অনুপ সাদি প্রসঙ্গে দুচার কথা

১.
অনুপ সাদি ১৯৭৭ সালের ১৬ জুন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার দামোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উত্তরবঙ্গের একটি প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসে অনুপ যে বহুমাত্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল অভিযাত্রা নির্মাণ করেছেন, তা সমকালীন বাংলাদেশের সাহিত্য, চিন্তাচর্চা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ওর শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামীণ বাস্তবতা, প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের ভেতর দিয়ে—যা পরবর্তীকালে তাঁর লেখালেখি ও চিন্তায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুপ রণহাট্টা চৌরঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৯৯ সালে সম্মান এবং ২০০০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনই মূলত ওর চিন্তাজগতের ভিত্তি নির্মাণ করে দেয়। এই সময় থেকেই ও কেবল পাঠ্যসূচিভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং বিশ্বসাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস ও রাজনীতির নানা ধারা গভীরভাবে পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। এই পাঠাভ্যাস ওকে একাধারে সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক চিন্তক হিসেবে গড়ে তোলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এই যুক্ততা ছিল কেবল সংগঠনগত নয়, বরং আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। ও রাজনীতিকে ক্ষমতার খেলা হিসেবে নয়, সমাজ পরিবর্তনের একটি নৈতিক ও দার্শনিক প্রক্রিয়া হিসেবে বুঝতে চেয়েছেন। এই সময় থেকেই ওর মধ্যে মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে ওর প্রবন্ধ, গবেষণা ও বইয়ের বিষয়বস্তুতে সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

২০০০ সাল থেকে ও চিন্তাশীল সংগঠন ‘স্বদেশ চিন্তা সংঘ’-এর সঙ্গে যুক্ত। এই সংগঠনের মাধ্যমে ও পাঠচক্র, আলোচনা, সেমিনার ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এখানে ওর ভূমিকা ছিল একজন সংগঠক ও চিন্তক—যিনি প্রশ্ন তুলতে ভালোবাসেন, সহজ উত্তরকে সন্দেহ করেন এবং তাত্ত্বিক গভীরতাকে গুরুত্ব দেন। এই পরিসরেই তিনি নিজেকে একজন প্রাবন্ধিক ও বিশ্লেষক হিসেবে আরও সুসংহত করে তোলেন।

পেশাগত জীবনে অনুপ সাদি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতা ওকে সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়, আর শিক্ষকতা ওকে ভাবনাগুলো গুছিয়ে প্রকাশ করার দক্ষতা দেয়। বর্তমানে ও সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, যেখানে ও ইংরেজি সাহিত্য পাঠদানের পাশাপাশি ছাত্রদের চিন্তাশীল করে তুলতে সচেষ্ট। ওর শিক্ষাদান পদ্ধতিতে কেবল পাঠ্য ব্যাখ্যা নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তিবোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দেওয়া হয়।

অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, আলোকচিত্রী, সাহিত্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং উইকিপিডিয়ান। এই বহুমাত্রিক পরিচয় ওর সৃজনশীলতার ব্যাপ্তিকে নির্দেশ করে। ও কেবল কবিতা লেখেন না, কবিতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত করেন। ওর প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। এই গ্রন্থেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ওর কবিতার স্বর—রাষ্ট্র, ক্ষমতা, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত আবেগের এক জটিল মিথস্ক্রিয়া। ভাষা এখানে সরল কিন্তু তীক্ষ্ণ, আবেগ সংযত কিন্তু গভীর।

এ পর্যন্ত ওর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে কবিতা, প্রবন্ধ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও তাত্ত্বিক গ্রন্থ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। এই বইগুলোতে ও কোনো সরলীকৃত মতাদর্শিক প্রচার করেননি; বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাত্ত্বিক বিতর্ক ও সমকালীন বাস্তবতার আলোকে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে এই গ্রন্থগুলো শিক্ষার্থী, গবেষক ও আগ্রহী পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে উঠেছে।

২০১০ সালে ও “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামে একটি প্রবন্ধগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। এই গ্রন্থে বাঙালির রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার ইতিহাস, উত্থান-পতন ও দ্বন্দ্বগুলো বিশ্লেষিত হয়েছে। সম্পাদক হিসেবে ওর ভূমিকা ছিল সংকলনকে একটি সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর মধ্যে আনা, যাতে পাঠক একটি ধারাবাহিক চিন্তার প্রবাহ অনুভব করতে পারেন।

লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে অনুপ সাদি বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন। ওর লেখায় সাহিত্য, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও দর্শনের পারস্পরিক সম্পর্ক গভীরভাবে আলোচিত হয়। ও আলোকচিত্রেও আগ্রহী, যেখানে মানুষের মুখ, প্রান্তিক জীবনের দৃশ্য ও নীরব মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে। এছাড়াও ও কবিতা আবৃত্তি করতে পারদর্শী; ওর কণ্ঠে কবিতা একটি ভিন্ন মাত্রা পায়। ওর অনেক অডিও ও ভিডিও বক্তৃতা ও আবৃত্তি ইতোমধ্যে শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে সমাদৃত হয়েছে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দিক থেকে বললে, অনুপ সাদির নাম আমি শুনেছি প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু ওর বিস্তৃত কাজ ও বহুমুখী ভূমিকার কথা তখন জানা ছিল না। মাস দুয়েক আগে দিনাজপুর সরকারি কলেজে ওর সঙ্গে পরিচয় হয়, যেখানে ও ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ওর সম্পর্কে প্রথমে অনেক কথা শুনেছি ওর ছাত্র অভি এবং বন্ধু মানিক সরেনের কাছ থেকে। ওদের কথায় ফুটে উঠেছিল একজন নিরলস পাঠক, সংযত বক্তা ও গভীর চিন্তকের ছবি।

সরাসরি পরিচয়ের পর আমার মনে হয়েছে, ও নীরবে ও নিভৃতে থাকতে পছন্দ করেন। সম্ভবত দিনাজপুরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিপার্শ্বিক অবস্থাও ওর এই নিভৃতচারী সত্তাকে সাময়িকভাবে জাগ্রত করেছে। তবে এই নীরবতার আড়ালে রয়েছে গভীর পর্যবেক্ষণ ও সংবেদনশীল মন। প্রথম দেখাতেই ওর ব্যক্তিত্ব আমাকে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীতে ওকে আরও জানতে গিয়ে বুঝেছি, ও সত্যিই একজন চিন্তক—যে কথা বলার চেয়ে ভাবতে বেশি ভালোবাসেন, এবং লিখনের মাধ্যমে নিজেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন।

এই চিন্তকের পঞ্চাশতম জন্মদিনে ওকে শুভকামনা জানানো শুধু ব্যক্তিগত আবেগের বিষয় নয়, বরং একজন গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক কণ্ঠকে সম্মান জানানোর একটি উপলক্ষ। আশা করা যায়, আগামীতেও অনুপ সাদি ওর লেখালেখি, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে আমাদের সমাজকে প্রশ্ন করতে, ভাবতে এবং নতুন করে দেখতে সহায়তা করবেন। ওর দীর্ঘ ও সৃজনশীল জীবন কামনা করি।

২.
অনুপ সাদির কবিতা পড়লে মনে হয় যেন প্রতিটি কবিতা একই চেতনার ভিন্ন ঘূর্ণিবলয় তৈরি করছে—রাষ্ট্র, সহিংসতা ও প্রেম—ক্রমে বাইরের পৃথিবী থেকে ভেতরের মানুষের দিকে সরে আসছে । ওর কবিতার ভাষা আরামদায়ক নয়; ইচ্ছাকৃতভাবেই খসখসে, আঘাতী, কখনো দীর্ঘ শ্বাসহীন বাক্যে ভরা। এই অস্বস্তিই কবিতাগুলোর প্রধান শক্তি।

মনে রাখো তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল,
মনে রাখো তোমার নিশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে,
ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি,
তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে,
তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে
প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে।

—- (পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি )


এই কবিতায় রাষ্ট্রনীতি, বংশবাতি, ইতিহাস ও জীববিজ্ঞানের ইমেজ একসাথে মিশে এক ধরনের বিকৃত সভ্যতার ছবি তৈরি করে। গাছ থেকে শিশু জন্ম নেওয়া, জোঁকের মতো ভিনদেশি শোষণ, জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারের স্মৃতি—সব মিলিয়ে কবি একটি এমন জগত দেখান যেখানে প্রাণ আছে, কিন্তু মানবিকতা নেই। এখানে চে গ্যেভারা ও চারু মজুমদার কল্পনার টেবিলে বসে পাকা আম দিয়ে রুটি খান—এই দৃশ্যটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিপ্লব এখানে রোমান্টিক স্মৃতি, বাস্তবতা নয়। “বাঁচো আর মারো—কুচ পরোয়া নেহি” ধরনের স্লোগান রাষ্ট্রীয় হিংসাকে নগ্ন করে তোলে। কবিতার শেষের দিকে উল্টো-পাল্টা হয়ে যাওয়া প্রকৃতি ও জন্ম-মৃত্যুর চক্র আসলে সভ্যতার নৈতিক দেউলিয়াপনার রূপক; বংশবাতি না জ্বলার ইচ্ছে কোনো ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং ধারাবাহিক সহিংস ইতিহাসের বিরুদ্ধে এক চরম প্রতিবাদ।

আরেকটি কবিতার কিছুটা লক্ষ করা যাক:
বাঙলার খালি খালে বিলে
অতিথি পাখির কলকাকলিতে
ডুব দিয়ে তোমরা দুজন পালালেও
দূরে দূরতম দেশে পাবে না কোথাও খুঁজে স্বাধীন পাখার পাখি;
পেছনে রয়েছে গুলিভরা তাক করা মেশিনগান,
দুহাতে মৃত্যু চেপে ধরে ছুটে চলা ঝাঁকে ঝাঁকে
গাঙকবুতর আর মানিকজোড়ের দল পাবে না কোথাও সাধের ফাল্গুনি ভিটে;
হয়তো কোথাও তোমরা দুজনও ক্লান্তির পরে পরস্পরবিচ্ছিন্ন হবে
সঙ্গতাকে গিলে ফেলবে আগ্রাসি পরিবেশ,
অপমান ঘৃণা ক্রোধ পুড়ে পুড়ে ছাই হবে;
সেই ছাইয়ে দাঁত মেজে দাঁত চকচকে করে
কতজনই হাসবে উল্লসিত অট্টহাসি;
দেবে দাওয়াই প্রতিদিন
‘কোনো তন্ত্রমন্ত্রই ভাই এখানে চলবে না একমাত্র হুযুগে মাতম ছাড়া,
এই বেশ চলছে ভালো; জমিদারের থুথু খেয়ে বেঁচে আছি তো’।

—– (কিল্লার মোড়ে চিল্লা মারে হায়েনা শয়তান)

এই কবিতাটি আরও প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক ও নির্মম। এখানে শহর একটি শিকারক্ষেত্র, মানুষ জনস্রোতের রক্তধারা। হায়েনা, শয়তান, মেশিনগান, লঞ্চডুবি—এই সব চিত্র একত্রে একটি আতঙ্কিত সমসাময়িক বাস্তবতা নির্মাণ করে। তীতুমিরের কেল্লা ভাঙার উল্লেখ অতীতের প্রতিরোধ আর বর্তমানের আপসকামী জাতীয়তাবাদের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে। কবির কণ্ঠ এখানে প্রায় হতাশ ঘোষণার মতো—সবাই জানে কী হচ্ছে, তবু সবাই অংশীদার। “কবি শুধু বড়োই নির্বোধ”—এই আত্মবিদ্রুপ আসলে কবিতার শক্তি, কারণ এটি কবিকেও ক্ষমতার বাইরে কোনো নিরাপদ আসনে বসতে দেয় না।

আরেকটি কবিতা লক্ষ করা যাক:

তোমার শৈশব তোমার মেয়েবেলা আজকের
সারাদিনের বৃষ্টির ভুরভুর গন্ধে মিশে গেছে;
তোমার মানসপ্রতিমা জানালা বন্ধ করেছে বৃষ্টির ছাঁট
এসেছে বলে; না তুমি খোলা জানালা বন্ধ করো না,
তুমুল বৃষ্টি আসুক, আমি বৃষ্টির কণায় মিশে
হাওয়া জলে সাঁতার কেটে এসে দাঁড়াবো তোমার জানালার পাশে;_
তোমার চোখের বুদবুদে আমার ছায়াকে নিশ্চিত দেখতে পাবো।

পৃথিবীর সমস্ত জলের ফোঁটা আজকে
তোমার বিমূর্ত কল্পনাকে আমাদের
কল্পনার ক্যানভাসে রঙতুলি দিয়ে আঁকে কল্পনার ছবি;
আমার প্রত্যাশিত পিরামিড এখন তোমাদের ছাদে ভেসে চলে;
তুমি কি এখন জানালার পাশে বসে আনমনে দেখছো আকাশ
সমুদ্র ঝড় বজ্রবিদ্যুত স্মৃতির উপমা শখের প্রবালদ্বীপ,
নাকি শিশুবেলার মতো ভিজে ভিজে শিলা কুড়াচ্ছো,
মুখে দিচ্ছো, কেঁপেঁ কেঁপেঁ উঠছো;_ সেই শীতল শিলা যা
প্রাগৈতিহাসিক কালেও কুড়িয়েছিলাম আমরা দুজন,
যে শিলা ছিলাম আমি যে শিলা ছিলে তুমি।

—– (একদিন তোলপাড় বর্ষার বৃষ্টির ফোঁটায়)

এই কবিতায় এসে হঠাৎ করেই পরিসর বদলে যায়। রাষ্ট্র ও হিংসার কোলাহল পেরিয়ে কবি প্রবেশ করেন ব্যক্তিগত প্রেম ও স্মৃতির জগতে। কিন্তু এই প্রেমও সম্পূর্ণ নির্ভার নয়; বর্ষা এখানে যেমন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, তেমনই ধ্বংসের সম্ভাবনাও বহন করে। জানালা খোলা রাখা মানে শুধু প্রেমের আমন্ত্রণ নয়, পৃথিবীর সমস্ত ঝড়-বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া। শৈশব, শরীর, প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতি—সবকিছু মিলিয়ে প্রেম এখানে সময়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নরম প্রতিবাদ। কবিতার শেষদিকে “তুমি পাল্টে ফেলার কালজয়ি কর্মি হও”—এই উচ্চারণ আগের দুই কবিতার রাজনৈতিক আর্তিকে ব্যক্তিগত ভালোবাসার মধ্যে পুনঃস্থাপন করে।

তিনটি কবিতাই ভাষার ভারে ভারী, কখনো অতিরিক্ত ইমেজে ক্লান্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু সেই অতিরিক্ততাই অনুপ সাদির কবিতার প্রকৃতি। অনুপ মসৃণ সৌন্দর্য চান না; চান ঘর্ষণ, চান পাঠকের অস্বস্তি। রাষ্ট্র, ইতিহাস, প্রেম—কোনোটিকেই তিনি নিরাপদ দূরত্বে রেখে দেখেন না। ফলে এই কবিতাগুলো পড়া মানে শুধু অনুভব নয়, নিজের অবস্থান নিয়েও অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া।

আরো পড়ুন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটির রচনাকাল ২৯-৩০ জানুয়ারি, ২০২৬। লেখাটি ফুলকিবাজ.কমে হুবহু প্রকাশ করা হলো।

Leave a Comment

error: Content is protected !!