কমরেড আব্দুর রউফ মুকুলের প্রতি সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (এম-এল) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অভিজ্ঞ নেতা আব্দুর রউফ মুকুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে অসংখ্য মানুষ জড়ো হন। সকাল ১০টায় তাঁর মরদেহ সেখানে আনা হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিক, কৃষক এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তাঁর সম্মানে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তির।
কমরেড আব্দুর রউফ মুকুলের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক কমিটি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল), জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ, শহীদ বিপ্লবী দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ, ভাসানী পরিষদ, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা, সিপিবি ঢাকা দক্ষিণ কমিটি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, জাতীয় ছাত্রদল, সাপ্তাহিক সেবা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা পাদুকা শিল্প শ্রমিক সংঘ, ঢাকা পোশাক প্রস্তুতকারী শ্রমিক সংঘ, ঢাকা মহানগর সিএনজি চালক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখা।
এছাড়া প্রয়াত আব্দুর রউফ মুকুলের পরিবারের সদস্যগণসহ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের বিভিন্ন জেলা অঞ্চল থেকে আগত নেতৃবৃন্দ ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবি, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সকলকে শপথ পাঠ করান আয়োজক কমিটির আহবায়ক ব্রি. জেনা. (অব) ডা এম জাহাঙ্গীর হোসেন। শপথ পাঠ শেষে প্রয়াত কমরেডের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য খুলনায় নেয়া হয়।
উল্লেখ্য কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন নেতা আব্দুর রউফ মুকুল দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং শোষিত শ্রেণির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর স্মরণে ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। সভায় আব্দুর রউফ মুকুলের শেষকৃত্য ও শোকসভা আয়োজনের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড আব্দুর রউফের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে আজ প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করা।
আরো পড়ুন
- কমরেড আব্দুর রউফ মুকুলের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন
- কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা
- বাদল মজুমদার একজন লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা
- আনোয়ার হোসেন ছিলেন একজন সাম্যবাদী ধারার রাজনীতিবিদ
- রবীন্দ্রনাথ সরেন ছিলেন বাংলাদেশের আদিবাসীদের নেতা
- আবদুল বারী ছিলেন সাম্যবাদী ধারার রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক
- হামিদুল হক ছিলেন বামপন্থী উদার গণতান্ত্রিক বিপ্লবী
- হাসান ফকরী বাংলাদেশের একজন কবি, গীতিকার, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক
- আলতাব আলী ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতিক ও শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের নেতা
- লুৎফুন নাহার হেলেন ছিলেন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী
- আবু তাহের ছিলেন সাম্রাজ্যবাদের যুগের বামপন্থী সমাজগণতন্ত্রী বিপ্লবী
- বিকাশ ভৌমিক ছিলেন নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী নেতা
- নগেন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী রাজনীতিবিদ
- শাহজাহান আলী বাংলাদেশের বামপন্থী সুবিধাবাদী সংশোধনবাদী রাজনীতিবিদ
- কাজী সালাহ উদ্দিন মুকুল ছিলেন রাজনীতিবিদ, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী ও সংগঠক
- মওলানা ভাসানী ছিলেন মজলুম জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধি নেতা
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ফেসবুকে প্রচার হতে দেখা যায় এবং ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করে ফুলকিবাজ.কমে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।