স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে বইটি লেখা হয়েছে মূলত শ্রমিক-কৃষক-মেহনতিদের জীবনচিত্র ও সংগ্রাম নিয়ে। কোনো বই হাতে নেয়ার পরই প্রথমে আমি প্রকাশকের কথাটা পড়ি। দোলন প্রভা রচিত স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে বইটিতে প্রকাশক খুব সামান্য কথায় যা লিখেছেন, তা কাব্যগ্রন্থটা শেষ করার পর বুঝতে পেরেছি। ঠিক তার পরই কবির কথা মনে পড়ে যায়। আমার কাছে কবিতা বরাবরই একটি প্রিয় বিষয়, কিন্তু কবিতা জন্মায় কবির মনের অন্তরাল থেকে। তার জন্যই চেনা উচিত কবির পরেই তাঁর কবিতা। তবে এটাও ঠিক যে, শুধু কবির জীবনী পড়েই কবির চিন্তাকে বুঝা বা মূল্যায়ন করা যায় না।
কবি দোলন প্রভা ভূমিকার প্রথমেই উল্লেখ করেছেন যে, স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে বইটিতে যে কবিতাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে তা ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে লেখা। যে সময়টাতে কৃষক শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলো। ফলস্বরূপ, তাদের জীবনের পরিবর্তন ছিলো ঠুনকো। যুগ যুগ ধরে যে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি প্রতিবাদের আওয়াজ তুলে। কিন্তু রাজনীতির সাথে সাথে প্রতিনিয়ত চাপা পড়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন, সেখানে কবির কবিতা হতে পারে নিরব প্রতিবাদ। কৃষক-শ্রমিকের প্রতিবাদগুলো যখন মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছে অনবরত, তখন কবি তার কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র ভেবেই লিখেছিলেন।
বইটির রচয়িতা দোলন প্রভা যিনি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে বি.এ অনার্স সহ এম.এ সম্পন্ন করেন। বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী থাকাকালীন অবস্থায় তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে।
রাজনৈতিক স্থবিরতায় যেখানে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে সেখানে কবি “নাগমতির সুর”-এর মাধ্যমে আশার বিন্দু দেখেন। যে অন্ধকার গ্রহে চলে শ্রমিক কৃষকদের জীবন সংগ্রামের খরা সেখানে “নাগমতির সুর” কবিতায় কবির প্রকাশ এভাবে দেখি – “আলিঙ্গনে খন্ড খন্ড ছায়া জড়িয়ে ধরে রূপালী নদীর জল,/ নাগমতির সুরের পাখিরা মৃত নগরীর ঝড় ঝঞ্চায়/ করুণ কাহিনী নিয়ে বেঁচে থাকে”।
সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। গ্রাম হয়ে যায় শহর, তেমনি যুগের সাথে হারিয়ে গেছে কবির সহজ সরল এক কালের গরিব ভূমি। কবির বুকে এখন শুধুই স্মৃতি। “স্মৃতিচারণ” কবিতায় কবি প্রকাশ করেছেন- “রেলের ধুসর পাথরের পাশ ঘেঁষে নীরবে ঘুমিয়ে আছে/ আমার পরিচিত এক কালের গরিব ভূমি।”
“অপরাজিতা” কবিতায় কবি লিখেছেন – “আমার পুরনো মন হারিয়ে যায় চাঁদের সুরে সুরে পাহাড়ের নীলে।” যেখানে প্রকাশ করেছেন কবি পুরনোর সাথে আবদ্ধ না থেকে নতুনের পূবাল হাওয়ায় শিহরিত হয়ে উঠছেন।
দোলন প্রভা সম্পর্কে শুনুন
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্তকে পানি করা শ্রমিকদের হাতেই তৈরি হচ্ছে সভ্যতা। অথচ তাদের জীবনই খুব তুচ্ছ। আর সে কথাই “সভ্যতা ” কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবে- “সভ্যতার এ-পর্বে জীবনকে মাপা হয়/ বাজারের সবজি আর পরিত্যক্ত কৌটার মতো/ শ্রমিকের ঘাম পড়ে থাকে/ উচ্ছিষ্ট আবর্জনার মতো। “
রানা প্লাজা ধ্বসে মৃত শ্রমিকগণকে নিবেদিত কবিতা “নীরবতা “। যে কবিতার মাধ্যমে কবি নীরবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কবি কবিতায় প্রকাশ করেছেন ” এক প্রতিবাদের ছায়া জেগে ওঠে আমার পাশে।”
ছাপ্পান্নটি কবিতার সমন্বয়ে রচিত স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে বইটি। যে বইয়ের প্রচ্ছদটি ভ্যান গগের চিত্র অবলম্বনে মো. আবদুল ওদুদ এঁকেছেন। এই বইয়ের প্রত্যেকটি কবিতা শ্রমিকের কথা বলে, কৃষকের কথা বলে, প্রকৃতির কথা বলে,সমাজ বদলাবার কথা বলে, প্রতিবাদের কথা বলে। এ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই ভিন্ন রকম। বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টিও বলা যায় দোলন প্রভা রচিত স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে বইটিকে।
আরো পড়ুন
- নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ এবং নারী : প্রতিরোধ, সত্য ও ভাঙচুরের পাঠ
- নেত্রকোনার ইতিহাসে কয়েকটি প্রসঙ্গ গ্রন্থের সম্পাদকের কথা
- শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ-এর একটি মূল্যায়ন
- সিমন দ্য বোভেয়া: ব্রিজিত বার্দো এবং ললিতা সিনড্রোম ও অন্ধ হয়ে আসা চোখ গ্রন্থের আলোচনা
- স্পার্টাকাস আমেরিকান লেখক হাওয়ার্ড ফাস্টের ১৯৫১ সালের উপন্যাস
- লু স্যুনের ছোটগল্প-এর চরিত্রগুলো সামন্তবাদের বিরুদ্ধে লড়ায় করেছে
- ‘অতপর একটি পোর্ট্রেট’ গল্পগ্রন্থে মধ্যবিত্ত নারীর জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে
- বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বই দুই বাংলার লেখকদের বিভিন্ন রচনার সংকলন
- অনুপ সাদি রচিত মার্কসবাদ বইয়ের ভূমিকা
- অনুপ সাদির কবিতা তুলে এনেছে শ্রমঘনিষ্ঠ রাজনীতির স্বপ্নকাহন
- কবি অনুপ সাদি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সমাজের মূর্ত ছবি আঁকেন
- তানিয়া ছিলেন রাশিয়ান সাম্যবাদী লীগের একজন তরুন বিপ্লবী
- ‘অতপর একটি পোর্ট্রেট’ গল্পগ্রন্থটি পাঠককে ঘোরের জগতে নিয়ে যাবে
- বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা হচ্ছে অনুপ সাদি সম্পাদিত গণতন্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ
- অনুপ সাদি গ্রন্থাবলী বা অনুপ সাদি রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ হচ্ছে বারোটি বই
- প্লেটোর রচনাবলী বা প্রকাশনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব হচ্ছে ১৯১৭ সালে লেনিন লিখিত বই যাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা আলোচিত
- বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ-বিচারবাদ বা বস্তুবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদী সমালোচনা বই সম্পর্কে
- ‘আকালি বাড়ি যায়’ পূরবী সম্মানিত’র গল্পগ্রন্থের আলোচনা
- আবুল কাসেম ফজলুল হকের গ্রন্থপঞ্জি হচ্ছে এই দার্শনিক রচিত গ্রন্থসমূহ
- সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় লেনিন রচিত পুঁজিবাদের বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ
- কী করতে হবে হচ্ছে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন রচিত সাম্যবাদী রাজনৈতিক গ্রন্থ
- স্যামসন অ্যাগনিসটিজ জন মিল্টনের লেখা একটি ট্রাজেডি নাটক
- এ্যান্টি-ডুরিং হচ্ছে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস রচিত একখানি গ্রন্থের প্রচলিত নাম
- গোথা কর্মসূচির সমালোচনা হচ্ছে কার্ল মার্কসের প্রস্তুত করা একটি দলিল
- শিবদাস ঘোষ, জাসদ বাসদ রাজনীতি ও ভাঙন প্রসঙ্গ গ্রন্থের মূল্যায়ন
- লেনিনের বই রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা
- মাও সেতুঙের শেষ জীবনের উদ্ধৃতি গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে প্রকাশকের ভূমিকা
- মাও সেতুঙের শেষ জীবনের উদ্ধৃতি গ্রন্থের একটি পর্যালোচনা বা ভূমিকা
- পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি গ্রন্থ প্রসঙ্গে আলোচনা
- চার্বাক সুমনের ব্যঙ্গ উপন্যাস ‘সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি’র একটি পর্যালোচনা
- কামন্দকীয় নীতিসার একটি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ যা রাষ্ট্রশাসন ব্যবস্থা বর্ণনা করে
- গ্রন্থাগার তুলে ধরে মানব সমাজের হাজার বছরের চিন্তা ও অনুশীলনের মহাকল্লোল
- মার্কসবাদ নামের বই লেখা হয়েছে বিপ্লবী বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরতে
- কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র হচ্ছে হিন্দু রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে রচিত একটি প্রাচীন গ্রন্থ
- মেকিয়াভেলি রচনাবলী হচ্ছে তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি গ্রন্থ
- কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার মার্কস ও এঙ্গেলস রচিত মুক্তির নির্দেশনা
- আইন-ই-আকবরী হচ্ছে আবুল ফজল রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ
বইয়ের নাম- স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে
ধরন-কবিতা
প্রকাশনা-মনন পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশ – সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রচ্ছদ – ভ্যান গগ-এর চিত্র অবলম্বে মো. আবদুল ওদুদ
পৃষ্ঠা – ৬৪
মূল্য- ২০০ টাকা

লেখক অনাবিলা অনা ২০০১ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার বড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা গীতাঞ্জলি সরকার এবং পিতা রঞ্জন কান্তি সরকার। শৈশব থেকেই সৃজনশীলতার প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে সাহিত্য ও শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন ১৩ নং বড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে বারহাট্টা সিকেপি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজে ২০১৯ সালে এইচএসসি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করে বর্তমানে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই তার লেখালেখি শুরু; কবিতার পাশাপাশি বই পর্যালোচনা ও ভাবনাধর্মী লেখা এখন তার প্রধান কার্যক্রম। ছবি আঁকা ও ‘Ana’Tivity’ ইউটিউব চ্যানেলে দ্বিমাত্রিক অ্যানিমেশন নির্মাণ তার সৃজনজগতের অংশ।