ধনিক শ্রেণির ক্ষমতা ভাগাভাগির ভোট প্রত্যাখ্যানের আহ্বান

বুর্জোয়া ধনিক শ্রেণির ক্ষমতা ভাগাভাগির ভোট প্রত্যাখ্যান করে নিপীড়িত জনগণের মুক্তির জন্য বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন। আসন্ন বুর্জোয়া ভোট উপলক্ষে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা ময়মনসিংহ আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে ২০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আন্দোলন পত্রিকা গণবিক্রি, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ইত্যাদি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ ব্রীজের মোড়ে গত ০১ ফেব্রুয়ারী প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা ময়মনসিংহ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক রুমেল, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা শাখার নেতা আনোয়ার সরকার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেলা সংগঠক সজিব আকন্দ, পাভেল আহমেদ, আকাশ সরকার প্রমুখ।

পথসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নিয়ন্ত্রণে এদেশের বুর্জোয়া বড় ধনিক শ্রেণির ক্ষমতা ভাগাভাগির ভোট বা নির্বাচনে শ্রমিক কৃষকসহ নিপীড়িত জনগণের কোনো মুক্তি হবে না। নিপীড়িত জনগনণের মুক্তির জন্য বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

পথসভায় বক্তারা আরও বলেন, ৫৪ বছরে শাসক শ্রেণির দলগুলো পালাবদল করে ক্ষমতায় এসে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। আর জনগণের উপর চালিয়েছে শোষণ ও অত্যাচার। বকেয়া বেতনের দাবীতে শ্রমিক আন্দোলন করলে পুলিশের গুলিতে মরতে হয়েছে। ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষক আত্মহত্যা করেছে। নারীরা ঘরে-বাইরে সর্বত্র নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর উপর চলেছে একই কায়দায় নিপীড়ন। সঠিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণরা দিশেহারা, মাদকাসক্ত। নিত্যপণ্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এ অবস্থায় আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে তারা আবার নতুন করে শোষণের যাতাকলে ফেলতে নিত্যনতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।

জনগণ অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলেও উন্নয়নের নামে শোষণ এবং নিপীড়নেরও শিকার হয়েছেন। জনগণ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তুলেছিলেন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের পরেই নব্য-ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটছে যেখানে জনগণের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় নি, বরং তাদের জীবনে আজও নানা দুর্ভোগ চলমান। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল বুর্জোয়া দলগুলো সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী শক্তির তত্ত্বাবধানে নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা করার খেলা খেলে। ইউনুস সরকারের নেতৃত্বে ইন্টেরিম সরকারও সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের তাবেদারি করছে। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কর্পোরেশন ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দিয়ে দিচ্ছে। জনগণকে অন্ধকারে রেখে গণ-বিচ্ছিন্ন সরকারগুলো অতীতেও দেশ-বিরোধী চুক্তি করেছে, ইউনুস সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়।

এখন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতসহ বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলো সহিংসতা শুরু করেছে, যার ফলে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে গত কয়েক মাসে। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী দলের নেতারা নারীবিদ্বেষী ও নারী অধিকারবিরোধী কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। এতেই বোঝা যায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অকার্যকর। বাস্তবে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, নারী আদিবাসীসহ নিপীড়িত জাতি-জনগণের মুক্তির প্রশ্নে মৌলিক পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি এই বুর্জোয়া দলগুলোর নেই। সবই ভোটের জন্য জনগণকে “আই ওয়াশ” করার বুলিবাগিশতা মাত্র।

তারা বলেন, বামপন্থী নামধারী ও কমিউনিস্ট নামধারী কিছু দল জনগণের অধিকারের কথা বলে নির্বাচনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে বুর্জোয়াদের লেজুড়বৃত্তি করছে। এরা আকৃতিগত ভাবে যাই হোক, সারবস্তুতে বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীলরাই তাদের বন্ধু, জনগণ নয়। বক্তাগণ বুর্জোয়া নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের সরকার, সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী লড়াই সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান।

আরো পড়ুন

এছাড়াও পরদিন দ্বিতীয় দিনের মতো গত ০২ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ময়মনসিংহ নগরীর রেলস্টেশন তাজমহল মোড় ও পরে চরপাড়া মোড়ে বুর্জোয়া সংস্কার ও নির্বাচনে জনগণের মুক্তি নেই শীর্ষক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণমোর্চা, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!