এখন শহরের পথে পথে অনেক পাখি
উড়াও পাখিদের মাথার খুলি,
দেখামাত্র হত্যা কর, দেখামাত্র কর গুলি
এখন জরুরি কাল, জরুরি প্রয়োজন,
এখন পাখিদের হত্যার তুমুল আয়োজন
চালাতে শ্বাস প্রশ্বাস দরকার কাঁদানে গ্যাস
এখন কথা বলার বদলে শুধুই গোঙানো
মুখ দিয়ে ফেনা তোলা আর জলপাই গাড়িতে পতাকা উড়ানো।
এখন শান্তিতে গ্রহণ করো মৃত্যু ও রক্তপাত
শান্ত পথে ধরে রাখো তোমাদের রিক্ত হাত,
হাতে রাখো হ্যান্ডকাপ, কফ তোলো রাজপথে,
ভুলে যাও মুছে ফেলো, কী লেখা ছিলো জীবনের শপথে,
এখন আনুগত্যের কাল, আনুগত্যে শক্তি পাওয়া যায়,
মহামান্যের সামনে মাননীয়রা ছুরিতে শান দেয়
হে মহামহিম, তুমি শক্তিমানেদের ব্যক্ত করো সবখানে
করহ সম্মান ক্ষমতাকে, পূজা করো বীরগণে,
প্রাণ দাও বীরের পদতলে, আনুগত্য আনো প্রাণে
অবিরত হও অবনত, মৃত্যু আসছে ঠেলাগাড়িতে চড়ে তোমাদের সম্মুখপানে,
শেখো ভক্তি করো ভক্তি ভক্তিই পরম শান্তির মূল
ভক্তি দেবে তোমাদের মুক্তি, এই কথা মেনো নাকো ভুল
কেউ কোনো নড়াচড়া করো না, ভক্তি করো শক্তিমানে
সবকিছু পাবি তোরা ভক্তি আর ভয়ের শাসনে
ভক্তি করলে পাবি বংশগৌরব, পাবি অজস্র খেতাব
ভক্তি কর, পাবি টাকা, কড়ি পাবি, পাবি অবৈধ জবাব,
ভাবিও না কোনোকিছু, তৈরি করো না নয়া জমানার কিছু
যা আছে সব দান করো, ছেড়ো না দাসত্বের পিছু
যেভাবে কলুর বলদ আছো, সেভাবেই কাটাও সমগ্র জীবন,
ক্রীতদাস, ভূমিদাস, শ্রমদাস, বাঁদি হয়ে বাঁচার অনুশীলন,
ধন্য হও ঐতিহ্যের পূজা করে, সম্মান করো ক্ষমতাকে
ক্ষমতাকে সম্মান করে পাবে সোনার বাংলা, সোনালী দিনকে
আফিম আর গাঁজা খাও আর ঘুমাও, থাকো কর্মহীন,
কাগজের বাঘ সেজে বসে থেকে, ধীরে ধীরে হও বিলীন
কিংবা সিংহাসনে বসে থাকো প্রাচীন রাজার পোশাক পরে
স্বাধীনতা নিয়ে ভেবো না, এজগতে সবাই একদিন যায় মরে,
কেউ কোনো দিন কক্ষনো ক্ষমতার আশপাশে ঘেঁষবে না
কেউ চিন্তা করবে না, শুধু মানবে রেডিও টিভির নির্দেশনা
আর শোনো,
বোবার কোনো শত্রু নেই
তাই নির্বাক হয়ে যাও চিরদিনের জন্য,
কানে কিছু শোনো না, চোখে কিছু দেখো না, মুখে কিছু বলো না
চোখ মুখ কান বন্ধ রাখো
চোখ মুখ কান বন্ধ রেখে মাথা নত করো
জলপাই রঙের সামনে।
আরো পড়ুন
- মানুষ মানুষ আর মানুষ অথবা আধুনিক মানুষের ধারাবাহিক গল্প অথবা উন্মাদনামা
- আধুনিক নেতাদের পচনক্রিয়া
- শ্রমিকের বেদনা গীত
- কিছু রক্ত এখনো বিদ্রোহী
- গেরুয়া গরুর দাসত্ব
- গর্ততত্ত্ব ও সংগ্রাম
- মৃত্যুকুপের মাঝে বাঁচার ধুর্ততা
- পরমাণু ও সাম্প্রদায়িক বোম
- বেদখল হয়েছে স্বদেশ কিংবা আঁখিও সে গোল্লি মারে নাচ
- মাওবাদ ও জনগনের আমরা
- আমরা কী?
- বিপন্ন জনগণের ইতিহাস
- মানব সম্পদের স্বপদে দাঁড়ানো
- দল ও পরাধীনতার ধারাবাহিকতা
- আমরা গণশত্রু পেয়ে গেছি
- পুরুষালী নেতা ও ভাতার
- চা, ইলেকশন এবং ইতিহাস
- সমকালীন বাংলা কবিতার ভিন্নস্বর: কবি সরকার আজিজের কাব্যভুবন ও জীবনজিজ্ঞাসা
- হাজার এক রজনীর চর্বি পোড়া গন্ধে বারুদের অর্কেস্ট্রা
- সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩
- বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা
- নীল শঙ্খচূড়ের চুমু
- হাঁড়ি চাটা পেটে নড়ে লিমুজিনের পথ
- বিঘোষিত মুক্তাঞ্চলের সীমানায় এক বিমর্ষ গেরিলা
- মহাকালের মটরদানায় দেশভাগের মানচিত্র
- ৫৬,০০০ বর্গমাইল
- পরাজিত শ্রমিক
- স্বদেশ শ্মশান
- সমাজতন্ত্র আকাশ থেকে পড়ে না
- আমাদের আশাগুলোর বয়স বাড়ে না
- একটি নাটাবটের একটি তিতির হবে একটি সেতু
- ভিখারিনী থেকে জ্যান্ত পুঁজির দানব, কলকাতা
- হাজার বছর পরে মুক্তির উৎসব
- যৌথতার গান
- জীবনের নব সূর্যস্নান
- আমাদের অম্লান চেতনা
- আমার হৃদয় কোনো দেয়াল মানে না
- পিতৃভূমি, তোমার হৃদয়ে আলো জ্বেলে আমাদের ক্রমমুক্তি হবে
- তুমি আসবেই আমার শ্রেণিহীন রক্তে
- আমরা সেদিন, বহুদিন তারপর কিছুদিন জীবনের গল্প বলেছি
- প্রশ্নের পিরামিড
- জরুরি নির্দেশ: তিন
- পাথরের মতো সত্য চোখ
- জরুরি নির্দেশ: দুই
- মানুষের ইতিহাস রচিত হবে একদিন
- আলোকের দিন শুরু হলে মানুষের গল্প লেখা হবে
- এক চিলতে চিহ্নের মাঝে উজ্জ্বল বিন্দু
- খালামনি — মো. আজিমুল হক
- হাসান ফকরীর ছয়টি কবিতা
- মমতাময়ী বটবৃক্ষের মতো নানী
- ভাগের মা
২২ আগস্ট ২০০৭
গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚