ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম (ইংরেজি: Digital media) হচ্ছে এমন যেকোনো যোগাযোগ মাধ্যম যা বিভিন্ন এনকোডেড মেশিন-পঠনযোগ্য উপাত্ত বিন্যাসের সাথে একত্রে গণযোগাযোগে কাজ করে। ডিজিটাল সামগ্রী তৈরি, দেখা, বিতরণ, পরিবর্তন, শোনা এবং ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সংখ্যাগত উপাত্ত সংরক্ষণ প্রচার মাধ্যম (অ্যানালগ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপরীতে) এবং ডিজিটাল সম্প্রচার।
ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করা হয় মূলত মতাদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে। আমি আমার মতাদর্শ প্রচার ও পরিবেশ বিষয়ক প্রচারণার কাজে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করেছি। এছাড়াও আমার ১৯টি বিভিন্ন ধরনের বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে আমার জীবনের দীর্ঘ এই চৌদ্দ বছর দিয়েছি বাংলা ভাষার লক্ষ পাঠকের সাথে আমার কিছু পছন্দের বিষয়কে ছড়িয়ে দেবার জন্য।
আমি ফেসবুকে প্রথম একাউন্ট খুলি ২৮ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে। এই কাজটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ভালো লেগেছিল। ফেসবুক বন্ধু ও পাঠকদের যে সহযোগিতা পেয়েছি তা ভুলবার নয়। আমার কাজগুলো আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করা ছিল আমার জন্য সত্যিই আনন্দের। এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্যে খুবই দরকারি ছিল। জনগণের জন্য তাঁদের সাথে সামান্য কাজ করতে পারাকেই আমি জীবনের চরিতার্থতা বলে মনে করি। সেখানে যেটুকু অর্জন তার মূল্যায়নের দায়িত্বও আপনাদের।
১২ জুন, ২০১৪ তারিখের পরে আমি ফেসবুক থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নিয়েছিলাম। সেই সময় আমি বেশ কিছু ভাবনা ও কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমি কিছু বিষয়ে এতো বেশি ভেবেছিলাম যে সেগুলো থেকে একটু বিরতি নিতে প্রয়োজন পড়েছিল। এতে আমার নিয়মিত করণীয় কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করি। সেই সময় ফেসবুক একাউন্টে বন্ধুর সংখ্যা যা হয়েছে তা থেকে অনিয়মিতদের ছাঁটাই করতেও আমি অনিচ্ছুক ছিলাম, এবং এটি অনেক ঝক্কির কাজও ছিল। তাই আমি আমার এই একাউন্টে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে যাবো। যারা একান্তই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে চান, তাদের জন্য আমি একটু নতুন একাউন্ট খুলেছিলাম।
ফেসবুক চালাতে গিয়ে আমাকে নানা কাজ শিখতে হয়েছে। সেই কাজগুলোকে আনন্দের সাথেই এখনও করে চলছি। এই কাজগুলো নিজের জন্য যতটুকু করেছি, আপনাদের এবং মানুষের জন্য করেছি তার চেয়েও বেশি। কাজগুলোর তালিকা নিচে দিলাম।
১. আমি এখন ফটোশপের কাজ পারি। আপনারা অবাক হবেন যে আমি ফটোশপ সিসি ব্যবহার করি।
২. অভ্র ব্যবহার করে দ্রুত বাংলা লিখতে পারি।
৩. ই-বই বানাতে পারি।
৪. আমি বাংলা উইকিপিডিয়াতে যুক্ত করেছি ১৬০০টি নতুন নিবন্ধ। বাংলাভাষী জনগণের জন্য তথ্যকে সহজলভ্য করতে নিজের দায় থেকে আমি এটি করেছি। বাংলা উইকিতে মাত্র এখন প্রায় ১৬২,০০০ নিবন্ধ আছে। আমি একাই যুক্ত করেছি ১৬০০টি যা ভেবে আমি নিজেই আনন্দ পাই। উইকিতে সম্পাদনা করেছি প্রায় ৬৫,০০০।
আরো পড়ুন
- ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে গণশত্রুদের পরাজিত করুন
- ভাইবার হচ্ছে জাপানি কোম্পানি রাকুটেনের মালিকানাধীন বার্তাবাহী অ্যাপ্লিকেশন
- ইনকিলাব জিন্দাবাদ ভারতের বামপন্থী আন্দোলনের ব্যবহারবহুল শ্লোগান
- মনীষী প্রগতিশীল ক্রিয়াকলাপ দ্বারা সমাজ রূপান্তর করেন
- সারেগামা ভারতের সংগঠন গোয়েঙ্কা গ্রুপের সহযোগী
- জনমত কাকে বলে?
- বুদ্ধিজীবী সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা নির্মাণে নিযুক্ত ব্যক্তি
- বিশ্বকোষকার বা বিশ্বকোষীয় দার্শনিক জনগণের লড়াকু রাজনৈতিক দার্শনিক
- বিশ্বকোষ বা জ্ঞানকোষ বুর্জোয়া বিপ্লবের উদ্দেশ্যে রচিত মানব জ্ঞানের সারাৎসার
- সাম্যবাদী প্রচারণা হচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রভাব বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
- গ্রন্থাগার তুলে ধরে মানব সমাজের হাজার বছরের চিন্তা ও অনুশীলনের মহাকল্লোল
আমার আগের ফেসবুক একাউন্টটি বন্ধ করার পরে নতুন একাউন্ট হয়। আজ ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে এসে বলতে পারি আমার লেখা প্রতিদিন হাজার হাজার জন পড়ে থাকেন। এই বিপুল পাঠকের প্রতাশা হয়তো আমি পূরণ করতে পারি না। আমি চাই আমার পাঠকেরা আমার সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝে উঠুক। তারা গণতান্ত্রিক, সৃজনশীল, শুভবুদ্ধির শ্রমমুখি হয়ে উঠুক। তাদের প্রত্যাশাগুলো লক্ষ শ্রমিক-কৃষকের প্রত্যাশার সাথে মিলিত হোক।
আমি ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ থেকে লিখেছিলাম:
আমি এই সময়টিতে যে শ্রম দিয়েছি তা সম্ভব হয়েছে আপনাদের সহযোগিতায়। আপনারা পড়েন বিধায় আমি লিখতে চাই। এই সময় আমি প্রকাশকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমার বই বইমেলাতে আসবে কীনা তা টের পাই না। আমার লেখা বিতর্কও হয়তো তৈরি করতে পারে না। কিন্তু আমি মনে করি জনগণের পক্ষে থেকে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি জনমত তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সেই জনমত তৈরির চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়া বড় কথা নয়, এই সুবিধাবাদের যুগে শ্রমিকের পক্ষে থেকে কাজ করাটাই প্রধান লড়াই।
ওয়েবসাইট ও ব্লগ হওয়ায় আমি এখন অনেকটাই স্বাধীন। কিন্তু আমি ব্লগ-ফেসবুকের এই জগতটিতে বিচরণ শুরু করি অনেকের পরে। কিন্তু যে দ্রুত আমি এই জগতটিকে বুঝতে পেরেছি তা আমার কাছে ভালই লাগে। এখন আমি প্রতিদিনই কিছু লিখতে চেষ্টা করি। পুরোনো লেখাগুলোকে হাজির করি। এভাবেই আমি আমার প্রায় সব লেখাকে অনলাইনে প্রকাশ করেছি। আমি আমার চারটি বইকে ই-বই আকারে হাজির করেছি এবং একটি ই-বই সংকলন করেছি। সেগুলোও আপনারা পেয়ে থাকবেন। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি ই-বই তৈরির কাজ চলছে।
আমি অনলাইনে বিভিন্ন রকম কাজ করতে গিয়ে কিছু ভার্চুয়াল শত্রুও জুটিয়েছি। সেই শত্রুরা আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নয়। তাঁরা আমার আদর্শিক শত্রু। গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমি অনবরত লিখে গেছি। আমি সকল রকমের ব্যবসার ধ্বংস কামনা করি। আশা করি আমার ভার্চুয়াল এবং বাস্তবের সব বন্ধুরাই আমাকে আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে অতীতের মতোই সহযোগিতা করবেন। আপনাদের পরামর্শ আমাকে চলার পথের দিশা দেবে। জনগণের পথকে যেন আমরা আঁকড়ে থাকতে পারি। গণশত্রুদের পরাজয় অনিবার্য।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।