একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি বা ক্ষুদিরামের ফাঁসি হচ্ছে বাংলা দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে একটি খুবই উল্লেখযোগ্য গান। গানটির গীতিকার ও সুরকার বাঁকুড়ার লোককবি পীতাম্বর দাস সরল লৌকিক ঝুমুর বাউল সুরে গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। গানটি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী মহান বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর (৩ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ – ১১ আগস্ট, ১৯০৮) আত্মদানকে সম্মান জানিয়ে রচিত হয়। তৎকালীন সময়ে গানটি খুব জনপ্রিয় হয় এবং সারা বাংলায় লোকজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে ক্ষুদিরাম বসু এখনো বিশেষ সম্মানের সঙ্গে আলোচিত ও স্মরিত হন। ক্ষুদিরামকে নিয়ে লেখা এই গানটি বাংলার কৃষকগণ এখনো মনোযোগের সাথে গেয়ে থাকেন। ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি উপলক্ষে প্রথম পুরুষে আখ্যান কবিতার আকারে এই দ্ব্যর্থবোধক গানটি রচিত হয়েছিল। এটি শুনলে মনে হয় ক্ষুদিরাম একাধারে নিজের মা এবং দেশজননীর কাছে বিদায় চাইছেন।
১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষচন্দ্র চলচ্চিত্রে এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে গানটির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন ভারতের প্রতিক্রিয়াশীল জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। লতার গানটি সারা বাংলার জনগণ তীব্র আবেগের সাথে বিশ শতক জুড়েই শুনতে থাকে। নাগরিক জীবন থেকে গ্রামীণ জীবন পর্যন্ত গানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এই গানটির বাণী ও সুর আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। মর্মস্পর্শী এই দেশাত্মবোধক গানটি পরবর্তীতে গণসংগীতের মর্যাদা লাভ করেছে। এছাড়া পীতাম্বর দাসের আর একটি জনপ্রিয় লোকসংগীত হলো ‘বন মাঝে রাধা’।
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি গানের কথা
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি,
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী।।
কলের বোমা তৈরি করে
দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো,
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আরেক ইংল্যান্ডবাসী।।
শনিবার বেলা দশটার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে, মাগো
হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁসি।
দশ মাস দশদিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে, মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস দেখবি গলায় ফাঁসি।।
আরো পড়ুন অনুপ সাদির প্রবন্ধ ক্ষুদিরাম বসু বাঙলার অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী।
গানটি ইউটিউবে শুনুন নিচের ক্লিক করে
আরো পড়ুন
- বন্ধন-ভয় তুচ্ছ করেছি উচ্চে তুলেছি মাথা
- তেলের শিশি ভাঙল বলে, খুকুর পরে রাগ করো
- তোরসা নদীর ধারে ধারে ওই, দিদিগো মানসাই নদীর ধারে
- নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল
- শুক-শারী সংবাদ হচ্ছে গোবিন্দ অধিকারী রচিত লোকসংগীত ও বৈষ্ণব পদাবলির গান
- বাংলাদেশের সংগীত হচ্ছে এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন
- বাংলা সংগীত হচ্ছে হাজার বছর ধরে চলমান এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অধিকারী
- ভয় নেই, ভয় নেই, মরণের পাল তুলে জীবন তো আসবেই
- মুক্তিরণের সাথী ওরে মুক্তিরণের সাথী
- এসো মুক্ত করো, মুক্ত করো অন্ধকারের এই দ্বার
- শাহেরা খাতুনের গাওয়া তিনটি মেয়েলী গীত বা সহেলা গীত
- একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি — পীতাম্বর দাসের রচিত বাংলা দেশপ্রেমের গান
- আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে! সপ্ত-সিন্ধু কল্লোল রোল বেজেছে
- হীরেন বসু আধুনিক বাংলা ভাষার গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক
- শেফালী তোমার আঁচলখানি বিছাও শারদ প্রাতে, চরণে চরণে তোলো রিনিঝিনি
- আমার আঁধার ঘরের প্রদীপ যদি নাইবা জ্বলে, কণ্ঠ-মালার বকুল যদি যায় গো দ’লে
- প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে ছিলেন আসামের গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের রাজকন্যা
- প্রতিমা বড়ুয়ার গান হচ্ছে উত্তরবঙ্গের এমন ধরন যার মূল বিষয় শ্রম, বেদনা, প্রেম
- জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র ছিলেন বিংশ শতকের কবি, লেখক, গীতিকার
- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন রোম্যান্টিক গানের জনপ্রিয় গীতিকার
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত বাংলা গান হচ্ছে প্রেম, স্বদেশী ও হাসির গান
- অতুলপ্রসাদ সেনের রচিত বাংলা গান হচ্ছে দেশপ্রেম, ভক্তিমূলক ও প্রেমের সংগীত
- কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত হচ্ছে দেশপ্রেম, প্রেম, ধর্মসংগীতসহ রাগ ধারার
- ভাদু মূলত কৃষি বা ফসল তোলার উৎসবকে কেন্দ্র করে আচার অনুষ্ঠানের গান
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি রচনাকাল ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ এবং সেদিনই রোদ্দুরে.কমে প্রকাশিত হয়। ফুলকিবাজে প্রকাশের সময় ঈষৎ পরিবর্তন করা হয়েছে।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।