ভবিষ্যবাদ বা ফিউচারিজম ছিল একটি শৈল্পিক ও সামাজিক আন্দোলন

ভবিষ্যবাদ বা ভবিষ্যৎবাদ বা ফিউচারিজম (ইতালীয়: Futurismo) ছিল একটি শৈল্পিক ও সামাজিক আন্দোলন যা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ইতালিতে বৃহদাকারে এবং অন্যান্য দেশে কিছুটা কম পরিমাণে উদ্ভূত হয়েছিল। এটি গতিশীলতা, গতি, প্রযুক্তি, যৌবন, সহিংসতা এবং গাড়ি, বিমান এবং শিল্প নগরীর মতো বস্তুর উপর জোর দিয়েছিল।[১] এর প্রধান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন ইতালীয় শিল্পী ফিলিপ্পো টমাসো মেরিনেত্তি, উম্বের্তো বোকিওনি, কার্লো ক্যারা, ফরচুনাতো ডেপেরো, জিনো সেভেরিনি, গিয়াকোমো বাল্লা এবং লুইজি রুসোলো। ইতালীয় ভবিষ্যবাদ আধুনিকতাকে মহিমান্বিত করেছিল এবং তার মতবাদ অনুসারে, “ইতালিকে তার অতীতের বোঝা থেকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে পরিচালিত ছিল।”

গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যবাদী রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে মেরিনেত্তির ১৯০৯ সালের ভবিষ্যবাদের প্রতিষ্ঠা ও ইশতেহার,[২] বোকিওনির ১৯১৩ সালের ভাস্কর্য “মহাকাশে অনন্য রূপের ধারাবাহিকতা”, বাল্লার ১৯১৩-১৯১৪ সালের চিত্রকর্ম “অ্যাবস্ট্রাক্ট স্পিড + সাউন্ড” এবং রুসোলোর “দ্য আর্ট অফ নয়েজেস” (১৯১৩)।

ভবিষ্যবাদ এমন একটি বৈচিত্র্যময় আধুনিক আন্দোলন, যাকে ‘অগ্রযাত্রী’ (ইংরেজি: Avant garde) বা শিল্প-সাহিত্যের অগ্রযাত্রার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আন্দোলনের গতিপথকে প্রধানত দুটি ভিন্ন আদর্শিক ধারায় ভাগ করা যায়। একদিকে যেমন এতে রুশ বিপ্লবের প্রগাঢ় প্রভাব ও বিপ্লবী চেতনা পরিলক্ষিত হয়, অন্যদিকে তেমনই ইতালীয় ফ্যাসিবাদের প্রভাবও সুস্পষ্ট।

ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি রুশ বিপ্লবের অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে আসা এক বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর, যিনি এই ধারার সার্থক রূপকার। অন্যদিকে, ফিলিপ্পো তোমাসো মারিনেত্তি ছিলেন ফ্যাসিবাদের একনিষ্ঠ অনুরাগী, যার হাত ধরে ফিউচারিজমের রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থী দিকটি প্রকাশিত হয়েছিল।

‘অগ্রযাত্রী’ বা আঁভ গার্দ আধুনিকতার মূল ভিত্তি মূলত বুর্জোয়া ভিন্নমতাবলম্বী চিন্তাধারায় প্রোথিত। তবে ফিউচারিজম বা ভবিষ্যবাদ যেভাবে বুর্জোয়া নৈরাজ্যবাদ এবং বৈপ্লবিক অনুপ্রেরণা—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতে প্রবাহিত হয়েছে, তা একই আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্যিই এক বিস্ময়কর প্রশ্ন। এই জটিলতা কেবল আদর্শিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার গতি আর পুঁজির দ্রুত সঞ্চালন। ঠিক এই বিন্দুতেই আইজেনস্টাইনের ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত জাহাজের কলকব্জার ঘূর্ণন, মায়াকোভস্কির তপ্ত বৈপ্লবিক উত্তেজনা এবং মারিনেত্তির গতির আরাধনা (speed image) একাকার হয়ে মিশে যায়।[৩]

ইতালীয় ভবিষ্যবাদ

১৯০৯ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ইতালীয় কবি ফিলিপ্পো টমাসো মারিনেত্তি (১৮৭৬-১৯৪৪) শিল্প ও সাহিত্যে ‘যন্ত্রনির্ভরতা’র এক আমূল নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। তাঁর বিখ্যাত ইশতেহার ‘ভবিষ্যবাদের প্রতিষ্ঠা ও ইশতেহারে’-এ তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, যন্ত্রই হবে আধুনিক মানুষের আরাধনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি যন্ত্রকে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে তার জয়গান গাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ইশতেহারের ৫ নম্বর পয়েন্টটি ছিল

আমরা সেই চাকার চালককে স্তুতি করতে চাই, যিনি তার আত্মার বর্শা পৃথিবীর কক্ষপথের বৃত্ত বরাবর ছুঁড়ে মারেন।

শিল্পবোধের প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়ে মারিনেত্তি দাবি করেন—একটি দ্রুতগামী মোটর গাড়ি তথাকথিত কোনো ধ্রুপদী সুন্দর ভাস্কর্যের চেয়েও অনেক বেশি নান্দনিক ও শ্রেষ্ঠ। তাঁর ইশতেহারের ৪ নম্বর পয়েন্টটি ছিল

আমরা সত্যাপন করছি যে বিশ্বের মহিমা একটি নতুন সৌন্দর্য দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে: গতির সৌন্দর্য। একটি দৌড়ানো গাড়ি যার টোপরটি বিস্ফোরক নিঃশ্বাসের সাপের মতো দুর্দান্ত পাইপ দিয়ে সজ্জিত — আঙ্গুর-গোলার[৪] উপর চলমান গর্জনকারী গাড়িটিকে মনে হয় সামোথ্রেসের বিজয়ের[৫] চেয়েও সুন্দর।

১৯১১ সালে মারিনেত্তি ইতালির পাঁচজন তরুণ শিল্পীকে নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এই শিল্পীরা তাঁদের ইশতেহারে নিজেদের ‘বিপ্লবী’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রথাগত শিল্পবোধের মূলে আঘাত হানেন। তাঁদের মূল দর্শন ছিল—‘আমরা গতির শিল্পী; গতিকেই আমরা শিল্পের অবয়বে মূর্ত করতে চাই। চিত্রকলা আর ইন্দ্রিয়ানুভূতি একে অপরের পরিপূরক। কোনো বস্তুর কেবল একটি স্থির খণ্ডচিত্র আঁকাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই বস্তুর অন্তর্নিহিত যে গতিবেগ, তাকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য।’ কবি মারিনেত্তির প্রবর্তিত এই ধারাটি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই স্বল্পস্থায়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অতীতের শিল্পরীতির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার অনিবার্য প্রভাবের এক সচেতন স্বীকৃতি ফুটে উঠেছিল।

মারিনেত্তির অনুপ্রেরণা ছিল ইতালীয় ফ্যাসিবাদ। ‘ভবিষ্যবাদের প্রতিষ্ঠা ও ইশতেহারে’-এর তিন নম্বর পয়েন্টে তিনি বলেছেন,

এখন পর্যন্ত সাহিত্য চিন্তাশীল অস্থিরতা, পরমানন্দ এবং ঘুমকে উত্থাপন করেছে। আমরা আক্রমণাত্মক কর্ম, জ্বরপূর্ণ অনিদ্রা, দৌড়বিদদের পদক্ষেপ, মরণশীল লাফ, ঘুষি এবং চড়কে উত্থাপন করার ইচ্ছা পোষণ করি।

রুশ ভবিষ্যবাদ

রুশ ভবিষ্যবাদ বা ফিউচারিজম ছিল মূলত সাহিত্য ও দৃশ্যকলার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী আন্দোলন। কবি ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি ছিলেন এই ধারার এক অগ্রগণ্য ও অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। মায়াকোভস্কির কাব্যযাত্রার দিকে তাকালে এক নিরন্তর বিবর্তন আমাদের চোখে পড়ে। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘আ ক্লাউড ইন ট্রাউজার্স’ (১৯১৫) একটি নিখুঁত ফিউচারিস্ট কবিতা হিসেবে রুশ সাহিত্যে আধুনিকতার এক বৈপ্লবিক অনুপ্রবেশ ঘটায়। প্রচলিত ও ক্ল্যাসিক কাব্যরীতির গণ্ডি ভেঙে মায়াকোভস্কি এই কবিতায় বিস্ময়করভাবে যুক্তিনির্ভরতার ঊর্ধ্বে গিয়ে নতুন শব্দ ও বিমূর্ত চিত্রকল্প ব্যবহার করেন। তাঁর এই শৈল্পিক নিরীক্ষার সঙ্গে সমকালীন ‘দাদাবাদ’ এবং ‘ফরমালিস্ট’ বা রূপবাদীদের এক গভীর যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ভেলিমির ক্লেবনিকভের ‘ইনক্যান্টেশন টু লাফটার’ (Incantation to Laughter) কবিতাটির উল্লেখ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই কবিতায় কবি রুশ শব্দ ‘স্মেখ’ (হাসি)-কে নিয়ে এমন এক ভাষাতাত্ত্বিক ক্রীড়ায় মেতেছেন, যা একদিকে যেমন ভাষার ইতিহাসের ওপর তাঁর অসামান্য দখলকে প্রমাণ করে, অন্যদিকে প্রথাগত কাব্যরীতিকে আঘাত করার এক নতুন কৌশলও উন্মোচিত করে। অন্যদিকে, ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি যখন ‘মিস্ট্রি বাফো’ (১৯১৮) রচনা করেন, তখন রুশ রাজনীতিকরা আধুনিকতাকে বর্জন করলেও তিনি এই কাব্যনাটকের মাধ্যমেই বিপ্লবকে শিল্পে আবাহন জানান। তবে তাঁর পরবর্তী কাজ ‘দ্য বেডবাগ’ (১৯২৯)-এ দেখা যায় এক ভিন্ন সুর; এখানে তিনি আগামীর সম্ভাব্য নতুন বিশ্বব্যবস্থাকে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে ব্যবচ্ছেদ করেছেন।

ভবিষ্যবাদের সমালোচনা

ভবিষ্যবাদ আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী আন্দোলন হলেও এর কিছু মৌলিক সীমাবদ্ধতা অনস্বীকার্য। এই ধারার প্রধান ত্রুটি হলো যন্ত্রকে নিরঙ্কুশ ‘আরাধ্যা’ হিসেবে গ্রহণ করা, যেখানে যন্ত্রের প্রকৃত কারিগর যে শ্রমজীবী মানুষ, তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। বরং দেখা যায়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা শ্রমিক শ্রেণিকে শোষণ ও শৃঙ্খলিত করে রাখে, ভবিষ্যবাদীদের দর্শনে সেই যান্ত্রিক শক্তিরই জয়গান গাওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের মানবেতর জীবন এবং যন্ত্রের চাপে তাঁদের পিষ্ট হওয়ার রূঢ় বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে এই আন্দোলন মূলত পুঁজিবাদের সহায়ক এক যান্ত্রিক শক্তিবাদকেই প্রশ্রয় দিয়েছে।[৬]

মার্কসবাদী শিল্প সমালোচকদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যবাদের সীমাবদ্ধতাগুলো মূলত দুটি প্রধান প্রেক্ষাপটে বিচার করা হয়। প্রথমত, ভবিষ্যবাদ যন্ত্রের গতি ও যান্ত্রিক শক্তিকে আরাধনার কেন্দ্রে স্থাপন করলেও সেই যন্ত্রের প্রকৃত প্রাণশক্তি অর্থাৎ শ্রমজীবী মানুষের অবদানকে অস্বীকার করেছে। মার্কসবাদী তাত্ত্বিকদের মতে, এই আন্দোলন যন্ত্রকে তার সামাজিক ও উৎপাদনশীল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল একটি ‘শৌখিন শক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ফলে, যন্ত্র যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের শোষণের হাতিয়ার এবং তাদের বিচ্ছিন্নতার (Alienation) কারণ—সেই রূঢ় বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে ফিউচারিজম প্রকারান্তরে বুর্জোয়া যান্ত্রিক শক্তিবাদেরই তোষণ করেছে।

দ্বিতীয়ত, মার্কসবাদী সমালোচকরা মনে করেন ভবিষ্যবাদ ‘রাজনীতিকে নান্দনিক রূপ’ (Aestheticization of Politics) দেওয়ার মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে শিল্পের মর্যাদা দিয়েছে। বিশেষ করে ইতালীয় ভবিষ্যবাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা শ্রেণি সংগ্রামের পরিবর্তে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদকে বেছে নিয়েছিল। ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের মতো সমালোচকরা দেখিয়েছেন যে, ভবিষ্যবাদ যেভাবে গতির মোহে পড়ে মানুষের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে যান্ত্রিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় করে দেখিয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের মুক্তির পরিবর্তে শোষক শ্রেণির আধিপত্যকেই শক্তিশালী করেছে। এমনকি রুশ ভবিষ্যবাদের ক্ষেত্রেও ট্রটস্কির মতো নেতারা মনে করতেন যে, এটি প্রথা ভাঙার বৈপ্লবিক সাহস দেখালেও এর মূল ভিত্তি ছিল বুর্জোয়া নৈরাজ্যবাদ।

রেমন্ড উইলিয়ামস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য পলিটিক্স অফ মডার্নিজম’-এ উল্লেখ করেছেন যে, ফিউচারিস্টদের ওপর অগাস্ট স্ট্রিন্ডবার্গ এবং ফ্রিডরিখ নিৎসের গভীর প্রভাব ছিল। তাঁর মতে, ফিউচারিজম কেবল একটি বিমূর্ত শিল্প আন্দোলন নয়, বরং এর সঙ্গে সমাজচেতনা, রাজনীতি এবং ইতিহাসবোধ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। উইলিয়ামস আরও বিশ্লেষণ করেছেন যে, ভেলিমির ক্লেবনিকভের কাব্যশৈলীর মধ্যে এক ধরণের ‘এক্সপ্রেশনিস্ট অযৌক্তিকতা’ (Expressionist Irrationalism) বিদ্যমান, যা প্রচলিত যুক্তি ও ভাষার কাঠামোকে ভেঙে নতুন এক নান্দনিকতার জন্ম দেয়।[৭]

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র ও টিকা

১. অনুপ সাদি, ২৩ মে ২০১৯; রোদ্দুরে.কম, ঢাকা; “ভবিষ্যবাদ বিশ শতকের প্রথম দিকে ইতালিতে উত্থিত একটি শিল্প ও সামাজিক আন্দোলন”; ইউআরএল: https://www.roddure.com/encyclopedia/literary-glossary/on-futurism/
২. ১৯০৯ সালে ইতালীয় কবি ফিলিপ্পো টমাসো মারিনেত্তি তাঁর বিখ্যাত ‘ম্যানিফেস্টো অব ফিউচারিজম’ বা ভবিষ্যবাদের ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে এই বৈপ্লবিক আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এই ইশতেহারে তিনি অতীতের শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার গতি, প্রযুক্তি, এবং যান্ত্রিক শ্রেষ্ঠত্বকে শিল্পের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেন।
৩. অরূপ রুদ্র, বুদ্ধিজীবীর নোটবই, সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত, “ফিউচারিজম” নবযুগ প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০১০, পৃষ্ঠা ৪৩৮-৪৩৯।
৪. আঙ্গুরগোলা বা গ্রেপশট হলো এক ধরণের ঐতিহাসিক কামানের গোলা যা ক্যানভাস ব্যাগ বা ধাতব ফ্রেমের ভেতরে ঠাসা অনেকগুলো ছোট লোহার বলের সমন্বয়ে গঠিত এবং দেখতে অনেকটা আঙুরের থোকার মতো। কামান থেকে ছোড়ার পর ব্যাগটি ফেটে গিয়ে বলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে একটি বিশাল শটগানের মতো কাজ করে, যা নিকটবর্তী শত্রুসৈন্যের ওপর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে স্থলযুদ্ধে পদাতিক বাহিনীকে প্রতিহত করতে এবং নৌযুদ্ধে জাহাজের মাস্তুল ও পাল ধ্বংস করার কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
৫. উইংড ভিক্টরি অফ সামোথ্রেস বা নাইকি অফ সামোথ্রেস হলো হেলেনিস্টিক যুগের গ্রিক ভাস্কর্যের এক অনবদ্য নিদর্শন, যা খ্রিস্টপূর্ব ১৯০ অব্দের দিকে কোনো এক নৌ-যুদ্ধে বিজয় উদযাপনের জন্য নির্মিত হয়েছিল। ১৮৬৩ সালে গ্রিসের সামোথ্রেস দ্বীপে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক চার্লস চ্যাম্পোইসৌ এটি আবিষ্কার করেন। সাদা মার্বেল পাথরে খোদাই করা এই মূর্তিতে গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’-কে একটি জাহাজের সম্মুখভাগে অবতরণরত অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যার বিশাল ডানা এবং বাতাসের ঝাপটায় শরীরে লেপ্টে থাকা সূক্ষ্ম পোশাকের কাজ অত্যন্ত নিপুণ ও গতিশীল। যদিও কালক্রমে মূর্তিটির মাথা ও হাত হারিয়ে গেছে, তবুও এর শৈল্পিক মহিমা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। বর্তমানে এটি ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত লুভর মিউজিয়ামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
৬. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৭৯।
৭. লেখায় ব্যবহৃত মূল চিত্রকর্মটির নাম ‘দ্য সিটি রাইজেস’ (The City Rises), যা ১৯১০ সালে ইতালীয় ভবিষ্যবাদী শিল্পী উম্বের্তো বোচ্চোনি অঙ্কন করেছিলেন।

Leave a Comment