নিপীড়িত শ্রেণিগুলির মুক্তির সংগ্রামে তাদের চিন্তাগুরু ও নায়কদের মতবাদের ক্ষেত্রে ইতিহাসে একাধিকবার যা ঘটেছে, বর্তমানে তাই ঘটছে মার্কসের মতবাদ নিয়েও। মহাবিপ্লবীদের জীবদ্দশায় উৎপীড়কেরা তাঁদের ওপর অবিরাম নিগ্রহ চালিয়েছে, তাঁদের মতবাদকে আক্রমণ করেছে অতি হিংস্র বিদ্বেষে, অতি ক্ষিপ্ত ঘৃণায় এবং মিথ্যা ও কুৎসার অতি বেপরোয়া অভিযানে। মৃত্যুর পর চেষ্টা হয়েছে তাঁদের পরিণত করতে নিরীহ দেবপটে, স্থান দিতে যেন-বা সাধুমণ্ডলীতে, নিপীড়িত শ্রেণিগুলির ‘সান্ত্বনার’ জন্য, তাদের বোকা বানাবার জন্য, তাঁদের বৈপ্লবিক মতবাদের সারার্থ বিসর্জন দিয়ে, তার বৈপ্লবিক ধার ভোঁতা করে, তাকে মামুলী করে তুলে, তাঁদের নামের পাশে খানিকটা জ্যোতি আরোপ করতে। মার্কসবাদের এই রকম ‘শুদ্ধিকর্মে” বর্তমানে হাত মেলাচ্ছে বুর্জোয়ারা এবং শ্রমিক আন্দোলনের ভেতরকার সুবিধাবাদীরা। ভুলে যাচ্ছে, মুছে দিচ্ছে, বিকৃত করছে মতবাদের বিপ্লবী দিকটা, তার বৈপ্লবিক প্রাণটা। যা গ্রহণযোগ্য, অথবা যা বুর্জোয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে সেইটাকে তুলে ধরছে প্রধান করে, জয়গান গাইছে তার। সমস্ত সোশ্যাল-শভিনিস্টই এখন ‘মার্কসবাদী’, ঠাট্টা নয়! মার্কসবাদ সংহারে বিশেষজ্ঞ, গতকালের সমস্ত জার্মান বুর্জোয়া পণ্ডিতই ঘন ঘনই বলছেন ‘জার্মান জাতীয়’ মার্কসের কথা, যিনি নাকি অমন চমৎকার শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে গেছেন লুঠেরা যুদ্ধ চালাবার জন্য!
অবস্থা এই হওয়ায়, মার্কসবাদের বিকৃতির এমন অভূতপূর্ব প্রচার চলায় আমাদের প্রধান কর্তব্য হলো রাষ্ট্র সম্পর্কে মার্কসের আসল মতবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। তার জন্য মার্কস ও এঙ্গেলসের নিজস্ব রচনা থেকে পুরো একগুচ্ছ দীর্ঘ উদ্ধৃতিদান প্রয়োজন। বলাই বাহুল্য, দীর্ঘ উদ্ধৃতিতে বক্তব্য গুরুভার হয়ে ওঠে, তার জনপ্রিয়তায় খানিকটা অসুবিধা হয়। কিন্তু তা বাদ দিয়ে চলা একেবারেই অসম্ভব। মার্কস ও এঙ্গেলসের রচনায় রাষ্ট্র বিষয়ে যেখানে উল্লেখ আছে তেমন সমস্ত জায়গা, অন্তত নির্ধারক জায়গাগুলিকে যথাসম্ভব সম্পূর্ণাকারে আবশ্যিকভাবেই উদ্ধৃত করা উচিত, তাতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, সেই দৃষ্টি বিকাশ সম্পর্কে পাঠক স্বাধীনভাবে একটা ধারণা লাভ করবেন, সেই সঙ্গে বর্তমানে আধিপত্যকারী ‘কাউৎস্কিপন্থীরা’ তাদের যেসব বিকৃতি ঘটিয়েছে তা দলিলপত্রসহকারে প্রমাণিত ও জাজ্বল্যমান রূপে প্রদর্শিত হবে।
শুরু করা যাক ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের সর্বাধিক প্রচারিত রচনা ‘পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি’ থেকে, ১৮৯৪ সালে স্তুৎগার্ত থেকে তার ৬ষ্ঠ সংস্করণ ইতিমধ্যেই বেরিয়েছে। আমাদের অনুবাদ করে দিতে হচ্ছে মূল জার্মান থেকে, কেননা বহু রুশ অনুবাদ থাকলেও তার অধিকাংশই হয় অসম্পূর্ণ নয় অতি অসন্তোষজনক। নিজের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের খতিয়ান টেনে এঙ্গেলস বলছেন:
‘রাষ্ট্র মোটেই বাইরে থেকে সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি শক্তি নয়, সেই সঙ্গে, হেগেল যা বলতেন, ‘নৈতিক ভাবের বাস্তবতা’, ‘প্রজ্ঞার প্রতিমা ও বাস্তবতা’ও নয়। রাষ্ট্র হলো সমাজের একটা নির্দিষ্ট পর্বে বিকাশের ফল; রাষ্ট্র হলো এই স্বীকৃতি যে, সমাজটা অমীমাংসেয় স্ববিরোধে জড়িয়ে পড়েছে, এমন আপোসহীন বৈপরীত্যে ভেঙে পড়েছে যা থেকে মুক্তি লাভে সে অক্ষম। এই বৈপরীত্যগুলি, বিরোধী অর্থনৈতিক স্বার্থসম্পন্ন শ্রেণিগুলি যাতে নিষ্ফল সংগ্রামে নিজেদের ও সমাজকে গ্রাস করে না বসে, তার জন্য দরকার পড়েছিল এমন একটি শক্তির যা দৃশ্যত সমাজের ঊর্ধ্বে দণ্ডায়মান, যা সংঘর্ষ’কে নরম করে আনবে, তাকে ‘শৃঙ্খলার’ সীমানার মধ্যে ধরে রাখবে। সমাজ থেকে উদ্ভূত কিন্তু সমাজের ঊর্ধ্বে আত্মপ্রতিষ্ঠিত, ক্রমেই বেশি করে সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলা এই শক্তিই হলো রাষ্ট্র।’ (১৭৭-১৭৮ পৃঃ, ৬ষ্ঠ জার্মান সংস্করণ।) (১)
এখানে রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও তার তাৎপর্যের প্রশ্নে মার্কসবাদের মূল ভাবনা অভিব্যক্ত হয়েছে পরিপূর্ণ স্পষ্টতায়। রাষ্ট্র হলো শ্রেণি-বিরোধের অমীমাংসেয়তার ফল ও অভিব্যক্তি। রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় সেইখানে, সেই সময়, এবং সেই পরিমাণে, যেখানে, যে সময় এবং যে পরিমাণে বাস্তব ক্ষেত্রে শ্রেণি-বিরোধের সমাধান হতে পারছে না। এবং বিপরীতে, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, শ্রেণি-বিরোধ অমীমাংসেয়।
এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক পয়েন্টটি থেকেই শুরু হয় মার্কসবাদের বিকৃতি যা চলছে দুটি প্রধান ধারায়।
এক দিকে, তর্কাতীত ঐতিহাসিক ঘটনায় যাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে, রাষ্ট্র আছে শুধু সেইখানে, যেখানে আছে শ্রেণি-বিরোধ ও শ্রেণি-সংগ্রাম, সেই সব বুর্জোয়া ও বিশেষ করে পেটি বুর্জোয়া মতপ্রবক্তা মার্কসকে একটু ‘শুধরে নিচ্ছেন’ এইভাবে যেন রাষ্ট্র হচ্ছে শ্রেণি-মিটমাটের সংস্থা। মার্কসের মতে শ্রেণি-মিটমাট সম্ভব হলে রাষ্ট্রের উদ্ভবও হতো না, তা টিকেও থাকত না। মধ্যবিত্ত ও কূপমণ্ডুক অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিকদের কাছে দাঁড়াচ্ছে প্রায়শই মার্কসের শুভাকাঙ্ক্ষী উদ্ধৃতি দিয়ে! যে রাষ্ট্র নাকি ঠিক শ্রেণি-মিটমাটই করে থাকে। মার্কসের মতে, রাষ্ট্র হলো শ্রেণি-আধিপত্যের সংস্থা, এক শ্রেণি কর্তৃক অপর শ্রেণি পীড়নের সংস্থা, রাষ্ট্র হলো এমন ‘শৃঙ্খলার’ প্রতিষ্ঠা, যাতে শ্রেণি-সংঘাত নরম করে এই পীড়নকে বিধিবদ্ধ ও কায়েম করে। পেটি বুর্জোয়া রাজনীতিকদের মতে, শৃঙ্খলার মানে এক শ্রেণি কর্তৃক অপর শ্রেণির পীড়ন নয়, একান্তরূপেই শ্রেণি-মিটমাট; সংঘাত নরম করার মানে নাকি মিটমাট করা, নিপীড়ক শ্রেণি উচ্ছেদের সংগ্রামে নিপীড়িত শ্রেণির হাত থেকে নির্দিষ্ট কিছু উপায় ও উপকরণ ছিনিয়ে নেওয়া নয়।
দৃষ্টান্তস্বরূপ, ১৯১৭ সালের বিপ্লবে যখন রাষ্ট্রের তাৎপর্য ও ভূমিকার প্রশ্নটি তার সমস্ত বিশালতায় সামনে দাঁড়ায়, কার্যক্ষেত্রে তা যখন হয়ে দাঁড়ায় অবিলম্বে কর্মের প্রশ্ন, তদুপরি গণ আয়তনে কর্মের প্রশ্ন, তখন সমস্ত সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারি (২) ও মেনশেভিক (৩) তৎক্ষণাৎ ও পুরোপুরি ‘রাষ্ট্র’ কর্তৃক শ্রেণি-‘মিটমাটের’ পেটি বুর্জোয়া তত্ত্বে ঢলে পড়ে। এই দুই পার্টির রাজনীতিকদের অসংখ্য প্রস্তাব ও প্রবন্ধ ‘মিটমাটের’ এই মধ্যবিত্ত ও কূপমণ্ডুক তত্ত্বে সমূহ আচ্ছন্ন। রাষ্ট্র যে একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রভুত্বের সংস্থা, এ শ্রেণি যে তার প্রতিপক্ষের (তার বিপরীত শ্রেণির) সঙ্গে মিটমাট করে নিতে পারে না, পেটি বুর্জোয়া গণতন্ত্র একথা কখনোই বুঝতে পারে না। আমাদের সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারি ও মেনশেভিকরা যে আদৌ সমাজতন্ত্রী নয় (যেটা আমরা বলশেভিকরা বরাবর দেখিয়ে এসেছি), প্রায়-সমাজতান্ত্রিক বুলিওয়ালা পেটি বুর্জোয়া গণতন্ত্রী মাত্র, তার অতি জাজ্জ্বল্যমান একটি প্রকাশ হলো তাদের রাষ্ট্রের প্রতি মনোভাব।
অন্যদিকে, মার্কসবাদের ‘কাউৎস্কি-মার্কা’ বিকৃতিটা অনেক সুক্ষা। রাষ্ট্র শ্রেণি-প্রভুত্বের সংস্থা, অথবা শ্রেণি-বৈপরীত্য অমীমাংসেয় — এর কোনোটাই ‘তত্ত্বের দিক থেকে’ অস্বীকার করা হচ্ছে না। কিন্তু নজর পড়ছে না অথবা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে এইটেয়: রাষ্ট্র যদি হয় শ্রেণি-বিরোধের অমীমাংসেয়তার ফল, তা যদি হয় সমাজের ঊর্ধ্বে দণ্ডায়মান ও ‘ক্রমেই বেশি করে সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলা‘ এক শক্তি, তাহলে একথা পরিষ্কার যে শুধু জবরদস্তিমূলক বিপ্লবই নয়, রাষ্ট্রশক্তির যে যন্ত্রটা প্রভুত্বকারী শ্রেণির সৃষ্টি, যার মধ্যে এই ‘বিচ্ছেদ’ কায়ালাভ করেছে, তাকেও বিলুপ্ত না করে নিপীড়িত শ্রেণির মুক্তি অসম্ভব। তত্ত্বের দিক থেকে স্বতঃই পরিষ্কার এই সিদ্ধান্ত মার্কস টেনেছিলেন বিপ্লবের কর্তব্যটার মূর্ত-নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিপূর্ণ সুনির্দিষ্টতায়, তা আমরা পরে দেখব। এবং ঠিক এই সিদ্ধান্তটাই কাউৎস্কি… ‘ভুলে বসেছেন’ ও বিকৃত করেছেন,— পরে আমরা বিশদে তা দেখাব।[৪]
- 📖 পরের অংশ পড়ুন: সশস্ত্র লোকের বিশেষ বাহিনী, কারাগার ইত্যাদি।
- 📖 রাষ্ট্র ও বিপ্লব — সম্পূর্ণ সূচিপত্র ও অধ্যায়ভিত্তিক পাঠ।
ফুলকিবাজ সংস্করণের পাদটিকা:
১. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের ‘পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি’ দ্রষ্টব্য। এখানে লেনিন এঙ্গেলসের এই রচনা থেকেই উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
২. সোশ্যালিস্ট-রেডলিউশানারি — রাশিয়ার পেটি বুর্জোয়া পার্টি। নানা রূপ নারোদবাদী গ্রুপ ও চক্রের সম্মেলনে পার্টিটি দেখা দেয় ১৯০১ সালের শেষ ও ১৯০২ সালের গোড়ায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিকাংশ সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারি সোশ্যাল-শভিনিস্ট মত অবলম্বন করে।
১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারিরা মেনশেভিকদের সঙ্গে একত্রে হয়ে দাঁড়ায় সাময়িক বুর্জোয়া সরকারের প্রধান খুঁটি এবং পার্টির নেতারা (কেরেনি, আভক্সেন্তিয়েভ, চের্নোভ) সে-সরকারে যোগ দেন। জমিদারি মালিকানা উচ্ছেদের জন্য কৃষকদের দাবি সমর্থন করতে অস্বীকার করে সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারি পার্টি; ভূমিতে জমিদারি মালিকানা সংরক্ষণের পক্ষ নেয়; সাময়িক সরকারের সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারি মন্ত্রীরা জমিদারী জমি দখলকারী চাষীদের বিরুদ্ধে পিটুনী বাহিনী পাঠায়। অক্টোবর সশস্ত্র বিপ্লবের প্রাক্কালে পার্টিটি খোলাখুলি প্রতিবিপ্লবী বুর্জোয়ার পক্ষে চলে যায়, পূজিবাদী ব্যবস্থা সমর্থন করে ও বৈপ্লবিক জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
১৯১৭ সালের নভেম্বরের শেষে এদের বাম পক্ষ স্বাধীন বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভলিউশানারি পার্টি গঠন করে। কৃষক জনগণের ওপর প্রভাব বজায় রাখার আশায় বামপন্থী সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারিরা বাহ্যত সোভিয়েত রাজকে মেনে নেয় ও বলশেভিকদের সঙ্গে আপোস করে, কিন্তু অচিরেই সোভিয়েত রাজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ ধরে।
বৈদেশিক হস্তক্ষেপ ও গৃহযুদ্ধের সময় সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারিরা প্রতিবিপ্লবী অন্তর্ঘাত চালায়, হস্তক্ষেপকারী ও শ্বেতরক্ষীদের সক্রিয় সাহায্য করে, প্রতিবিপ্লবী চক্রান্তে অংশ নেয়, সোভিয়েত রাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসমূলক আক্রমণ চালায়। গৃহযুদ্ধ শেষের পর সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারিরা দেশের অভ্যন্তরে ও শ্বেতরক্ষী দেশান্তরীদের শিবির থেকে শত্রুতা চালিয়ে যেতে থাকে।
৩. মেনশেভিক — রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রাসির অভ্যন্তরে পেটি বুর্জোয়া, সুবিধাবাদী ধারা, শ্রমিক শ্রেণির উপর বুর্জোয়া প্রভাবের বাহক। এ নামকরণ হয় ১৯০৩ সালের আগস্টে রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক শ্রমিক পার্টির ২য় কংগ্রেসের সময় থেকে, যখন কংগ্রেসের শেষে পার্টির কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নির্বাচনে তারা হয় সংখ্যালঘু (রুশীতে মেনশিনস্তভো) আর লেনিনের নেতৃত্বে বিপ্লবী সোশ্যাল-ডেমোক্রাটরা হয় সংখ্যাগুরু (রুশীতে বলশিনস্তভো); এই থেকেই মেনশেভিক ও বলশেভিক আখ্যা চালু হয়।
মেনশেভিকরা বুর্জোয়ার সঙ্গে প্রলেতারিয়েতের সমঝোতা করাতে চাইত, শ্রমিক আন্দোলনে অনুসরণ করত সুবিধাবাদী ধারা। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশানারিদের সঙ্গে একত্রে তারা সাময়িক সরকারে প্রবেশ করে, তার সাম্রাজ্যবাদী নীতি সমর্থন করে এবং বর্ধমান প্রলেতারীয় বিপ্লবের বিরুদ্ধে লড়ে।
অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর মেনশেভিকরা খোলাখুলি প্রতিবিপ্লবী পার্টি হয়ে দাঁড়ায়। সোভিয়েত রাজ উচ্ছেদের লক্ষ্যে চক্রান্ত ও বিদ্রোহের আয়োজন করে ও তাতে অংশ নেয়।
৪. বর্তমান অনুবাদটি সামান্য সংস্কারকৃত এবং অনুবাদটি নেয়া হয়েছে প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, অনূদিত বাংলা সংস্করণ ১৯৭৬-এর পৃষ্ঠা ৫৪-৫৬ হতে।
🔗 লেনিন সংগ্রহশালা: গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলী
- 📖 আরও পড়ুন: ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী: কালানুক্রমিক তালিকা (১৮৯৩-১৯২৩)✊
- 📜 মূল পাঠ: লেনিনের এপ্রিল থিসিসের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ ✊
- 🔍 বিশ্লেষণ: রাষ্ট্র ও বিপ্লব: একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তক সমালোচনা।📜
- 🚩 বিশেষ সংকলন: লেনিনের একটি প্রবন্ধ: মার্কসবাদের তিনটি উৎস ও তিনটি উপাদান।📜

ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন (২২ এপ্রিল, ১৮৭০ – ২১ জানুয়ারি, ১৯২৪) ছিলেন লেনিনবাদের প্রতিষ্ঠাতা, একজন মার্কসবাদী রুশ বিপ্লবী এবং সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। লেনিন ১৯১৭ সালে সংঘটিত মহান অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।