নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ কি? সাহিত্য ও ইতিহাসের নিবিড় সম্পর্ক ও সমালোচনা

নব্য ঐতিহাসিকতাবাদ (New Historicism) হলো সাহিত্য সমালোচনার একটি আধুনিক ও ইতিহাসভিত্তিক ধারা। সহজ কথায়, এটি এমন একটি সাহিত্য তত্ত্ব যা কোনো সাহিত্যকর্মকে কেবল আলাদা একটি সৃষ্টি হিসেবে দেখে না; বরং তৎকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের আলোকেই সাহিত্যকে বিশ্লেষণ করে। বর্তমান সময়ে আধুনিক ইতিহাসচর্চার বিভিন্ন নতুন প্রবণতার সাথে এই তত্ত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ (New Historicism) কী এবং এর সূচনা

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ বা ‘নিউ হিস্টরিসিজম’ হলো সাহিত্য সমালোচনার একটি আধুনিক ও প্রভাবশালী শাখা। এই তত্ত্বটি মূলত ১৯৫০-এর দশকের ‘ভাবনার ইতিহাস’ (History of Ideas) নামক শাখাটিকে অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে। তাত্ত্বিক ও সমালোচকরা এটিকে ‘সাংস্কৃতিক কাব্যতত্ত্ব’ (Cultural Poetics)-এরই একটি রূপ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।

যেভাবে ‘নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ’ নামের প্রচলন হলো

এই তত্ত্বটির নামকরণের পেছনে একটি চমৎকার এবং আকস্মিক ইতিহাস রয়েছে:

  • ফ্রান্সের জঁর পত্রিকা (১৯৮০): ১৯৮০ সালে ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘জঁর’ (Genre) পত্রিকা রেনেসাঁসের সাহিত্য নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।
  • স্টিভেন গ্রিনব্ল্যাটের ভূমিকা: এই বিশেষ সংখ্যাটির ভূমিকা লিখেছিলেন বিখ্যাত সমালোচক স্টিফেন গ্রিনব্ল্যাট (Stephen Greenblatt)। তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেন যে, এই সংকলনের প্রবন্ধগুলো মূলত এক নতুন আন্দোলন বা ‘নিউ হিস্টরিসিজম’-এর সূচনা করেছে।
  • নামকরণের নেপথ্যের গল্প: গ্রিনব্ল্যাট পরবর্তীতে জানান, নামটি তিনি খুব পরিকল্পিতভাবে দেননি। কিছু প্রবন্ধ সংগ্রহ করার পর ভূমিকাটি দ্রুত শেষ করার তাগিদ থেকেই তিনি অনেকটা আকস্মিকভাবে ‘নব্য ঐতিহাসিকতাবাদ’ বা ‘নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ’ পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।

বিকাশ ও বিশ্বব্যাপী প্রভাব

  • ১৯৮০-এর দশক: স্টিফেন গ্রিনব্ল্যাটের হাত ধরেই এই তত্ত্বের প্রাথমিক বিকাশ ঘটে।
  • ১৯৯০-এর দশক: নব্বইয়ের দশকে এসে এই তত্ত্বটি বিশ্বজুড়ে সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব লাভ করে।

সে সময় স্টিফেন গ্রিনব্ল্যাট ছাড়াও ‘জঁর’ (Genre) পত্রিকার ওই বিশেষ সংখ্যাটির অধিকাংশ লেখকই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলিতে পড়াতে আসেন। এর ফলে তৎকালীন তরুণ প্রবন্ধকারদের ওপর তাঁর গভীর প্রভাব পড়ে। মূলত ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের প্যারিস অভ্যুত্থানের ব্যর্থতার পর, বহু ফরাসি বুদ্ধিজীবীর মতো মিশেল ফুকোও একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিলেন—ক্ষমতা ও মতাদর্শ সম্পূর্ণভাবে ভাষার ভেতরেই মিশে থাকে। এটি আসলে ‘ডিসকোর্স’ (Discourse) বা বয়ানের বাইরের কোনো বিষয় নয়।

ফরাসি সমালোচক রোলাঁ বার্ত যেমন বলেছিলেন, “ভাষা মানেই বিধান, ভাষামাত্রেই শাসন।” ঠিক তেমনি ভাষা, সংস্কৃতি ও ক্ষমতার এই নিবিড় সম্পর্কের ধারণার মাঝেই ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছিলেন তৎকালীন আমেরিকার বহু ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী।

মিশেল ফুকোর লেখায় কোনো একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক যুগের ঐক্যের চেয়ে বরং তার ভেতরের অনৈক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্বই প্রধান হয়ে ওঠে। ফুকোর অনুসারীরা আরেকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন—যেকোনো প্রতিবাদী আন্দোলনের সম্ভাবনা কীভাবে ক্ষমতা বা বয়ানের (Discourse) শাসনে নিয়ন্ত্রিত ও আত্মসাৎ হয়ে যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে, সত্য ও ইতিহাস হলো মূলত ক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের যৌথ প্রকাশ। আর যেকোনো টেক্সট বা ‘পাঠ’-এর মধ্যস্থতা ছাড়া এই সত্য ও ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করা অসম্ভব।

তবে নব্য ঐতিহাসিকতাবাদীরা এমন চরম দাবি করেন না যে, ইতিহাস কেবলই পাঠ এবং এর কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। বরং তারা আমাদের নাগালের মধ্যে থাকা ইতিহাসের ‘পাঠ্য-চরিত্র’ (Textual nature) সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। একই সাথে, যেকোনো পাঠ বা টেক্সটকে তারা একটি বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিরূপ বা প্রতিফলন হিসেবেই দেখেন।

Cultures of Poetics: সংস্কৃতির কাব্যতত্ত্ব ও নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ

পুরনো ঐতিহাসিক রীতিতে সাহিত্যকে মূল উপাদান এবং ইতিহাস বা যুগমানসকে কেবল পটভূমি (Background) হিসেবে কল্পনা করা হতো। নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ এই পুরনো ধারাটিকে সম্পূর্ণ বর্জন করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সাহিত্যের পাঠ (Text) এবং ইতিহাসের অন্যান্য দলিল—উভয়ের গুরুত্বই সমান। আর এই সমতার কারণেই নয়া ঐতিহাসিকতাবাদে সাহিত্যিক ও অ-সাহিত্যিক পাঠকে প্রায়ই একত্রে বা পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করা হয়।

এই দুই ধরনের পাঠের মধ্যেই শাসন, অন্তর্ঘাত এবং নিয়ন্ত্রণের একটি চক্র প্রতিনিয়ত কাজ করে। কারণ, প্রতিটি পাঠই একটি সংস্কৃতির বৃহত্তর প্রতীক ব্যবস্থার অংশ। এই সত্যটি উন্মোচনের জন্য স্টিফেন গ্রিনব্ল্যাট এবং তাঁর অনুসারীরা সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের প্রতীক-বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। গ্রিনব্ল্যাট নিজেই তাঁর এই অনন্য বিশ্লেষণ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘সংস্কৃতির কাব্যতত্ত্ব’ (Poetics of Culture)

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদে অন্যান্য তাত্ত্বিকদের প্রভাব ও তাত্ত্বিক বৈচিত্র্য

স্টিভেন গ্রিনব্ল্যাট এবং তাঁর অনুসারীরা কেবল মিশেল ফুকোর চিন্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। নয়া ঐতিহাসিকতাবাদের ভিত্তি তৈরিতে তাঁরা আরও বেশ কয়েকজন বিখ্যাত তাত্ত্বিকের চিন্তাধারা কম-বেশি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • আন্তোনিও গ্রামসি: তাঁর বিখ্যাত ‘হেজেমনি-তত্ত্ব’ বা আধিপত্যবাদ তত্ত্ব।
  • লুই আলথুসার: আদর্শ বা মতাদর্শ (Ideology) বিষয়ক অনন্য ব্যাখ্যা।
  • হার্বার্ট মারকুস: তাঁর ‘দমনপন্থী সহিষ্ণুতা’ (Repressive Tolerance)-র ধারণা।
  • মিখাইল বাখতিন: প্রতিবাদী ডিসকোর্স বা বয়ান বিশ্লেষণ।
  • ওয়াল্টার বেঞ্জামিন: সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার পারস্পরিক সামঞ্জস্য সম্পর্কিত চিন্তা।

এই বিভিন্ন ধারার তাত্ত্বিক চিন্তার মিশ্রণের কারণে, মূল ভাবনার মিল বা প্রবণতার সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, ভিন্ন ভিন্ন নয়া ঐতিহাসিকতাবাদীর লেখার মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট বা একক তাত্ত্বিক সংহতি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদের সমালোচনা ও নানামুখী বিতর্ক

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদের বিরোধীরা অবশ্য এই ধারার লেখকদের লেখায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে মিল বা মতৈক্য লক্ষ্য করেছেন। তবে তত্ত্বগত পার্থক্যের কারণে রক্ষণশীল উদারপন্থী এবং মার্কসবাদীদের সাথে এই ধারার তীব্র বিবাদ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এক সময়ের সহযাত্রী এবং রেমন্ড উইলিয়ামসের অনুগামী ব্রিটেনের ‘সাংস্কৃতিক বস্তুবাদী’রাও (Cultural Materialists) গ্রিনব্ল্যাট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা আপত্তি তুলেছেন।

সাংস্কৃতিক বস্তুুবাদীদের মূল আশঙ্কা হলো—মার্কিন বিনির্মাণবাদীদের (Deconstructionists) মতো গ্রিনব্ল্যাট-শিবিরও প্রকৃত ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মূল দায়বদ্ধতা থেকে পিছু হটেছে। এর বদলে তারা একটি প্রায় স্বশাসিত সংস্কৃতি বা প্রতীক-ব্যবস্থার বিশ্লেষণের ওপর অতিরিক্ত জোর দিচ্ছে। আর এই বিশ্লেষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকছে কেবল ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ বা প্রতিরূপায়ণের বিচার।

বিজ্ঞাপন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এই যুগে, একটি পরাবাস্তব সমাজে ‘মাইমেটিক ক্যাপিটাল’ বা অনুকরণীয় পুঁজির সঞ্চালন প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়াটা স্বাভাবিক; বিশেষ করে যখন এই প্রক্রিয়াটিই আধিপত্য বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, প্রতিরূপায়ণের ওপর এই অতি-মনোযোগের ফলে প্রতিরূপ বা ইমেজ নির্মাণের যে আসল বাস্তব ইতিহাস, তা অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বস্তুবাদ বনাম নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ: সংঘর্ষ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদের বিপরীতে ‘সাংস্কৃতিক বস্তুবাদ’ (Cultural Materialism) যেকোনো পাঠ্যবস্তুকে—বিশেষ করে সরকারি দপ্তরখানার নথিপত্রের বাইরে থাকা সাহিত্যকে—এক নিরন্তর সংগ্রামের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, ক্ষমতা ও প্রতিরোধের এই দ্বন্দ্বে ডিসকোর্স বা বয়ান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। আর এই পরিবর্তনের কারণেই কোনো সাহিত্য বা পাঠ্যবস্তুর ব্যাখ্যার কখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে না।

নয়া ঐতিহাসিকতাবাদীদের দেখানো শাসন, বিচ্যুতি ও নিয়ন্ত্রণের ছেদহীন চক্রের ভেতর লেখকের নিজস্ব প্রতিরোধী ভূমিকার সুযোগ বা পরিসর অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু জনাথন ডলিমোর এবং অ্যালান সিনফিল্ডের মতো প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক বস্তুুবাদীরা এই ধারণার বাইরে গিয়ে ভাবেন। তাঁরা মনে করেন, অতীত যুগের কোনো সাহিত্য বা পাঠ্যবস্তু বর্তমান সময়ে ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। আর এই প্রশ্ন তোলার ধারাটিকে তাঁরা একজন সাহিত্য সমালোচকের অন্যতম প্রধান সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।

ঐতিহাসিক ও নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে নয়া ঐতিহাসিকতাবাদের সীমাবদ্ধতা

পেশাদার ঐতিহাসিকদের মতে, নয়া ঐতিহাসিকতাবাদীরা অনেক সময়ই ঐতিহাসিক তথ্য বা সাক্ষ্যবিচারে এক ধরনের পক্ষপাত দেখান। তাঁরা বড় কোনো ঐতিহাসিক সত্যের চেয়ে ছোট ছোট ঘটনা বা উপাখ্যানের (Anecdote) ওপর বেশি নির্ভর করেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বা অনুপুঙ্খ উপাদানগুলো তাঁরা অতীত ঐতিহাসিকদের পুরনো গবেষণা থেকেই ধার করেন। এছাড়া, ক্ষমতা, সংঘর্ষ এবং দমনের ওপর অতিরিক্ত নজর দেওয়ার কারণে—তৎকালীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং তার বিরোধীদের মধ্যে যে ছোটখাটো আপস-মীমাংসা বা রফা হতো, তা নব্য ঐতিহাসিকতাবাদীদের নজর এড়িয়ে যায়।

অন্যদিকে, কিছু নারীবাদী সমালোচক এই ধারার বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, নয়া ঐতিহাসিকতাবাদ মূলত রেনেসাঁস বা পুনর্জাগরণ যুগের প্রতিষ্ঠিত পুরুষ লেখকদের গণ্ডির বাইরে তাকাতে নারাজ। অর্থাৎ, এই তত্ত্বে নারী লেখকদের অবদান বা উপস্থিতি অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে গেছে। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান সময়ের সেরা নয়া ঐতিহাসিকতাবাদী কাজগুলোতে এই সমস্ত যৌক্তিক অভিযোগ ও সমালোচনাগুলোকে মোকাবিলা করার একটি ইতিবাচক চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র ও টীকা

  • ১. চক্রবর্তী, স্বপন। “নিউ হিস্টরিসিজম”, সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত, বুদ্ধিজীবীর নোটবই, ঢাকা: নবযুগ প্রকাশনী (নবযুগ সংস্করণ), ফেব্রুয়ারি ২০১০; পৃষ্ঠা ৩৫১-৩৫২।
  • ২. সম্পাদনা নোট: এই তথ্যবহুল প্রবন্ধটি প্রথম রচিত হয়েছিল ৬ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে। পাঠকদের জন্য সাম্প্রতিকতম ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে লেখাটি আজ ১১ জুন ২০২৬ তারিখে সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে।

Leave a Comment