এ্যান্টি-ডুরিং হচ্ছে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস রচিত একখানি গ্রন্থের প্রচলিত নাম

এ্যান্টি-ডুরিং বা অ্যান্টি-ডুরিং হচ্ছে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস রচিত একখানি গ্রন্থের প্রচলিত নাম। আসলে এঙ্গেলসের গ্রন্থখানির মূল নাম হচ্ছে ‘হর ইউজেন ডুরিংকৃত বিজ্ঞানে বিপ্লব’ বা ইংরেজিতে Herr Eugen Dühring’s Revolution in Science. নামটির মধ্যে একটি ব্যঙ্গাত্মক সুর আছে। কারণ ইউজেন ডুরিং নামক সমকালীন এক লেখক মাকর্সবাদের ভূল ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন। তাঁর সেই ভূল ব্যাখ্যার সমালোচনা হিসাবে এঙ্গেলস ১৮৭৬ সালের মে মাস থেকে ধারাবহিক প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন যেগুলো শেষ হয় ১৮৭৮ সালের জুলাই মাসে। এই সমস্ত সমালোচনামূলক প্রবন্ধের সংকলন উল্লিখিত নামে ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।[১]

এ্যান্টি-ডুরিং-এর মধ্যে এঙ্গেলস মাকর্সবাদের তিনটি মুল দিকের ব্যাখ্যা উপস্থিত করেন ১. দ্বন্দ্বমূলক এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদ; ২. রাষ্ট্রনীতিক অর্থনীতি; ৩. বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদের তত্ত্ব। গ্রন্থের তিনটি ভাগে এই মূল বিষয়গুলির আলোচনা করা হয়। প্রথমভাগে এঙ্গেলস দ্বন্দ্বমূলক এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদের ব্যাখ্যা পেশ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি দর্শনের মূল প্রশ্ন কি, বস্তুজগতের মূল বিধান, জ্ঞানের সমস্যা, স্থানকালের বস্তবাদী ব্যাখ্যা এবং বস্তুর গতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আলোচনায় এঙ্গেলস বিবর্তনের ডারউইনীয় তত্ত্ব, বিকাশে জৈবকোষের ভূমিকা, কাণ্টের বিশ্বতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ের উপর তাঁর অভিমত প্রকাশ করেন। এই অংশে এঙ্গেলস সামাজিক নীতি, সাম্য এবং ব্যক্তির কার্যে স্বাধীনতা এবং অনিবার্যতার প্রশ্নও আলোচনা করেন।

গ্রন্থের দ্বিতীয়ভাগে এঙ্গেলস রাষ্ট্রনীতিক অর্থনীতির বিশ্লেষণকালে ডুরিং-এর তত্ত্বের সমালোচনা করেন। দ্রব্যমূল্য, উদ্বৃত্ত মূল্য, পুঁজি, জমির খাজনা প্রভৃতি অর্থনীতিক প্রশ্নে মাকর্সবাদের তত্ত্বগুলি এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেন। সমাজের বিকাশের মূল নিয়ামক কে? ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তি? না মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক? এই প্রশ্নে শক্তির তত্ত্বকে নাকচ করে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নিয়ামক ভূমিকার কথা এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেন এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং অর্থনীতিক শ্রেণির উদ্ভব এবং বিকাশকে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেন।

গ্রন্থের তৃতীয়ভাগে এঙ্গেলস বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রকে ব্যাখ্যা করেন এবং কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্রের সঙ্গে তার পার্থক্য নির্দিষ্ট করে দেন। সমাজতন্ত্রে এবং সাম্যবাদে দ্রব্যের উৎপাদন এবং বন্টন কি রূপ গ্রহণ করবে, পরিবারের কি রূপান্তর ঘটা সম্ভব, শিক্ষা-ব্যবস্থা কীভাবে পুনর্গঠিত হবে, শহর ও গ্রামের মধ্যকার বিরোধ কীভাবে বিলুপ্ত হবে, দৈহিক ও মানসিক পরিশ্রমের পার্থক্য কীভাবে নির্ধারিত হবে-সমাজতান্ত্রিক সমাজের ইত্যাকার সমস্যারও এঙ্গেলস আলোচনা করেন এবং তা সমাধানের সূত্র ব্যাখ্যা করেন।[২]

আরো পড়ুন:  পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি গ্রন্থ প্রসঙ্গে আলোচনা

বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী-অধ্যাপক ডুরিঙের নবোদ্ভাবিত সমাজতান্ত্রিক ‘ব্যবস্থা’ প্রকৃতপক্ষে ছিল যত সব সেকেলে পেটিবুর্জোয়া তত্ত্বের এক জগাখিচুড়ি। কিন্তু ডুরিং গলা ফাটিয়ে ঘোষণা করেন যে তার এ ‘ব্যবস্থা’ দর্শন, অর্থশাস্ত্র আর সমাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে বিপুল এক ওলটপালট সূচিত করবে।

কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস এই নব আবির্ভূত ‘সমাজ সংস্কারক’-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, তখন সমাজতান্ত্রিক পত্রপত্রিকায় ডুরিঙের নামে অনেক প্রশংসাপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে লিবনেখট ‘লন্ডনওয়ালাদের’ অনুরোধ করেন ডুরিঙের বিরুদ্ধে সংগ্রাম তরান্বিত করতে।  

মার্কস তখন পুঁজি নিয়ে ব্যস্ত। তার কাজে ব্যাঘাত না করে এঙ্গেলস নিজেই ‘একঘেয়ে’ ডুরিঙের সমালোচনার প্রধান দায়িত্বভার নিলেন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কসও এঙ্গেলস পরস্পরকে সর্বদাই সাহায্য করতেন। পারস্পরিক সাহায্যের এই রেওয়াজ অনুসারে মার্কস এঙ্গেলসের ডুরিং-বিরোধী সমালোচনামূলক রচনার একটি অংশের দশম অধ্যায়টি লিখে দেন। ওই অংশটি ছিল অর্থশাস্ত্রের বিষয়ে। মুদ্রণের আগে এঙ্গেলস পুরো পাণ্ডুলিপিটি বন্ধুকে পড়ে শোনান। ১৮৭৭ সালের গোড়াতে জার্মান সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির মুখপত্র ‘আগুয়ান’-এ (Vorwarts) প্রকাশিত হতে আরম্ভ করে এঙ্গেলসের এক সিরিজ প্রবন্ধ। তার শ্লেষাত্মক শিরোনামাটি ছিল এরূপ: ‘বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মিঃ ইউজেন ডুরিং সাধিত বিপ্লব’।

এঙ্গেলসের প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো জার্মান সোশ্যাল-ডেমোক্রাসিতে ডুরিঙের ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের উদ্রেক করে। ১৮৭৭ সালের মে মাসে পার্টির গোথা কংগ্রেসে মস ও তাঁর সমমতাবলম্বীরা এঙ্গেলসের প্রবন্ধসমূহ প্রকাশ বন্ধ করার ব্যাপরে একটি প্রস্তাব উপস্থাপিত করেন। তারা বলেন যে এই প্রবন্ধগুলো নাকি ‘আগুয়ান’-এর পাঠকদের কাছে মোটেই চিত্তাকর্ষক নয়।

কংগ্রেস এঙ্গেলসের প্রবন্ধ প্রকাশ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে খোদ সংবাদপত্রে নয়, তার বৈজ্ঞানিক ক্রোড়পত্রে। ১৮৭৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডুরিঙের বিরুদ্ধে এঙ্গেলসের সমালোচনাত্মক প্রবন্ধগুলির মুদ্রণ সমাপ্ত হয়, এবং ওই বছরই তা আলাদা একখানি বই হিসেবেও ছেপে বেরোয়। বইখানি অ্যান্টি ডুরিং নামে সুপরিচিত। 

ডুরিঙের ‘ব্যবস্থা’ যেহেতু মানবজাতির জ্ঞানভান্ডারের বিস্তৃততম ক্ষেত্র স্পর্শ করে, সেই হেতু ডুরিঙের পশ্চাদ্ধাবন করার সময় এঙ্গেলসকে, তার নিজেরই কথায়, সমস্ত ও সর্বধিক বিষয় ব্যাখ্যা করতে হয়: সময় এবং শূন্য দেশ সম্পর্কিত ধারণা থেকে শুরু করে দ্বিধাতুবাদ অবধি; বস্তু এবং গতির নিত্যতা থেকে শুরু করে নৈতিক ভাবধারার অনিত্য প্রাকৃতিক নির্বাচন থেকে আরম্ভ করে ভবিষ্যৎ সমাজে তরুণ সম্প্রদায়ের শিক্ষাদান সমস্যা অবধি। 

আরো পড়ুন:  আধুনিক মানুষের ধারাবাহিক গল্প হচ্ছে শ্রেণি বিভক্ত মানুষের কাব্যচিত্র

এঙ্গেলস লেখেন, ‘নেতিবাচক সমালোচনা এর কল্যাণে পরিণত হয় ইতিবাচক সমালোচনায়, তর্কবিতর্ক কমবেশি পরিণত হয় মার্কস ও আমার দ্বারা সমর্থিত দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে এবং কমিউনিস্ট বিশ্ববীক্ষার সুসংবদ্ধ বিবরণে, যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জ্ঞানভান্ডারের অনেকগুলো ক্ষেত্র।

এই ভাবে, ডুরিঙের বিরুদ্ধে তর্কবিতর্কতে জন্ম লাভ করে স্বকীয় ধরনের এক মার্কসবাদী বিশ্বকোষ, যা নিয়মিতভাবে আলোকসম্পাত করে দর্শন, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, অর্থশাস্ত্র, ইতিহাস ও সমাজতন্ত্রের অসংখ্য প্রশ্নের উপর।

এঙ্গেলসের সমগ্র রচনার মূল ভাবধারাটি হচ্ছে—ভাববাদের কাছে সর্বপ্রকার ত্যাগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বস্তুবাদী বিশ্ববীক্ষাকে রক্ষা করা। হয় শেষ অবধি ধারাবাহিক বস্তুবাদ, নয় দার্শনিক ভাববাদের মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলা, ‘এ্যান্টি-ডুরিং’-এর প্রতিটি অনুচ্ছেদে ঠিক এই কথাটিই বলা হচ্ছে…।

ভাববাদী দর্শন এবং অমার্জিত বস্তুবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এঙ্গেলস প্রকৃতি, সমাজ ও মানব মনন বিকাশের সাধারণ নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান হিসেবে বস্তুবাদী দ্বান্দ্বিকতাই সমর্থন ও বিকশিত করেন।

এ্যান্টি-ডুরিং গ্রন্থে এঙ্গেলস তাত্ত্বিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার অধ্যয়নের প্রথম খতিয়ান টানেন। গণিতশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্র থেকে বহু উদাহরণের ভিত্তিতে এঙ্গেলস প্রমাণ করেন যে প্রকৃতিতে অসংখ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আপন পথ খুঁজে পায় গতির সেই দ্বান্দ্বিক নিয়মগুলোই যা ইতিহাসেও ঘটনাবলির আকস্মিকতার—এবং সে আকস্মিকতা কেবল আপাত দৃষ্টিতেই—উপর প্রাধান্য করে থাকে..।

এ্যান্টি-ডুরিং-এর তিনটি পরিচ্ছেদ—দর্শন’, অর্থশাস্ত্র’ আর সমাজতন্ত্র’-তে পূর্ণাকারে প্রকাশ পায় মার্কসবাদের ভাবাদর্শগত ঐশ্বর্য। অ্যান্টি-ডুরিঙ-এ এঙ্গেলস কেবল মার্কসবাদের পক্ষই সমর্থন করেন নি, প্রলেতারিয়েতের বৈপ্লবিক তত্ত্বের অনেকগুলো নতুন নীতিগত প্রশ্নও বিকশিত করে তোলেন। এবং তা করতে গিয়ে তিনি সাধারণীকৃত করেন প্রলেতারিয়েতের সংগ্রামের নতুন অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিজ্ঞানের, বিশেষত প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সর্বসাম্প্রতিক সাফল্যাদি। 

এঙ্গেলসের এই অনন্যসাধারণ রচনাটি ছিল—এবং আজও তাই আছে— মার্কসবাদ অধ্যয়নের জন্য অতি মূল্যবান এক উৎস, তার শত্রুদের সঙ্গে সংগ্রামে ধারালতম এক অস্ত্র। মার্কসবাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশেষ বৃহৎ ভূমিকা পালন করে এঙ্গেলসের ‘ইউটোপীয় ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ নামক পুস্তিকাটি যা তিনি প্রণয়ন করেন এ্যান্টি-ডুরিং-এর তিনটি পরিচ্ছদের ভিত্তিতে। এই পুস্তিকাটি হচ্ছে বৈজ্ঞানিক কমিউনিজমের তত্ত্বের ক্ষেত্রে বোধগম্য এক ভূমিকা স্বরূপ যাতে বর্ণিত হয়েছে মার্কসবাদের তিনটি উৎস এবং তিনটি অবিচ্ছেদ্য অংশের প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি। পুস্তিকার জার্মান সংস্করণটিতে এঙ্গেলস একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেন যাতে তিনি ঐতিহাসিক বিচার-বিবেচনার ভিত্তিতে প্রমাণ করেন প্রলেতারিয়েত এবং কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে জোট সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা। ‘অ্যান্টি-ডুরিং’ আর ইউটোপীয় ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র রচনায় বিভিন্ন দেশে মার্কসবাদী কর্মী গঠনে বিপুল এক ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন:  মার্কসবাদী দৃষ্টিতে ইতিহাস হচ্ছে সমাজের অবস্থা ও সম্পর্কের বিশ্লেষণী পদ্ধতি

এ্যান্টি-ডুরিং জার্মান সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পেটিবুর্জোয়া সদস্য, অকালপক্ক ছাত্র আর অকালকুষ্মাণ্ড ‘বিজ্ঞানীদের’ উপর দারুণ আঘাত হানে। বড় বড় বুলির আড়ালে আপন অজ্ঞতা লুকিয়ে এরা নিজেদের পার্টির তাত্ত্বিক বলে জাহির করত। এই সমাজতন্ত্রী-মানবপ্রেমিকরা গিওখবের্গ প্রকাশিত ‘ভবিষ্যৎ’ (Zukunft) নামক পত্রিকাটিকে কেন্দ্র করে জোট বাঁধে।

প্রকৃতি এবং সমাজ বিকাশের নিয়ম-বিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে, বিশ্বের বৈপ্লবিক রূপান্তর-বিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে মার্কসবাদের বিকাশে ‘অ্যান্টি-ডুরিং’ এক বিপুল অগ্রগতি সূচিত করে। বস্তুত এ্যান্টি-ডুরিং মাকর্সবাদের একখানি মৌলিক গ্রন্থ। মাকর্সবাদের মূল প্রশ্নসমূহের প্রাঞ্জল আলোচনা গ্রন্থখানিকে জনপ্রিয় চিরায়িত সৃষ্টিতে পরিণত করেছে।

তথ্যসূত্র:

১. অনুপ সাদি, ২৭ মার্চ ২০১৯, “ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের এ্যান্টি-ডুরিং বই প্রসঙ্গে”, রোদ্দুরে ডট কম, ঢাকা, ইউআরএল: https://www.roddure.com/book/on-anti-duhring/
২. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; ৫ম মুদ্রণ জানুয়ারি, ২০১২; পৃষ্ঠা ৬০-৬১।
৩. ইয়েভগেনিয়া স্তেপানভা, এঙ্গেলস, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, সেপ্টেম্বর ২০১২, পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৫।  

Leave a Comment

error: Content is protected !!