ওগো সুন্দর, মনের গহনে তোমার মূরতিখানি

ওগো সুন্দর, মনের গহনে তোমার মূরতিখানি গানটি সজনীকান্ত দাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় গান। ১৯৩৭-৩৮ সালে প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মুক্তি’-তে এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। গানটির সুরকার ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল। গানটির সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণটি গেয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী কানন দেবী। পঙ্কজ কুমার মল্লিকও গানটির সাথে যুক্ত ছিলেন।

রচনার প্রেক্ষাপট ও সময়কাল

সজনীকান্ত দাসের ‘ওগো সুন্দর, মনের গহনে তোমার মূরতিখানি’ গানটি ১৯৩৭-৩৮ সালে প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘মুক্তি’-র জন্য রচিত হয়েছিল। এই সিনেমার অধিকাংশ গানই ছিল রবীন্দ্রসংগীত, যা কানন দেবী ও পঙ্কজ কুমার মল্লিকের কণ্ঠে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায়। সেই রবীন্দ্র-আবেশের আবহেই সজনীকান্ত দাস এই গানটি রচনা করেন এবং রাইচাঁদ বড়াল এর সুরারোপ করেন। গানটির শব্দচয়ন ও ভাব এতটাই গভীর ও রবীন্দ্রসংগীতের কাছাকাছি ছিল যে, সেই সময় অনেক শ্রোতাই ভুলবশত এটিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা বলে মনে করেছিলেন। মূলত চলচ্চিত্রের পটভূমি ও নায়িকা কানন দেবী চরিত্রের আবেগকে ফুটিয়ে তুলতেই এই উচ্চমার্গের কাব্যিক গানটি সৃষ্টি করা হয়েছিল।

ওগো সুন্দর গানটির ধরন

ওগো সুন্দর, মনের গহনে তোমার মূরতিখানি গানটি একটি ধ্রুপদী অঙ্গের মেলোডিয়াস গান, যা কাব্যিক গভীরতা ও আধ্যাত্মিক ভাবের জন্য পরিচিত। গানটিতে প্রিয়তমার হৃদয়ের গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও হৃদয়ের অন্তরালে থাকা প্রতিচ্ছবিকে কবি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।

গানের কথা

ওগো সুন্দর,
মনের গহনে তোমার মূরতিখানি
ভেঙে ভেঙে যায়, মুছে যায় বারে বারে।
বাহির-বিশ্বে তাইতো তোমারে টানি।।

ঐ যে হোথায় আকাশের নীলে
বনের সবুজ এক হয়ে মিলে,
ওই যে হোথায় বালুকা-বেলায়
ঢেউ করে কানাকানি।।

তোমার আসন পাতিব পথের ধারে,
তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে,
আঁধারে আলোতে যুগ যুগ ধরি প্রিয়
বিরহে মিলনে চিরদিন জানাজানি।।

আরো পড়ুন

সনজীদা খাতুনের কণ্ঠে গানটি শুনুন ইউটিউব থেকে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো।

Leave a Comment