শেখ আবদুল জলিল: বহুমাত্রিক প্রগতিশীল লেখক, শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিসংগ্রামীর জীবনগাথা

বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পেছনে যে কজন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠক নেপথ্যে থেকে অবদান রেখেছেন, শেখ আবদুল জলিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট কবি, লেখক, গভীর চিন্তাসমৃদ্ধ গবেষক, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক বীর সংগঠক। আজীবন প্রচারবিমুখ এই গুণী মানুষটি সাহিত্যের নানা শাখায় যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি দেশ ও মানুষের মুক্তিসংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।

👶 জন্ম, শৈশব ও প্রারম্ভিক শিক্ষাজীবন

শেখ আবদুল জলিল ১৯৪১ সালের ১১ মার্চ জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার নটারকান্দা গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুনছুর আলী এবং মাতার নাম আয়জন বিবি। গ্রামীণ শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তাঁর শৈশব কেটেছে।

তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু জামালপুরেই। ইসলামপুরে পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি স্কুল ছাত্রাবাসে থাকতেন। তিনি ইসলামপুর নেকজাহান হাইস্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে সফলতার সাথে এসএসসি (তৎকালীন ম্যাট্রিক) পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জামালপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী আশেক মাহমুদ কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬২ সালে সেখান থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

✊ ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা কমিশন বিরোধী লড়াই ও কারাবরণ

ছাত্রাবস্থা থেকেই শেখ আবদুল জলিল প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার চাপিয়ে দেওয়া কুখ্যাত ‘হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন’-এর বিরুদ্ধে গোটা পূর্ব বাংলায় তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে।

সেই সময় জামালপুর মহকুমা ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে এই আন্দোলনের সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন তরুণ শেখ আবদুল জলিল। আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর তিনি দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাভোগ করেন। এই কারাবরণ তাঁর রাজনৈতিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় ও পরিপক্ব করে তোলে।

📰 সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশায় পদার্পণ

কারামুক্তির পর তিনি শিক্ষা ও সমাজ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৬৫ সালে ময়মনসিংহ টিচার্স Training (টিটি) কলেজ থেকে শিক্ষায় স্নাতক (বিএড) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার প্রতি প্রবল আকর্ষণের কারণে ১৯৭৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে তিনি প্রগতিশীল সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। তৎকালীন সময়ের শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী জাতীয় পত্রিকা যেমন—দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, মর্ণিং নিউজ এবং দি পিপুল (The People)-এ তিনি নিয়মিত সাংবাদিকতা করেন। এর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি, সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অসংখ্য তথ্যবহুল কলাম লিখেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ষাটের দশকের শেষভাগে তিনি কিছুকাল ময়মনসিংহের সুতিয়াখালি হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি নিজ এলাকার আলো ছড়াতে নিজের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যাপীঠ ইসলামপুর নেকজাহান হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

🚩 রাজনৈতিক দর্শন, কমরেড লেনিন শতবর্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান

শেখ আবদুল জলিল শুরু থেকেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ)-এর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল গণআন্দোলনে প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭০ সালে জামালপুর পাবলিক হলে বিশ্ব communist আন্দোলনের মহান নেতা কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের জন্মশতবার্ষিকী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়। শেখ আবদুল জলিল এই ঐতিহাসিক উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হলে তিনি শিক্ষকতা ফেলে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও ছাত্র ইউনিয়ন-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র অন্যতম প্রধান সদস্য এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে রণক্ষেত্রে ও নেপথ্যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অপরাধে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে শিক্ষকতার চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত বা চ্যুত করে।

🎭 ‘ইবনে আলী’ ছদ্মনাম এবং স্বনামে ফিরে আসার সাহসী ঘোষণা

একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক তথ্য হলো, পাকিস্তান আমলের প্রতিকূল সময়ে শেখ আবদুল জলিল ‘ইবনে আলী’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন। তাঁর বহু কালজয়ী রচনা (কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ) সে সময় এই ছদ্মনামেই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কালের ডাক’ প্রকাশিত হয়, তখন তিনি এক সাহসী ঘোষণা দিয়ে স্বনামে ফিরে আসেন। এ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে লিখেছিলেন:

“এখন থেকে আমি আর ইবনে আলী নই। আমার কর্মের জন্য শাস্তি বা পুরস্কার -সবকিছুই এখন থেকে স্বনামে বহন করবো।”

নিজের কবিতা ও সাহিত্যের সত্যতা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট:

“নিজের কবিতা সম্পর্কে সাফাই গাওয়া আমি অপছন্দ করি। কিন্তু প্রাসঙ্গিক একটা কথা বলা ভালো। আমি ফাঁকি দিইনি। যা দেখেছি, যা লিখেছি তা অবশ্য সত্য। যে সত্য জীবনে গড়ে উঠেছে। যে সত্য কখনো সংগঠিত, কখনো অসংগঠিত জনতার মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে আছে।”

🏫 স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষকতা ও বিশ্ব শান্তি আন্দোলন

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ আবদুল জলিল ময়মনসিংহে অবস্থিত দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুল’-এ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এই স্কুলেই তিনি দীর্ঘকাল সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন এবং এখান থেকেই কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অনন্য; তাঁর রচিত বেশ কিছু একাডেমিক গ্রন্থ (বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা) দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়েছে।

রাজনীতির মাঠে তিনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ (মোজাফফর)-এর সাথে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা ‘থিংকট্যাংক’ হিসেবে তিনি কাজ করেছেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

এর পাশাপাশি তিনি বিশ্ব শান্তি আন্দোলনেও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন ‘বিশ্ব শান্তি পরিষদ’ ময়মনসিংহ শাখার প্রধান আহ্বায়ক। শান্তির দূত হিসেবে তিনি সাবেক soviet ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোসহ বুলগেরিয়া, ইউক্রেন এবং হাঙ্গেরির মতো ইউরোপীয় দেশগুলো ভ্রমণ করেন এবং বাংলাদেশের প্রগতিশীল ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন।

📑 চিন্তার গভীরতা ও প্রবন্ধ-গবেষণার মূল্যায়ন

শেখ আবদুল জলিল এর প্রবন্ধ এবং গবেষণা গ্রন্থগুলো সমাজ ও ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাঁর গবেষণার মূল বিষয়ই ছিল স্বদেশ ও স্বজাতির শেকড় অনুসন্ধান। বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মেহনতি মানুষের বহুমাত্রিক ও বিচিত্র জীবন নিয়ে তিনি রচনা করেন আকর গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের জীবন ও জীবিকা’। এছাড়া একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের অংশগ্রহণ, ভূমিকা ও চেতনা নিয়ে তাঁর অসামান্য দুটি গ্রন্থ হলো ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বাম প্রগতিশীল শক্তি’ এবং ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’

তাঁর লেখার এই গভীরতা নিয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আবু জাফর শামসুদ্দীন অত্যন্ত উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন। তিনি সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত শেখ আবদুল জলিলের প্রবন্ধ পড়ে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন:

“এদেশে মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন লোকের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার ন্যায় আকস্মিক ব্যাপার। সনাতন দেয়ালের বাইরেও যে জগৎ থাকতে পারে, সে রকম চিন্তা আমাদের কাছে ‘হেরেসি’।… শেখ আবদুল জলিল সাহেব অভ্যস্ত চিন্তার দাস নন, আমার কাছে এটাই তাঁর বড় পরিচয়।”

শেখ আবদুল জলিল এর ‘স্বদেশ আমার স্বজন আমার’ গ্রন্থ প্রসঙ্গে আবু জাফর শামসুদ্দীন আরও লিখেছেন:

“মাত্র ১১২ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থের মধ্যে লেখক ভূ-ভাগের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক কালের বিভিন্ন সময়ে তার রাজনৈতিক আয়তন, আর্থসামাজিক বিবর্তনের বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যামূলক বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন। এটা যুগপৎ তাঁর দুঃসাহস এবং লেখক হিসেবে তাঁর দক্ষতার পরিচায়ক। …. শেখ আবদুল জলিল সাহেবের গ্রন্থটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক ভুলভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খল চিন্তার দাসত্ব থেকে পাঠককে মুক্ত করতে সহায়তা করবে।”

📌 আরও জানুন: 📜 ময়মনসিংহের মনন ও সংগ্রাম — রাজনীতি, সংস্কৃতি ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের অনন্য ইতিহাস।

📚 শেখ আবদুল জলিল-এর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ

গল্প ও উপন্যাসেও তিনি জীবনের বহু বিচিত্র অনিঃশেষ সৌন্দর্যের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। গবেষক এবং পাঠকদের সুবিধার জন্য তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

📜 কাব্যগ্রন্থ

  • একুশের কবিতা (১৯৬৪) — জামালপুর থেকে প্রকাশিত।
  • কালের ডাক (১৯৭২) — মুক্তচিন্তা প্রকাশনী, জামালপুর।

📝 প্রবন্ধ ও গবেষণা

  • স্বদেশ আমার স্বজন আমার (১৯৮১) — মুক্তচিন্তা প্রকাশনী, ময়মনসিংহ।
  • শিক্ষা ও শিক্ষার্থী (আগস্ট ১৯৯৬) — মুক্তচিন্তা, ময়মনসিংহ।
  • একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বাম প্রগতিশীল শক্তি (জানুয়ারি ২০০০) — ঢাকা প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • বাংলাদেশের জীবন ও জীবিকা (অক্টোবর ২০০৩) — উত্তরণ, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • জাতীয়তা ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার (ফেব্রুয়ারি ২০০৮) — নবযুগ প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস (ফেব্রুয়ারি ২০১৩) — আগামী প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (ফেব্রুয়ারি ২০১৩) — গ্রন্থপ্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা।

📖 উপন্যাস

  • গর্জনশীল (ফেব্রুয়ারি ২০০৮) — গ্রন্থপ্রকাশ, ঢাকা।
  • স্বপ্নের ঠিকানা (ফেব্রুয়ারি )(২০০৯) — গ্লোব লাইব্রেরী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে (ফেব্রুয়ারি )(২০১০) — গ্লোব লাইব্রেরী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • বংশধর (ফেব্রুয়ারি )(২০১০) — গ্রন্থপ্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা।

🪵 ছোটগল্প সংকলন

  • জানালা (সেপ্টেম্বর ১৯৯৪) — মুক্তচিন্তা, ময়মনসিংহ।
  • চাবি (ফেব্রুয়ারি ২০০৭) — গ্রন্থপ্রকাশ, ঢাকা।
  • অবাক ফেরিওয়ালা (ফেব্রুয়ারি )(২০১০) — সুচয়নী পাবলিশার্স, বাংলাবাজার, ঢাকা।

🏙️ জীবনের পটপরিবর্তন: বিভিন্ন শহরের স্মৃতি ও বসতি

শেখ আবদুল জলিলের কর্মময় জীবন কেটেছে মূলত ইসলামপুর, জামালপুর এবং ময়মনসিংহ—এই তিন অঞ্চলে।

  • ১৯৭০ থেকে আশির দশক: তিনি সপরিবারে জামালপুর শহরের বোসপাড়ায় বসবাস করতেন।
  • ১৯৭৫ পরবর্তী সময়: তিনি ময়মনসিংহ শহরের বাউন্ডারি রোডে থাকতেন। সেখান থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে জামালপুরের বোসপাড়ার বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতেন।
  • আশির দশকের শুরু থেকে: তিনি পরিবারসহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় চলে আসেন এবং সেখানে প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করেন।
  • শেষ জীবন: ময়মনসিংহ শহরকে ভালোবেসে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ময়মনসিংহের ভাটিকাশর এলাকায় নিজস্ব বাসভবনে সপরিবারে অবসর জীবন অতিবাহিত করেন। ময়মনসিংহ স্থায়ী নিবাস হলেও নাড়ির টানে তিনি প্রায়ই ছুটে যেতেন ইসলামপুর এবং জামালপুর শহরে।

🕊️ প্রয়াণ, পরিবার ও শেষ কথা (Conclusion)

২০১৬ সালের ২০ মে, রাত ৩টা ১৫ মিনিটে এই বহুমাত্রিক সমাজবিজ্ঞানী ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁকে ময়মনসিংহের ভাটিকাশর গোরস্থানে পরম শ্রদ্ধায় সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার পুত্র এবং দুই কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি প্রচুর পড়াশোনা করতেন এবং বেছে বেছে চমৎকার সব বই সংগ্রহ করতেন। সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর আলোকিত উপস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই গুণী মানুষটি জীবনের কোনো অনাদর বা অবহেলাকে কখনো গায়ে মাখতেন না। কারো বিরুদ্ধে তাঁর কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ ছিল না; তিনি কেবল স্বপ্ন দেখতেন একটি বৈষম্যমুক্ত, সুন্দর ও সাম্যবাদী সমাজের।

বাংলা একাডেমি বা দেশের বড় প্রকাশকদের কেউ যদি তাঁর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য অপ্রকাশিত রচনা ও জীবনী সংকলন আকারে প্রকাশে এগিয়ে আসেন, তবে বাঙালি জাতি সমৃদ্ধ হবে। তাঁর রেখে যাওয়া হার না মানা অসাধারণ জীবনালেখ্য এবং চিন্তাসমৃদ্ধ রচনাবলী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার নৈতিক দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র ও টিকা

১. প্রবন্ধটির রচনাকাল ১৯ জুন ২০২৬।

Leave a Comment