বাংলা তথা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণের দিল্লি বিরোধিতার ইতিহাস কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি হচ্ছে প্রায় এক হাজার বছরের এক গৌরবোজ্জ্বল শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। এই ভূখণ্ডের মানুষ দিল্লির পুরনো সাম্রাজ্যগুলোর আধিপত্য ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে বহু শতাব্দী ধরে। আর সাম্প্রতিককালের দিল্লির নয়া-উপনিবেশিক বিস্তারবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠিত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চলছে অন্তত আশি বছর ধরে। তাই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণের এই ঐতিহাসিক দিল্লি বিরোধিতার আগ-পাছ এবং এর গভীরতা বুঝতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকেই ফিরে তাকাতে হবে।
আজকে দিল্লি যে কৌশলে পশ্চিমবঙ্গকে নিজের দখলে রেখে দিয়েছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষণ করতে পারছে, তার মূল হাতিয়ার হলো বিভেদ নীতি। বঙ্গভূমির সমতলের মানুষদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে হিন্দু-মুসলিম, ঘটি-বাঙ্গাল, বাঙালি-বিহারী ও বাঙালি-অহমিয়াসহ আরো বহুবিধ কৃত্রিম জাতিবিভেদ ও সাম্প্রদায়িক দেয়াল তৈরি করেছে। এই আধিপত্যবাদের স্বরূপ উন্মোচনের লক্ষ্যে এখানে একটি ক্ষুদ্র আলোচনার অবতারণা করা হলো, যা মুক্ত আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে।
‘ভারত বিরোধিতা’ বনাম ‘দিল্লি বিরোধিতা’: শব্দের জগাখিচুড়ি ও আসল শত্রু চিহ্নিতকরণ
সাধারণত বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ভারত বিরোধিতার নামে মূলত দিল্লির আধিপত্য, সম্প্রসারণবাদ, আমলাতন্ত্র ও নির্লজ্জ শোষণেরই বিরোধিতা করে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ভারত’ বলতে কেবল একটি নির্দিষ্ট শাসকগোষ্ঠীকে বোঝায় না; ভারত বলতে সর্বভারত বা ভারত, পাকিস্তান, বাংলা, সেভেন সিস্টার্স, কাশ্মীর, সিকিম, আন্দামান ইত্যাদির এক বিশাল মানচিত্র ও বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যাকে বোঝায়। ফলে ঢালাওভাবে ‘ভারত বিরোধিতা’ কথাটি একটি জগাখিচুড়ি ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রকৃত সত্য হলো, স্বৈরাচারী ও পুঁজিপতি দিল্লি মূলত উপরোক্ত সমস্ত স্বাধীনচেতা অঞ্চল ও জাতিগুলোকে নির্মমভাবে শোষণ করছে। অতএব, বিভ্রান্তিকর ‘ভারত’ শব্দটি সামাজিকভাবে পরিত্যাগ করে যদি আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ‘দিল্লি বিরোধিতা’ শব্দটি ব্যবহার করি, তবে শোষকের আসল চেহারাটি জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়। বাঙালি জাতি সবসময়ই তীব্র আবেগপ্রবণ; এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আমরা অনেক সময় আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে ফেলি। কিন্তু এখন সময় এসেছে ভাবাবেগ পরিহার করে নিখাদ যুক্তি দিয়ে বিচার করে দিল্লির এই আধিপত্যকে রুখে দাঁড়ানোর এবং আমলাতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদি দিল্লির পতন ঘটাবার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক পথ বের করার।
মোগল আমলে সুবে বাংলা লুণ্ঠন: তাজমহল ও ময়ূর সিংহাসনের নেপথ্য অর্থনীতি
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৫৭৫ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত দিল্লি সুবে বাংলাকে সম্পূর্ণ নিজের অধীনস্থ করে রেখেছিল। এই সুদীর্ঘ সময়ে বাংলার সম্পদ যেভাবে লুণ্ঠিত হয়েছে তা গা শিউরে ওঠার মতো। উদাহরণস্বরূপ, মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের সময় বাংলা থেকে ১২০ বলদের গাড়ি বোঝাই সোনা ও রূপা দিল্লির রাজকোষে খাজনার নামে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মূলত বাংলার এই বিপুল ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেই বর্ব র মোগল সম্রাট শাহজাহানসহ অন্যান্য সম্রাটেরা তাজমহল কিংবা ময়ূর সিংহাসনের মতো বিশ্বখ্যাত ও পাশবিক জগতখ্যাত জাঁকজমকপূর্ণ জিনিস তৈরি করেছিলেন।
১৫৭৫ থেকে ১৭০০ সাল পর্যন্ত দিল্লি কী বিপুল পরিমাণে বাংলার সম্পদ পাচার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ সামগ্রিক হিসাব আজও অজানা। সেই অন্ধকার সময়ের দিল্লির সম্পদ লুণ্ঠনের প্রকৃত অর্থনৈতিক হিসাব বের করার জন্য নতুন গবেষণার প্রয়োজন। তবে ১৭০০ সাল থেকে বা নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সময় থেকে কী পরিমাণ সম্পদ দিল্লিতে পাচার হতো, তার একটি মোটামুটি নিখুঁত হিসাব পাওয়া যায়। বাংলার তৎকালীন নবাবদের মধ্যে মুর্শিদকুলী খাঁ ও সুজাউদ্দিন নিয়মিতভাবে দিল্লির সম্রাটের প্রাপ্য রাজস্ব (Imperial tribute) পাঠিয়েছিলেন। তারা প্রতিবছর এক কোটিরও কিছু বেশি টাকা দিল্লিতে পাঠাতেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রান্ট সাহেবের মতে, নবাব সুজাউদ্দিন প্রতি বছর এক কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা দিল্লিতে পাঠাতেন। এই দুই নবাবের আমলে বাংলা থেকে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা রাজস্ব এবং সেই সঙ্গে মসলিন, হাতির দাঁতের সূক্ষ্ম কাজ, নামিদামি কাঠের আসবাবপত্র ও হাতিসহ বহু মূল্যবান উপঢৌকন দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে নবাব আলিবর্দী খান তাঁর রাজত্বের প্রথমদিকে মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহকে একসঙ্গে কিছু টাকা ও উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু যখন বাংলাদেশে মারাঠা আক্রমণ বা কুখ্যাত ‘বর্গির তাণ্ডব’ শুরু হয়, তখন আলিবর্দী খান দিল্লিতে রাজস্ব পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রাক-পলাশী যুগে বাংলায় এই মারাঠা আক্রমণ এ দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল। মারাঠারা পুরো দশ বছর ধরে বাংলাদেশে যে নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা বাংলাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। এই দুর্বলতাই পরবর্তীতে বাংলাসহ গোটা হিন্দুস্তান ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে চলে যাবার পথকে সহজ করে দিয়েছিল। আলিবর্দী খানের মতো স্বাধীনচেতা নবাব সিরাজদ্দৌলাও দিল্লির দরবারে কোনো প্রকার রাজস্ব পাঠাননি।
মুর্শিদকুলী ও সুজাউদ্দিন দিল্লিতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিলেন, তা বাংলার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। সেই যুগে বাংলাদেশে নগদ টাকা ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং টাকার ক্রয়ক্ষমতাও ছিল অনেক বেশি। ১৭২৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রূপার সিক্কা টাকায় দিল্লির রাজস্ব পাঠানো হতো, যা পরবর্তীতে জগৎশেঠদের দিল্লি শাখার মাধ্যমে হুণ্ডিতে পাঠানো শুরু হয়। এর অর্থ হলো, প্রতিবছর এক কোটি টাকা বাংলার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চিরতরে উধাও হয়ে যেত। নগদ টাকার এই চরম সংকটের কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে নামত, যার ফলে সাধারণ কৃষক ও কারিগরেরা তাদের হাড়ভাঙা শ্রমের যথোপযুক্ত মূল্য পেত না। এ কারণে বাংলাদেশে মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা কমে যায়, কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।[১]
আওরঙ্গজেব আমলের এই লুণ্ঠন সম্পর্কে বিজ্ঞানী ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের লেখায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন যে, মুঘল আমলের পুরনো সাম্রাজ্যবাদী শোষণ প্রক্রিয়ায় আওরঙ্গজেব সুবে বাংলা থেকে বছরে ১ কোটি টাকা রাজস্ব নিয়ে যেতেন এবং পাশাপাশি মহারাষ্ট্রীয়রা (মারাঠা) যে ধনসম্পত্তি লুণ্ঠন ও চৌথ আদায় করত তার পরিমাণ ছিল কয়েক কোটি টাকা। বর্তমান যুগের গবেষক ও ঐতিহাসিকদের উচিত মোগল যুগে বাংলাকে শোষণের এই করুণ ইতিহাস জনসমক্ষে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা।
নয়া-উপনিবেশিক শোষণের আধুনিক রূপ: সীমান্ত হত্যা ও বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স
ব্রিটিশদের বিদায়ের পর, ১৯৪৭ সাল থেকেই দিল্লি তার অধীনে থাকা সমস্ত রাজ্যগুলোকে এক নতুন আঙ্গিকে শোষণ করে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণের কোনো প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ আজও কোনো রাজ্য দিল্লির কাছ থেকে পায়নি। দিল্লি কোনোদিন তার এই ঔপনিবেশিক আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেনি। তাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দিল্লির ধনপতিদের আধিপত্যকে চূর্ণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। পশ্চিমবঙ্গ, অরুণাচল, আসাম, ত্রিপুরাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের অসীম দারিদ্র দূর করতে হলে দিল্লির আধিপত্যকামী দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে হবে। দিল্লির শাসকগোষ্ঠী যে আধুনিক মানবতা ও সভ্যতার জন্য এক বড় কলঙ্ক, তা সারা দুনিয়াতে জোরালোভাবে প্রচার করা প্রয়োজন। বর্তমানে দিল্লির পুঁজিপতি ও শাসকরা ভারতের প্রায় ২০টি ভিন্ন জাতিকে পরাধীন করে রেখেছে, যার ফলে এই জাতিগুলো তাদের নিজস্ব ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে টিকে থাকতে পারছে না।
আজকের নয়া-উপনিবেশিক দিল্লির শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের চতুর্দিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রেখেছে, অথচ তারা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর চায়, ট্রানজিট চায় এবং অভিন্ন নদীর জল আটকে রাখতে চায়। দিল্লি প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে বাংলাদেশের নিরপরাধ ও দরিদ্র মানুষকে খেয়ালের বশে গুলি করে হত্যা করে। দিল্লির এই গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর অপকর্মেরই তীব্র বিরোধিতা করে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ভারতে বাংলাদেশ-বিদ্বেষ এবং বাংলাদেশে দিল্লি-বিদ্বেষের এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতার স্থায়ী অবসান কেবল তখনই সম্ভব, যখন ভারতীয় ও বাংলাদেশি পুঁজিপতি ও শোষক শ্রেণীর সম্পূর্ণ উৎখাত ঘটবে।
আজকে বাংলাদেশের শিল্প খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, বহুসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক এখানে উচ্চপদে কাজ করছেন। তারা প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা সম্পূর্ণ বৈধ পথে রেমিট্যান্স হিসেবে ভারতে নিয়ে যাচ্ছেন। আর বিভিন্ন অবৈধ বা হুন্ডি পথে যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যায়, তা বিবেচনায় নিলে এই মোট পরিমাণ সহজেই দ্বিগুণ (প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যাবে। অথচ আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভারতের কোনো লোক বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসেন না বা বসবাস করেন না। আসলে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। অল্প হলেও ভারতের কিছু লোক প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসেন এবং গোপনে পণ্য আনা-নেয়ার কাজে যুক্ত থাকেন। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত গ্রামগুলো বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলোর মতোই চরম দারিদ্রপীড়িত। ফলে সেই অঞ্চলের অভাবী ও দরিদ্র জনগণ কেবল বেঁচে থাকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মাঝেমধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসেন।
১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক নরসিংদী মুক্তকরণ: ভারতীয় বাহিনীর অস্ত্র লুণ্ঠনের অপ্রকাশিত অধ্যায়
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৩ই ডিসেম্বর একটি স্মরণীয় দিন, যেদিন নরসিংদী সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। সেদিন খুব ভোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্প ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। যখন নরসিংদী মুক্ত হয়, তখন ভারতীয় মিত্রবাহিনী নরসিংদী থেকে অনেক দূরে, কেবল ভৈরব পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। নরসিংদীর টি.অ্যান্ড.টি. ক্যাম্পটি বীরত্বের সাথে দখল করে সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
ক্যাম্প দখলের পর ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের বিশাল সম্ভার দেখে মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ঘরবোঝাই হালকা ও ভারী মেশিনগান, থরে থরে সাজানো রকেট লঞ্চার, দুই ইঞ্চি মর্টার এবং অফুরন্ত গোলাগুলি ও গ্রেনেড ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই বিপুল অস্ত্রসম্ভার মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে রাখা সম্ভব হয়নি। কারণ অল্পক্ষণের মধ্যেই সেখানে দিল্লির একটি সামরিক হেলিকপ্টার এসে নামে, যেখান থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কয়েকজন অফিসার ও সৈনিক নামেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের নরসিংদী মুক্ত করার জন্য মুখে ধন্যবাদ জানান এবং চতুরতার সাথে ঐ ক্যাম্পের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও অস্ত্রাগার তাঁদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেন।
মুক্তিযোদ্ধারা সরল বিশ্বাসে দখল করা সমস্ত আধুনিক অস্ত্রসম্ভার ভারতীয় বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন এবং অত্যন্ত মন খারাপ করেই শিবপুরের ঘাঁটিতে ফিরে আসেন। ভারতীয় বাহিনী এভাবেই সেসময় কৌশলে সারা দেশ থেকে বাংলাদেশের অর্জিত অস্ত্র ও সামরিক সম্পদ লুণ্ঠন করে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়।[৩]
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর চরিত্র: ‘জগতশেঠ’ ও ‘মিরজাফরদের’ আধুনিক সংস্করণ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়শই আওয়ামী লীগকে দিল্লির সহযোগী হিসেবে এবং বিএনপিকে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই সস্তা দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই কর্পোরেট দিল্লির পুঁজিপতিদের জন্য বাংলাদেশের বিশাল বাজারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দুই দলই দিল্লির মিত্র মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে দেশের sovereignty ও স্বাধীনতাকে বিভিন্ন সময়ে বন্ধক রেখেছে। পুঁজি ও টাকার শাসনের কাছে মাথা নত করে দুই দলই ইঙ্গ-মার্কিন-ভারত তোষণে সমান পারদর্শী।
সহজ কথায়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মূলত একই শোষক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দিল্লির আধুনিক ‘জগতশেঠরা’ যখন বাংলাদেশ লুণ্ঠন করতে আসে, তখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিরজাফর, রায়দুর্লভ আর ঘসেটি বেগমদের কোনো অভাব হয় না। এই আধুনিক ঘসেটি বেগম ও মিরজাফরেরা বিদেশী প্রভুদের সাথে গোপন বৈঠক করে দেশের মূল্যবান গ্যাস, বন্দর, ট্রানজিট, নদীর পানি এবং ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়।
বাংলাদেশের শিল্প খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব ভারতীয় নাগরিকেরা কাজ করেন, তারা বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা সম্পূর্ণ বৈধ পথে রেমিট্যান্স হিসেবে ভারতে নিয়ে যান। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ২০ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অবৈধ বা হুন্ডি পথে যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যায়, তা বিবেচনায় নিলে এই মোট পরিমাণ সহজেই দ্বিগুণ (প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যাবে।[৪]
অথচ আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভারতের কোনো লোক বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসেন না বা বসবাস করেন না। আসলে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। অল্প হলেও ভারতের কিছু লোক প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসেন এবং গোপনে পণ্য আনা-নেয়ার কাজে যুক্ত থাকেন। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত গ্রামগুলো বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলোর মতোই চরম দারিদ্রপীড়িত। ফলে সেই অঞ্চলের অভাবী ও দরিদ্র জনগণ কেবল বেঁচে থাকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মাঝেমধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসেন।
সামরিকায়ন ও কাঁটাতারের বেড়ার নেপথ্য ভূ-রাজনীতি
দিল্লি বর্তমানে তার নিজের জনগণের বৈধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোকে বুটের তলায় কঠোরভাবে দমন করছে। পৃথিবীর বড় বড় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভারত আজ অন্যতম শীর্ষ ও লোভনীয় বাজারে পরিণত হয়েছে। কেবল ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যেই দিল্লি প্রায় ৬০,০০০ কোটি রুপির মারাত্মক অস্ত্র আমদানি করেছিল এবং পরবর্তীতে আরও ৯০,০০০ কোটি রুপির অস্ত্র আমদানির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত দিল্লির কাছে এই মরণাস্ত্র বিক্রি করছে। এর অর্থ স্পষ্ট—দিল্লি যেমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তার নিজস্ব রাজ্যগুলোর জনগণের বিরুদ্ধে এক অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছে, তেমনি তাদের এই অভ্যন্তরীণ সাম্রাজ্যবাদী দমনপীড়ন আরও অনেকদিন চলবে। জনগণের এই প্রতিরোধ যুদ্ধ যদি কোনো শুভ বৈপ্লবিক পরিণতির দিকে না যায়, তবে বাঙালিসহ উপমহাদেশের সব স্বাধীনতাকামী জাতিগুলোর জীবন চরম সংকটে পড়বে।
অনেকে প্রশ্ন করেন, দিল্লির শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের চতুর্দিকে এই দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে কেন? এর পেছনে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে:
- প্রথম কারণ: দিল্লির বিজেপি-কংগ্রেস তথা শাসকগোষ্ঠীর নেতারা খুব ভালো করেই জানে যে—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের ভেতরে যদি প্রকৃত স্বাধীনতার বোধ ও অধিকার সচেতনতা জেগে ওঠে, তবে গান্ধী-নেহেরু- আদভানি- মোদিদের দ্বারা নির্মিত দিল্লির এই অহংকারী ও শোষক শক্তির তখত-তাউস (সিংহাসন) কয়েক মাসের মধ্যেই উল্টে যাবে।
- দ্বিতীয় কারণ: বাংলাদেশসহ তার পার্শ্ববর্তী ভারতের রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষগুলোকে মানসিকভাবে বন্দি, অবরুদ্ধ ও দিল্লির ওপর নির্ভরশীল রাখা, যার মনস্তাত্ত্বিক শিকার দুর্ভাগ্যবশত অনেকেই হচ্ছেন। দিল্লি এই বেড়া দিয়ে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করতে চায় যে, “দেখো, আমরা বাংলাদেশকে চারদিক থেকে বন্দি করে রেখেছি; তোমরা যদি বেশি স্বাধিকার বা স্বাধীনতা চাও, তবে তোমাদেরও এভাবেই অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।”
- তৃতীয় কারণ: দিল্লির পুঁজিপতিদের উৎপাদিত পণ্য জোরপূর্বক বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে বিক্রি করা। আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা বা অরুণাচলের মানুষের কী এমন ঠেকা পড়েছে যে তারা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কাছের দেশ বাংলাদেশের মানসম্মত পণ্য বাদ দিয়ে হাজার মাইল দূরের দিল্লির পণ্য বেশি দামে কিনতে বাধ্য হবে? এই বাজার একচেটিয়া রাখতেই কাঁটাতারের প্রাচীর তোলা হয়েছে।
আমাদের করণীয়: দিল্লির পুঁজিপতি ও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ
সাম্রাজ্যবাদ ও বিস্তারবাদকে ওপর থেকে যতই শক্তিশালী মনে হোক না কেন, তা আসলে ভেতর থেকে অত্যন্ত ভঙ্গুর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পা বাড়িয়ে দিল্লি বেশি দূর এগোতে পারবে না এবং তাদের এই যুদ্ধবাজ নীতি একদিন বন্ধ হতে বাধ্য। অনেকে ভুলবশত মনে করেন যে, দিল্লির চরম বিরোধিতা করলে বাংলাদেশ বুঝি আবার পাকিস্তান হয়ে যাবে! তাদের শক্তভাবে মাথায় রাখা দরকার যে—দিল্লির আধিপত্যের বিরোধিতা করলে দেশ কখনো পাকিস্তান হয় না, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে। একই সাথে দিল্লি যেসব বীর জাতিকে জোর করে পরাধীন করে রেখেছে, তাদেরও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবার এক নতুন আন্তর্জাতিক রাস্তা উন্মুক্ত হয়। বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ জনগণ যারা দিল্লির এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তারা কোনোভাবেই অপরাধী বা চোরাকারবারি নন। এই শোষিত মানুষেরা ভালো করেই জানে যে, তাদের বৈধ পণ্য লেনদেনের ট্যাক্সের টাকা লুট করেই দিল্লির শাসকেরা অস্ত্র কেনে। তাই তারা জীবন বাঁচাতে, একটু কাজ বা খাবারের খোঁজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে।
এই চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের সামনে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট করণীয় রয়েছে:
১. বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন: দিল্লির সাম্রাজ্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী, পুঁজিবাদী নেতৃত্ব এবং আমলাতন্ত্রের বর্বরতার আসল মুখোশ উন্মোচন করে আন্তর্জাতিক মহলে ও পৃথিবীব্যাপী তীব্র জনমত তৈরি করতে হবে। টাটা, বিড়লা, মুকেশ আম্বানিদের মতো পুঁজিপতিরা কীভাবে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে এতো বিপুল টাকার মালিক হলো, তা জনগণের সামনে অর্থনৈতিক তথ্যসহ উপস্থাপন করতে হবে।
২. বিপ্লবী রাজনৈতিক দল গঠন: ভারতের অভ্যন্তরে চলমান জনযুদ্ধে জনগণের নিজস্ব প্রকৃত রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে হবে এবং সেই বিপ্লবী শক্তির পক্ষে বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক স্তরে সংহতি ও জনমত গড়ে তুলতে হবে। শোষিত জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে দিল্লির ফ্যাসিবাদী নেতৃত্ব কাবু হতে বাধ্য।
৩. সংশোধনবাদের মুখোশ উন্মোচন: ভারতের বুকে অবস্থান করে যারা সমাজতন্ত্রের নামে ব্যবসা করছে, সেই সিপিআই ও সিপিএমের মতো সংশোধনবাদী ও সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসল মুখোশ গণআদালতে উন্মোচন করতে হবে। এই দলগুলোই বিভিন্ন সময়ে ফেসিবাদি কংগ্রেস বা অন্যান্য পুঁজিপতিদের দিল্লিতে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে লেজুড়বৃত্তি করেছে। যদি জ্যোতি বসুর মতো গণহত্যাকারী সুবিধাবাদীরা দিল্লির শোষকদের শক্তি বৃদ্ধি না করত, তবে দিল্লির এই আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদিতাকে অনেক আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতো।
সুতরাং, ভারতের বুকে প্রকৃত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও শোষিত জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের বিকাশের বিষয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে। ভারতে চলমান এই ন্যায়যুদ্ধ ও শ্রেণিসংগ্রাম সফল হলে তবেই বাংলাদেশ তার পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে মানচিত্রে টিকে থাকতে পারবে। নতুবা, দিল্লি ও পুঁজিবাদের এই আগ্রাসনে বাংলাদেশ তো অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন হবেই, তার সঙ্গে ভারতের শৃঙ্খলিত সব জাতিগুলোকেও আরও বহু বছর দিল্লির দাসত্বের অধীনে অন্ধকূপের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে হবে।
আরো পড়ুন
- দিল্লি বিরোধিতার ১০০০ বছর: বাঙালি জাতির শ্রেণিসংগ্রাম, ঐতিহাসিক শোষণ ও প্রতিরোধের রূপরেখা
- বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন: ইতিহাস, আদর্শ ও গুপ্ত সমিতির কার্যকলাপ
- বাংলা সংগীত হচ্ছে হাজার বছর ধরে চলমান এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অধিকারী
- বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি প্রসঙ্গে
- প্রাচ্য স্বৈরতন্ত্র বলতে এশীয় সমাজগুলির রাজনৈতিক বা নৈতিকভাবে স্বৈরশাসনকে বোঝায়
- বাংলাদেশের ইতিহাস হচ্ছে পূর্ববঙ্গের জনগণের লড়াই ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস
- যুগান্তর দল বা যুগান্তর সমিতি ছিল বাংলার গোপন বিপ্লববাদী সংস্থা
- অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার বিপ্লববাদী রাজনৈতিক সংগঠন
- বাংলাদেশের গণযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য চালিত সশস্ত্র সংগ্রাম
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২০২০ প্রশ্নপত্র
- বাংলার সংস্কৃতি বাংলা ও ভারতের পূর্ব অংশে বাংলাভাষী প্রধান অঞ্চলের সংস্কৃতি
- বাংলা নামের উৎপত্তি হয়েছে বঙ্গ শব্দের সাথে আল বা আইল শব্দ যুক্ত হয়ে
- বাংলার ইতিহাসে ভৌগোলিক উপাদান বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলীর প্রভাব
- বাংলা বা বঙ্গের ভৌগোলিক পরিচয় বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলী প্রসঙ্গে
- ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল হচ্ছে জাতির স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পুনরুদ্ধার
- সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ হচ্ছে খাজনা বৃদ্ধি, মহাজনদের শোষণ ও কারচুপি
- রাজমহলের যুদ্ধ হচ্ছে বাংলাকে পরাধীন করার অন্যতম নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধ
- পাবনা কৃষক বিদ্রোহ ছিল জমিদারদের বিরুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য বিদ্রোহ
- নীল বিদ্রোহ বা নীল প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল কৃষক আন্দোলন
- রংপুর কৃষক বিদ্রোহ হচ্ছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বিদ্রোহ
- কৃষক বিদ্রোহের কারণ হচ্ছে সতের ও আঠার শতকের ব্রিটিশ খাজনা ও শোষণ
- সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান
- চাকমা বিদ্রোহ হচ্ছে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদিদের বিরুদ্ধে চাকমা জাতির অভ্যুত্থান
- খাসি বিদ্রোহ হচ্ছে বর্বর ব্রিটিশ উপনিবেশবাদিদের বিরুদ্ধে খাসিয়া অভ্যুত্থান
- বাংলায় ধর্মীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন ও বিদ্রোহ
তথ্যসূত্র ও টিকা
১. সুবোধকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রাক-পলাশী বাংলা, কে পি বাগচী এন্ড কোম্পানি, কলকাতা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৭৮-৭৯।
২. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, ইউপিএল, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩২৯।
৩. হায়দার আকবর খান জুনো, একাত্তরের রণাঙ্গন শিবপুর, সংহতি সংস্করণ, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০১১, পৃষ্ঠা ৭৮।
৪. নিজস্ব প্রতিবেদক, “বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা ভারত চলে যাচ্ছে”, দৈনিক প্রথম আলো, অর্থনীতি সংবাদ, ২০ জানুয়ারি ২০১৮।
৫. ইতিহাস ও প্রকাশনা টীকা: প্রবন্ধটির মূল রচনাকাল ১১ মে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ। এটি সর্বপ্রথম ‘প্রাণকাকলি’ ব্লগে একই তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘রোদ্দুরে.কম’-এ এটি ‘বাংলার জনগণের দিল্লি বিরোধিতা হচ্ছে এক হাজার বছরের শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস’ শিরোনামে পুনঃপ্রকাশিত হয়। আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ‘ফুলকিবাজ.কম’-এ প্রবন্ধটি প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ব্যাপকভাবে উন্নত, সংস্কার ও হালনাগাদ করা হলো।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚