★ মার্কিন পরিকল্পনায় ক্ষমতাসীন ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রভুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করুন; সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলন বেগবান করুন।
★ জনগণ ও জাতীয় জীবনের জরুরি সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে বিপ্লবী আন্দোলন-সংগ্রাম অগ্রসর করুন।
★ বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য এবং প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া এদেশকে স্ব স্ব পক্ষে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
সংগ্রামী সাথী ও বন্ধুগণ,
বিপ্লবী অভিনন্দন গ্রহণ করুন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের পরিকল্পনায় ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ক্ষমতার পালাবদলে মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ক্ষমতাসীন মুহম্মদ ইউনূসের সরকার প্রভুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একের পর এক জনগণ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী “সংস্কার”, চুক্তি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন-তারিখ ঘোষণা করে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিনপন্থী দলগুলো বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বে জোট স্ব স্ব কৌশল সামনে এনে ক্ষমতা প্রত্যাশী হওয়ার কথা বলাসহ পেটিবুর্জোয়া সুবিধাবাদী-সংশোধনবাদীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। মার্কিনের দালাল এ সকল প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো যেমন সশস্ত্র তেমনই প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও মহাজোটও সশস্ত্র। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে তাদের দালালদের মধ্যে সংঘাত-নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা তীব্রতর হবে। তাই সশস্ত্র বিকল্প বিপ্লবী ধারাকে অগ্রসর করতে হবে।
নয়াঔপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী বাংলাদেশের মত দেশে ক্ষমতাসীন হওয়া বা ক্ষমতার পালাবদল নির্ধারিত হয় প্রভু সাম্রাজ্যবাদের উপর, নির্বাচন করে নয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া না হওয়া এবং কোন দল বা জোট ক্ষমতাসীন হবে তা নির্ধারিত হবে প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উপর। এতে মার্কিনের দালালরাই ক্ষমতাসীন হবে এবং যারাই ক্ষমতায় আসবে তারাই অন্তবর্তী সরকারের গৃহীত চুক্তি কার্যকরী করাসহ প্রভুর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে চলবে। বিএনপি’র শীর্ষনেতা তারেক রহমানের ‘আমার একটি পরিকল্পনা’ আর কিছু নয় বরং তা হচ্ছে প্রভুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের এবং সাম্রাজ্যবাদের দালাল ভারতের ভমিকাও প্রণিধানযোগ্য। স্বৈরতান্ত্রিক এই ব্যবস্থায় অতীতের মত এই নির্বাচনেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তি আসবে না। সুতরাং এই নির্বাচনের স্বরপ উন্মোচন ও এর বিরোধিতা করে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন কিছু নয় বরং তা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অংশ ও অধীন। বৈশ্বিক ক্ষেত্রে তিন মৌলিক দ্বন্দ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে পুঁজি ও শক্তির অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বণ্টন নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা সুতীব্র হয়ে চলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের বিদ্যমান বিশ্বকাঠামোর বিপরীতে সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে পাল্টা কাঠমো তথা রিক-ব্রিকস্-ব্রিকস্ প্লাস পার্টনার, এনডিবি, গ্লোবাল সাউথ, এসসিও-র্যাটস্ ইত্যাদি; চীনের এআইআইবি, বিআরআই-এর প্রেক্ষিতে জিডিআই, জিএসআই, জিসিআই, জিজিআই ইত্যাদি অগ্রসর হওয়া পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর ও চ্যালেঞ্জিং করে চলছে। বৈশ্বিক করোনা মহামারি, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, মার্কিনের নেতৃত্বে ইসরাইলের প্যলেস্টাইনে আগ্রাসন ও গণহত্যা, ইরানে আগ্রাসী হামলার ধারাবাহিকতায় একক পরাশক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা রণনীতি কার্যকরী করা, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে স্ত্রীসহ অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন করার আগ্রাসী তৎপরতা, গ্রীনল্যান্ডকে দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা ইত্যাদি বিশ্ব পরিস্থিতিকে নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল করে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারসহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এর বিপরীতে বিশ্বের দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধিসহ জনজীবনের দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা-সংকট তীব্রতর হয়ে গণআন্দোলন-গণবিক্ষোভে ফেটে পড়ছে। অর্থাৎ শ্রম-পুঁজির দ্বন্দ্ব এবং নিপীড়িত জাতি ও জনগণের দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়ে দেশে দেশে বিপ্লব তথা বিশ্ববিপ্লবের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নবাদ, সুবিধাবাদ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠিত করাসহ বিভিন্ন রূপের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে চলেছে।
চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-এর সংকট; শিল্প-কলকারখানায় সংকট, বেকারত্ব বৃদ্ধি; কৃষিক্ষেত্রে সংকট; আমদানি-রপ্তানি-বাণিজ্যে নেতিবাচক গতি তথা দেশের অর্থনীতিতে সংকট ইত্যাদি জনজীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থলসংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এদেশকে একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য এবং প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া স্ব স্ব পক্ষে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে চলেছে। এ প্রেক্ষিতে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক করিডোর প্রদানের পাঁয়তারা, চট্টগ্রাম বন্দরসহ সমুদ্র ও নদীবন্দরসমূহকে বিদেশীদের লিজ দেওয়া, রাজধানীতে মানবাধিকার কমিশনের অফিস করা, মার্কিন স্টারলিংকের সাথে যুক্ত হওয়া ইত্যাদি জাতীয় স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ কার্যকরী করে চলেছে। তাই মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালবিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য গড়ে তুলে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের সাথে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সার্থক সমন্বয় সাধন করে বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শ্রমিক-কৃষকের গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ পথেই শ্রমিক-জনতার মুক্তি।
কেন্দ্রীয় কমিটি
বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি লিফলেট আকারে ফেসবুকে প্রচার হতে দেখা যায় এবং ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করে ফুলকিবাজে ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
- বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) কর্তৃক আসন্ন ভোট বর্জনের আহবান
- নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা প্রদানের বিরুদ্ধে সমাবেশ
- আমাদের কেন যে কোনো মূল্যে কিউবাকে রক্ষা করা উচিত
- আশ্রিত রাজ্য হচ্ছে প্রতিরক্ষার জন্য অন্য রাষ্ট্র দ্বারা সুরক্ষিত এলাকা
- একাধিপত্য হচ্ছে আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক, অন্য রাষ্ট্রের উপর একটি রাষ্ট্রের প্রাধান্য
- আত্ম-নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক সত্তা গঠনের অধিকার
- অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে এক রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখল
- চীন থেকে অস্ত্র আমদানি বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ করেছে
- মাও সেতুং-এর গণচীনের হারিয়ে যাওয়া লাল রং এবং বর্তমান সাম্রাজ্যবাদী চীন
- আফিম যুদ্ধ ১৯ শতকে কিং রাজবংশ এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে সংঘটিত দুটি যুদ্ধ
- সাম্রাজ্যবাদের কুফল সম্পর্কে পুলিশ হিসেবে কর্মরত জর্জ অরওয়েলের বর্ণনা
- সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় লেনিন রচিত পুঁজিবাদের বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ
বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে ফুলকিবাজের সঙ্গে রয়েছেন ফুলকিবাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অঞ্চলের শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ। তারা দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদেরকে প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রদান করলে আমরা সেগুলোকে প্রকাশ করে থাকি।