শাহেরা খাতুনের (২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮ – ০২ জুন ২০২১) গাওয়া তিনটি মেয়েলী গীত বা সহেলা গীত ফুলকিবাজ প্রকাশ করছে। উত্তরবঙ্গের মেয়েলী গীতের এই শিল্পী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বহু ধরনের অবদান রেখেছেন। তিরাশি বছর বয়সে মৃত্যুর চার মাস পূর্বে শাহেরা খাতুনের গাওয়া এই মেয়েলী গীত তিনটি রেকর্ড করা হয়। অনুপ সাদির করা এই ভিডিওগুলো গ্রহণ করা হয় ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে। শাহেরা খাতুন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এই লিংক থেকে।
১. আকাইলা ভাদরে নুনে তেলেরে
আকাইলা ভাদরে নুনে তেলেরে,
কবিতর ভাজনু ঘিয়ে,
কে কে যাবি যাদোরাণীর হাটেরে,
সাজো সখিনা সাজোরে।
সবাই আসে ঘুরে ফিরেরে
সমীরণকে নিয়া গেল চোরে
কান্দে কাটে সাইফন বেটিরে
ধুলাতে গড়াগড়ি করে,
হাসে খেলে মূলবি জাঁউইরে [জামাইরে]
মুখে রুমাল দিয়া।।
২. চালে ধরে চালের কুমড়া
চালে ধরে চালের কুমড়া
কেউ কি বুঝে ময়নারে
কেমনে বাঁচিব।
ময়নার বিহা দিয়াছি বেটারে
সাতও লদীর ধারেরে
কেমনে বাঁচিব।
ঝোলাতে পানি বাইন্ধা বেটারে
ময়নার খোঁজে যাবোরে
কেমনে বাঁচিব।
ঝাড়োঝুড়ো দিয়া ময়নারে
ঝাইটন ফেলিতে যাবোরে
কেমনে বাঁচিব।
ঝাইটন ফেলিতে যায়া ময়নারে
ভায়ের দুঃখে কাঁদোরে
কেমনে বাঁচিব।
উতরা দখিণা বাতাসে ময়নারে
পিঠের কাপড় উড়েরে
কেমনে বাঁচিব।
ময়না রিনা পিঠে বহিনরে
কিসের দাগও দেখিরে
কেমনে বাঁচিব।
শাহেরা খাতুনের গাওয়া গীত দুটি শুনুন ইউটিউব থেকে
৩. তল্লাঝাড়ের বাঁশিরে আমার
তল্লাঝাড়ের বাঁশিরে আমার
গুঠোল গুঠোল বিন্দো
সেই বাঁশি লিয়ারে সাদিকুল
গোসলে চলিলরে
উপর পাটালে রাইখা সাদিকুল
নামো পাটালে গেলরে
নামো পাটালে যায়া সাদিকুল
গোসলে নামিলরে
এক ডুব দিয়া সাদিকুল
দুই ডুব দেয়রে
দুই ডুব দিয়া সাদিকুল
তিন ডুব দেয় রে
তিন ডুব দেওয়ার সময়
বাঁশি চুরি হইলোরে
বাঁশি না পাইয়ারে সাদিকুল
কান্দিতে লাগিলোরে
কাঁদিতে কাঁদিতে সাদিকুল গেল
মায়েরও কাছেরে
কি দুঃখ হয়েছে বাছা কহো
আমার কাছেরে
প্রেমিক চোর বউ তোমার বাঁশি
চুরি করিলোরে
ভাই খাওয়া বউরে আমার
বাঁশি ফেরত দেওরে
বাবা খাওয়া বউরে আমার
বাঁশি ফেরত দেওরে
বাঁশি যদি ফেরত না দেও
ডাকব গ্রামের মড়লরে
গ্রামের মড়ল ডাইকারে বউ
নুন পড়া খাওয়াবোরে।
শাহেরার গাওয়া বিয়ের গীতটি শুনুন ইউটিউব থেকে
আরো পড়ুন
- আধুনিক বাংলা গান সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী
- এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা, নিষেধের বেড়াজালে বিষণ্ণ হাসির গান
- রাখালিয়া সুর আনে মৃদু সমীরণ আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি আধুনিক বাংলা গান
- এই ঝির ঝির ঝির বাতাসে এই গান ভেসে ভেসে আসে, সেই সুরে সুরে মন নাচে উল্লাসে
- বনে বনে বসন্ত আসে বকুলের গান যায় ছড়িয়ে শিরশিরে ফাল্গুনী হাওয়া
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের গান আধুনিক বাংলা গানের ধারায় রচিত
- এই জীবনের যত মধুর ভুলগুলি, ডালে ডালে ফোটায় কে আজ বুলিয়ে রঙিন অঙ্গুলি
- বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার
- যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই কেন মনে রাখ তারে
- বিনয় রায় ছিলেন আধুনিক বাংলা গান ও গণসংগীতের গীতিকার ও রাজনৈতিক কর্মী
- আর কতকাল, বলো কতকাল, সইব এ মৃত্যু অপমান
- তোরসা নদীর ধারে ধারে ওই, দিদিগো মানসাই নদীর ধারে
- শুক-শারী সংবাদ হচ্ছে গোবিন্দ অধিকারী রচিত লোকসংগীত ও বৈষ্ণব পদাবলির গান
- বাংলাদেশের সংগীত হচ্ছে এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন
- বাংলা সংগীত হচ্ছে হাজার বছর ধরে চলমান এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অধিকারী
- শাহেরা খাতুনের গাওয়া তিনটি মেয়েলী গীত বা সহেলা গীত
- একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি — পীতাম্বর দাসের রচিত বাংলা দেশপ্রেমের গান
- আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে! সপ্ত-সিন্ধু কল্লোল রোল বেজেছে
- হীরেন বসু আধুনিক বাংলা ভাষার গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক
- প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে ছিলেন আসামের গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের রাজকন্যা
- প্রতিমা বড়ুয়ার গান হচ্ছে উত্তরবঙ্গের এমন ধরন যার মূল বিষয় শ্রম, বেদনা, প্রেম
- জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র ছিলেন বিংশ শতকের কবি, লেখক, গীতিকার
- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন রোম্যান্টিক গানের জনপ্রিয় গীতিকার
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত বাংলা গান হচ্ছে প্রেম, স্বদেশী ও হাসির গান
- অতুলপ্রসাদ সেনের রচিত বাংলা গান হচ্ছে দেশপ্রেম, ভক্তিমূলক ও প্রেমের সংগীত
- নজরুল গীতি হচ্ছে দেশপ্রেম, প্রেম, ধর্মসংগীতসহ রাগ ধারার গান
- অজয় ভট্টাচার্য ছিলেন আশাবাদী, রোমান্টিক গীতিকার ও কবি
- ভাদু মূলত কৃষি বা ফসল তোলার উৎসবকে কেন্দ্র করে আচার অনুষ্ঠানের গান
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।