১. শ্রমিক আন্দোলন সক্রিয় করে তুলল প্রলেতারিয়েতকে, তারা এসে দাঁড়াল রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক শ্রমিক পার্টির পতাকাতলে এবং উদারপন্থী বুর্জোয়াদের জাগিয়ে তুলল: ১৮৯৫-১৯০১-১৯০২।
২. শ্রমিক আন্দেলন খোলাখুলি রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ নিল, এবং তাদের সাথে যোগ দিল উদারপন্থী বুর্জোয়া এবং পেটি বুর্জোয়াদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় স্তরগুলি: ১৯০১-১৯০২-১৯০৫।
৩. শ্রমিক আন্দোলন সরাসরি এক বিপ্লবে রূপ নিল। ওদিকে উদারপন্থী বুর্জোয়ারা তখন একটা সাংবিধানিক গণতন্ত্রী পার্টিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং জারতন্ত্রের সাথে সমঝোতা করে বিপ্লবকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বুর্জোয়া এবং পেটি বুর্জোয়াদের রেডিক্যাল অংশগুলি বিপ্লবকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলেতারিয়েতের সাথে একটা মৈত্রীবন্ধনের দিকে ঝুঁকছে: ১৯০৫ (বিশেষত ওই বছরের শেষের দিকটা)।
৪. গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে জয়লাভ করল শ্রমিক আন্দোলন, উদারপন্থীরা নির্বিকারভাবে গড়িমসি করছিল সুযোগের অপেক্ষায় আর কৃষকরা সহায়তা করছিল সক্রিয়ভাবে। এর সঙ্গে প্রজাতন্ত্রবাদী চরমপন্থী বুদ্ধিজীবীদের এবং শহুরে পেটি বুর্জোয়াদের অনুরূপ স্তরগুলিকেও অবশ্যই যোগ করতে হবে। কৃষক অভ্যুত্থান বিজয়ী হলো, চূর্ণ হয়ে গেল ভূস্বামীদের ক্ষমতা। (“প্রলেতারিয়েত ও কৃষকশ্রেণীর বিপ্লবী গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব”)।
৫. উদারপন্থী বুর্জোয়ারা, যারা তৃতীয় পর্যায়ে সুযোগের অপেক্ষায় কাল কাটাচ্ছিল এবং চতুর্থ পর্যায়ে ছিল নির্বিকার, তারা সম্পূর্ণ প্রতিবিপ্লবীতে পরিণত হলো, এবং বিপ্লবের বিজয় প্রলেতারিয়েতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেদের সংগঠিত করে তুলল। কৃষকশ্রেণির মধ্যেকার সমগ্র সচ্ছল অংশ এবং মধ্য-কৃষকদের বেশ একটা বড় অংশও প্রলেতারিয়েত ও তার সমর্থক গ্রামীণ দরিদ্রদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে দেওয়ার জন্য বেশ ‘বিচক্ষণ’ হয়ে উঠল, শান্ত হয়ে গেল এবং যোগ দিল প্রতিবিপ্লবের শিবিরে।
৬. পঞ্চম পর্যায় চলার সময় যে-সম্পর্কগুলি গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তিতে একটা নতুন সংকট ও নতুন সংগ্রাম আত্মপ্রকাশ করল – সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বার্থে তার গণতান্ত্রিক বিজয়সমূহ রক্ষা করার জন্য তখন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে প্রলেতারিয়েত। ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক প্রলেতারিয়েত রুশ প্রলেতারিয়েতকে সাহায্য করতে এগিয়ে না এলে মিত্রহীন রুশ প্রলেতারিয়েতের এই সংগ্রাম ব্যর্থ হতো, ১৮৪৯-১৮৫০ এই কালপর্বে জার্মান বিপ্লবী পার্টি যেভাবে পরাজিত হয়েছিল কিংবা ১৮৭১-এ ফরাসী প্রলেতারিয়েত যেভাবে পরাজিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তাকে অবধারিত পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হলো।
এভাবে এই পর্যায়ে উদারপন্থী বুর্জোয়া এবং সচ্ছল কৃষকরা (অংশত মধ্য-কৃষক শ্রেণিও) প্রতিবিপ্লব সংগঠিত করেছিল। রুশ প্রলেতারিয়েত এবং ইউরোপীয় প্রলেতারিয়েত যুগ্মভাবে সংগঠিত করেছিল বিপ্লবকে।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই রুশ প্রলেতারিয়েত তার দ্বিতীয় বিজয়ও সম্পন্ন করতে পারে। উদ্দেশ্যটা এখন আর নিরাশাব্যঞ্জক নয়। সেই দ্বিতীয় বিজয় হবে ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
“কি করে করতে হয়” – তা ইউরোপের শ্রমিকরাই আমাদের দেখাবে। আর তখন তাদের সাথে একযোগে আমরা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করব।
আরো পড়ুন
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের রুশ সংস্করণের ভূমিকা
- ভ্লাদিমির লেনিন-এর ঐতিহাসিক রেকর্ডকৃত ভাষণসমূহ: একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন
- একটি সর্বহারা মিলিশিয়া বাহিনী
- শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষকদের প্রতি
- বিপ্লবের পর্যায় প্রবণতা এবং পটভূমি
- সোভিয়েত ইউনিয়ন আমার নিজের ঘর — পল রবসন
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ১ (১) — রাষ্ট্র হলো শ্রেণি-বিরোধের অমীমাংসেয়তার ফল
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৫) — পরগাছা রাষ্ট্রের উচ্ছেদ
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৪) — জাতীয় ঐক্যের সংগঠন
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৩) — পার্লামেন্ট প্রথার বিলোপ
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (২) — ভেঙে-ফেলা রাষ্ট্রযন্ত্রের বদল হবে কী দিয়ে?
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (১) — কমিউনারদের প্রচেষ্টায় বীরত্ব কোনখানে?
- ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী: কালানুক্রমিক তালিকা (১৮৯৩-১৯২৩)
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের রুশ সংস্করণের ভূমিকা
- ভ্লাদিমির লেনিন-এর ঐতিহাসিক রেকর্ডকৃত ভাষণসমূহ: একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন
- ইহুদি নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে
- অবিলম্বে পৃথক ও রাজ্যগ্রাসী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের প্রশ্নে থিসিসের পরিশেষ
- দুর্ভাগা শান্তি-সমস্যার ইতিহাস প্রসঙ্গে
- সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে লেনিনবাদী বলশেভিক পার্টির ভূমিকা
- অন্তর্দলীয় গণতন্ত্র হচ্ছে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদের নীতি
- বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিনবাদ
- অক্টোবর বিপ্লবের চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে
- সিপিএসইউ (বি)-তে দক্ষিণ বিচ্যুতি
- এক লাইন, না দুই লাইন?
- সংশোধনবাদ প্রসঙ্গে লেনিনবাদী মত এবং তা কেন প্রতিরোধ করতে হবে
- লেনিনবাদী সংগ্রামের রূপ হচ্ছে লেনিন কর্তৃক রচিত সংগ্রামের বিভিন্ন সূত্রাবলি
- লেনিনবাদী বলশেভিকবাদী কমিউনিস্ট পার্টি হচ্ছে সাম্যবাদ অভিমুখী সংগঠন
- ভ্যানগার্ডবাদ বা ভ্যানগার্ড পার্টি গঠন সম্পর্কে লেনিনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি
- মার্কসবাদী তত্ত্বের বিকাশে লেনিনের সৃজনশীল অবদান
- মার্কসবাদে লেনিনের অবদান সৃজিত হয়েছে ছয়টি প্রধান ক্ষেত্রে
- সাম্যবাদী প্রচারণা হচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রভাব বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
- পার্টি শৃঙ্খলা সম্পর্কে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নীতি ও সে সম্পর্কিত ধারণা
- গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাবাদ কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণ প্রণালী
- গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদ লেনিনবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত নীতি
- অর্থনীতিবাদ বিরোধী সংগ্রাম হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য
- অর্থনীতিবাদ শ্রমিক আন্দোলনে রাজনীতি বাদ দিয়ে আর্থিক দাবি আদায়ের প্রবণতা
- রাষ্ট্র ও বিপ্লব হচ্ছে ১৯১৭ সালে লেনিন লিখিত বই যাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা আলোচিত
- রাষ্ট্র সম্পর্কে লেনিনবাদী ধারণা হচ্ছে রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশের দ্বন্দ্ববাদী বিশ্লেষণ
- এপ্রিল থিসিস ছিল বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির লেনিন প্রদত্ত দিকনির্দেশক প্রতিপাদ্য
- বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ-বিচারবাদ বা বস্তুবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদী সমালোচনা বই সম্পর্কে
- নারীমুক্তির প্রশ্নে লেনিনবাদ শোষণ ও অধীনতা থেকে মুক্তির কথা বলে
- লেনিনবাদ হচ্ছে ভ্লাদিমির লেনিন বিকশিত একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ
- মার্কসবাদী-লেনিনবাদী দর্শনের বিষয়বস্তু প্রকৃতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের বিষয়
- পুঁজিপতিরা কীভাবে তাদের মুনাফা গোপন করে
- সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় লেনিন রচিত পুঁজিবাদের বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ
- কী করতে হবে হচ্ছে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন রচিত সাম্যবাদী রাজনৈতিক গ্রন্থ
- লেনিনের বই রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা
- বলশেভিকবাদ রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাষ্ট্রশাসন প্রণালীর বিপ্লবী মার্কসবাদী ধারা
- লেনিন ছিলেন বিশ শতকের ইউরোপের মহত্তম মানব এবং মার্কসবাদের উত্তরসূরি
- শ্রেণিহীন সমাজ হচ্ছে এমন সমাজ যেখানে কেউ সামাজিক শ্রেণিতে থাকে না
- মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হচ্ছে সর্বহারা শ্রেণির মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভ. ই. লেনিন, কালেক্টেড ওয়ার্কস, ১০তম খণ্ড, প্রগ্রেস পাবলিশার্স, মস্কো ১৯৭২, তৃতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৯১-৯২। লেখা হয় ১৯০৫-এর শেষে অথবা ১৯০৬-এর শুরুতে।
বাংলা অনুবাদ নেয়া হয়েছে শেখর রহিম কর্তৃক অনূদিত, লেনিনের নির্বাচিত রচনাসংগ্রহ ৪, শ্রাবণ ঢাকা, পৃষ্ঠা ৭৮-৭৯ থেকে। অনূদিত এই লেখাটি বর্তমানে ফুলকিবাজ.কমে হুবহু ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে।

ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন (২২ এপ্রিল, ১৮৭০ – ২১ জানুয়ারি, ১৯২৪) ছিলেন লেনিনবাদের প্রতিষ্ঠাতা, একজন মার্কসবাদী রুশ বিপ্লবী এবং সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। লেনিন ১৯১৭ সালে সংঘটিত মহান অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।