প্রগতিশীলবাদ কী? সমাজবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের আলোকে প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা

অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বৈষম্যমূলক অতীত থেকে সমাজবিপ্লবের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল এবং সাম্যবাদী ভবিষ্যতের দিকে জনতার যাত্রার প্রতীকী চিত্র।

প্রগতিশীলবাদ বা প্রগতিশীলতা (Progressivism) হলো সমাজ পরিবর্তনের ধারায় অগ্রণী শ্রেণির এমন একটি শক্তিশালী আদর্শ, যা মূলত সমাজ সংস্কার বা বৈপ্লবিক রূপান্তরের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রগতি হলো একটি পরিশোধিত, উন্নত এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে ধারাবাহিকভাবে ধাবিত হওয়া। আধুনিক প্রেক্ষাপটে, প্রগতিশীলতা এমন একটি ধারণা যা বিশ্বাস করে যে—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সংগঠনের ক্রমাগত উৎকর্ষের ফলে মানব সভ্যতার সামগ্রিক বিকাশ … Read more

সরল পণ্য উৎপাদন হচ্ছে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস কর্তৃক বানানো একটি শব্দ

সরল পণ্য উৎপাদন

সরল পণ্য উৎপাদন, (ইংরেজি: Simple commodity production) যা ক্ষুদে পণ্য উৎপাদন হিসাবেও পরিচিত, হচ্ছে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস কর্তৃক বানানো উৎপাদনের ক্রিয়াকলাপকে বর্ণনা করার জন্য তৈরি করা একটি শব্দ যাকে কার্ল মার্কস পণ্যের “সাধারণ বিনিময়” বলেছিলেন, যেখানে স্বাধীন উৎপাদকগণ তাদের নিজস্ব পণ্য বেচাকেনা করে। আমরা দেখেছি যে, মানুষের ইতিহাসের অতি প্রাচীনকালেই বিনিময়-প্রথার উদ্ভব ঘটে। সমাজে শ্রম-বিভাগের প্রথম … Read more

সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা: দাসযুগের পরবর্তী শোষণ ও উৎপাদন সম্পর্কের ইতিহাস

সামন্তবাদ

সামন্তবাদ বা সামন্ততন্ত্র বা সামন্তবাদী সমাজ বা সামন্তীয় সমাজ (ইংরেজি: Feudalism) হচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাসে দাসপ্রথার পরবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক স্তর। এটি মূলত মধ্যযুগীয় সমাজের এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের ওপর মানুষের শোষণের ধরণটি পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছিল। সামন্তবাদ কেবল একটি শাসন পদ্ধতি ছিল না, বরং এটি ছিল উৎপাদন সম্পর্ক ও ভূমিনির্ভর … Read more

দাস সমাজ: মানব ইতিহাসের প্রথম শ্রেণি শোষণ ও মালিকানা ব্যবস্থা

দাস সমাজ

দাস সমাজ বা দাস-মালিকদের সমাজ বা দাসত্ব বা দাসপ্রথাভিত্তিক গঠনরূপ (ইংরেজি: Slavery বা Slave society) হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানা ও মানুষ কর্তৃক মানুষকে শোষণের ভিত্তিতে গঠিত মানব জাতির ইতিহাসে প্রথম শ্রেণিগতভাবে বৈরি সামাজিক অর্থনৈতিক গঠনরূপ। এই দাসপ্রথাভিত্তিক গঠনরূপের আবির্ভাব হয়েছিল আদিম গোষ্ঠীভিত্তিক গঠনরূপের ভাঙনের ফলে। মানব জাতির প্রথম সামাজিক অর্থনৈতিক গঠনরূপ আদিম যৌথ সমাজ বা আদি … Read more

হবসের সার্বভৌম তত্ত্ব হচ্ছে শাসক চরম, অবিভাজ্য ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী

সার্বভৌম তত্ত্ব

ব্রিটিশ পুঁজিবাদী দার্শনিক টমাস হবসের সার্বভৌম তত্ত্ব (ইংরেজি: Sovereignty Theory of Thomas Hobbes) মোতাবেক শাসক চরম, অবিভাজ্য ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর মতে, সার্বভৌম শাসক হচ্ছে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি যার যাদের নিকট জনগণ তাদের যাবতীয় অধিকার ও ক্ষমতা বিনা শর্তে সমর্পণ করে। জনগণ সার্বভৌম শাসকের নিকট তাদের সকল ক্ষমতা অর্পণ করে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে। … Read more

প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে হবসের ধারণা হচ্ছে সমাজবিহীন অসভ্য নোংরা

প্রকৃতির রাজ্য

মানব প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে টমাস হবস তাঁর প্রকৃতির রাজ্যের (ইংরেজি: Thomas Hobbes‘ state of nature) যে চিত্র অঙ্কন করেছেন, তাতে প্রকৃতির রাজ্য হচ্ছে বিশৃঙ্খল, সমাজবিহীন, অসভ্য, নোংরা, কদর্য ও নিষ্ঠুর। তাঁর প্রকৃতির রাজ্যের ধারণা নিম্নরূপ: ১. ন্যায় অন্যায়ের স্থান ছিল না: প্রকৃতির রাজ্যে প্রত্যেকেরই শত্রু ছিল। তারা সর্বক্ষণ দ্বন্দ্বকলহ, খুন খারাবি ইত্যাদিতে লিপ্ত ছিল। … Read more

মানব প্রকৃতি সম্পর্কে টমাস হবসের ধারণা হচ্ছে স্বার্থপর, লোভী, আত্মকেন্দ্রিক

মানব প্রকৃতি

টমাস হবস মানব প্রকৃতি সম্পর্কে (ইংরেজি: Thomas Hobbes on Human Nature) অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ধারণা পোষণ করতেন যে,মানুষ হচ্ছে স্বার্থপর, লোভী, আত্মকেন্দ্রিক, ক্ষমতালিপ্সু। নিম্নে মানবপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা আলোচনা করা হলো: ১. মানুষ মূলত জড় পদার্থ: টমাস হবস মানবপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, মানুষ অন্যান্য জড়বস্তুর ন্যায় একটি পদার্থ। মানবদেহকে তিনি বস্তু এবং মানব মনকে ক্ষয়িষ্ণু … Read more

সর্বহারা একনায়কত্ব থেকেই নির্মিত হয়েছে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের পথ

সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব

সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব (ইংরেজি: Proletarian dictatorship) হচ্ছে সেই ক্ষমতা যা শ্রেণিহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ হতে সাম্যবাদী সমাজের নির্মাণকর্ম সম্পাদন করে। সকল পুঁজিবাদী দেশেই শাসন-ক্ষমতা থাকে বুর্জোয়া শ্রেণিরই হাতে। সরকারের রূপ যাই থাক না কেন তা অপরিবর্তনীয় ভাবে বুর্জোয়া শ্রেণির একনায়কত্বকে আড়াল করেই রাখে। বুর্জোয়া রাষ্ট্রের অভীষ্ট হলো পুঁজিবাদী শোষণকে রক্ষা করা, কল-কারখানা-ফ্যাক্টরীর উপর বুর্জোয়া শ্রেণির ব্যক্তিমালিকানা, … Read more

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা (ইংরেজি: Two world system theory) হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র, দুই ব্যবস্থার, অর্থাৎ দুই সমাজ পদ্ধতির মধ্যেকার সংগ্রাম। বিশ শতকের শুরুতে পুঁজিবাদী দেশসমূহে ঘটেছে নজিরবিহীন ধ্বংস আর ভাঙন। ১৯২৯ সালের শরৎকাল থেকে অদৃষ্টপূর্ব গভীরতা ও প্রবলতা সম্পন্ন এক সংকট এসব দেশকে পর্যুদস্ত করছে। এই সংকট তার প্রচণ্ডতার দিক থেকে, দীর্ঘস্থায়িত্বপূর্ণ প্রকৃতির … Read more

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের সম্পর্ক জড়িত রাজনৈতিক অর্থনীতি অধ্যয়নের সংগে

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের সম্পর্ক

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাজনৈতিক অর্থনীতি অধ্যয়নের (ইংরেজি: The relationship of socialist construction with political economy) সংগে বিরাজমান। আমরা জানি, পুঁজিবাদকে প্রতিস্থাপন করেই আসে সমাজতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজের উৎপাদন সম্পর্কসমূহ রূপ-কাঠামোগত দিক দিয়েই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপাদন-সম্পর্কসমূহ থেকে সামগ্রিকভাবে ভিন্ন। এই নতুন সম্পর্কসমূহকে রাজনৈতিক অর্থনীতি কি অবশ্যই অধ্যয়ন করবে? স্বভাবতই একে তা করতে হবে। লেনিন দেখিয়ে … Read more

error: Content is protected !!