লেখক অনুপ সাদি: মানুষ ও মননের পর্যালোচনা
অনুপ সাদি পেশায় একজন শিক্ষক, একই সঙ্গে একজন প্রবন্ধকার ও গবেষণামনস্ক লেখক। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও তাঁর চিন্তার পরিসর বিস্তৃত—সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য ও মানুষের মনন নিয়ে তিনি নিরন্তর ভাবেন এবং লেখেন। ব্যক্তিগতভাবে সামনে থেকে লেখককে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অনুপ সাদি একজন অমায়িক ও সংযত মানুষ। প্রথম পরিচয় বা হঠাৎ দেখায় তাঁকে পুরোপুরি বুঝে ওঠা সহজ নয়। তিনি প্রচারমুখী নন, উচ্চকণ্ঠ নন—বরং ভেতরে ভেতরে যুক্তিবাদী ও বস্তুবাদী এক মানুষ, যিনি বিশ্বাস করেন চিন্তার মধ্য দিয়েই পরিবর্তন সম্ভব। নেতিবাচক সময়ের মধ্যেও কীভাবে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই নীরব লড়াইটাই তিনি চালিয়ে যান।
তাঁর লেখায় আবেগের চেয়ে যুক্তি প্রবল, কিন্তু সেই যুক্তি শুষ্ক নয়—মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার জন্ম। শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি প্রশ্ন করতে শেখান, লেখক হিসেবেও তেমনি পাঠককে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করান। সহজ ভাষায় জটিল বিষয় তুলে ধরার ক্ষমতা তাঁর লেখার অন্যতম শক্তি।
অনুপ সাদির এই মানবিক ও যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গিই নারী গ্রন্থের সম্পাদনায় যেমন প্রতিফলিত হয়েছে, তেমনি “নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ” গ্রন্থে হুমায়ুন আজাদকে বোঝার ক্ষেত্রে একটি সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে এই বইগুলো কেবল বিষয়নির্ভর কাজ নয়, বরং একজন চিন্তাশীল শিক্ষকের সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ।
বাংলা ভাষার বৌদ্ধিক চর্চায় কিছু বই থাকে, যেগুলো কেবল পাঠ্য নয়—সেগুলো পাঠকের চিন্তাকে বিকশিত করে, পুরোনো বিশ্বাস ভাঙে এবং নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনুপ সাদি রচিত নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ এবং অনুপ সাদি ও তাহা ইয়াসিন সম্পাদিত নারী—এই দুইটি বই ঠিক তেমনই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যাদের কেন্দ্রে রয়েছে সত্য বলা, ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়ানো এবং ইতিহাসের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসা।
“নারী”: চারশো বছরের নিপীড়নের ভাষ্য
নারী গ্রন্থটি মূলত গত চারশো বছরের নারী বিষয়ক শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর একটি সংকলন। দুই বাংলার বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের লেখায় এখানে উঠে এসেছে নারীর জীবন, সংকট, সংগ্রাম, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাস। এই বইটি পাঠ করতে গিয়ে স্পষ্ট হয়—নারী নিপীড়ন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত সামাজিক-রাষ্ট্রীয় প্রকল্প, যেখানে আইন, ধর্ম, পরিবার ও রাষ্ট্র একত্রে পুরুষতন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
এই গ্রন্থে নারীর ঐতিহাসিক পরাজয়, লৈঙ্গিক রাজনীতি এবং পুরুষতান্ত্রিক বলপ্রয়োগের বিশ্লেষণ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নারীর মধ্যেই কীভাবে পুরুষতন্ত্রের জয়গান গেয়ে ওঠার প্রবণতা তৈরি হয়েছে তার ব্যাখ্যা। দাসত্বের শেকলে আবদ্ধ দাস যেমন একসময় প্রভুর গুণগান করে, তেমনি বহু নারীও অজান্তেই পুরুষতন্ত্রকে বৈধতা দিয়েছে—এই নির্মম সত্যটিও বইটি সামনে আনে।
নারী বই শুরু হয়েছে অম্লান দত্তের লেখা “নারী মুক্তি” দিয়ে যেটাতে দেখা যায় বিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আন্দোলনের ভিতর দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে এ যুগের নব প্রজন্মের আন্তরিক ঝোঁক ও আকাঙ্খা; যখন এসবের কোনো প্রভাব ছিল না ইতিহাসের গতির উপর। ভবিষ্যতের সমাজের পক্ষে এরকমই গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নারী মুক্তির আন্দোলন; যা যুদ্ধের মতো বিস্ফোরক নয়, কিন্তু সামাজিক ধ্যানধারণা ও অভ্যাসের সঙ্গে নতুন যুগের বিরোধ আছে।
জানা যায় এক সময় নারীদের ভোটের অধিকার ছিল না। সমাজের ধারণা ছিল যে, পরিবারের গৃহকর্তা ভোট দিলে, স্ত্রীকে আলাদাভাবে ভোট দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সর্বসাধারণের জন্য ঐ অধিকার যেদিন প্রতিষ্ঠিত হয় নারীরাও সেদিন ভোটের অধিকারিণী বলে গণ্য হয়। শুধু ভোটের ক্ষেত্রেই নয় এদেশের সংবিধানে আরো নারী ও পুরুষের ভিতর সাম্যের কথা আইনত স্বীকৃত হয়েছে। কিন্তু সংবিধান আর সমাজ ভিন্ন বস্তু। সংবিধানে নাগরিক হিসেবে নারীর অধিকার পুরুষের সমান হলেও সমাজ অথবা প্রকৃতি নারী ও পুরুষকে অসমান করে গড়ে তুলেছে। আর তর্কের শুরু এখান থেকেই। সামর্থ্যের দিক থেকে যদি নারী ও পুরুষ সমান না হয় তবে অধিকারের বেলাতেও শেষ অবধি তারা অসমানই থেকে যায়। প্রাকৃতিক সূত্রে নারী পুরুষের ভিতর কিছু পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু তা অযথা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। সাধারণত যে প্রভেদটা আমাদের চোখে পড়ে তা প্রকৃতির সৃষ্টি নয়, সমাজের সৃষ্টি।
“নারীর বোরখা বোরখার নারী” রচনাটিতে লেখক আনু মুহাম্মদ বোরখা নিয়ে লিখেছেন। নারীর বোরখা বলতে আমরা সাধারণত বুঝি নারীদের এক ধরনের বহিরাঙ্গিক পোশাক যা সারা শরীর ঢেকে রাখে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী পর্দা বজায় রাখার স্বার্থে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে, বিশেষ করে পুরুষমহলে, যাওয়ার সময় এটি পরিধান করে থাকে। শুধু বোরখা নয়, অনেকে আবার বোরখার সঙ্গে যুক্ত করতেন হাত ও পায়ের মোজা।
বোরখাটা কিছু কিছু নারীদের সীমাবদ্ধ আটকে থাকা জীবনের প্রতীক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বোরখা মানেই ফ্যাসিবাদী বা যুদ্ধাপরাধীর রাজনীতি নয়। বোরখা মানেই মুসলিম পোশাক নয় বা অপশ্চিমী পোশাক নয়। বোরখার মতো পোশাক বরঞ্চ পশ্চিমেই আগে ব্যবহার হয়েছে। প্রাচ্যে বাংলায় বোরখা কখনোই সকল নারীর পোশাক ছিল না। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে এটি বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তিশালী অভিজাত পরিবারের নারীর পোশাক হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। তাছাড়া বোরখা সবাই এক কারণেও পরে না। বোরখা পরার সঙ্গে সবসময় যে বোরখা পরিহিতারা তার নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস বা মতাদর্শ সম্পর্কিত থাকে না সেটা এমনিতে খেয়াল না করলেও আশেপাশে একটু ভাল করে তাকালেই বুঝা যায়। অনেক ঘটনা, পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে,পাঁচটি কারণে বোরখা একজন নারীর জন্য নিয়মিত পোশাক হয়ে উঠতে পারে; (১) আত্মরক্ষা বা আশ্রয়; (২) বিশ্বাস; (৩) জবরদস্তি; (৪) পছন্দ;(৫) আভিজাত্য অর্জন।
সামাজিক জীবনে নারী এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। রাস্তায় এখন শ্রমিক নারী মধ্যবিত্ত নারী দুজনকেই বেশি দেখা যায়। বস্তুত নারী শ্রমিক এখন যেভাবে একটি সামাজিক শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর অবস্থায় এসেছে সেটা আগে কখনোই ছিল না। কিন্তু এই অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিরোধ এবং হামলাও আসছে বিভিন্নভাবে। তাই শুধু বোরখা দিয়েই কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না। বোরখার মধ্যে যে পুরুষতান্ত্রিক আক্রমণের ছাপ আছে তাকে গ্রহণ না করলে এই পোশাক পরেও একজন নারী নিজের উপলব্ধির জগতকে ক্রমে প্রসারিত করায় নিয়োজিত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে রোকেয়াই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবার অন্যদিকে বোরখা না পরেও নিজের ভেতর ধারণ করা যায় উল্লিখিত ভয়াবহ, আত্মপীড়নমূলক, আত্মঘাতী মতাদর্শ।
আশালতা দেবীর “নারী”-তে উল্লেখ আছে প্রাচীন গ্রীসে ও রোমে একদা নারীকিরণ বর্ষনের জন্য দু-একটি বাতায়ন খোলা হয়েছিল। পুরুষের মনোবৃত্তির ওপর নারীর প্রেরণা অত্যন্ত কাজ করে এবং তার সৃষ্টিশক্তির পক্ষেও নারী লাবণ্য বর্ষণ অত্যাবশ্যক। অর্থাৎ এতে বোঝায় যে সৃষ্টি করার ক্ষমতা নারীর নেই। তার কাজ লালন ও রক্ষণ। কিন্তু তা স্বীকার করাও দুরাসাধ্য। প্রতিভা থাকলেও স্থায়ী সৃষ্টির জন্য বহু সাধনার প্রয়োজন। যার সুযোগ আমাদের দেশের স্ত্রীলোকরা পায় নি।
“নির্বাচিত কলাম”-এ তসলিমা নাসরীন লিখেছেন নারীদের বেড়াজালের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা। একই রক্তে মাংসে গড়া তবুও কোথাও যেনো পার্থক্য রয়ে গেছে। একটা ছেলে বা পুরুষ যখন মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে বাড়ির উঠোনে জামা খুলে ফেলতে পারে সেখানে একটা তেরো বছর বয়সী মেয়ে তার চেয়ে অধিক গরমে কাতর হয়েও পারেনা অবলীলায় জামা খুলে ফেলতে। যে মানুষ এত বন্ধন, এত প্রতিবন্ধকতা বহন করে জীবন শুরু করে সে খুব কম বিপত্তি কম গলি ঘুপচি, কম অন্ধকার, কম পর্বত অরণ্য পেরিয়ে বয়স্ক হয় না।
যে কোনও নারীই গায়ে একটি বেড়ি অনুভব করে, নারীত্ব বেড়ি। একজন নারী তার সীমিত অঙ্গণে পদচারণা করে পদক্ষেপকে সংযত এবং সংক্ষিপ্ত করে।পার্থক্যটা আমাদের তৈরি ।এ সমাজের তৈরি। সকল অন্যায়-অপবাদ এর দায়বদ্ধতা নারীদের মধ্যে ধারণ করে নিয়েছে। এ সমাজের বিপরীত লিঙ্গের অসভ্যতার জন্য নারীরা নিজেদেরই দায়ী করে। প্রাকৃতিক বিভেদ ছাড়া নারী ও পুরুষের আসলে কোনও বিভেদ নেই। আর প্রাকৃতিক বিভেদই এই সমাজের সবচেয়ে বড় পুঁজি। এই পুঁজি খাটিয়ে তারা ব্যবসা করছে, মুনাফা লুটছে। যে মাটিকে মানুষ পায়ে পিষে মারে, খোদাই করে, খুবলে তোলে সেই মাটির নাম দিয়েছে জননী। মাটিকে নারীর মত ভাবা হয়, যেহেতু সে ‘ধারণ’ করে, সেহেতু সে নিষ্পেষিত হতে, সে কর্তিত বিদীর্ণ ও চূর্ণ হতে দ্বিধা করে না। নারীকে এমন এক খেলনা বানানো হয় যে, চাবি দিলেই পুরুষের বেষ্টনীর মধ্যে একবার সে ঢোল বাজাবে, একবার বাঁশি। মূলত পুরুষকে সে স্বস্তি দেবে, একই সঙ্গে রকমারি আনন্দ।
“মনুষ্যজাতি ও স্ত্রীগণ” রচনাটিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে নারী পুরুষ উভয়ই আমরা মানুষ। যেখানে আমরা জানি যে সকল মানুষের সমান অধিকার। সেক্ষেত্রে একজন পুরুষের ক্ষেত্রে একজন স্ত্রীও মনুষ্যজাতি হিসেবে সমান অধিকার তুল্য। স্ত্রী পুরুষে প্রকৃতিগত বৈষম্য আছে ঠিকই কিন্তু তাই বলে যে অধিকারগত বৈষম্য থাকা ন্যায়সঙ্গত তা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন যে স্ত্রীপুরুষে যেরূপ স্বভাবগত বৈষম্য, ইংরেজ বাঙালীতেও সেরূপ বৈষম্য বিদ্যমান। ইংরেজ বলবান, বাঙালী দুর্বল, ইংরেজ সাহসী বাঙালি ভীরু; ইংরেজ ক্লেশসহিষ্ণু, বাঙালি কোমল ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি এই সকল প্রকৃতিগত বৈষম্য হেতু অধিকারবৈষম্য ন্যায্য হত, তবে আমরা ইংরেজ বাঙালির মধ্যে সামান্য অধিকার বৈষম্য দেখে এত চিৎকার কেন করি। তাছাড়া যে সকল বিষয়ে স্ত্রীপুরুষের অধিকারবৈষম্য দেখা যায়, সে সকল বিষয়ে স্ত্রীপুরুষের যথার্থ প্রকৃতিগত বৈষম্য দেখা যায় না। যা দেখা যায় তা কেবল সামাজিক নিয়মের দোষে।
নারী গ্রন্থটি অধ্যয়নের ফলে পুরনো অনেক চিন্তাধারা ভেঙ্গেচুরে গুড়িয়ে দিতে বাধ্য। নতুন চিন্তাধারার জন্য বইটিতে আছে মহৌষধেরই মতো কিছু তথ্য। হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু চলবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নির্মাণ। নারী বইটি শুধু নারীর কথা বলেনি বলেছে সভ্যতার ভ্রান্ত ইতিহাসের কথা। যে ইতিহাসে ধর্ম আছে, রাজনীতি আছে, সাম্রাজ্য আছে, বিকাশের গল্প আছে অথচ নারী যেন থেকেও নেই তবুও সেই ইতিহাস নাকি পূর্ণাঙ্গ মানুষেরই ইতিহাস।
দুই বাংলার লেখকদের লেখা নিয়ে সম্পাদিত নারী বিষয়ক এই বই বিভিন্ন রচনার সমন্বয়ে একটি চমৎকার কাজ যেটি সম্পন্ন করেছেন অনুপ সাদি ও তাহা ইয়াসিন। সব মিলিয়ে নারী শুধু নারীর কথা বলে না; এটি সভ্যতার সেই ভ্রান্ত ইতিহাসকে উন্মোচন করে, যেখানে নারীকে বাদ দিয়েই “মানব ইতিহাস” লেখা হয়েছে।
“নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ”: সত্য বলার সাহসের দলিল
বাংলাদেশের প্রভাবশালী লেখকদের মধ্যে হুমায়ুন আজাদ অন্যতম স্পষ্টভাষী ও প্রাজ্ঞ ছিলেন। হুমায়ুন আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন এবং একই সাথে একজন বড় মাপের সৃষ্টিশীল মানুষও ছিলেন বটে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সেই বিরল বুদ্ধিজীবীদের একজন, যিনি সত্য বলার মূল্য জানতেন এবং সেই মূল্য দিতে ভয় পাননি। তিনি জানতেন—সত্য বললে আঘাত আসবে, হামলা আসবে, একঘরে করা হবে। তবুও তিনি থামেননি।
হুমায়ুন আজাদ সরাসরি কথা বলতেন। আমাদের দেশে সত্য বলার মতো সাহসী বুদ্ধিজীবী সংখ্যালঘু। যারাই সত্য বলেছেন তারাই পদে পদে সম্মুখীন হয়েছেন নানান বাধা বিপত্তির। কাজেই বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবীরা অযথা সত্য প্রকাশ করে ক্ষমতাশালী বা উগ্রবাদীদের চক্ষুশূল হতে চান না। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একেবারেই ভিন্ন। তিনি শাসক, ঘৃণ্য সমাজ অথবা ধর্মান্ধদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সত্যটি বলেই গেছেন প্রতিনিয়ত। তিনি জানতেন সত্য কথাটি বললে বাধা আসবে। বাধা এসেছেও। উগ্রবাদীরা হামলাও করেছে হুমায়ুন আজাদের উপর। কিন্তু তিনি টলে পড়েননি। তিনি স্রোতের প্রতিকূলে সত্য কথাটি বলে গেছেন।
সেই সত্য ভাষ্যের এক অনন্য পথিক, বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হুমায়ুন আজাদ; যাকে নিয়ে, অথবা যার জীবনের ভিন্ন কিছু দিক লেখক অনুপ সাদি তাঁর লেখা নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। লেখকের রচিত নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধটি লিখেছেনই মূলত বাংলা ভাষার এক নিরন্তর সংগ্রামী নিরন্তর সংগ্রামী মানুষটির জীবন, চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের ভিন্ন দিকগুলোকে কেন্দ্র করে। এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে হুমায়ুন আজাদের জীবনের ভিন্ন কিছু দিক যা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। বইটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাঁর জীবনবোধ, কর্মপদ্ধতি ও চিন্তাধারা; এসব কিছুর আলোচনা বইটির শুরুতেই ‘হুমায়ুন আজাদ আমাদের কালের কর্মমুখর নায়ক’ প্রবন্ধে করা হয়েছে। সত্যি হুমায়ুন আজাদ আমাদের কালের কর্মমুখর নায়ক ছিলেন। যার চিন্তাভাবনা, চলাফেরা, সকল কিছুই এ যুগের তরুণদের প্রভাবিত করেছিলো। তিনি যে শুধুই লিখে গেছেন তাই নয়, হুমায়ুন আজাদ এ যুগের তরুণদের দেখিয়ে বা শিখিয়ে গেছেন কি লিখতে হবে অথবা কীভাবে লিখতে হবে। তেমনি শিখিয়ে গেছেন কীভাবে জীবনকে গড়তে হবে।
হুমায়ুন আজাদের ভাবনাতে ছিলো কীভাবে প্রকৃত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা যায়, কিভাবে বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ত্বরান্বিত করা যায়। হুমায়ুন আজাদ ধর্মান্ধতা বা কুসংস্কার বা প্রথার বিরুদ্ধে কলম হাতে নিয়েছিলেন। যেমনটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখরা করেছিলেন। এতে করে অনেক বাধার সম্মুখীনও হয়েছেন সেসব মুক্তির পথের পথিকরা। হুমায়ুন আজাদ মনেপ্রাণে ধারণ করেছিলেন যে নৈতিক মনোবল থাকলে মানুষ সত্যকে সত্য বলে ঘোষণা দিতে পারে, যা হুমায়ুন আজাদকে সাহসীকতার বলয়ে পৌঁছে দিয়েছে। হুমায়ুন আজাদ চাইলেই পারতেন অন্যান্য সুবিধাবাদী বা ভন্ড আঁতেল লেখকদের মতো নিজেকে মিথ্যার সাথে সমর্পণ করতে কিন্তু তিনি তা না করে বরং সর্বদা সত্যের পিছুই ছুটেছেন।
হুমায়ুন আজাদ সর্বদাই কল্পনা করতেন আগামীর সমাজ বা রাষ্ট্র হয় এগিয়ে যাবে নয়তো পিছিয়ে যাবে; যা বর্তমান সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো। অনুপ সাদি রচিত নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ বইটিতে হুমায়ুন আজাদ রচিত গ্রন্থাদি থেকে তাঁর লেখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে লিখেছেন বা বিভিন্ন বই প্রকাশ করেছেন এমন লেখকের জুড়ি মেলা ভার। তবে হুমায়ুন আজাদের মেয়ে মৌলি আজাদসহ কিছু লেখক আছেন যারা হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে লিখেছেন। তাদের মধ্যে লেখক অনুপ সাদির প্রকাশিত বই নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ বইটি অন্যতম।
হুমায়ুন আজাদ এতোটাই উচ্চ পর্যায়ের লেখক বা জ্ঞানী ছিলেন যে উনাকে নিয়ে চর্চা বা ভালোভাবে গবেষণা না করে বই লিখাটা মূর্খতার পরিচয়ই দেবে। কিন্তু নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধটি পড়লেই বুঝা যায় যে লেখক অনুপ সাদি হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে কতটা নিখুঁতভাবে চর্চা করেছেন। প্রয়োজনে উনার সান্নিধ্যে গিয়ে হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। ২০০০ সালের হুমায়ুন আজাদের তৎকালীন অফিসকক্ষে নেয়া সাক্ষাৎকারটি লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে এই বইয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে হুমায়ুন আজাদের এই সাক্ষাৎকারটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করতে লেখক অনুপ সাদিকে অনেক বেগ পেতে হয়। শেষে ভোরের ডাক নামে একটি পত্রিকায় এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। ততদিনে হুমায়ুন আজাদ আর জীবিত ছিলেন না। যা লেখক অনুপ সাদি সাক্ষাতকারটির তথ্যসূত্র ও টীকাতে উল্লেখ করে দিয়েছেন।
আগেই বলা হয়েছে যে হুমায়ুন আজাদ স্পষ্টভাষী। উনি হাসির ছলে অথবা কৌতুক পরিহাসের ছলে অনেককে আক্রমণাত্মক কথা বলতেন। উনার কথাবার্তায় বা মন্তব্যে অনেকে কষ্ট পেয়েছেন, আবার অনেকে আনন্দ পেয়েছেন, আবার অনেকে ভুলও বুঝেছেন। আর সেই কথাগুলোই অনেকসময় হয়ে উঠেছে রম্য গল্প বা কৌতুক। এসবের মধ্যে আবার খুঁজে পাওয়া যাবে হুমায়ুন আজাদের জীবনদর্শন ও চিন্তাধারা। আর সেইসব গল্পেরই কিছু কিছুর সংগ্রহ লেখক অনুপ সাদি গ্রন্থটিতে উল্লেখ করেছেন। তবে হুমায়ুন আজাদের রম্য গল্প বা কৌতুক অথবা বিভিন্ন মন্তব্যগুলির মধ্যে উনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন কথাই উঠে এসেছে।
নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ বইটির উপস্থাপনও সুন্দর। হুমায়ুন আজাদকে আমরা যতটুকু জানি বা জানতে পেরেছি তার পরিধিটা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে যদি লেখক অনুপ সাদির রচিত এই বইটি অধ্যয়ন করা হয়। হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে বিস্তর খুঁটিনাটি বিষয় সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থটিতে। শুধু তাই নয় বইটির শেষের দিকে তুলে ধরা হয়েছে হুমায়ুন আজাদের লেখা সকল গ্রন্থের তালিকা এবং জীবনপঞ্জি। গ্রন্থটি পড়ে যে পাঠকসমাজ হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে এক অজানার সন্ধান পাবে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
চিন্তার প্রতিরোধ : নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ থেকে নারী
নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ এবং নারী—এই দুইটি বই আলাদা হলেও তাদের অন্তর্নিহিত সুর এক—প্রতিরোধ। “নারী” যেখানে সভ্যতার পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোকে ভাঙে, সেখানে “নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ” সেই কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক মানুষের জীবনকথা তুলে ধরে। একদিকে নারী, অন্যদিকে হুমায়ুন আজাদ—উভয়ই ক্ষমতার কাছে অস্বস্তিকর সত্য। এই দুইটি বই একসাথে পড়লে পাঠক শুধু তথ্য জানেন না, বরং নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য হন। নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নির্মাণ সহজ নয়, সময় লাগে। কিন্তু এই বইগুলো সেই নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় “মহৌষধ” সরবরাহ করে। এই দুইটি বই একসাথে পাঠের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—পাঠক বুঝতে পারেন যে নারী প্রশ্ন এবং মুক্তচিন্তার প্রশ্ন আসলে আলাদা কোনো লড়াই নয়।
নারী গ্রন্থে যে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়, সেই কাঠামোর বিরুদ্ধেই আজীবন কলম ধরেছিলেন হুমায়ুন আজাদ। একদিকে যেখানে নারীকে বন্দি করে রাখার জন্য ধর্ম, সংস্কার ও রাষ্ট্র ব্যবহৃত হয়েছে, অন্যদিকে সেই একই শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজাদ বারবার প্রশ্ন তুলেছেন—কেন, কীভাবে, কার স্বার্থে? “নারী” গ্রন্থে দেখা যায় সমাজ কীভাবে নারীর শরীর, পোশাক, আচরণ ও মননকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ঠিক একইভাবে নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ-এ আমরা দেখি কীভাবে একটি সমাজ একজন স্পষ্টভাষী চিন্তাবিদকে সহ্য করতে পারে না। নারী যেমন স্বাধীন হতে চাইলে আঘাত আসে, তেমনি সত্যভাষী বুদ্ধিজীবীও আঘাতের বাইরে থাকে না। এই দুইটি বই মিলিয়ে পড়লে স্পষ্ট হয়—নিপীড়নের চরিত্র বদলায়, কিন্তু উৎস এক। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই দুই বই-ই পাঠককে আত্মসমালোচনার জায়গায় দাঁড় করায়। নারী বইটি শুধু পুরুষতন্ত্রকে দোষারোপ করে থামে না; নারীর মধ্যেই কীভাবে পুরুষতন্ত্রের পুনরুৎপাদন ঘটে, সেটিও নির্মমভাবে দেখায়।
আবার নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ বইটি দেখায়, আমরা কীভাবে সুবিধাবাদী নীরবতার মধ্য দিয়ে সাহসী মানুষদের একা করে দিই। আজাদ জীবিত থাকতে যাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেছেন, মৃত্যুর পর তাঁরাই অনেক সময় তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধার বুলি আওড়ান—এই দ্বিচারিতাও পাঠকের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বইটি।এই দুই গ্রন্থই ইতিহাসের প্রচলিত পাঠের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। নারী বইটি বলে—যে ইতিহাসে নারী নেই, সে ইতিহাস অসম্পূর্ণ ও মিথ্যা। আর হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কিত এই গ্রন্থটি মনে করিয়ে দেয়—যে সমাজ তার সবচেয়ে সাহসী কণ্ঠস্বরকে নির্বাসনে পাঠায়, সে সমাজ কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বইগুলো কেবল অতীতের কথা বলে না। আজকের সমাজ, আজকের রাজনীতি, আজকের ধর্মান্ধতা, আজকের নারী নির্যাতন—সবকিছুর সঙ্গেই এদের সরাসরি সংযোগ আছে। ফলে এই বই দুটির পাঠ নিছক সাহিত্যপাঠ নয়; এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান গ্রহণের প্রক্রিয়া।নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই দুই গ্রন্থ একসাথে পড়া মানে সত্য, সাহস ও চিন্তার মুক্তির পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া।
শেষকথা
অনুপ সাদি রচিত নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ এবং অনুপ সাদি ও তাহা ইয়াসিন সম্পাদিত নারী—এই দুইটি গ্রন্থ একসাথে পাঠ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সমাজের প্রকৃত সংকটগুলো আলাদা আলাদা নয়; তারা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। নারী প্রশ্ন, মুক্তচিন্তা, সত্য বলা, ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো—সবকিছুই একই লড়াইয়ের ভিন্ন ভিন্ন রূপ।
নারী গ্রন্থটি দেখায় কীভাবে সভ্যতার নাম করে নারীকে অদৃশ্য করে রাখা হয়েছে, কীভাবে ইতিহাস, ধর্ম ও রাষ্ট্র মিলে একটি অসম কাঠামো নির্মাণ করেছে। আর নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ সেই কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক মানুষের জীবনের দলিল—যিনি জানতেন সত্য বলার মূল্য দিতে হয়, তবুও আপস করেননি। একদিকে কাঠামোর নির্মমতা, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সাহস—এই দ্বৈত পাঠ পাঠককে কেবল ভাবায় না, অবস্থান নিতে বাধ্য করে।
এই দুইটি বই পাঠের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—এরা পাঠককে স্বস্তি-অস্বস্তির মধ্য দিয়েও প্রশ্ন করতে শেখায়। আমরা যে সমাজে বাস করি, যে মূল্যবোধকে স্বাভাবিক ধরে নিই, যে নীরবতাকে বুদ্ধিমত্তা বলে চালিয়ে দিই—এই বইগুলো সেই সবকিছুকে টেনে এনে আলোয় দাঁড় করায়।
এই গ্রন্থদ্বয় তাই শুধু সাহিত্য বা প্রবন্ধসংকলন নয়; এগুলো চিন্তার চর্চা, বিবেকের অনুশীলন। সময় লাগবে, দ্বিধা আসবে, পুরোনো বিশ্বাস ভাঙবে—তবুও এই ভাঙচুরের ভেতর দিয়েই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নির্মাণ সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, এই দুইটি বই একসাথে পড়া মানে সত্য, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে দাঁড়ানোর একটি সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর সেই সিদ্ধান্তই একজন পাঠককে কেবল পাঠক নয়—একজন সচেতন মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন
- নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ এবং নারী : প্রতিরোধ, সত্য ও ভাঙচুরের পাঠ
- অনুপ সাদি প্রসঙ্গে দুচার কথা
- উইকিমিডিয়া কমন্স ফটোগ্রাফিতে অনুপ সাদির কাজ
- শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ-এর একটি মূল্যায়ন
- অনুপ সাদি বাংলা উইকিপিডিয়ার অন্যতম অবদানকারী
- অনুপ সাদি : ব্যক্তি ও ব্যক্তিসত্ত্বা
- চণ্ডালের চণ্ডিপাঠ
- ফেসবুকে আত্মনির্মিত অনুপ সাদির ভগ্নাংশ
- অনুপ সাদি ভাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অগ্রজকে মনে রেখেছি
- এক আলোর ফেরিওয়ালা অনুপ সাদি
- অনুপ সাদি সবকিছু খুব খুঁটিয়ে দেখে
- আমাদের সাদি স্যার
- অনুপ সাদি সংখ্যার সম্পাদকীয়, অন্তরাশ্রম চতুর্থ সংখ্যা
- অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এক ব্যক্তিত্ব
- বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বই দুই বাংলার লেখকদের বিভিন্ন রচনার সংকলন
- অনুপ সাদির বাংলা উইকিপিডিয়া সম্পাদনা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য কার্যক্রম
- অনুপ সাদির কবিতা তুলে এনেছে শ্রমঘনিষ্ঠ রাজনীতির স্বপ্নকাহন
- কবি অনুপ সাদি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সমাজের মূর্ত ছবি আঁকেন
- ‘পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি’ কবিতাগ্রন্থ প্রসঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ
- অনুপ সাদির সম্মেলনপঞ্জি হচ্ছে বিভিন্ন সম্মেলনে উপস্থিতি ও প্রবন্ধ উপস্থাপন
- অনুপ সাদি গ্রন্থাবলী বা অনুপ সাদি রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ হচ্ছে বারোটি বই
- অনুপ সাদি প্রদত্ত বক্তৃতার তালিকা হচ্ছে ভাষণ ও আলোচনা
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনুপ সাদির সম্পাদিত ও রচিত আলোচ্য বই দুটি সম্পর্কে দুটি আলাদা পুস্তক আলোচনা করেন অনাবিলা অনা। লেখা দুটি ভিন্ন শিরোনামে সর্বশেষ এনামূল হক পলাশ সম্পাদিত সাহিত্যের ছোট কাগজ অন্তরাশ্রম-এর অনুপ সাদি সংখ্যা, সংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ১৩০-১৩৪, ময়মনসিংহ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে প্রকাশিত হয়। নারী গ্রন্থের আলোচনাটির রচনাকাল ১১ ডিসেম্বর ২০২১ এবং নিজকথায় লোককথায় হুমায়ুন আজাদ গ্রন্থের আলোচনাটির রচনাকাল ছিল ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে। পরে অনুপ সাদির ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য পুনরায় লেখিকা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়কালে সংস্কার সাধন করে একটি লেখা করে দেন। ফুলকিবাজ.কমে সর্বশেষ সংস্কারকৃত রূপটি প্রকাশ করা হলো।

অনাবিলা অনা ১৬ জুলাই ২০০১ তারিখে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা থানার বড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি করেন। অনার্সে ভর্তির পরে গল্প-কবিতার বই পর্যালোচনাই বেশি লিখছেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত আছেন। কণ্ঠিকা আবৃত্তি কুঞ্জ নামে একটি আবৃত্তি সংগঠনও পরিচালনা করেন।