অভিজাততন্ত্র মুষ্টিমেয় সংখ্যক ব্যক্তিদের দ্বারা চালিত গণবিরোধী শাসন

অভিজাততন্ত্র (ইংরেজি: Aristocracy) হচ্ছে গ্রিক আরিস্তোক্রাতিয়ার বাংলা প্রতিশব্দ। অভিজাততন্ত্রের অর্থ হলো সর্বোত্তমের দ্বারা শাসন। আরিস্তোতলের দৃষ্টিতে পুণ্যবানদের নিয়ে অভিজাততন্ত্র রচিত হয় এবং গোষ্ঠীতন্ত্রের (ইংরেজি: oligarchy) মূলাধারা হলো বিত্ত। দুটি শাসনতন্ত্রই কায়েমি মুষ্টিমেয় সংখ্যক ব্যক্তিদের দ্বারা চালিত হয়। তবে অভিজাততন্ত্রের অভীষ্ট হলো সকলের স্বার্থ সংরক্ষণ। অভিজাততন্ত্র উত্তরাধিকারসূত্রে একটি সংখ্যালঘু শাসক শ্রেণি কর্তৃক চালিত হয়।

ইউরোপ জুড়ে, অভিজাতরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে প্রচুর প্রভাব বিস্তার করেছিল। পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান দেশগুলিতে, অভিজাতরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ শ্রেণির ধনীদের সাথে সমান ছিল, যাদেরকে উচ্চ পদবীধারী বা রাজপরিবারের বাইরে উচ্চতর ব্যক্তিও বলা হত। তবে আরও অসংখ্য সামাজিক শ্রেণির সদস্য, পদবিবিহীন নিম্নতর সভাসদ ব্যক্তিত্ব (ক্ষুদ্র সভাসদ ব্যক্তিত্ব ও জমিদার) অভিজাতদের অংশ ছিলেন না।

অভিজাততন্ত্রের দুটি ধারা দেখা যেত, একটি নগর রাষ্ট্রের শাসন যেখানে রাজার পরিবর্তে একটি শাসকশ্রেণী ক্ষমতাসীন থাকত। দ্বিতীয় ধারার অন্তর্গত তিনটি উপধারাই বেশি পরিচিত: ১. আইনানুগ রাজনৈতিক ধারা, যাতে উত্তরাধিকারের স্বত্বাধীনে ভূস্বামীদের আধিপত্য, রাজার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্মান ও শক্তির নিদর্শন হিসেবে খেতাব ধারণ, রাজসভায় স্থায়ী আসনের মর্যাদা অর্জন। ২. আর্থনীতিক ধারা, আইন ও রাজনীতির পূর্বোক্ত ধারার অন্তরালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতা কাজ করে, যেটি মার্কসীয় দৃষ্টিতে ভিত্তি ও উপরিকাঠামোয় বিভক্ত। ভূস্বামী জমির স্বত্বাধিকারী, তাতে ক্ষেতমজুরকে দিয়ে কাজ করানো হয়। অভিজাততন্ত্র প্রকারান্তরে সামন্ততন্ত্রেরই অবশিষ্ট একটি অঙ্গ। ৩. সামাজিক ধারা, যেটি জনমানসে বেশি স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়। সাধারণ লোকে উত্তরাধিকার সূত্রে অভিজাতদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা, অবসর বিনোদন, বিলাসিতা, ধনাঢ্যের হাবভাব প্রত্যক্ষ করে। লোকচক্ষে অভিজাতদের বংশমর্যাদা উত্তরাধিকারের সঙ্গে মিশ্রিত হয়।

আধুনিক সময়ে, অভিজাততন্ত্রকে সাধারণত একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, অভিজাত শ্রেণীর শাসন হিসেবে দেখা হতো এবং তখন থেকে গণতন্ত্রের সাথে এর বৈপরীত্য দেখা যায়। মধ্যযুগীয় ও আধুনিক যুগের বেশিরভাগ সময় ধরে ইউরোপের প্রায় সর্বত্র অভিজাতরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তাদের সম্পদ এবং জমির মালিকানা ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি গঠন করেছিল। ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সাথে ইউরোপে অভিজাতদের ক্ষমতা হ্রাস করার প্রথম টেকসই সংগঠিত প্রচেষ্টা জড়িয়ে পড়েছিল।

আরো পড়ুন

চিত্রের ইতিহাস: তিনটি প্যানেল কার্টুনে ফরাসি কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরছে, তিনটি আদেশের সমন্বয় (পাদরি, অভিজাত, এবং জনগণ), এবং কৃষকদের দুঃখজনক দুর্যোগের অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে।

তথ্যসূত্র:

১. সৌরেন্দ্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ২০।

Leave a Comment

error: Content is protected !!