ছাত্র হত্যার বিচার, কারফিউ প্রত্যাহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া, ছাত্র হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ সহ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের যৌথ উদ্যোগে আজ (৩ আগস্ট, ২০২৪) বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরোজ খান আদরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানান হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হানউদ্দীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা। এছাড়াও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুশতাক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন কণা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্তী, শ্রমিকনেতা খালেকুজ্জামান লিপন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনামুল হাসান অনয় এবং সুহাইল আহমেদ শুভ।
সংহতি সমাবেশের শুরুতে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য, শ্রমজীবী মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংহতি জানান। সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে শহীদদের প্রতি অস্থায়ী শহীদ বেদীতে জনসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সমাবেশে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “৬৯ এ আইয়ুব খানের যে পরিণতি হয়েছিল হাসিনারও একই পরিণতি হতে যাচ্ছে। লাঠি-গুলি মেরে গণ আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। লাশের উপর দিয়ে সংলাপ হয় না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন কণা বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। স্মরণকালের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।”
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এখন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বুকে গুলি করেও যখন আমাদের দমানো যায়নি তখন আর কোনো কিছুতেই আমাদের দমানো যাবে না। স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেই আমরা ঘরে ফিরবো।”
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, “ছাত্রদের আন্দোলনে আমাদের আমাদের সমর্থন ছিল, আছে এবং থাকবে। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানাই। স্বৈরাচারের পতনের মধ্যে দিয়েই আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করবো।”
আরো পড়ুন
- সাম্যবাদী দলসমূহের বিবৃতিতে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবি
- জনগণতান্ত্রিক ছাত্র সঙ্ঘ স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে
- ছাত্র-জনতার খুনী হাসিনা সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি
- ফুলবাড়ি উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে এক মহান কৃষক সংগ্রাম
- আলতাব আলী ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতিক ও শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের নেতা
- বাংলাদেশের গণযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য চালিত সশস্ত্র সংগ্রাম
- আবু তাহের ছিলেন সাম্রাজ্যবাদের যুগের বামপন্থী সমাজগণতন্ত্রী বিপ্লবী
- বাঙালির আত্মপরিচয় ও নবজাগরণ সম্পর্কে আবুল কাসেম ফজলুল হক
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিতে ঘরে বাইরে একটি গোষ্ঠী অপেক্ষায় আছে
- মধ্যবিত্ত কেন রাজনীতিবিমুখ?
সংহতি জানিয়ে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগরের সভাপতি জগদীশ চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) সভাপতি গৌতম শীল, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন খান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দেসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত হাজারো ছাত্রজনতার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে ফুলকিবাজের সঙ্গে রয়েছেন ফুলকিবাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অঞ্চলের শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ। তারা দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদেরকে প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রদান করলে আমরা সেগুলোকে প্রকাশ করে থাকি।