সাহিত্যের স্বরূপ কী? প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও লঞ্জাইনাসের সাহিত্যতত্ত্ব

সাহিত্য হলো মূলত কোনো নির্দিষ্ট সংস্কৃতি, উপ-সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন কিংবা এই জাতীয় বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত কোনো লিখিত রূপ, যা মূলত কবিতা কিংবা গদ্যের আকারে প্রকাশ পেয়ে থাকে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, পাশ্চাত্যে সাহিত্যের আদি সূত্রটি প্রাচীন সুমেরীয় অঞ্চলের দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার উরুক শহরে (আনুমানিক ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে) প্রথম উদ্ভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই লিখনশৈলী মিশরে ব্যাপকভাবে বিকাশ লাভ করে। এরও বেশ কিছুকাল পরে ফিনিশিয়ানদের কাছ থেকে লিখিত শব্দের ধারণাটি গ্রিসে আমদানী করা হয় এবং সেখান থেকে ক্রমান্বয়ে তা রোম সাম্রাজ্যে আত্মপ্রকাশ করে। তবে কেবল পাশ্চাত্যে নয়, গবেষকদের মতে চীন, মেসোআমেরিকা এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, সম্ভবত ভবিষ্যৎ বাণীর লিখনপদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখালেখির এই দারুণ উদ্ভাবনটি ঘটেছিল।

আদিম মানুষের যোগাযোগ ও সংবেদনশীলতা

মানুষের জীবনযাপনের রূপ ও প্রকৃতি চিরকালই বিচিত্র। মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে এই বৈচিত্র্যময় জীবনকে উপভোগ করার তাগিদে মানুষ শুধু বাহ্যিক বা বস্তুগত উপাদানের ওপরই নির্ভরশীল থাকেনি। তারা নিজেদের অনুভূতিগুলোকে ফুটিয়ে তোলার জন্য সৃষ্টি করেছে প্রকাশের নানামুখী বিচিত্র আঙ্গিক। ইতিহাসের আদি মানব পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের উদ্দেশ্যে প্রথম যে ধ্বনিটি মুখ থেকে উচ্চারণ করেছিলো, ঠিক তাই ছিলো সভ্যতার বুকে প্রথম আদি শিল্প। এরপর কালক্রমে ধ্বনি > শব্দ > ভাষা—এই দীর্ঘ বিবর্তন পরম্পরার সোপান বেয়েই আজকের সঙ্গীত, সাহিত্য ও অন্যান্য অনন্য শিল্পরূপের জন্ম ও বিকাশ হয়েছে।

মানব সভ্যতার সূচনা লগ্নে মানুষ ছিলো একেবারেই ভাষাহীন এবং সম্পূর্ণ নিঃশব্দ। তখন মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধানতম মাধ্যম ছিলো কেবলই বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি। একসময় দলবদ্ধ ও পরিবারভুক্ত মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রাত্যহিক জীবনের পারস্পরিক যোগাযোগ সচল রাখার প্রয়োজনেই ধীরে ধীরে ভাষা আবিষ্কার করে। শুরুর দিকে সেই যোগাযোগের প্রয়োজনটি একানভাবেই বস্তুসর্বস্ব ছিলো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাভাবনা, কর্মজগৎ ও অনুভূতির চারপাশের বহুমুখী বিস্তার ঘটে। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো যেমন আর স্থূল বা বস্তুকেন্দ্রিক থাকে না, ঠিক তেমনি মানুষের জীবনযাপন ও জীবন উপভোগের ক্ষেত্রেও সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতার প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। ইতিহাসের আদি মানব তার মনের ভাব প্রথম ফুটিয়ে তুলেছিলো আদিম চিত্রের সাহায্যে, যার প্রাচীন নিদর্শন আজও বিভিন্ন গুহার দেওয়ালে বা গুহাগাত্রে উজ্জ্বলভাবে টিকে আছে।

অতঃপর ভাষা সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কৃত হবার পর মানুষ ক্রমান্বয়ে তার মনের সেই বিচিত্র ভাবকে নির্দিষ্ট শৈল্পিক আঙ্গিকের আশ্রয়ে প্রকাশ করতে থাকে। আর এভাবেই মানুষের বুকে মানুষের প্রথম আদি শব্দশিল্প হিসেবে কবিতার উৎপত্তি ঘটে। পরবর্তীতে নাটকের বিকাশ ঘটেছে মানুষের দৈনন্দিন প্রাত্যহিক জীবনযাপনের উপযোগী এক প্রাণবন্ত শিল্পমাধ্যম তৈরি করার বিশেষ তাগিদ থেকে। মূলত সমাজ ও সভ্যতার সুদীর্ঘ বিবর্তনের পথ বেয়েই মানুষ ক্রমান্বয়ে তার জীবনযাপন, জীবন উপভোগ এবং তার সূক্ষ্মতম আত্মপ্রকাশের মহান প্রয়োজনে বিভিন্ন সাহিত্য আঙ্গিকের জন্ম দিয়েছে। আর এই একই প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ একে একে সৃষ্টি করেছে উপন্যাস, ছোটগল্প এবং মননশীল প্রবন্ধের মতো নান্দনিক মাধ্যমগুলো।

সমাজ বিবর্তনের ধারায় বিভিন্ন সাহিত্য আঙ্গিকের জন্ম

মানব সভ্যতার একেকটি বিবর্তন ও বিকাশের পর্যায়ে একেকটি স্বতন্ত্র সাহিত্য রূপের (Literary Form) জন্ম হয়েছে। মূলত মানুষের জীবনযাপনের ভিন্নধর্মী প্রকৃতি, মনের ভাব ও গভীর ভাবনা এবং নিজস্ব চিন্তা প্রকাশক্ষমতার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিভিন্ন যুগে সাহিত্যের নানা রূপ ও শাখাগুলোর জন্ম হয়েছে। বর্তমান বিশ্বসাহিত্যে কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ হলো সাহিত্যের প্রধান কয়েকটি জনপ্রিয় আঙ্গিক বা মাধ্যম। অভ্যন্তরীণ বিষয়ভাবনা এবং বাহ্যিক গঠনবিন্যাসের দিক থেকে বিচার করলে এই প্রতিটি সাহিত্যরূপই একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও অনন্য।

সাহিত্য মূলত একটি নির্বস্তুক ও মনস্তাত্ত্বিক ধারণা, তাই দৃশ্যমান বস্তুর স্বভাব ও বাহ্যিক প্রকৃতি দিয়ে এর গভীরতা বিচার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আবেগ, গভীর অনুভূতি, নান্দনিক কল্পনা এবং মানসিক সংবেদনশীলতা প্রভৃতি যে সকল বিমূর্ত ধারণা আমরা সাহিত্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করি, এগুলোর কোনোটিই মূলত বাস্তব কোনো বস্তুস্বভাবকে নির্দেশ করে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও, মানুষের যাপিত বাস্তব জীবনই হলো যেকোনো সাহিত্য সৃষ্টির আদি উৎস ও চালিকাশক্তি। সাহিত্যের স্বরূপ উন্মোচন ও এর নিখুঁত শ্রেণি বিভাজনের ক্ষেত্রে এই গভীর সত্যগুলো আমাদের অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে। একজন ব্যক্তিমানুষ যেমন সমাজে আপনা আপনি জন্ম নেয় না বা গড়ে ওঠে না, ঠিক তেমনি মানুষের হাত ধরে সৃষ্ট সাহিত্যও কখনো শূন্য থেকে হুট করে আবির্ভূত হয় না।

প্লেটোর সাহিত্য ও শিল্প সৃষ্টির তত্ত্ব

প্রাচীন গ্রীক দর্শনে সাহিত্যের স্বরূপ: সাহিত্য-শিল্পের মূল উৎস যে মানুষের যাপিত জীবন—এই ধারণা সভ্যতার প্রাচীনকাল থেকেই সমাজ ও দর্শনে স্বীকৃত। গ্রীক মহাদার্শনিক ও চিন্তাবিদ প্লেটো (খ্রিস্টপূর্ব ৩য়-৪র্থ শতক) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Republic-এ শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ও সূত্র তুলে ধরেছেন:

  • ১. অনুকরণের অনুকরণ: শিল্পসৃষ্টি মূলত এক ধরণের অনুকরণ। মানুষের চারপাশের অভিজ্ঞতার জগতই শিল্পসাহিত্যের মূল ভিত্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন, কবির সৃষ্টি হলো অনুকরণেরও অনুকরণ, যার ফলে এটি পরম সত্য নয় বরং মিথ্যার সমতুল্য।
  • ২. গভীর নৈতিক সম্পর্ক: শিল্পের সাথে মানুষের নৈতিকতার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। যেকোনো শিল্পকর্মের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত তার ভেতরকার নৈতিক গুণাবলীর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
  • ৩. ভাব ও অনুভূতির প্রকাশ: সাহিত্যশিল্প প্রধানত অন্তরের গভীর ভাবের বিষয়, এটি কেবল মস্তিস্কের শুষ্ক জ্ঞানের বিষয় নয়।
  • ৪. সত্যের অভিন্নতা: দর্শনের অন্তর্নিহিত সত্যই শিল্পের নান্দনিক রূপের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়ে থাকে। এই ভাবনার কারণে প্লেটো সাহিত্যের সত্য ও দর্শনের সত্যের মাঝে আলাদা কোনো বিভেদ বা পার্থক্য রেখা টানতে পারেন নি।
  • ৫. রূপের চেয়ে ভাবের গুরুত্ব: কাব্যের বাহ্যিক অবয়ব বা গঠন রূপের তুলনায় তার ভেতরের গভীর ভাব ও আবেদনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাহিত্যের বিবর্তনে অ্যারিস্টটলের অনুকরণ-তত্ত্ব:

প্লেটোর আলোচিত এই সূত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি অনুকরণ বলতে কোনো বিষয়ের অবিকল প্রতিরূপ বা নকল তৈরি করাকেই বুঝিয়েছিলেন। তবে প্লেটোর সুযোগ্য শিষ্য মহাদার্শনিক অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতক) অনুকরণের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে একে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর দর্শন অনুযায়ী, সাধারণ শিল্প এবং সাহিত্যের মধ্যকার পার্থক্যের মূল মাধ্যম বা উপাদান হলো ভাষা। তিনি অনুকরণ শব্দটিকে কেবল সংকীর্ণ নকলে সীমাবদ্ধ না রেখে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর মতে, সাহিত্য হলো মানুষের যাপিত জীবনের এমন এক শৈল্পিক অনুকরণ—যেখানে মানুষের জীবনের বাস্তব ঘটনা, চিন্তা, অনুভূতি এবং কর্মসমূহ সাধারণ স্থূল বাস্তবতার চেয়েও আরও গভীর ও শাশ্বত সত্য রূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর এই কারণেই তাঁর এই যুগান্তকারী অনুকরণ-তত্ত্বটি দীর্ঘকাল যাবত বিশ্বসাহিত্যের সমালোচনা ও সাহিত্যবিচারের ক্ষেত্রে একটি প্রধানতম মানদণ্ড হিসেবে সমাদৃত ও গৃহীত হয়ে আসছে।

লঞ্জাইনাসের তত্ত্বের মূল নির্যাস

বিখ্যাত সাহিত্য-তাত্ত্বিক লঞ্জাইনাস সাহিত্যের স্বরূপ উন্মোচনে পাঁচটি প্রধান সোপান বা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এগুলো হলো—মহৎ বিষয়বস্তু, তীব্র আবেগ ও অনুপ্রেরণা, অলঙ্কারসন্নিবেশ, উপযুক্ত ছন্দ এবং মহত্ত্বব্যঞ্জক রচনারীতি। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রধানত সাহিত্যের মূল উপাদান, মানবিক আবেগ ও রচনারীতি—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। এই সবকিছুর সম্মিলিত রসায়নে সাহিত্য আমাদের এক অনবদ্য ‘Sublime’ বা মহত্তরলোকে নিয়ে যায়। লঞ্জাইনাসের পূর্বসূরি প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের বিশ্বাস ছিল যে, যুক্তির সাহায্যে পাঠককে নিজের মতে আনা বা প্ররোচিত করাই (Persuasion) সাহিত্যের আসল কাজ। তবে লঞ্জাইনাস এই ধারণাকে ছাপিয়ে বলেন যে, একটি প্রতিভাদীপ্ত সাহিত্যকর্মের উদ্দেশ্য পাঠককে প্ররোচিত করা নয়, বরং তাকে এক ধরণের পরম ভাবাবেশ (Ecstasy) উপহার দেওয়া এবং পাঠককে তার নিজের গণ্ডি থেকে উচ্চে তুলে ধরা। প্রতিভাবান সাহিত্যিকরা পাঠককে কেবল বশ করেন না, বরং মানবিক ক্ষুদ্রতার উর্ধ্বে এক পরম আনন্দলোকে পৌঁছে দেন।

এই প্রেক্ষিতে লঞ্জাইনাসের ‘Sublime’-এর সংজ্ঞাটি আমাদের বিশেষভাবে আলোড়িত করে। তাঁর মতে, Sublime হলো ভাষার এমন এক মহৎ ও চূড়ান্ত প্রকাশভঙ্গি, যার জাদুকরী স্পর্শে যুগের পর যুগ ধরে শ্রেষ্ঠ কবি ও গদ্যকাররা অমরত্ব এবং স্থায়ী খ্যাতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মনে করতেন, সাহিত্যে শুধু সুন্দর বা শুধু মহৎ থাকাটাই শেষ কথা নয়; বরং সুন্দর ও মহতের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রয়োজন। সৌন্দর্যের গুণে সাহিত্য যেমন আমাদের মন জয় করে, তেমনি মহত্ত্বের গুণে তা আমাদের সংকীর্ণতা থেকে এক বিশাল আনন্দলোকে নিয়ে যায়। ফরাসি চিন্তাবিদ জুবেয়ারও এই সুরেই বলেছিলেন যে, যা পাঠককে অন্য এক জগতে স্থানান্তরিত করতে পারে না, তা কখনোই প্রকৃত কবিতা বা সাহিত্য হতে পারে না। লঞ্জাইনাসের এই সাহিত্যদর্শনের তিনটি দিক চিরস্মরণীয়—উপভোগ, মহত্তর জীবনবোধ এবং আনন্দলোকে অভিসার। তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, সাহিত্য কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পাঠশিক্ষার শুকনো মাধ্যম নয়, এর মূল কাজ হলো পরম উপভোগ ও আনন্দের সৃষ্টি করা। আর সেই নান্দনিক আনন্দ উপভোগের মধ্য দিয়েই মানুষের ভেতরের চিত্তসত্তার প্রকৃত জাগরণ ও উন্নতি ঘটে।[২]

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বরূপ অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তা

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির সিলেবাস বা পাঠক্রমে সাহিত্যের এই প্রধান শাখাগুলোকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। সাহিত্যের এই বিচিত্র শাখা কিংবা শ্রেণির প্রকৃত রূপটি অনুধাবনের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীরই কিছু প্রাথমিক ও মৌলিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেই সর্বাগ্রে সামনে আসে সাহিত্যের শ্রেণীবিভাগের বিষয়টি। তাছাড়া, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রূপে বিভক্ত সাহিত্যরূপ বা ফর্মগুলোর (যেমন: কবিতা, নাটক, উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ) মূল নির্যাস বুঝতে হলে তার ভেতরের ভাব বা বিষয়বস্তু এবং বাইরের গঠনকৌশল সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক।

ছাত্র-ছাত্রীদের এই মৌলিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই আমরা সাহিত্যের ‘স্বরূপ ও শ্রেণীবিভাগ’ সম্পর্কিত অধ্যায়টি পাঠ্যসূচির একেবারে প্রারম্ভে যুক্ত করেছি এবং ধারাবাহিক নিয়মে সেগুলো সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে পাঠকদের একটি প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় ধারণার যোগান দেওয়া, যাতে তারা সাহিত্যের স্বরূপ, নান্দনিক রস এবং বিভিন্ন শাখাগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারে। একজন শিক্ষার্থীকে নিজের পড়াশোনায় পুরোপুরি স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার জন্য এই দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।[৩]

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. Joshua J. Mark, “Literature” Ancient History Encyclopedia, সংগ্রহের তারিখ: ৫ জানুয়ারি ২০২০, Ancient History Encyclopedia Foundation, হাইপারলিংক: https://www.ancient.eu/literature/.
২. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সমালোচনার কথা, মডার্ন বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, পঞ্চম সংস্করণ, ২০০১-২০০২; পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪।
৩. প্রবন্ধটির রচনাকাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ ময়মনসিংহে; প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ৫ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে এবং সর্বশেষ তথ্যসহ এটি ০১ জুন ২০২৬ তারিখে আপডেট করা হয়েছে।

Leave a Comment