নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা: বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ধারা

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভায় বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ধারা হিসেবে পরিচিত। এই প্রগতিশীল বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনটি মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের আমূল বিরোধিতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শ্রেণিশত্রু ও শোষক গোষ্ঠীর কবল থেকে এদেশের শোষিত জনগণের প্রকৃত ও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য একটি সামগ্রিক ‘নয়াগণতান্ত্রিক’ বিপ্লব সাধন অপরিহার্য। সংগঠনটি প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ … Read more

উদার গণতন্ত্র গণতান্ত্রিক সংগঠনকে উদার রাজনৈতিক দর্শনের সাথে একত্রিত করে

উদার গণতন্ত্র

উদার গণতন্ত্র বা উদারনৈতিক গণতন্ত্র বা বুর্জোয়া গণতন্ত্র (ইংরেজি: Liberal Democracy) যা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র বা বুনিয়াদি গণতন্ত্র নামেও পরিচিত, হচ্ছে সরকারের একটি রূপ যা গণতান্ত্রিক সংগঠনকে উদার রাজনৈতিক দর্শনের ধারণার সাথে একত্রিত করে। উদার গণতন্ত্রের মধ্যে সাধারণ উপাদানগুলি হচ্ছে: একাধিক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের মধ্যে বা তাদের মধ্যে নির্বাচন; সরকারের বিভিন্ন শাখায় ক্ষমতার বিভাজন; একটি … Read more

বিপ্লবের পর্যায় প্রবণতা এবং পটভূমি

বিপ্লবের পর্যায় প্রবণতা

১. শ্রমিক আন্দোলন সক্রিয় করে তুলল প্রলেতারিয়েতকে, তারা এসে দাঁড়াল রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক শ্রমিক পার্টির পতাকাতলে এবং উদারপন্থী বুর্জোয়াদের জাগিয়ে তুলল: ১৮৯৫-১৯০১-১৯০২।  ২. শ্রমিক আন্দেলন খোলাখুলি রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ নিল, এবং তাদের সাথে যোগ দিল উদারপন্থী বুর্জোয়া এবং পেটি বুর্জোয়াদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় স্তরগুলি: ১৯০১-১৯০২-১৯০৫।  ৩. শ্রমিক আন্দোলন সরাসরি এক বিপ্লবে রূপ নিল। ওদিকে উদারপন্থী বুর্জোয়ারা … Read more

আজ্ঞা বা অনুশাসন হচ্ছে জনসমর্থনের মাধ্যমে শাসন করার একটি অনুভূত বৈধতা

আজ্ঞা

আজ্ঞা বা অনুশাসন (ইংরেজি: Mandate) হচ্ছে, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে, জনসমর্থনের মাধ্যমে শাসন করার একটি অনুভূত বৈধতা। নির্বাচনের মাধ্যমে আজ্ঞা জ্ঞাপন করা হয়, যেখানে ভোটাররা তাদের নিজস্ব নীতিগত পছন্দের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন করেন। অর্থাৎ আজ্ঞা হচ্ছে কোনও কিছু করা বা না করা সম্পর্কে আদেশ বা অনুমতি।[১] নির্বাচনের ফলাফল ব্যাখ্যা করে কোন নীতিগুলি জনসমর্থিত তা নির্ধারণ … Read more

বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিনবাদ

বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব

বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিপ্লব বা বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব বা সংক্ষেপে গণতান্ত্রিক বিপ্লব (ইংরেজি: bourgeois-democratic revolution) হচ্ছে সামন্তবাদকে পরাজিত করে বুর্জোয়ারা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তার প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বুর্জোয়ারা সমাজ পরিবর্তন সম্পন্ন করলে তা বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক সামাজিক বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত হয়। যেমন ফ্রান্সের বিপ্লবটিকে আমরা বলে থাকি ধ্রুপদী ধারার বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব। এছাড়া … Read more

মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে স্বৈরতন্ত্রী শাসনব্যবস্থা পাকা করবার পদ্ধতি

মৌলিক গণতন্ত্র

মৌলিক গণতন্ত্র (ইংরেজি: Basic Democracy) হচ্ছে স্থানীয়, প্রাদেশিক এমনকি পুরো রাষ্ট্রে স্বৈরতন্ত্রী শাসনব্যবস্থা পাকা করবার পদ্ধতি। ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক বর্বর নরপিশাচ ফিল্ড মার্শাল মুহম্মদ আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করে দেশের পার্লামেণ্টারী শাসন-ব্যবস্থা বাতিল করেন।[১] স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আধুনিক বর্বর আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র … Read more

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা

ফজলুল হকের রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার

আবুল কাসেম ফজলুল হক যে গণতন্ত্র চিন্তা ও চর্চার কথা বলেছেন তা অনেক গভীর ও ব্যাপক। তাঁর চিন্তা দেশ থেকে রাষ্ট্র, রাষ্ট্র থেকে জাতি, জাতি থেকে জাতিরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক আবহে দেশ ভিত্তিক ঐক্যবোধ বা ঐক্যচেতনা গড়ে উঠে। এই ঐক্যচেতনাকেই জাতীয়তাবোধ বা জাতীয় চেতনা বলা হয়। জাতীয়তাবোধ সম্পন্ন জনগোষ্ঠীই … Read more

পার্টি শৃঙ্খলা সম্পর্কে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নীতি ও সে সম্পর্কিত ধারণা

পার্টি শৃঙ্খলা

পার্টি শৃঙ্খলা (ইংরেজি: Party Discipline) সম্পর্কিত আলোচনা দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদে স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত। অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলাকে লেনিন মোকাবেলা করার জন্য শৃঙ্খলা ও ঐক্য বিষয়ে বহু মতামত প্রদান করেছেন। শৃঙ্খলা সংক্রান্ত লেনিনবাদী চিন্তা গড়ে উঠেছে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাবাদের চিন্তার সাথে সমন্বয় করে। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টি, সে সময় নাম ছিল সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টি, গঠনের আগে … Read more

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাবাদ কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণ প্রণালী

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাবাদ

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাবাদ বা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদ (ইংরেজি: Democratic centralism) হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির সর্ববিধ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণ প্রণালী। এটি মূলত কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালন ব্যবস্থা এবং সমাজতান্ত্রিক শাসন ও অর্থনীতি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি এবং তত্ত্ব।[১] ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস তাঁর কর্তৃত্ব প্রসঙ্গে লেখায় কর্তৃত্বকে কেন্দ্রিকতাবাদ অর্থে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এঙ্গেলসের মতে … Read more

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদ লেনিনবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত নীতি

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদ

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদ (ইংরেজি: Democratic centralism) বলতে লেনিনবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত নীতিসমূহকে উল্লেখ করা হয়। ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস তাঁর কর্তৃত্ব প্রসঙ্গে লেখায় কর্তৃত্বকে কেন্দ্রিকতাবাদ অর্থে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এঙ্গেলসের মতে জটিল যন্ত্রপাতির বিকাশের সাথে সাথে কেন্দ্রিকতাবাদের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। আমরাও দেখি যান্ত্রিক বিকাশের সাথে সাথে কারখানা বা গবেষণাগার বা সংগঠনে কেন্দ্রিকতাবাদের গুরুত্ব অপরিসীম। মাঝে মাঝে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদের দ্বারা … Read more