অনুপ সাদি সবকিছু খুব খুঁটিয়ে দেখে

  • শান্তনু চন্দ্র, লেখক

কদিন আগে দোলন প্রভা যখন বলল যে অনুপের বিষয়ে কিছু লিখে দিতে হবে তখনই বুঝেছি ব্যাপারটা বেশ কঠিন হতে চলেছে। লেখা শুরু করার পরে বুঝলাম যতটা ভেবেছি তার থেকেও এটা বেশ কঠিন এবং জটিল কাজ। কঠিন এই কারণেই কারণ এতো কম সময়ের মধ্যে এই মানুষটার সম্বন্ধে সবকিছু গুছিয়ে লেখাটা বেশ শক্ত।

অনুপ সাদির সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ ২০১৬ সালে এক রেল যাত্রার প্রাক্কালে। প্রথম দর্শনে যেটা আমার নজর কেড়েছিল সেটা হলো ওর অদ্ভুত শিশুসুলভ অমলিন হাসি। এতোদিন পরে এখনো যখন ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়, তখন সেই প্রথম দেখা হাসিটাই সবার আগে আমি দেখতে পাই।

প্রাথমিক যোগাযোগের পর আমাদের যোগাযোগ চলত মূলত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে। কলকাতায় এলে সব সময় যে দেখা হতো সে রকম নয়, তবে চেষ্টা করতাম সময় বের করে কিছুক্ষণের জন্য আড্ডা দেওয়ার।

লেখক অনুপ সাদির সঙ্গে আমার পরিচয় আরও বেশ কিছুদিন পর। সেই সময় ওদের একটা ওয়েবসাইট ছিল যেটা পরবর্তীকালে আমি দেখাশোনা শুরু করি। রোদ্দুরে.কম-এর সূচনা থেকে নিজে থাকতে পেরে নিজেকে বেশ গর্বিতই মনে হয়। আরও একটা বড় বিষয় যে সেখান থেকেই লেখক অনুপ সাদির সঙ্গে আমার পরিচয় আরো গভীর হতে থাকে।

আসলে মানুষ অনুপ সাদি এবং লেখক অনুপ সাদির মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে এই ওয়েবসাইটটা। অবশ্য এই সব কিছুর পেছনে একজনের অবদান এই জায়গায় দাঁডিয়ে আমি না বলে পারছি না, সে হলো দোলন প্রভা, অনুপের যোগ্য সহকর্মী।

অনুপ সাদি একজন কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ এবং সর্বোপরি একজন সুবক্তা। মূলত সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র, দর্শন, গণতন্ত্র, সংস্কৃতি এবং পরিবেশ নিয়ে অনুপ লেখালেখি করে।

অনুপের পরিবেশ সচেতনতা সম্বন্ধে একটা ছোট্ট ঘটনা বলে আমি শেষ করব। একবার আমরা লাঞ্চে গেছি কলেজ স্ট্রিটের কাছে একটা মোটামুটি নাম করা রেস্তোরায়। প্রথাগতভাবে ওয়েটার পানীয় জল, ন্যাপকিন, ইত্যাদি দিয়ে গেল। খাবারের অর্ডারের জন্য অপেক্ষা করছে। অনুপ সাদি সবকিছু খুব খুঁটিয়ে দেখে, এবং এখানেও যথারীতি তার ব্যতিক্রম হয় না। ওর চোখ চলে গেল ন্যাপকিনের দিকে। সেটা দেখেই ও বলল যে এটা একেবারেই পরিবেশবান্ধব নয় এবং এক্ষুনি এর ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। শুধু তাই নয় প্রথমে ওয়েটার এবং তারপরে তাদের ম্যানেজারকে ডেকে খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বলে দিল যে কেন এই ন্যাপকিনগুলো ব্যবহার করা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক। ওর অনুরোধে আমাদের টেবিল থেকে ওই ন্যাপকিনগুলি সরে গেল। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতে পারে যে এটা হয়তো খুব ছোট্ট একটা প্রচেষ্টা, কিন্তু সম্মিলিতভাবে এগুলোই জন্ম দেয় বিপ্লবের আর সেটাই রয়েছে অনুপের রক্তে।

অনুপের লেখনি আরও ক্ষুরধার হোক, বিষয়ের বিস্তৃতি বাড়ুক এই শুভকামনা জানিয়ে আমার লেখা আপাতত শেষ করলাম। বলার বাকি রয়ে গেল আরো অনেক কিছু।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, কলকাতা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনুপ সাদি সবকিছু খুঁটিয়ে দেখে শিরোনামের এই মূল্যায়নটি এনামূল হক পলাশ সম্পাদিত সাহিত্যের ছোট কাগজ অন্তরাশ্রম-এর অনুপ সাদি সংখ্যা, সংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ১৭, ময়মনসিংহ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে প্রকাশিত এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে প্রকাশ করা হলো।

Leave a Comment

error: Content is protected !!