তোরসা নদীর ধারে ধারে ওই, দিদিগো মানসাই নদীর ধারে

তোরসা নদীর ধারে ধারে গানটি বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভাওয়াইয়া গান, যা উত্তরবঙ্গ এবং কোচবিহার অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই গানটি মূলত বিরহ এবং প্রেমের আবেগ প্রকাশ করে।

তোরসা নদীর ধারে ধারে গানটির মূল শিল্পী ছিলেন লোক সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। তিনি এই গানটি তার দরদভরা কণ্ঠে গেয়ে গানটিকে ব্যাপক জনপ্রিয় করেন।

গানটির ধরন হচ্ছে এটি একটি ধ্রুপদী ভাওয়াইয়া গান। তোরসা নদীকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও বিরহের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে।

গীতিকার ও সুরকার

গানটি সাধারণত একটি ঐতিহ্যবাহী (ইংরেজি: Traditional) লোকগান হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু তথ্যসূত্রে এর গীতি রচনায় আব্দুল করিমের নাম পাওয়া যায় এবং সুরারোপ করেছেন খোদ আব্বাসউদ্দীন আহমদ।

অন্যান্য শিল্পী

আব্বাসউদ্দীন আহমদ ছাড়াও পরবর্তীতে উৎপলেন্দু চৌধুরী, অঙ্কন, এবং কবিতা রায় সহ অনেক আধুনিক ও লোকসংগীত শিল্পী বিভিন্ন সময়ে এই গানটি গেয়েছেন।

তোরসা নদীর প্রভাব

এই গানটিতে উত্তরবঙ্গের খরস্রোতা তোর্সা নদীকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের মনের অস্থিরতা বা ‘উথাল পাথাল’ আবেগকে প্রকাশ করে। গানটির সাথে দোতরা এবং বাঁশির সুর এক অনন্য আবহ তৈরি করে।

তোরসা নদীর ধারে ধারে গানের কথা

তোরসা নদীর ধারে ধারে ওই
দিদিগো মানসাই নদীর ধারে।
আজি সোনার বঁধু গান গাহিয়া যায়
দিদি তোর তরে কি মোর তরে কি
নদীর পাড়ে পাড়ে।।

ঢেঁকি পাড়ায় বড় বহিন গো ছোট বহিন ধান ঝাড়ে
দিদি গো ছোট বহিন ধান ঝাড়ে
আর মেজ বোনের বুকের ব্যথা ওই
দিদি অঝোর ধারে ঝরে ওই চোখের কিনারে।।

যায় চলে আর পিছন পানে তাকায় থাকি থাকি
ও দিদি ওই, যায় যে চলে কেমন করে ডাকি
ভিন গাঁয়ের ওই নিদয় বঁধু মন কাড়িয়া লয়
দিদি গো মন কাড়িয়া লয়
মোর বুকের মাঝে তুষের আগুন গো
দিদি জ্বলে আর জ্বালায় আজ কেন বারে বারে।।

আরো পড়ুন

বাসুদেব বাউলের কণ্ঠে গানটি শুনুন ইউটিউব থেকে

Leave a Comment

error: Content is protected !!