হোই হোই হোই, জাপান ঐ গানটি বিনয় রায় রচিত একটি বিখ্যাত গণসংগীত

হোই হোই হোই, জাপান ঐ গানটি একটি বিখ্যাত গণসংগীত। গানটির কথা ও সুর বিনয় রায়ের। তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘের (IPTA) একজন অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ছিলেন। এই গানটি মূলত ১৯৪২-১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি হয়েছিল।

গানের প্রেক্ষাপট

গানটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন (১৯৩৯-১৯৪৫) সময়ের ফ্যাসিবাদ-বিরোধী গণজাগরণের অংশ হিসেবে রচিত হয়েছিল। সেই সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে এবং ভারতীয় জনগণকে সতর্ক করতে এই গানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গানটির বিষয়বস্তু

গানের কথায় জাপানি বাহিনীর আগ্রাসন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি গান ছিল না, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের এক শৈল্পিক রূপ।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

ভারতীয় গণনাট্য সংঘের (IPTA) শুরুর দিনগুলোতে বিনয় রায়ের এই গানটি গ্রাম-গঞ্জে ও শহরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এটি বিংশ শতাব্দীর প্রতিবাদী, বিপ্লবী ও সংস্কারবাদী শিল্পধারার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। গানটি বর্তমানে রেবারায় চৌধুরীর গাওয়া রেকর্ডে পাওয়া যায়।

গানের কথা

হোই হোই হোই, জাপান
আইসে বুঝি, হামার টারীত
বাইয়‍্যাও গাঁওয়ের গেরিলা জুয়ান।

আইস রহিম আয় রহমান
আইস যোগেস আয়রে পরান
গাঁওয়ের যতেক হিন্দু মুসলমান।

দা কুড়্যাল আর ছোরা লাঠি
বর্শা কোঁচ তীর ধনুক বঁটি
শক্ত হাতে, ধর হাতিয়ার।

শোনো লক্ষ্মী শোন্ ফতিমা
শোনো চাচী শোনো বউমা
শোনো গাঁওয়ের বেটা ছাওয়ার ঘর।

আইসের বটি ধারাও খালি
তৈয়ার রাখো ধূলা বালি
বজ্জাত গুল্যা ঘরে না সোঁদায়।

চুপ, চুপ, চুপ, হুশিয়ার খুব
ঝোপে ঝাড়ে আগ্যাও ধীরে
বজ্জাত গুলা য্যান্ না হদিস পায়।

কুড়্যাল ছুরি চালাও বঁটি
তীর ধনুক কোঁচ চালাও লাঠি
হোই হুশিয়ার একটাও না পালায়।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ
হোলো দশ দুষমণ বরবাদ
হাতেত, দশটা বন্দুক রোখে কাঁয়।

আইসা ক্যানে শতেক জাপান
শোয়াবো পাট খ্যাতের নাকান
ভীত না খাই মুই দেখি বোম কামান।

আইসুক না কোন ব্যাপের ব্যাটা
কোরব এমনি কচু কাটা
স্বাধীন হইমু হামরা সোগ, কিষাণ।

আরো পড়ুন

শিল্পী রেবারায় চৌধুরীর কণ্ঠে গানটি শুনুন ইউটিউব থেকে

তথ্যসূত্র

১. সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত গণসংগীত সংগ্রহ, নাথ ব্রাদার্স, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ নভেম্বর ১৯৯০, পৃষ্ঠা, ১৫৬-১৫৭।

Leave a Comment

error: Content is protected !!