ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সাংস্কৃতিক বিউপনিবেশায়ন: হেনরিক ইবসেন, চিনুয়া আচেবে ও নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গোর সাহিত্যিক দর্শন

ব্যক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক বি-উপনিবেশীকরণের একটি ইলাস্ট্রেশন, যেখানে হেনরিক ইবসেনের 'এ ডলস হাউস' থেকে নোরার মুক্তি এবং আফ্রো-এশীয় আদিবাসী জ্ঞান ও মৌখিক ইতিহাসের মাধ্যমে জাতীয় মানস জাগরণ চিত্রিত হয়েছে।

বিশ্বসাহিত্যের বিবর্তনের ইতিহাসে শৃঙ্খল মুক্তির আখ্যানগুলো সবসময়ই মানবচেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই শৃঙ্খল কখনো ব্যক্তিগত ও সামাজিক, আবার কখনো তা জাতীয় ও রাজনৈতিক। হেনরিক ইবসেনের ‘এ ডলস হাউস’-এর মধ্য দিয়ে যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী লড়াইয়ের শুরু, তার পূর্ণতা আমরা দেখতে পাই চিনুয়া আচেবে বা নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গোর উত্তর-ঔপনিবেশিক ও বিউপনিবেশায়ন (Decolonization) তত্ত্বের মাঝে। এই … Read more

উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ: আচেবে থেকে অরুন্ধতী রায়

সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যের একটি ইলাস্ট্রেশন, যেখানে অরুন্ধতী রায় এবং চিনুয়া আচেবেকে তাঁদের বই হাতে প্রতিবাদী ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দেখানো হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় ইংরেজি সাহিত্যের অবস্থান কেবল ভাষা বা ছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্রাজ্যবাদী ইংল্যান্ডের পতনের পর অনেকেই মনে করেছিলেন এই সাহিত্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন মুক্তিকামী ও প্রতিবাদী জনপদ থেকে উঠে আসা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে উত্তর-ঔপনিবেশিক (Post-colonial) সময়ে এটি এক নতুন … Read more

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী: কালানুক্রমিক তালিকা (১৮৯৩-১৯২৩)

সোভিয়েত কনস্ট্রাকটিভিস্ট আর্ট শৈলীতে ভ্লাদিমির লেনিনের একটি শৈল্পিক ইলাস্ট্রেশন, যেখানে তাঁকে টেবিল ও পাণ্ডুলিপির মাঝে তাঁর সমগ্র রচনাবলী লিখতে দেখা যাচ্ছে।

মার্কসবাদী তত্ত্বের অন্যতম প্রধান অনুসারী, লেনিনবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা এবং রুশ বিপ্লবের মহানায়ক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ। ১৮৯৩ সালের প্রারম্ভিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে ১৯২৩ সালের শেষ রাজনৈতিক উইল পর্যন্ত—তাঁর প্রতিটি লেখা সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতির গভীরে আলোকপাত করেছে। পাঠকদের সুবিধার্থে এবং গবেষণার কাজে সহায়তার জন্য ১৮৯৩ থেকে ১৯২৩ … Read more

কমরেড জঙ্গল সাঁওতাল: নকশালবাড়ি আন্দোলনের কিংবদন্তি আদিবাসী নেতার জীবনী

নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রখ্যাত আদিবাসী নেতা কমরেড জঙ্গল সাঁওতালের ঐতিহাসিক প্রতিকৃতি।

নকশালবাড়ি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্থপতি এবং কিংবদন্তি আদিবাসী নেতা কমরেড জঙ্গল সাঁওতাল (১৯২৬-৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৮)। চা বাগান শ্রমিক ও ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি তরাই অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শত জেল-জুলুম এবং প্রতিকূলতার মাঝেও আমৃত্যু মেহনতি মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং বিপ্লবী আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে ভারতের … Read more

উপমহাদেশে নকশাল আন্দোলনের বিবর্তন: তাত্ত্বিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

নকশালবাড়ি আন্দোলনে লাল পতাকা হাতে পাহাড়ি পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসরমান একদল বিপ্লবী কৃষকের ইলাস্ট্রেশন।

নকশালবাড়ি আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ইতিহাস নয়, বরং এটি একটি সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক রাজনৈতিক বাস্তবতা। ষাটের দশকের অন্তিমলগ্নে এসে এটি আর নিছক ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সূচনা করে। এই আন্দোলন একদিকে যেমন প্রচলিত ধারার কমিউনিস্ট রাজনীতির গণ্ডি ভেঙেছে, … Read more

প্রগতিশীলবাদ কী? সমাজবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের আলোকে প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা

অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বৈষম্যমূলক অতীত থেকে সমাজবিপ্লবের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল এবং সাম্যবাদী ভবিষ্যতের দিকে জনতার যাত্রার প্রতীকী চিত্র।

প্রগতিশীলবাদ বা প্রগতিশীলতা (Progressivism) হলো সমাজ পরিবর্তনের ধারায় অগ্রণী শ্রেণির এমন একটি শক্তিশালী আদর্শ, যা মূলত সমাজ সংস্কার বা বৈপ্লবিক রূপান্তরের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রগতি হলো একটি পরিশোধিত, উন্নত এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে ধারাবাহিকভাবে ধাবিত হওয়া। আধুনিক প্রেক্ষাপটে, প্রগতিশীলতা এমন একটি ধারণা যা বিশ্বাস করে যে—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সংগঠনের ক্রমাগত উৎকর্ষের ফলে মানব সভ্যতার সামগ্রিক বিকাশ … Read more

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা: বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ধারা

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভায় বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ধারা হিসেবে পরিচিত। এই প্রগতিশীল বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনটি মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের আমূল বিরোধিতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শ্রেণিশত্রু ও শোষক গোষ্ঠীর কবল থেকে এদেশের শোষিত জনগণের প্রকৃত ও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য একটি সামগ্রিক ‘নয়াগণতান্ত্রিক’ বিপ্লব সাধন অপরিহার্য। সংগঠনটি প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ … Read more

শহীদ কমরেড রাবেয়া আখতার বেলী: নকশালবাড়ি আন্দোলনের এক নির্ভীক নারী বিপ্লবী

শহীদ কমরেড রাবেয়া আখতার বেলী - বাংলাদেশের প্রখ্যাত নারী বিপ্লবী ও মাওবাদী নেত্রী।

বাংলাদেশের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে শ্রমিক, কৃষক এবং শোষিত-নিপীড়িত জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে যে গণযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে, সেখানে নারীদের আত্মত্যাগ ও অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। এই মুক্তিকামী নারী যোদ্ধাদের মিছিলের প্রথম সারিতে যে নামটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন শহীদ কমরেড রাবেয়া আখতার বেলী। তিনি কেবল একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন না, বরং বিপ্লবী আন্দোলনের এক অকুতোভয় ও … Read more

রেনেসাঁ বা নবজাগরণ: ইউরোপীয় আধুনিকতার উদয় ও বৌদ্ধিক রূপান্তর

রেনেসাঁ যুগের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃশ্য যেখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ভিট্রুভিয়ান ম্যান এবং নিকোলাস কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ডায়াগ্রামের সামনে পণ্ডিতরা বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক আলোচনায় মগ্ন।

ইউরোপীয় আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ মূলত সামন্তবাদী কাঠামোর অবক্ষয়কালীন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তর। এটি পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে উদীয়মান পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হয়। রেনেসাঁ কেবল একটি ঐতিহাসিক কালখণ্ড নয়, বরং এটি সৃজনশীল বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত কোনো জাতির বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং প্রগতিশীল উত্তরণের একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। যদিও সমকালীন দর্শনে ধর্মতাত্ত্বিক প্রভাব বিদ্যমান ছিল, তথাপি বহির্বিশ্বের সাথে বর্ধিত সংযোগ এবং ধ্রুপদী … Read more

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা: একটি তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার তাত্ত্বিক বিবর্তনের একটি শিল্পসম্মত রূপায়ন: যেখানে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় স্থবিরতা থেকে আধুনিক সার্বভৌম রাষ্ট্র ও যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দর্শনের উত্তরণ চিত্রিত হয়েছে।

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা বা ‘Modern Political Thought’ মূলত চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দী-উত্তর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে উদ্ভূত এমন এক বৈপ্লবিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যা রাষ্ট্রকে ধর্মীয় ও যাজকীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক স্বতন্ত্র এবং পার্থিব সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপ্তি নয়, বরং এটি হলো রাজনৈতিক চিন্তার এক ‘প্যারাডাইম শিফট’ বা আমূল রূপান্তর। পাশ্চাত্যের … Read more