উদার গণতন্ত্র গণতান্ত্রিক সংগঠনকে উদার রাজনৈতিক দর্শনের সাথে একত্রিত করে

উদার গণতন্ত্র বা উদারনৈতিক গণতন্ত্র বা বুর্জোয়া গণতন্ত্র (ইংরেজি: Liberal Democracy) যা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র বা বুনিয়াদি গণতন্ত্র নামেও পরিচিত, হচ্ছে সরকারের একটি রূপ যা গণতান্ত্রিক সংগঠনকে উদার রাজনৈতিক দর্শনের ধারণার সাথে একত্রিত করে। উদার গণতন্ত্রের মধ্যে সাধারণ উপাদানগুলি হচ্ছে: একাধিক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের মধ্যে বা তাদের মধ্যে নির্বাচন; সরকারের বিভিন্ন শাখায় ক্ষমতার বিভাজন; একটি উন্মুক্ত সমাজের অংশ হিসাবে দৈনন্দিন জীবনে আইনের শাসন; ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ একটি বাজার অর্থনীতি; সর্বজনীন ভোটাধিকার; এবং সকল নাগরিকের জন্য মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার সমান সুরক্ষা। বুনিয়াদি গণতন্ত্র বলতে বুনিয়াদি অধিকার এবং বুনিয়াদি আইনকে বোঝায়, যার মধ্যে বুনিয়াদি সমতা, সমাজের উপগোষ্ঠীর জন্য ফলাফলের সমতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।[১]

উদার গণতন্ত্র ক্ষমতার পৃথকীকরণ, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং সরকারের শাখাগুলির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের ব্যবস্থার উপর জোর দেয়। কমপক্ষে দুটি স্থায়ী, কার্যকর রাজনৈতিক দলসহ বহুদলীয় ব্যবস্থা উদার গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য।

উদারনৈতিক গণতন্ত্র বা উদারবাদী গণতন্ত্র বা পাশ্চাত্য গণতন্ত্র হচ্ছে গণতান্ত্রিক শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থারই একটি রূপ বিশেষ। উদারনৈতিক গণতন্ত্র মার্কসবাদী, লেনিনবাদী, মাওবাদী, সাম্যবাদী, সমাজতন্ত্রী ও নৈরাজ্যবাদীদের যুক্তিতে হচ্ছে বুর্জোয়াশ্রেণির একনায়কত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতার ঘােষণাপত্রে’ (১৭৭৬) বিবৃত হয়েছিল যে মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মায়, সেই স্বাধীনতার ভাবভূমিতে মানুষ সমাজিক, রাষ্ট্রিক ও অর্থনীতিক জীবনের সর্বস্তরে সমতার অধিকারী। জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সুখের সন্ধানে মানুষ আজন্মকাল নানাবিধ অধিকার ভােগ করে এসেছে। এই ঘােষণাপত্র ছাড়াও ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব (১৬৮৮) এবং ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯) উদারনৈতিক গণতন্ত্রী ভাবধারার সূচনা করেছিল ।

উদারনৈতিক গণতন্ত্রের অন্তঃসার হলো ব্যক্তিস্বাধীনতা, নানাবিধ অধিকার এবং শাসিতের সম্মতি-সাপেক্ষ বৈধতা-সম্পন্ন সরকার। নাগরিকজীবনের যাবতীয় পৌর ও রাষ্ট্রিক অধিকারের স্বীকৃতি, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনের গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার সঙ্গে উদারনীতির সুসংবদ্ধ সম্পর্ক হলো এই প্রত্যয়ের মূলকথা। কালপ্রবাহে গণতন্ত্রেরও বিবর্তন হয়েছে। আর্থনীতিক ক্ষেত্রে মিশ্র অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা অবাধ বাণিজ্যের স্থান অধিকার করেছে। আর্থনীতিক সমতার নীতি প্রাধান্য পাওয়ায় শোষণ লুটপাট ও উপনিবেশে গণহত্যা নির্ভর উদারনৈতিক গণতন্ত্রের অবাধ গতি অনেকাংশে রুদ্ধ হয়েছে।

আরো পড়ুন

চিত্রের বিশ্লেষণ: ২০১৬ সালে সারা দুনিয়ার ভোটে নির্বাচিত সরকার দ্বারা চালিত দেশসমূহকে নীল রঙে দেখানো হয়েছে। ২০১৭ সালের চালানো জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল।

তথ্যসূত্র

১. অনুপ সাদি, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, “উদারনৈতিক গণতন্ত্র হচ্ছে গণতান্ত্রিক শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থারই রূপ বিশেষ”, রোদ্দুরে.কম, ঢাকা, ইউআরএল: https://www.roddure.com/encyclopedia/liberal-democracy/
২. সৌরেন্দ্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৫২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!