ময়মনসিংহের প্রগতিশীল ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে যে কজন নারী রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, কমরেড জমিলা খাতুন (আনু. ১৯৪০-এর দশক – ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪) তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, বরং ছিলেন ময়মনসিংহের চর কালীবাড়ি বস্তি আন্দোলন এবং বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেত্রী। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু ময়মনসিংহের বামপন্থী রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে।
সংগ্রামী জীবন ও নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য
জমিলা খাতুনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। সমাজের সবচেয়ে নিচুতলার মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তিনি অবলীলায় আন্দোলনের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারতেন। তাঁর এই সংগ্রামে ব্যক্তিগত অভাব-অনটন বা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ভেতরের আধ্যাত্মিক শক্তি এবং গণমানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি সকল বাধাকে জয় করেছেন। তিনি ছিলেন মেহনতি মানুষের ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক।
নারীদের সংগঠিতকরণ ও শ্রেণিচেতনা
জমিলা খাতুন মনে করতেন, সর্বহারার মুক্তি কেবল পুরুষদের লড়াই দিয়ে সম্ভব নয়; এতে প্রয়োজন নারী ও পুরুষের সম্মিলিত ও সমান অংশগ্রহণ। তিনি নারীনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং বিশেষ করে দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের মাঝে আন্দোলনের বীজ বুনে দিয়েছিলেন। তাঁর সাহচর্য পেয়ে ময়মনসিংহের বহু অবহেলিত নারী রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠেন। তিনি তাঁদের শিখিয়েছিলেন, মুক্তির লড়াইটি কেবল নারীর একার নয়, এটি একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক ও শ্রেণিগত মুক্তির পথ। আজও তিনি ময়মনসিংহের প্রগতিশীল শক্তির কাছে এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।