃদয়ে আলো জ্বেলে আমাদের ক্রমমুক্তি হবে
- তুমি আসবেই আমার শ্রেণিহীন রক্তে
- আমরা সেদিন, বহুদিন তারপর কিছুদিন জীবনের গল্প বলেছি
- প্রশ্নের পিরামিড
- জরুরি নির্দেশ: তিন
- পাথরের মতো সত্য চোখ
- জরুরি নির্দেশ: দুই
- মানুষের ইতিহাস রচিত হবে একদিন
- আলোকের দিন শুরু হলে মানুষের গল্প লেখা হবে
- এক চিলতে চিহ্নের মাঝে উজ্জ্বল বিন্দু
- খালামনি — মো. আজিমুল হক
- হাসান ফকরীর ছয়টি কবিতা
- মমতাময়ী বটবৃক্ষের মতো নানী
- ভাগের মা
১৪.০৫.২০২২
সারদা ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফুলকিবাজ এবং রোদ্দুরে ডটকমের সম্পাদক।
কবিতার ভাষাটা যদিও কিছুটা কঠিন, তদুপরি কবিতাটি পড়ে ভাল লাগল।