অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম: নারীমুক্তি ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আপসহীন কাণ্ডারি

রোকেয়া বেগম (১ মার্চ ১৯৪০ – ২৪ অক্টোবর ২০১২) ছিলেন বাংলাদেশের নারীমুক্তি আন্দোলনের এক আপসহীন ও প্রদীপ্ত নাম। একজন দক্ষ আইনজীবী ও বামপন্থী রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি আজীবন সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম এই কাণ্ডারি ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর ময়মনসিংহ জেলা কমিটির একজন প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্য। আন্দোলনের মাঠে তিনি যেমন ছিলেন নির্ভীক নেত্রী, তেমনি বাসদ পরিবারে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন মমতাময়ী ‘খালা’ হিসেবে।

অকুতোভয় সংগ্রামী অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম ছিলেন বাংলাদেশের নারীমুক্তি আন্দোলনের এক সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারী শিক্ষা ও প্রকৃত মুক্তির জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থেকে তিনি শৈশবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, শ্রমজীবী মানুষের (প্রলেতারিয়েত) মুক্তি ছাড়া নারীর পূর্ণাঙ্গ মুক্তি সম্ভব নয়। তাঁর চিন্তাধারায় কোনো হঠকারিতা ছিল না; বরং তিনি নারীমুক্তি এবং কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইকে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতেন।

রোকেয়া বেগম নিজের শ্রেণিগত অবস্থানের সীমাবদ্ধতাকে কখনো তাঁর আদর্শের পথে বাধা হতে দেননি। উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিমণ্ডলে বড় হলেও তিনি সবসময়ই শ্রমিক ও সর্বহারা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগসূত্র বজায় রাখতেন। শোষিত মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, তিনি নিজের গৃহটিকে সমাজের দুস্থ ও অভাবগ্রস্ত মানুষের আশ্রয় ও সহায়তার এক পরম ঠিকানায় পরিণত করেছিলেন। মুক্তির লড়াইকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।

জন্ম ও আদর্শিক হাতেখড়ি

অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম ১৯৪০ সালের ১ মার্চ ময়মনসিংহের ২৮নং কালিবাড়ি বাইলেনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মাতা সৈয়দা মরিয়ম আক্তার। কিশোরগঞ্জ জেলার জঙ্গলবাড়ির ঐতিহাসিক ‘মাস্টারবাড়ি’ ছিল তাঁদের পৈতৃক নিবাস। ১৯৪৮ সালে তিনি বিদ্যাময়ী স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। এমন এক সময়ে তিনি বড় হচ্ছিলেন যখন নারী শিক্ষা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই নেছার উদ্দিনের প্রভাবে তিনি মানবমুক্তির আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তৎকালীন ভাষা আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গ এবং ভাইয়ের ‘ন্যাপ’ (NAP) রাজনীতির সান্নিধ্য তাঁর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চেতনা ও নারীমুক্তির স্বপ্ন বুনে দেয়।

শিক্ষা ও জীবন সংগ্রাম

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে রোকেয়া বেগম তাঁর অদম্য মেধার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৫৬ সালে মেট্রিক পাসের পর তিনি আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন এবং একই বছর আশরাফ হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থলের সুবাদে তিনি নকলা, বারহাট্টা ও বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং সবখানেই নিজেকে প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখেন। একদিকে পরম মমতায় সন্তানদের লালন-পালন, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি বরিশালের চাখার কলেজ থেকে বি.এ. পাস করেন এবং পরবর্তীকালে ময়মনসিংহ ল কলেজ থেকে এল.এল.বি. ডিগ্রি অর্জন করে আইন পেশায় পদার্পণ করেন।

আইন পেশা ও রাজনৈতিক জীবন

অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম ১৯৭৪ সালে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পেশাগত জীবনে সরকারি সহকারী উকিল (APP) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহে ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে তিনি সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন এবং আমৃত্যু ময়মনসিংহের জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান

কেবল রাজনীতি বা আইন পেশায় নয়, রোকেয়া বেগম ময়মনসিংহের অগণিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যমণি ছিলেন। তিনি বিএনএসবি-ময়মনসিংহ এবং বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের কার্যনির্বাহী কমিটির একজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য ছিলেন। সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কারণে তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখার আমৃত্যু সহ-সভাপতি এবং ‘শিশুতীর্থ আনন্দধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তন’-এর সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। একইসাথে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে তাঁর বহুমুখী ভূমিকা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

আপসহীন নেতৃত্ব

অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম ছিলেন ময়মনসিংহের সকল গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অগ্রগণ্য পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের মহাকাব্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নারীমুক্তির সংগ্রাম—সবখানেই তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন তৎকালীন সন্ত্রাসী স্বৈরতন্ত্রী স্বাধীনতাবিরোধী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আদর্শিক দৃঢ়তা

রাজনীতির আদর্শিক বিচ্যুতি বা লেজুড়বৃত্তির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। নব্বই পরবর্তী সময়ে সুবিধাবাদী সিপিবির রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি তীব্র মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনা করেন। চার দশকের লুটপাটের রাজনীতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সর্বদা উচ্চকণ্ঠ। নিজের বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থেকে তিনি আজীবন গণমানুষের মুক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে গেছেন।

রোকেয়া বেগম মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়াই একটি মার্কসবাদী পার্টিকে শক্তিশালী করার একমাত্র পথ। সেই লড়াইয়ের ময়দানে তিনি হয়তো সবসময় প্রত্যাশিত তীব্রতা নিয়ে অবতীর্ণ হতে পারেননি, তবে ভুল পথের পথিকদের সমালোচনা করতে তিনি কখনো দ্বিধাবোধ করেননি। ১৯৯০ দশকের আগেই তিনি তৎকালীন সিপিবির সুবিধাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত ছিল কেবল আদর্শিক বিচ্যুতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার একটি দৃঢ় পদক্ষেপ।

আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বড়ই বিচিত্র। যে সিপিবির সুবিধাবাদকে ঘৃণা করে তিনি বেরিয়ে এসেছিলেন, সেই একই দল এখন বাসদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ড. কামাল হোসেনের মতো ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ করতে চায়। তিনি সিপিবি ছেড়ে বাসদে যোগ দিয়েছিলেন এক বুক আশা নিয়ে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে চলে আসে—আজ বাসদের এই বর্তমান সুবিধাবাদী অবস্থান দেখে তিনি কি চুপ থাকতেন? তিনি কি আজও এই রাজনৈতিক বিচ্যুতিকে মেনে নিয়ে দলে থাকতেন, নাকি তাঁর সহজাত বিদ্রোহী চেতনায় একেও ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করতেন?

সংসারের সহস্র দায়-দায়িত্ব পালন করেও রোকেয়া বেগম তাঁর বিপ্লবী চেতনাকে আজীবন প্রদীপ্ত রেখেছেন। নারী হিসেবে সামাজিক সীমাবদ্ধতা এবং ক্ষুদে বুর্জোয়া শ্রেণির অবস্থানের কারণে হয়তো সরাসরি রণক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার মতো কঠোরতা তাঁর ছিল না; কিন্তু প্রশ্ন জাগে—আমরা যারা পুরুষ হয়েও যুদ্ধকে রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারিনি, আমাদের সেই ব্যর্থতা কি বিশাল এক বিস্ময়চিহ্ন নয়? তাঁর রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ন্যাপ থেকে শুরু করে সিপিবি হয়ে বাসদে এসে তিনি থিতু হয়েছিলেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি কক্ষনো দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েননি। স্বৈরাচারকবলিত একটি দেশে আদর্শের এই অটলতা বজায় রাখা কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না।

রোকেয়া বেগম ১৯৭১ সালের শ্রেণিযুদ্ধে নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত মানবসেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নারী-পুরুষ—সবার কাছেই তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধার পাত্র ও আস্থার শেষ ঠিকানা। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে সারাজীবন মিছিলে-মিটিংয়ে ও জনসভায় সাধ্যমতো অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর এই নিরলস উপস্থিতি এবং আদর্শিক দৃঢ়তা নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের জন্য আজও এক বড় অনুপ্রেরণা।

রোকেয়ার প্রভাব

ময়মনসিংহসহ দেশজুড়ে রোকেয়া বেগমের বহু গুণগ্রাহী ছড়িয়ে আছেন। তাঁর সামাজিক ও শ্রেণিগত অবস্থান এমন ছিল যে, তিনি চাইলে অনেকেরই অন্নসংস্থান বা উপকার করতে পারতেন। তবে যে অনন্য গুণের জন্য তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তা হলো তাঁর স্পষ্টবাদিতা। তিনি সুবিধাবাদীদের মুখের ওপর ‘সুবিধাবাদী’ বলার সাহস রাখতেন এবং প্রয়োজনে তাদের সাথে আজীবনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষমতাও রাখতেন। তাঁর হৃদয়টি ছিল প্রকৃত সমাজতন্ত্রী, সমাজ-গণতন্ত্রী, প্রগতিশীল এবং মানবতাবাদীদের এক অকৃত্রিম আশ্রয়স্থল।

আজ রোকেয়া বেগম শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই; কিন্তু সুবিধাবাদী, সংশোধনবাদী, মতান্ধতাবাদী এবং অসর্বহারা চিন্তার তল্পিবাহকেরা তাঁর প্রিয় সংগঠন সিপিবি-বাসদসহ রাজনীতির নানা স্তরে আজও ঘাপটি মেরে আছে। তাঁর প্রয়াণে বহু মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা গভীর ছিল। প্রগতিশীল কবি শামসুল ফয়েজ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকাতুর হয়ে যে কবিতাটি লিখেছিলেন, তার কয়েকটি চরণ এই সত্যকেই প্রতিধ্বনিত করে:  

“সমস্যায় সংকটে দুর্দিনে দুঃসময়ে
আশ্বস্ত হয়েছে যারা তার মধুর কণ্ঠের বচনে,
তারা রুদ্ধবাক অবিরাম শোকের দহনে।
দুধঅলা, গৃহকর্মি, দৈনিক পত্রিকার হকার,
বিপন্ন বিপ্লবী, চন্দ্রাহত কবি, অচেনা কমরেড,
রবীন্দ্র সংগীতের বিমুগ্ধ অনুরাগী,
লাঞ্ছিত-বঞ্চিত নারী প্রিয়জন হারানোর
বেদনায় মুহ্যমান-ব্যথাহত।”[১]

রোকেয়া বেগমের মৃত্যু

অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম ২০১২ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৭৩ বছর বয়সে তিনি বিদায় নেন। জীবনের শেষ প্রৌঢ়ত্বেও তিনি যেমন অদম্য ছিলেন, তেমনি রোগের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইটিও ছিল এক অঘোষিত সংগ্রামের মতো। তাঁর প্রস্থান ময়মনসিংহের প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে খুব সাধারণ ও স্মৃতিঘন এক পরিবেশে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল। সেই স্মৃতির ব্যাপ্তি হয়তো খুব বেশি নয়, তবে আমার মতো এক ক্ষুদ্র মানুষের জীবনের জন্য তা এক অমূল্য ও সতেজ সম্বল হয়ে থাকবে। তাঁর অটল আদর্শ, সাহস ও ধৈর্য এদেশের শোষিত মানুষের আগামীর পথচলাকে আরও গৌরবময় করে তুলবে—এমনটাই আমার বিশ্বাস ও একান্ত কামনা।[২]

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. শামসুল ফয়েজ, ২৫ অক্টোবর, ২০১২, একজন মহীয়সী নারীর প্রস্থানে, শামসুল ফয়েজ নিবেদিত কবিতা, কুডুরাগাঁও ব্লগ, ২৭ ডিসেম্বর ২০১২।
২. লেখাটি প্রথমে প্রাণকাকলি ব্লগে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে রোদ্দুরে ডট কমে প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে প্রকাশ করা হচ্ছে।

Leave a Comment