‘আকালি বাড়ি যায়’ পূরবী সম্মানিত’র গল্পগ্রন্থের আলোচনা — অনাবিলা অনা

অনাবিলা অনা
লেখিকা

অনাবিলা অনা

“আবু ভালা ফুলের ডালা মায় কয় জ্বালা জ্বালা দুদু কয় বিয়া দিয়ালা, বাপে কয় অত দুরা যাইবো কেলা ভাইয়ে কয় দুরাই ভালা, দুরাই ভালা।” আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত শিশুদের নির্যাতিত হতে দেখা যায়। বঞ্চিত হতে দেখা যায় তাদের অধিকার থেকে। প্রায়ই তাদের খবরের কাগজের শিরোনাম হতে দেখা যায়। প্রায় শিশুদেরই দেখা যায় সরকারের সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়ে নিরক্ষর থেকে যেতে। যাদের মধ্যে ‘পূরবী সম্মানিত’ র লেখা “আকালি বাড়ি যায়” গল্পের আকালি একজন।

আকালি, তার মা ও দুদুকে নিয়ে তাদের সংসার। আকালির মা পঙ্গু। তার দুদু অন্যের বাড়ি খেটে তাদের জন্য খাবার যোগায়। মল্লিক গিন্নি, যার বাড়িতে খাটে আকালির দুদু। হঠাৎ একদিন, মল্লিক গিন্নি তার ছেলে লিটনের বাসায় আকালিকে দিয়ে দেয়ার আবদার করে দুদুর কাছে। মল্লিক গিন্নি জানায় আকালি তার নাতিদের সাথে খেলবে আর পড়াশোনা করবে। আকালির পড়াশোনার কথা ভেবে গিন্নির প্রস্তাবে দুদু রাজি হয়। কিন্তু সেই বাড়িতে গিয়ে আকালির পড়াশোনা আর হয়ে ওঠে না। এক পর্যায়ে গাঁয়ের বাধাহীন মুক্ত জীবন ছেড়ে আকালিকে চলে যেতে হয় এক বন্দি জীবন কারাগারে।

কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাকে হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। একদিন বাড়ির গিন্নির আদালতে আকালির বিচার বসে। বিচারকের হাজারটা প্রশ্নের একটাই উত্তর দিয়েছিলো আকালি,”আমি বাড়িত যাইতে চাই”। আর তখনি শুরু হয় তার শিশুনির্যাতন বা গৃহ-পরিচারিকা নির্যাতনের প্রতীক হয়ে ওঠার টক-শো হয়ে ওঠে টিভি চ্যানেলের শিরোনাম। পুলিশ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন সবকিছু পেরিয়ে চেতন অবচেতন অবস্থায় ‘আকালি বাড়ি যায়’। এই গল্পটিকে আমরা শিশুনির্যাতনের একটি প্রতীকী গল্পও বলতে পারি।

আরো পড়ুন:  স্যামসন অ্যাগনিসটিজ জন মিল্টনের লেখা একটি ট্রাজেডি নাটক

এ বইটিতে লেখক এক ব্যস্ত তরুণীর কথা তুলে ধরেছেন, যার নাম তনুশ্রী তার ‘নিষিক্ত গল্প’ বলেছেন। “জাল” নামক গল্পে উল্লেখ করেছেন ‘কানু’ নামক এক ক্ষেতমজুরের দুর্বিষহ জীবন। “ঘূর্ণিত মিছিল জীবন ” গল্পে লেখিকা তুলে ধরেছেন একজন মেয়ে বা নারীর প্রাত্যহিক জীবনের সংগ্রাম। কিভাবে একজন মেয়ে দোচালা ঘর থেকে একদিন বৃত্তের ঘূর্ণিত মিছিলে মিশে যায়।

“ভাঙন” গল্পে পানু ও সাবির সংসার। যে গল্পটিতে হাওড়পাড়ের মানুষদের জীবনাবস্থা তুলে ধরেছেন লেখক। “আকালি বাড়ি যায়” বইটিতে গ্রামীণ মানুষের জীবনকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পূরবী সম্মানিত।

এই বইটির প্রতিটি গল্পেই রয়েছে একটি মেসেজ বা তথ্য। অথবা এ বইয়ের প্রতিটি গল্পকে আমরা শিক্ষণীয় গল্পও বলতে পারি।আমাদের সমাজে বা বাস্তব জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটছে যেসব কাহিনী সেসব কাহিনীই এই বইয়ে তুলে ধরেছেন লেখিকা। যা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের সমাজে কি ঘটছে।

পূরবী সম্মানিতের বই সম্পর্কে আলোচনা দেখুন

আলোচনা করছেন লেখক অনুপ সাদি

“আকালি বাড়ি যায়” তথা পূরবী সম্মানিত’র এই বইটি কিছুটা মজাদার খাবারের মতো। মজাদার খাবার যেমন একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে হয়, তেমনি এই বইটিও একবার পড়লে বারবার পড়তে ইচ্ছে হয়। লেখিকা পূরবী সম্মানিত, যিনি একজন প্রগতিবাদী। গ্রাম-হাওড়-বাওড় চষে মানুষের জীবনকে উপলব্ধি করাই পূরবী সম্মানিতের সহজাত প্রবৃত্তি। যিনি মার্কসবাদী আদর্শে আদর্শিত।

গল্পকার ‘খনন’ প্রকাশনায় লিখছেন নিয়মিত। “আকালি বাড়ি যায়” বইটিতে গল্প আছে ১১টি। ‘খনন’ প্রকাশনা থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। যার মধ্যে ‘আকালি বাড়ি যায়’ একটি। জানতে হলে, বুঝতে হলে আমাদের অবশ্যই বইটি পড়তে হবে। বইটি পড়ুন। আর পড়ে দেখুন বইটির ‘আকালি’ আদৌ বাড়ি পৌঁছেছে কিনা।

Leave a Comment

error: Content is protected !!